আমরা এই পৃথিবীর বাসিন্দা নই! « বিডিনিউজ৯৯৯ডটকম

আমরা এই পৃথিবীর বাসিন্দা নই!

মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন লেখক ও কলামিস্ট, বাংলাদেশ
আপডেটঃ ১৩ মার্চ, ২০২৪ | ৮:৫৭
মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন লেখক ও কলামিস্ট, বাংলাদেশ
আপডেটঃ ১৩ মার্চ, ২০২৪ | ৮:৫৭
Link Copied!
প্রতীকী ছবি -- বিডিনিউজ৯৯৯ডটকম

একজন বিজ্ঞানী প্রমাণ করলেন মানুষ জান্নাত থেকে এসেছে। আমরা এই পৃথিবীর বাসিন্দা নয়, সবাইকে চমকে দিয়ে বিখ্যাত বিজ্ঞানী ডক্টর অ্যালিস সিলভার প্রমাণ করলেন, মানুষ পৃথিবীর বাসিন্দা নয়।

তার কিছু যুক্তি আমি আমার আজকের লেখায় তুলে ধরছি:
প্রথমে আমরা কোরআনের সূরা বাকারা ৩৬ নম্বর আয়াত কি বলে দেখিনি?
“আমি বললাম, তোমরা এখান থেকে নেমে যাও, তোমরা একে অন্যের শত্রু পৃথিবীতে কিছুকালের জন্য তোমাদের অবস্থান ও জীবিকা রইল।”

বন্ধুরা আমরা সকলেই জানি মহান আল্লাহ তায়ালা যখন হযরত আদম ও হাওয়া সালাম কে সৃষ্টি করলেন তখন তাদের জান্নাতে থাকতে দিয়েছিলেন এবং আল্লাহ বলেছিলেন তোমার জান্নাতে যেভাবে খুশি সেভাবে থাকো যা খেতে ইচ্ছে করে সেটাই খাও। কিন্তু ওই গাছের নিচে যেও না।

বিজ্ঞাপন

যাই হোক, এক পর্যায়ে হযরত আদম এবং হাওয়া সালাম শয়তানের কুচক্রে আল্লার আদেশ অমান্য করে সেই গাছের নীচেই যায়। তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন হযরত আদম ও হাওয়া সালাম এবং তাদের শত্রু সন্তানকে পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিলেন।

সমস্ত ধর্ম মতে যেমন ইহুদি, খ্রিষ্টান এবং মুসলমান সবাই বিশ্বাস করে মানুষ এভাবেই পৃথিবীতে এসেছে।

যাইহোক, এবার বিজ্ঞান কী ভাবে প্রমাণ করল সেটা একটু দেখে নিই, মানুষ পৃথিবীতে কী ভাবে এসেছে?
এটা হচ্ছে এমন একটি প্রশ্ন যার উত্তর বর্তমানের বিজ্ঞান এখনও তাড়া করে যাচ্ছে। বিজ্ঞান যেটা নিজ চোখে দেখে সেটাই বিশ্বাস করে যার কারণে এই বিজ্ঞানের থিওরি কখনও এক জায়গায় স্থির থেকে না এবং সব সময় একটি নতুন মতামতের সৃষ্টি করে।

বিজ্ঞাপন

ডক্টর অ্যালিস সিলভার বয়ান অনুসারে মানুষ এই পৃথিবীর প্রকৃত বাসিন্দা নয়, বরং এই মানুষের জন্ম অন্য জগতে হয়েছিল এবং সে জগৎ থেকে তাদেরকে এই পৃথিবীতে প্রেরণ করা হয়েছে।

বন্ধুরা এই বিজ্ঞানী এই সিলভার একজন আমেরিকার নামকরা বিজ্ঞানী হওয়ার পাশাপাশি একজন ব্যাখ্যাকারী এবং আমেরিকার নামকরা ইকোলজিস্ট হিসেবে তিনি সবার নিকট পরিচিত।

