৭ কলেজে আসন কমছে ৭৯ শতাংশ, সমীকরণে জটিলতা

মোঃ হাসানুজ্জামান, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশের সময়: সোমবার, ৪ আগস্ট, ২০২৫ । ৯:৩০ অপরাহ্ণ

প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে গতকাল রোববার থেকে। এই শিক্ষাবর্ষে মোট ৪ হাজার ৪৯২টি আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার আগে গত বছর রাজধানীর সরকারি ৭ কলেজে ২১ হাজার ৫৬৩টি আসনে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সেই হিসাবে এবার ১৭ হাজার ৭১টি আসন কমছে; যা প্রায় ৭৯ শতাংশ।

সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রাজধানীর সরকারি সাত কলেজে কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান, বিজ্ঞান এবং ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটে অনার্স প্রথম বর্ষে ভর্তি আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করা যাবে আগামী ১০ আগস্ট রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। আর ১২ আগস্ট আবেদন বাতিল ও তথ্য, ছবি সংশোধনের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

আসন বরাদ্দ:
এবার ঢাকা কলেজে ৬৮১, ইডেন মহিলা কলেজে ৭৮৫, সরকারি তিতুমীর কলেজ ৭৬৫, সরকারি বাঙলা কলেজে ৬৭৪, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে ৫৯৩, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে ৪৬৫ ও কবি নজরুল সরকারি কলেজে ৫২৯টি আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হবে।

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভর্তি কার্যক্রম ও আসন সংখ্যা কমাসহ সার্বিক প্রস্তুতি তুলে ধরতে আজ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সাত কলেজের মধ্যে ইডেন ও বদরুন্নেসায় শুধু ছাত্রী এবং ঢাকা কলেজে শুধু ছাত্র ভর্তি নেওয়া হবে। বাকি ৪ কলেজে ছাত্র-ছাত্রী উভয়েই ভর্তি হতে পারবে। ইতোমধ্যে যারা সাত কলেজে প্রাথমিক আবেদন করেছে, তাদের পুনরায় আবেদন করতে হবে না; আগের আবেদনই ডিসিইউ আবেদন হিসেবে গণ্য হবে।

ভর্তি কমিটির সূত্রে জানা গেছে, ঢাবির অধীনে শুরু হওয়া সাত কলেজের প্রায় ৩৮ হাজার ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীর আবেদন জমা রয়েছে। তাদের আবেদন প্রক্রিয়া ঢাবির সিস্টেমেই শেষ করা হবে। এরপর নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির বাকি কার্যক্রম শেষ করবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) টেকনিক্যাল টিম।

পরীক্ষা ও নম্বর বন্টন:
ভর্তির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা হবে আগামী ২২ আগস্ট (শুক্রবার) বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত। এমসিকিউ পদ্ধতির ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান- তিন বিষয়ে ১০০টি প্রশ্ন থাকবে। প্রতিটি ভুল উত্তরে ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে। আর পাস নম্বর ৪০। বাংলা বা ইংরেজি বিষয়ে ভর্তি হতে ইচ্ছুকদের ওই বিষয়েই অন্তত ১০ নম্বর পেতে হবে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা হবে আগামী ২৩ আগস্ট (শনিবার) বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত। এমসিকিউ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অনুসৃত পাঠ্যসূচি অনুযায়ী হবে এবং প্রত্যেক প্রার্থীকে পদার্থ ও রসায়নসহ মোট চারটি বিষয়ের প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। প্রতি বিষয়ের জন্য মোট নম্বর ২৫। আর ১০০টি প্রশ্নের জন্য মোট নম্বর হবে ১০০। পাশ নম্বর ন্যূনতম ৪০ শতাংশ। বাণিজ্য ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষাও ওই একইদিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে।

ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মেধাক্রম তৈরি হবে মোট ১২০ নম্বরের ওপর- অর্থাৎ এসএসসির ১০ নম্বর, এইচএসসি ১০ নম্বর এবং পরীক্ষার ১০০ নম্বর যোগ করে। কলেজ ও বিষয় পছন্দক্রম অনলাইনে দিতে হবে এবং আগামী ২০ অক্টোবর বিষয় বরাদ্দ চূড়ান্ত করা হবে। ভর্তির শেষ তারিখ ২৫ অক্টোবর এবং ক্লাস শুরু হবে ৩০ অক্টোবর।

এদিকে কোটায় ভর্তি-ইচ্ছুদের (মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, উপজাতি, প্রতিবন্ধী, হরিজন-দলিত, ক্রীড়াবিদ, ওয়ার্ড এবং হিজড়া) অবশ্যই ভর্তি পরীক্ষায় পাস নম্বর পেতে হবে। আর সাত দিনের মধ্যে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অফিসে কোটার প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে।

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির আবেদন ফি ধরা হয়েছে ৮০০ টাকা। সোনালী, জনতা, রূপালী ও অগ্রণী ব্যাংকের যেকোনো শাখা কিংবা ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড ও বিকাশ, নগদ এবং রকেটের মাধ্যমে পরিশোধ করা যাবে। আধা ঘণ্টা আগে পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে প্রবেশপত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সঙ্গে রাখতে হবে।

এদিকে ৭ কলেজ নিয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠন করে নতুন পদ্ধতিতে কমানো হয়েছে আসন সংখ্যা। যা নিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ অনেক শিক্ষার্থী। তাদের মতে এই সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আগেকার স্বৈরাচারী আচরণের সাথে বর্তমানের মিল রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেক শিক্ষার্থী।

৪০ শতাংশ ক্লাস অনলাইনে, ৬০ শতাংশ স্ব শরীরে !
সরকারি সাত কলেজের জন্য প্রস্তাবিত ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪০ শতাংশ ক্লাস হবে অনলাইনে, আর বাকি ৬০ শতাংশ ক্লাস সশরীরে অনুষ্ঠিত হবে।

সচিবালয়ে আজ সোমবার (৪ আগস্ট) ঢাকা মহানগরীর সরকারি ৭ কলেজের জন্য প্রস্তাবিত ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন সংক্রান্ত কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের রুটিন দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব মজিবর রহমান এ তথ্য জানান।

নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশিষ্ট্য ও পরিচালনাপদ্ধতি তুলে ধরে মজিবর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা হবে ইন্টারডিসিপ্লিনারি ও হাইব্রিড ধরনের, যেখানে ৪০ শতাংশ অনলাইন, ৬০ শতাংশ অফলাইন (সশরীরে) ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। তবে সব ধরনের পরীক্ষা সশরীরে অনুষ্ঠিত হবে।’

মজিবর রহমান আরও বলেন, ‘ইন্টারডিসিপ্লিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সব শিক্ষার্থী প্রথম চারটি সেমিস্টারে নন-মেজর কোর্স অধ্যয়ন করবে। পরবর্তী চার সেমিস্টারে ডিসিপ্লিন অনুযায়ী মেজর কোর্স অধ্যয়ন করবে। তবে পঞ্চম সেমিস্টারে শর্তপূরণ সাপেক্ষে শিক্ষার্থী ইচ্ছানুযায়ী ডিসিপ্লিন পরিবর্তন করতে পারবে। তবে ক্যাম্পাস পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না।’

কার্যক্রম হবে ৪ টি স্কুলভিত্তিক:
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনকার মতো একেকটি কলেজে সব বিষয় পড়াশোনা হবে না। এক বা একাধিক কলেজে স্কুলভিত্তিক ক্লাস হবে। সাতটি কলেজকে চারটি স্কুলে বিভক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এর মধ্যে স্কুল অব সায়েন্সের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ ও বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ ক্যাম্পাস। স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড হিউম্যানিটিসের জন্য সরকারি তিতুমীর কলেজ, স্কুল অব বিজনেসের জন্য সরকারি তিতুমীর কলেজ, স্কুল অব ল অ্যান্ড জাস্টিসের জন্য কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ক্যাম্পাস নির্ধারণ করা হয়েছে।

সবার জন্য সুবিধাজনক স্থানে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস নির্ধারণ করা হবে বলেও জানানো হয়। কলেজগুলোর বিদ্যমান উচ্চমাধ্যমিক অক্ষুণ্ণ থাকবে। শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারাও কলেজগুলোতে থাকবেন। তবে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মে বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের জন্য শিক্ষক নিয়োগ করা হবে।

এ বছরের মধ্যেই নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অধ্যাদেশ জারি হবে। তবে এবারের ভর্তি কার্যক্রম বিদ্যমান নিয়মেই হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও যা থাকবে:
একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কে মজিবর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে একাডেমিক কাউন্সিল, সিনেট ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন প্রক্টর থাকবেন। এছাড়া প্রতিটি কলেজে একজন পুরুষ ও একজন নারী ডেপুটি প্রক্টর থাকবেন। অর্থাৎ ৭ কলেজে সর্বমোট ১৪ জন ডেপুটি প্রক্টর থাকবেন।

সাত কলেজের পাঁচটিতে আগের মতো উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় চালু থাকবে বলে ভারপ্রাপ্ত সচিব জানান। স্নাতক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা টাইম, স্পেস ও রিসোর্স শেয়ারিং পদ্ধতিতে একই ক্যাম্পাস ব্যবহার করবে। কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তি প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে। প্রতি ডিসিপ্লিনে যৌক্তিকভাবে ছাত্রসংখ্যা নির্ধারণ করা হবে।

মজিবর রহমান আরও বলেন, প্রতিটি শিক্ষার্থীকে প্রথম বর্ষেই ল্যাপটপ ও আনুষঙ্গিক সামগ্রী দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং স্বল্পমূল্যে ইন্টারনেট সেবা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সব প্রশাসনিক কার্যক্রম (ভর্তি, রেজিস্ট্রেশন, আবেদন ইত্যাদি) আইটি বেসড/ডিজিটাল সিস্টেমে সম্পাদিত হবে। এছাড়াও শিক্ষার্থীরা যেকোনো ধরনের অনুসন্ধান আইটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে করতে পারবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়োগ দেওয়া হবে। কলেজগুলোর প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়োগকর্তাদের বণ্টন করা হবে।

বাজেট গ্রহণ ও ব্যবস্থাপনা হবে কেন্দ্রীয়ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে। প্রতিটি কলেজে আধুনিক মানসম্পন্ন লাইব্রেরি, ক্যাফেটেরিয়া, মেডিকেল সেন্টার ও পরিবহণ ব্যবস্থা থাকবে।

বিভিন্ন পর্যায়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা আগের বিদ্যমান একাডেমিক কাঠামো অনুযায়ী শিক্ষা কার্যক্রম শেষ করবেন। অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সময়মতো পরীক্ষা নেওয়া, রেজাল্ট দ্রুত প্রকাশ করা ও সেশনজট কমাতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব।

৭ কলেজ ও শিক্ষক জটিলতা:
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক তানজীম উদ্দীন খান বলেন, ‘কলেজের যে মৌলিক বৈশিষ্ট্য, সেখানে আমরা কোনো পরিবর্তন আনছি না। কলেজ কলেজের জায়গায়ই থাকবে। কলেজের শিক্ষকরা কলেজেই থাকবেন। বিদ্যমান কাঠামোয় কলেজের শিক্ষকরাই পাঠদান করবেন। যখন বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামো কলেজের কাঠামোর সঙ্গে একীভূত থাকবে না। তখন নিয়োগ হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের যে যোগ্যতা বলে নিয়োগ দেওয়া হয় সেই অনুযায়ী। কেউ যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতায় আসতে চান, যারা যোগ্য আছেন তারা সাধারণ যে প্রক্রিয়া আছে, সে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসবেন।’

মূলত ঢাকা মহানগরীর ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ এবং সরকারি বাঙলা কলেজ দেশের সব সরকারি ডিগ্রি কলেজের সঙ্গে ১৯৯২ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি পায়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কলেজগুলোতে একাডেমিক ও প্রশাসনিক নানা জটিল সংকটের সৃষ্টি হলে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও বিদ্যমান সংকট নিরসনে ২০১৭ সালে সাতটি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্তির পর সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ায় সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি বাতিল করে একটি নতুন স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে কলেজগুলোকে পরিচালনার দাবি জানায়।

শিক্ষার্থীদের দাবির পরপরই গত বছরের ২৪ অক্টোবর ‘সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের দাবি পর্যালোচনা ও সুপারের সংক্রান্ত কমিটি’গঠন করা হয়। উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি বাতিল করে সাত কলেজের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সমকক্ষ একটি স্বতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর রূপরেখা প্রস্তাব সম্বলিত প্রতিবেদন প্রণয়ন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠায়।

সংবাদ সম্মেলনে ইউজিসির চেয়ারম্যান এস এম এ ফায়েজ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক তানজীম উদ্দীন খান, সাত কলেজের অন্তর্বর্তী প্রশাসক ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস এবং কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইমেইল ঃ infobdnews999@gmail.com

প্রিন্ট করুন