“আমরা ফ্যামিলি কার্ডের নামে ধোঁকা দিয়ে বোকা বানাবো না। আমরা বেকারদেরকে বেকারত্ব ভাতা দিয়ে তাদের অপমান করতে চাই না। আমরা তাদের হাতে কর্মসংস্থান তুলে দিয়ে তাদেরকে সম্মানের সাথে বাঁচার ব্যবস্থা করে দিতে চাই ইনশাআল্লাহ।” কুড়িগ্রাম জামায়াতের নির্বাচনী সমাবেশে আমিরে জামায়াত ডক্টর শফিকুর রহমান এমন বক্তব্য দেন।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারী) কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে বেলা সাড়ে বারোটায় প্রধান অতিথি হিসেবে নির্বাচনী ভাষনে আমিরে জামায়াত ডক্টর শফিকুর রহমান শুরুতেই মহান আল্লাহ পাকের শুকরিয়া আদায় করে তৌহিদি জনতার উদ্দেশ্যে হাত উচিয়ে সালাম দিয়ে কুশল বিনিময় করেন।
এসময় জামায়াতের আমির বলেন, উত্তরের বিভাগ রংপুর সবসময় অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া বিভাগের মধ্যে অন্যতম। বিশেষ করে কুড়িগ্রাম জেলা খুব অবহেলিত। ইনশাআল্লাহ আমরা ক্ষমতায় গেলে সবার আগে উন্নয়ন শুরু হবে কুড়িগ্রাম জেলা থেকে। আপনাদেরকে দাবি দেওয়া বা আবদার করতে হবে না। আপনারা চাওয়ার আগেই ইনশাআল্লাহ আপনাদের দাবি-দাওয়া পৌঁছে যাবে আপনাদের কাছে।
তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ কুড়িগ্রাম সহ সারা দেশবাসীকে নিয়ে ইনসাফ ভিত্তিক রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তোলার জন্য, বেইনসাফি দূরীকরণ করার জন্য, বৈষম্য দূর করার জন্য, চাঁদাবাজদের রুখে দেয়ার জন্য, দুর্নীতিবাজদের লাল কার্ড দেখাবার জন্য, আগামীর ইনসাফের সুন্দর বাংলাদেশ কায়েমের জন্য আমরা বারোটি দল একত্রিত হয়েছি।
ফ্যামিলি কার্ড ও বেকারত্ব ভাতা সম্পর্কে জামায়াতের আমির বলেন, আমরা ফ্যামিলি কার্ডের নামে মানুষকে ধোঁকা দিয়ে বোকা বানাতে চাই না। আমরা বেকারদেরকে বেকারত্ব ভাতা দিয়ে তাদেরকে অপমান করতে চাই না। আমরা তাদেরকে শিক্ষিত করে কারিগরি শিক্ষা দিয়ে তাদের হাতে কর্মসংস্থান গড়ে দিয়ে বেকারত্ব দূর করতে চাই। তারা যেন সমাজে মাথা উঁচু করে সম্মানের সহিত চলতে পারে বাঁচতে পারে।
কুড়িগ্রাম কলেজ মাঠ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে আশেপাশের মেইন সড়কসহ অলিগলি পরিপূর্ণ হয়ে জনসমুদ্রে পরিনত হয়েছিল কুড়িগ্রাম। এ সময় তিনি জনসমুদ্র দেখে বলেন, ইনশাআল্লাহ আগামীর বাংলাদেশ ইসলাম ও ইনসাফের বাংলাদেশ।
তিনি আরও বলেন, ভারতীয় বিএসএফ এর আগ্রাসনের শিকার আমার বোন ফেলানীর জন্য এখনো কষ্ট হয়, চোখে পানি চলে আসে। আমি ফেলানীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি তাদের চোখে কান্নার পানি দেখেছি, কিন্তু সেই চোখের পানি আমার দৃষ্টিতে পানি মনে হয়নি, আমার কাছে মনে হয়েছিল রক্ত। আমরা ভারতীয় আধিপত্যকে চির বিদায় জানাতে চাই।
তৌহিদী জনতার উদ্দেশ্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আপনারা কি ভারতীয় আধিপত্য থেকে মুক্তি চান? তখন এক বাক্যে সকল জনতা বলে ওঠে- গোলামী নয় আজাদী, আজাদী, আজাদী।
তিনি মা-বোনদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, একটি রাজনৈতিক দল বিভিন্নভাবে আপনাদের হেনস্তা করতেছে হাত তুলে অপমান অপদস্ত করতেছে, ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে রাজনীতির মাঠে ময়দানে, আপনারা ভয় পাবেন না, আপনাদের সাথে ১৮ কোটি জনতা আছে।
পরিশেষে তিনি বলেন, ইনসাফের রাষ্ট্র কায়েমের জন্য আমরা ১২ দল একত্রিত হয়েছি। তাদের মধ্য থেকে কুড়িগ্রাম ৪টি আসনে যারা সংসদ পদপ্রার্থী পর্যায়ক্রমে তাদের হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দিয়ে নারে তাকবীর ধ্বনি দেন। এ সময় উপস্থিত লক্ষ লক্ষ জনতা নারায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবার ধ্বনি দিয়ে দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ী করার প্রতিশ্রুতি দেন।
এদিনের নির্বাচনী জনসভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কুড়িগ্রাম জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দায়িত্বশীল নেতাকর্মী, বাংলাদেশী ইসলামী ছাত্রশিবির কুড়িগ্রাম জেলা সভাপতি মোশাররফ হোসেন, ১২ দলীয় জোটের প্রার্থী মাহবুব সালেহী আতিক মুজাহিদ, ওএনচিপির শীর্ষস্থানীয় নেতা আক্তার হোসেনসহ কুড়িগ্রাম জেলা উপজেলা পর্যায়ের জামায়াতে ইসলামী সহ ১২ দলীয় জোটের বিভিন্ন নেতাকর্মী।

মোঃ মাহবুবুর রহমান বসুনীয়া, স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশের সময়: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৬:৫২ অপরাহ্ণ