এই বিষয়টি লক্ষণীয় যে, বিজ্ঞান কখনোই ধর্মে বিশ্বাস করে না।

ডক্টর অ্যালিস সিলভার ভাষ্যমতে, মানুষকে যে স্থানে সৃষ্টি করা হয়েছিল সেই জায়গাটি অনেক আরামদায়ক এবং প্রশান্তিময় স্থান ছিল। সেখানে মানুষ অনেক সুখে শান্তিতে বাস করত। সেই সাথে সেখানের মানুষেরা অনেক নরম মেজাজের এবং আরামপ্রিয় ছিল। তারা এমন একটি জগতে বসবাস করত। সেখানে তাদেরকে খাবার সংগ্রহের জন্য কোনও প্রকার কষ্ট করতে হত না। তারা সৃষ্টিকর্তার এতটাই আদরের ছিল যারা অনেক শান্তিতে বসবাস করতো।

সেখানে প্রকৃতি এমন ছিল, যেখানে কোনও প্রকার শীত অথবা গরমের অনুভূতি হত না, বরং সেখানে সর্বদা একই রকমের পরিবেশ থাকত। সে জগতে সূর্যের কোনও প্রকার আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি ছিল না, যেটা মানুষের জন্য কোনও প্রকার কষ্টকর অথবা ক্ষতির কারণ হতো অতঃপর সে সকল মানবের মাধ্যমে এমন একটি অপরাধ সংগঠিত হয় যার কারণে সৃষ্টিকর্তা তাদেরকে শাস্তি স্বরূপ এই পৃথিবীতে প্রেরণ করেন।

আর যেই মানুষদেরকে সেই জগৎ থেকে পৃথিবীতে প্রেরণ করে সেই ব্যক্তি অবশ্যই কোনও শক্তিশালী শক্তির অধিকারী হবে।

যে এই সমগ্র মানুষকে এদিকে সাজা ভোগ করার জন্য প্রেরণ করেন।

সে ব্যক্তি সমগ্র মানবজাতিকে এমন এক জায়গায় প্রেরণ করেন যেখানে শুধু এক ভাগ স্থল ছিল এবং তিনভাগ পানি ছিল যেটাকে আমরা পৃথিবী বলে থাকি।

বন্ধুরা বিজ্ঞানী ইলিশ শিকার হচ্ছেন এমন একজন ব্যক্তি যিনি সর্বপ্রকার গবেষণা করার পর তিনি তার জনসম্মুখে প্রকাশ করেন না৷ সেই বইতে বিজ্ঞানের মতে, এমন কিছু দলিল উপস্থাপন করা হয়েছে যে কোনও মানুষকে ভাবনায় ফেলতে বাধ্য করবে এবং আজ পর্যন্ত কেউ এর বিরোধিতা করতে পারেনি৷

পুরুষ ও নারী উভয়ের মধ্যে প্রমাণস্বরূপ যে সমস্ত দলিল উপস্থাপন করা হয়েছে তা এখানে উল্লেখ করা হচ্ছে।

প্রথম কারণ পৃথিবীতে যে গ্রামই রয়েছে সেটি মানুষের সৃষ্টি। তা মানুষ যে স্থান থেকে এসেছে সে স্থানের গ্রামের তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা।

যেখান থেকে মানুষ এই পৃথিবীতে এসেছে সেখানে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি অনেক কম ছিল যেখানে মানুষজন চলাফেরা করা ভারী কোনও বস্তু ওঠানো অনেক সহজ ছিল।

এই কারণে মানুষের মাঝে কোমর ব্যথা, রোগটি মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে সৃষ্টি হয়ে থাকে। যদি আপনারা পৃথিবীর দিকে লক্ষ্য করেন তাহলে সেখানে সৃষ্টি যত পশু পাখি রয়েছে তাদের দেহের ভর রয়েছে। সেটা সেই গ্রামের জন্য সম্পূর্ণ অনুরূপ। অন্যদিকে মানুষের দেহের যে হার রয়েছে সেটা পৃথিবীতে বসবাসকারী প্রাণীদের তুলনায় অনেক দুর্বল হয়ে থাকে৷

দ্বিতীয় কারণ মানুষের দেহের মধ্যে যত রহস্য লুকিয়ে আছে সেটা সচরাচর অন্য কোনও প্রাণীর দেহের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় না ডক্টর অ্যালিস সিলভার তার গ্রন্থে সেটা উল্লেখ করেছেন।

তৃতীয় কারণ পৃথিবীতে কোন মানুষ বেশিক্ষণ সময় ধরে রোদে বসে থাকতে পারে না। বেশিক্ষণ অবস্থান করার কারণে মানুষের মাথা ঘোরানো শুরু হয়। সেই সাথে অনেকে সান স্ট্রোকের শিকার হয়। অন্যদিকে পৃথিবীতে বসবাসকারী প্রাণীদের মধ্যে এটা দেখা যায় না। বরং তাঁরা লাগাতার রোদে অবস্থান করার কারণে তাদের দেহে কোনো প্রকার ক্ষতি হয় না। সেই সাথে তারা কোনো প্রকার অসুস্থতার সম্মুখীন হয় না৷

চতুর্থ কারণ অনেক সময় মানুষ সেটা অনুভব করে যে তাঁরাই পৃথিবীর জন্য নয়। এই কারণে মানুষজন এমন একটি উদাসীনতার সম্মুখীন হয়, যেটা সাধারণত প্রবাসে থাকাকালীন কোনও ব্যক্তির হয়ে থাকে।

পঞ্চম কারণ জমিনে অবস্থানকারী সমস্ত প্রাণীর দেহে টেম্পারেচার অবস্থা অনুযায়ী ম্যানুপুলেট হয়ে থাকে।

অন্যদিকে মানুষের শরীরে এমনটা হয় না। যার কারণে তারা বিভিন্ন ধরনের অসুখ বিসুখের সম্মুখীন হয়।

ষষ্ঠ কারণ মানুষের শরীরের দেহের গঠন এই পৃথিবীতে বসবাসকারী প্রাণীদের মধ্যে সবচাইতে রহস্যজনক এবং বিস্ময়কর ডক্টর এই সিলভার তা থিওরিতে উল্লেখ করেন যে মানুষের সৃষ্টি যেখানে হয়েছিল, সেখানে কোনো প্রকার খারাপ জিনিসের অস্তিত্ব ছিল না।

তাদেরকে যে জগতে সৃষ্টি করা হয়েছিল সেই জগতের অনুরূপ তাদের দেহকে ঢেলে দেওয়া হয়েছিল, যার কারণে তারা কোনো প্রকার সমস্যার সম্মুখীন হতো না। এরা এতটাই নাজুক মেজাজের হয়ে থাকে যারা পৃথিবীতে এসে সেই অনুপাতে বসবাস করার চিন্তা ভাবনা করতে থাকে। যে জগতে তারা অনেকটা আরাম প্রিয় ছিল।

সেখান থেকে পৃথিবীতে স্থানান্তরিত হয় পৃথিবীতে। তারা কী ভাবে আরাম আয়েশ করতে পারে তার চেষ্টায় তারা বিভোর হয়ে থাকে। যদিও একজন বিজ্ঞানী এই কথাগুলো এখন জনসমক্ষে প্রকাশ করেছেন।

কিন্তু চোদ্দোশো বছর পূর্বে আল্লাহ্ তাআলা সূরা বাকারার ৩৭ এবং ৩৮ নম্বর আয়াতে অনেক আগেই এ কথা গুলো অনেক সুন্দরভাবে উল্লেখ করে দিয়েছেন৷ এটা হচ্ছে সেই চাঁদমামা ইসলামের ঘটনা যে ঘটনা আমরা অনেক সুন্দরভাবে ছোটবেলায় পড়েছি।

বন্ধুরা মানুষের সৃষ্টি রহস্য অনেক মতামতের সম্মুখীন হয়েছে। কখনও বিজ্ঞান সমাজ এর সৃষ্টি কে বানরের সাথে যুক্ত করে দিয়েছেন।

আবার কখনও এই সৃষ্টিকে মাছের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এর সম্পূর্ণ উলটো।

আর বর্তমানের বিজ্ঞান সমাজ বিষয়টি আজ অনেক সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিষয়ঃ: