পুরুষ মানুষ কি আসলেই এতটা খারাপ ? « বিডিনিউজ৯৯৯ডটকম

নৈতিক ও ধর্মীয় দৃষ্টি কি বলে ?

পুরুষ মানুষ কি আসলেই এতটা খারাপ ?

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন লেখক ও কলামিস্ট, বাংলাদেশ
আপডেটঃ ১৬ নভেম্বর, ২০২৩ | ৮:৪৫
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন লেখক ও কলামিস্ট, বাংলাদেশ
আপডেটঃ ১৬ নভেম্বর, ২০২৩ | ৮:৪৫
Link Copied!
প্রতীকী ছবি: নারীর চোখে পুরুষ মানুষ -- বিডিনিউজ৯৯৯ডটকম

খুব ছোটবেলা থেকেই আমাদের অর্থাৎ আমাদের মেয়ে সন্তানদের মনে যে জুজুর ভয়কে আমরা চিরস্থায়ী করে দেয়া হয় সেটা হলো, “পুরুষ জুজুর ভয়।” আমাদের মা,খালা,চাচীদের ভাষায় যেই মুহূর্তটা থেকে আমাদের মেয়ে সন্তানদের শরীর খারাপ হয়। যে মুহূর্তটা থেকে আমাদের মেয়ে সন্তানরা বড় হয়ে যায়। সেই মুহূর্তে আমারা তাদের সামনে একটা বাধার প্রাচীর তুলে ধরি। আর আমাদের মেয়ে সন্তানদের বলে দেওয়া হয়, শোনো- এবার থেকে কিন্তু আর বেশি পুরুষের সাথে মেলামেশা করা চলবেনা।

কিশোরী বয়স থেকেই আমরা বুঝাতে বা আমাদের মেয়ে সন্তানদের শিখিয়েছি পুরুষরা হয়তো অন্য গ্রহের এলিয়েন। আমাদের মেয়ে সন্তানদের মস্তিষ্কে আমরা ঢুকিয়ে দিয়েছি পুরুষ মানে তোমার সাথে প্রেম করবে,
প্রেমের নামে তোমাকে বিছানায় নিয়ে যাবে আর খেলা শেষ হলে সিগারেটের পরে থাকা ফিল্টারে মতো তোমাকে ছুড়ে ফেলে দেবে।

আমাদের মেয়ে সন্তানের সামনে আমরা একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিই। তা হলো, তোমার মাসিক হলে তোমার অন্যমনস্কের ফলে যদি তোমার জামায় দাগ লাগে তাহলে নারী নয় বরং পুরুষেরা হাসাহাসি করবে!

বিজ্ঞাপন

আমরা আমাদের মেয়ে সন্তানকে জানিয়ে দেয় যে, পুরুষ মানেই ধর্ষক হবে। নারী স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবে।
পুরুষ মানেই তার সন্তান কন্যা হলে গলা টিপে মেরে ফেলবে।

আচ্ছা, পুরুষ মানুষ কি আসলেই এতটা খারাপ?

আমার মনে আছে, আমার মেয়ে তখন বিবিএতে পড়ে। কলেজে গেছে হঠাৎ তার খুব পেটে ব্যথা। সে বুঝতে পারল, কার জামাটা ভিজে যাচ্ছে। সেই মুহূর্তে আমার মেয়ের সাথে কোন স্যানিটারি ন্যাপকিন ছিলো না।

বিজ্ঞাপন

চিন্তা ছিল কি করবে?
না, তখন তার পুরুষ বন্ধুরা কিন্তু হাসাহাসি করেনি বরং তার মেয়ে বন্ধুরাই হাসাহাসি টা করেছিল।
সেই মুহূর্তে যে আমার মেয়ের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল যে,সে তার একজন পুরুষ বন্ধু।

