সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে একটি সরকারি জলাশয়ে মাছ ধরা নিয়ে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ অন্তত ৭ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে বেলকুচি পৌরসভার মুকুন্দগাঁতী এলাকায়, আল-আমান বাহেলা খাতুন জামে মসজিদের পাশের সরকারি পুকুরে। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে মাছ চাষ করে আসছেন বেলকুচি মুকুন্দগাতী গ্রামের আব্দুস সালাম এর পুত্র হাফিজুল ইসলাম (৫০)।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি ওই পুকুরে মাছ ধরার ঘটনায় হাফিজুল ইসলাম জলাশয়ের পাশের বাড়ির বাসিন্দা টাইলস,রং এবং স্যানিটারি শ্রমিক হযরত মুন্সির ছেলে আব্দুর রহমান (৪৫), কে সন্দেহ করেন। বিষয়টি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
আব্দুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, “আমার ছোট ভাতিজা খেলনা বোতল পুকুরে ফেলেছিল, সেটি নিয়ে হাফিজুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ করেন এবং সকালে দোকানে যাওয়ার পথে পাঁচ বছর বয়সী ভাতিজাকে মারধর করেন।”
পরিস্থিতি চরমে পৌঁছালে একপর্যায়ে হাফিজুল ইসলাম ও তার সমর্থকরা আব্দুর রহমানের পরিবারের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে আব্দুর রহমান (৪৫), আব্দুল্লাহ (৩৫), আইয়ুব আলী (৩২), আরিফ (২৮), রানা (৩০), কোহিনুর বেগম (৪০) ও হাওয়া খাতুন (৩২) গুরুতর আহত হন। আহতদের সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, হাফিজুল ইসলাম দাবি করেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে এই পুকুরে বৈধভাবে মাছ চাষ করছি। আব্দুর রহমানের লোকজন প্রায়ই পুকুর থেকে মাছ চুরি করে। আজ মাছের খাদ্য দিতে গিয়ে পুকুরে চায়না জাল দেখতে পেয়ে তাকে জানালে সে ও তার লোকজন, এমনকি মহিলারা এসেও আমাকে মারধর করে। এতে আমি ও আমার ছেলে শৈশব আহত হই। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে আমাদের বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।”
এ বিষয়ে বেলকুচি থানার এস আই সাইফুল ইসলাম বলেন, “সংঘর্ষের ঘটনায় ১পক্ষের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

রেজাউল করিম স্টাফ রিপোর্টার, সিরাজগঞ্জ
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই, ২০২৫ । ৯:১৯ অপরাহ্ণ