
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন’র (বিআরটিসি) বর্তমান সুযোগ্য চেয়ারম্যান জনাব মোঃ তাজুল ইসলাম জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। তার প্রস্তাবিত পদ: সচিব- বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মুল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। সততা ও দায়িত্বশীলতার সাথে বর্ণাঢ্য দীর্ঘ কর্মজীবনে এই পদমর্যাদা তার জন্য একটি বড় অর্জন।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো; একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান পদোন্নতি পাওয়ায় সেখানকার স্টাফরা যে এতোটা আনন্দিত ও উদ্বেলিত হয়, তা আগে কখনো অবলোকন হয়নি। কারণ মোঃ তাজুল ইসলাম সচিব হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ায় বিআরটিসির সকল স্টাফরাই যেনো বেশি খুশি। সত্যি বলতে কর্তাব্যক্তির সাথে স্টাফদের এমন সুসম্পর্ক খুব একটা চোখে পড়ে না।
আজ মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পদোন্নতি সংক্রান্ত দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
এই নিয়োগে ৭ জন অতিরিক্ত সচিবকে পদোন্নতি দিয়ে সচিব পদে উন্নীত করে এসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পদায়ন করা হয়েছে। এছাড়া দু’জন সচিবের দপ্তর বদল করা হয়েছে।
তাজুল ইসলামের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন:
সবশেষ ২০২১ সালে বিআরটিসির চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করেন জনাব তাজুল ইসলাম। অত্যন্ত সৎ, দক্ষ্য, দেশপ্রেমিক ও চৌকস এই কর্মকর্তা একসময় কুমিল্লার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা পরিষদের সচিব, এডিএম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সম্পূর্ণ নিজ যোগ্যতায় পরবর্তীতে প্রবাসী কল্যান মন্ত্রণালয়ের পরিচালক, অতিরিক্ত মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পুরো প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নকে ব্যাপক তরান্বিত করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। যা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য ছিলো অন্যতম পরিবর্তনের নিদর্শন।
সর্বশেষ তিনি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি) এর চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। নানাবিধ অনিয়ম, দুর্নীতিতে ডুবতে থাকা বিআরটিসির হাল ধরেন এই কান্ডারি। এক সময় লোকসানের কারনে কর্মীদের বেতন দিতে না পারা বিআরটিসি জনাব তাজুল ইসলামের হাত ধরে অল্প সময়ের মধ্যে ঘুড়ে দাঁড়িয়েছে। হয়েছে উন্নয়নের মডেল। সততা, পরিশ্রম ও যাদুকরি নেতৃত্বে বিআরটিসি সমৃদ্ধি লাভ করছে দিনের পর দিন। দীর্ঘবছরের লুটপাটের সিন্ডিকেট ভেঙ্গে সৃষ্টি করেছেন এক অনন্য ইতিহাস। এমনকি বিআরটিসি এখন নিজস্ব সক্ষমতায় বাস তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।
জনাব তাজুল ইসলাম সচিব হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ায় বেজায় খুশি বিআরটিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা বলেন, “এই চেয়ারম্যান স্যার যোগদানের পরই প্রথম নিয়মিত বেতন, বোনাস সহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ডিজিটাল ব্যাংকিং পদ্ধতিতে পেয়ে যাচ্ছি। তাছাড়া সারা বাংলাদেশের বাস ডিপোগুলোকে অবকাঠামোগত উন্নয়ন সহ নতুন রুপে সাজিয়ে তুলেছেন তিনি। চেয়ারম্যান মহোদয়ের সাহস, দুরদর্শিতা, সততা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার সক্ষমতার কারনে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিআরটিসি আজ সাফল্যের গৌরব অর্জন করেছে। তিনি এ পর্যন্ত যত প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন, প্রতিটি ক্ষেত্রেই উনার দক্ষতা ফুটিয়ে তুলেছেন। ইনশাআল্লাহ সচিব হিসেবে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে যে দায়িত্ব তিনি পেয়েছেন- ইনশাআল্লাহ সেখানেও তিনি তার যোগ্যতা ও দক্ষতার প্রমাণ দিবেন। তবে আমরা স্যারকে অনেক মিস করবো।”
সচিব হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার অনুভূতি সম্পর্কে জানতে চাইলে জনাব তাজুল ইসলাম বলেন, “মূলত কিছু পাওয়ার আশায় আমি কখনোই কাজ করিনি। দেশকে ভালোবেসে সততার সাথে জনগণের কল্যাণে কাজ করাই আমার লক্ষ্য। আমি আমার দায়িত্বকে দেশের সেবা করার জন্য একটি সুযোগ বলে মনে করি। আর সচিব হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে আমি অবশ্যই আনন্দিত। তবে আমার দায়িত্ব আগের তুলনায় বেড়ে গেলো। আল্লাহর রহমতে আমি যাতে আমার দায়িত্ব সফলভাবে পালন করতে পারি, সেজন্য সকলের নিকট দোয়া চাই।”
জনাব তাজুল ইসলামের হাত ধরে জরাজীর্ণ বিআরটিসির নজিরবিহীন উন্নয়ন কারোরই অজানা নয়। তাই জনাব তাজুল ইসলামের হাতে প্রতিটি খাতই নিরাপদ বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ। বিশ্লেষকদের মত- দেশের প্রতিটি সেক্টরে মোঃ তাজুল ইসলামের মতো দক্ষ ব্যক্তি দায়িত্ব পালন করলে দুর্নীতি দূর করে নিঃসন্দেহে উন্নয়ন হবে।
এছাড়া সচিব হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ায় জনাব তাজুল ইসলামকে বিশেষভাবে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিডিনিউজ ট্রিপল নাইনের সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ শাহ আলম খান। তিনি মাননীয় সচিব মহোদের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।
মো: তাজুল ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার সৈয়দাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। এলাকায় একজন সামাজিক, নিরহংকার, পরোপকারী, সদালাপী মানুষ হিসেবে পরিচিতি তিনি।