তবু আমার মেয়েকে রোজ এটা শুনে বড় হতে হয়েছে পুরুষ মানুষ রক্ত কে সম্মান করতে জানেনা। সতিকারের প্রেমিক পুরুষ কোনদিনও কোন প্রেমিকার ইচ্ছের বিরুদ্ধে তার হাতটাও ধরেনা।

প্রত্যেকবার সে প্রেমিক পুরুষ কাছে এসে আদরের পর প্রেমিকাকে সম্মান দিয়ে তার বাড়ী পৌছে দেয়। না, সত্যিকারের প্রেমিক তার প্রেমিকাকে নিয়ে সে শারীরিক খেলায় মেতে উঠে না। বরং সে পুরুষ প্রেমিকার মনের আবেগের খাতাটাকে বাড়িয়ে দেয়। আমাদের মেয়ে সন্তানরা কিন্তু এটা শুনে বড় হয়ে উঠেছে, পুরুষ সবার সাথেই প্রেম করে।

প্রতিটি সংবাদপত্র খুললে যে খবরগুলো আমাদের ভীষণভাবে চোখে পড়ে তার মধ্যে অন্যতম গুলো হল, ধর্ষণ করার পর শরীরের লোহার রড কিংবা গাছের ডাল ঢুকিয়ে দেওয়া হলো।

মেয়ে হওয়ার অপরাধে স্ত্রীকে গলা টিপে মেরে ফেললেন তার স্বামী। সন্তানকে মেরে ফেললেন তাঁর বাবা। এগুলো কিছু কাপুরুদের বিচ্ছিন্ন কার্যকলাপ। এসকল বিচ্ছিন্ন কার্যকলাপের জন্য কেন আমরা আমাদের মেয়ে সন্তানদের পুরুষকে সম্মান করতে শিখাচ্ছি না?

কেন আমাদের মেয়ে সন্তানদের মধ্যে আমার পুরুষবিদ্বেষী মনোভাবের সৃষ্টি করছি? এতে করে আমাদের মেয়ে সন্তানরা তাদের সংসার জীবনে স্বামীকে কতোটুকু সম্মান করবে ?

এ ভাবে শুধু পুরুষবিদ্বেষী মনোভাবের জন্য কতো ডিভোর্স আমাদের মেনে নিতে হবে? এখনও সময় আছে, আসুন আমাদের মেয়ে সন্তানদের আমরা পুরুষদের প্রতি সহনশীলতা ও আন্তরিকতার শিক্ষা দেই।

আমার মনে হয় আমাদের সমাজে আমাদের চারপাশে এখনো এমন অনেক পুরুষ রয়েছেন, যারা মেয়ের বিয়ের জন্য নয় মেয়ের পড়াশোনার জন্য টাকা জমান। আজও বাসের ভিড়ের মধ্যে একজন পুরুষ একজন নারীকে বিনাপ্রশ্নে তার বসার সিটটি ছেড়ে দিতে পারেন।

কিন্তু একজন নারী নৈব নৈব চ।

এখন ট্রেন্ডিং বিষয় হলো নারীর বাকস্বাধীনতা। আপনাকে দেখতে হবে নারী মাত্রই নির্ভুল আর পুরুষের তো জন্মগত বদনাম। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সংসারের জন্য প্রাণপাত করেন তার সন্তানের বইয়ের টাকাটার যাতে অভাব না হয়।

তার স্ত্রীর জন্য হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করেন ওষুধ টা কিনতে। পুরুষ সারাটা সময় মাথায় চিন্তা করেন বা তাকে ভাবতে হয় টাকাটা কোথা থেকে আসবে? আপনার মনে হয় না আপনার চারপাশে এরকম ভালো পুরুষ রয়েছে।
চলুন না আমরা একসাথে সম্মিলিতভাবে ভালো পুরুষদেরকে কুর্নিশ জানাই। শ্রদ্ধা আর পরম ভালোবাসা দিয়ে তাদের চলার পথটাকে আরেকটু মসৃন করে তুলি।

বিষয়ঃ: