গার্মেন্টস শ্রমিকদের নিয়ে কিছু কথা « বিডিনিউজ৯৯৯ডটকম

গার্মেন্টস শ্রমিকদের নিয়ে কিছু কথা

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন লেখক ও কলামিস্ট, বাংলাদেশ
আপডেটঃ ২২ নভেম্বর, ২০২৩ | ৬:৪৮
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন লেখক ও কলামিস্ট, বাংলাদেশ
আপডেটঃ ২২ নভেম্বর, ২০২৩ | ৬:৪৮
Link Copied!
ছবি সংগৃহীত -- বিডিনিউজ৯৯৯ডটকম

গরু যেমন না হাঁটলে আইলা নড়ি দিয়ে পেছনে খোঁচা দেওয়া হয়। ঠিক তেমনি করে গার্মেন্টস শ্রমিকরা যদি কাজ না করে ঠিক ঐরকমভাবে গার্মেন্টস শ্রমিকদের আইলা নড়ি দিয়ে খোঁচা দেওয়া হয়। তবে এ আইলা নড়ি হলো মুখের আইলে নড়ি।

কি বলবো জানেন, এক এক জন শ্রমিককে ৪০০-৫০০ পিচ মাল প্রডাকশন দেবার জন্য দেওয়া হয় যদি কেউ ৫০ পিস মালও কভার করতে না পারে তাহলে কি বলা হয় জানেন ?
এখানে কি করতে আইছোস?
রুপ দেখাতে আইছোস?
আরো বাজে ভাষায় গালাগালি দেওয়া হয়।

যদি কেউ বলে পারি না স্যার। তাহলে তাকে বলা হয়,
কালকে থেকে আর আসবি না। তুই বাইরে বেরো এখান থেকে। তারপর তাকে ধরে টেনে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় জিএম সাহেবের কাছে, সেখানেও চলে আরেক দফা মুখের গালির শ্রেষ্ট প্রয়োগ।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের আর কোন সেক্টরের শ্রমিকদের এভাবে গালাগালি করা হয়না। বাংলাদেশের যত কর্মস্থান আছে সব কর্মকে সম্মান দেয়া হয় কিন্তু গার্মেন্টসের শ্রমিকদের মা-মাসি তুলে নিকৃষ্ট ভাবে গালাগালি করা হয়। এতো কিছুর পরেও ঐ শ্রমিক কাঁদতে কাঁদতে তার নিজের টেবিলে চলে আসে।

বাবার হাত ধরে তাকে টেনে উঠিয়ে দেয়।
এত গালাগালি করার পরও ওই মেশিনের সামনের শ্রমিকটা কেন উঠে আসেনা জানেন? মাস শেষে ৪০০০ ঘড় ভাড়া দিতে হবে। মা-বাবাকে চালাতে হবে, গ্রামে টাকা পাঠাতে হবে। এতো বকাবকির পরেও তাদের বেতন হয় ৮০০০ টাকা কিংবা ওভার টাইম সহ ১০০০০ টাকা।

গার্মেন্টসের শ্রমিকদের ৪-৫ ঘন্টা ওভার টাইম করিয়ে ধরা হয় মাত্র ১-২ ঘন্ট ওভার টাইমের টাকা। এই ওভার টাইমের সঠিক টাকাটা যদি গার্মেন্টসের মালিকরা শ্রমিকদের দেয়, তবুও গার্মেন্টসের শ্রমিকরা একটু ভালো ভাবে বাঁচতে পারবে। এটা তো গেলো গার্মেন্টসের অপারেটর শাখার কথা।

বিজ্ঞাপন

এবার আসি কোয়ালিটি শাখার কথায়।
এটা মোটামুটি গার্মেন্টসের শ্রমিকদের একটু সম্মানের জায়গা। এখানে একজন শ্রমিককে ১ ঘন্টায় ৩০০ পিস মাল(প্যান্ট)গুনে গুনে দিবে এক জন হেলপার।

এই ৩০০ পিস মালের(প্যান্ট) পায়ের হ্যাম থেকে বেল্টের ওয়েষ্ট পর্যন্ত তাকে চেক করতে হবে। তাহলে ৩০০ পিস মাল (প্যান্ট) চেক করতে সময় লাগে কতো?

১২ সেকেন্ড একটি প্যান্ট চেক করতে সময় পাওয়া যায়।
এই ১২ সেকেন্ডে একজন শ্রমিককে চেক করতে হয় প্যান্টের সব প্রসেস। একটি প্যান্টে প্রসেস থাকে ৬০টি তার মধ্যে অন্তত বিশটি প্রসেস খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যেকটি চেক করতে হবে বাটন আছে কিনা তারপরে তার হাতে থাকা পিসি পাস লাগাতে হবে।

বায়াররা এই পিসি চেক করে যদি কোন ভুল পায় তাহলে খুঁজে বের করবে এই পিসির মালটা কে চেক করেছে। ব্যাস ধর সেই শ্রমিককে আর চালাও তার উপর নির্যাতন। আমি বলবো, বাংলাদেশের সবচেয়ে কষ্টের কাজ হচ্ছে গার্মেন্টসের। গার্মেন্টসের প্রতিটি মানুষ হালাল টাকা ইনকাম করে।

সমাজে গার্মেন্টসের মেয়েদের কে বাকা চোখে দেখে, তাদের ভালো ঘড়ে বিয়ে হয় না। কেন? কারন এরা গার্মেন্টসে কাজ করে। বর্তমানে ৪৫০০ টাকা বেতন বাড়িয়েছে বলে গার্মেন্টসের মালিকদের নাকি মহা লস হয়েছে।

গার্মেন্টস মালিকদের তাদের নাকি লাভ নাই।
আরে লাভ যদি নাই থাকে তবে একজন গার্মেন্টসের মালিক একটা গার্মেন্টস থেকে দুইটা গার্মেন্টস,একটা প্লট থেকে আরেকটা প্লট। এক তলা বাড়ী সাত তলা হয় কি ভাবে? এ টাকা কোথা থেকে আসে, আমাকে বলবেন?

২০১৮ সালের ডলারের রেট ছিল থেকে ০ টাকা ৯২ টাকা আর বর্তমানে ডলারের রেট ১২০ টাকা। এর পরেও নাকি মালিকদের লাভ হয় না। এখনও সময় আছে এসকল শ্রমিকদের মূল্যায়ন করুন, তাদের সাথে নমনীয় আচরন করুন।

নিজে লাভের সবটুকু খেয়ে না ফেলে শ্রমিকদের কল্যাণের জন্য কিছু ব্যায় করুন তা না হলে সমানের দিনগুলোতে আপনাদে গার্মেন্টস থাকেবে কিন্তু শ্রমিক থাকবে না।

বিষয়ঃ: