জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি দিয়েছে বিতর্কিত তনি

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশের সময়: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৬:২০ পূর্বাহ্ণ

কথিত নারী উদ্যোক্তা ও বিতর্কিত ইনফ্লুয়েন্সার রোবাইয়াত ফাতিমা তনি। ‘সুগার ড্যাডী’ খ্যাত বিয়ে থেকে শুরু করে নানা কারণে তনি বিতর্ক ও আলোচনায় থাকেন। এবার কথিত দাবি নিয়ে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল নিয়ে তিনি ফের সমালোচনায় এসেছেন।

কথিত নামসর্বস্ব ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’ নামের একটি বিতর্কিত সংগঠন জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়েছে।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিতর্কিত-সমালোচিত নারী উদ্যোক্তা ও কথিত ইনফ্লুয়েন্সার রোবাইয়াত ফাতিমা তনি। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিটি পাঠ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সংগঠনটির আহ্বায়ক নীলা ইসরাফিল, আর সদস্য সচিব রোবাইয়াত ফাতিমা তনি।

তনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং দলটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন সময় উল্লেখ করেছেন- কোনো নারী দলীয় প্রধান, রাষ্ট্রপ্রধান, রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতি বা কোনো সংস্থার প্রধান হতে পারবেন না। এটা জামায়াতের ঘোষিত নীতিও।

তিনি বলেন, জামায়াতের এ অবস্থান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭ ও ২৮ এর সরাসরি লঙ্ঘন। আরপিও অনুযায়ী, কোনো দল যদি লিঙ্গ সমতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তবে সেই রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিলযোগ্য। রাষ্ট্র পরিচালনায় নারীদের অংশগ্রহণের অধিকার কেড়ে নেওয়া একটি চরম অসাংবিদানিক আদর্শ বলেও উল্লেখ করেন তনি।

বিতর্কিত সংগঠনটির সদস্য সচিব আরও বলেন, নারীর সম্মান ও সাংবিধানিক অধিকার কোনো রাজনৈতিক আপষের বিষয় হতে পারে না। এমতাবস্থায় আমরা জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ, অবমাননাকর বক্তব্যের জন্য ডা. শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ ও বিচার নিশ্চিত করা এবং তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমতা চাইতে বাধ্য করতে হবে। একইসঙ্গে নারীর প্রতি বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে কঠোর আইনগত অবস্থান গ্রহণ করতে হবে।

কথিত সংগঠনটির পক্ষ থেকে বিতর্কিত ৩টি দাবি উত্থাপন করা হয়:

১. জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ।
২. নারীবিদ্বেষী ও অবমাননাকর বক্তব্যের জন্য ডা. শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে বিচার নিশ্চিত করা এবং তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা।
৩. নারীর প্রতি বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কঠোর আইনগত অবস্থান নিশ্চিত করা।

এদিকে নানা সময়ে বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকান্ডে ব্যাপক সমালোচিত কথিত নারী উদ্যোক্তা রোবায়েত ফাতিমা তনির এমন উদ্ভট কান্ডে চরম বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ তার কথিত সংবাদ সম্মেলনর তিব্র সমালোচনা করছে। অনেকে বলছেন, তাদের ভুয়া ও কথিত নারীবাদী সংগঠন গুজবের কারখানা। সংগঠনের নীলা ইসরাফিল সহ সবাই বিতর্কিত ও স্ক্যামার। অথচ তাদের মুখে আদর্শের বুলি একেবারেই বেমানান। এসব কথিত নারীবাদী সংগঠন ও বিতর্কিত নারীদের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন অনেকে।

ইমেইল ঃ infobdnews999@gmail.com

প্রিন্ট করুন