নিরাপত্তা শঙ্কায় অস্থায়ীভাবে পুরো আকাশসীমা বন্ধ করে দিলো আমিরাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬ । ৪:২৭ অপরাহ্ণ

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা এবার সরাসরি প্রভাব ফেলেছে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে। নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাত অস্থায়ীভাবে তাদের পুরো আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। দেশটির এই সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির গভীর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ১০ মিনিটের দিকে আমিরাত কর্তৃপক্ষ জানায়, ইরান তাদের লক্ষ্য করে নতুন করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এই হামলার আশঙ্কা ও নিরাপত্তা বিবেচনায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

আমিরাতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানায়, এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে মূলত যাত্রী, বিমান ও ক্রুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য। পাশাপাশি দেশের ভূখণ্ডের নিরাপত্তাকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আকাশপথ খোলা রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।

শুধু আমিরাতই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশ একই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে। এই দেশগুলোর পাশাপাশি ইরানও নিজস্ব আকাশসীমা সীমিত করেছে, যার ফলে পুরো অঞ্চলের আকাশপথ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলোকে বিকল্প রুট খুঁজতে হচ্ছে, যা সময় ও খরচ—দুটোই বাড়িয়ে দিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বিমান চলাচলেও। রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারী বিপুলসংখ্যক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ মার্চ (১৬ মার্চ দিবাগত রাত ১২টার পরবর্তী সময় পর্যন্ত) মোট ৫৫৭টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এই সংখ্যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে এবং বোঝায় যে আঞ্চলিক সংকট কতটা গভীর প্রভাব ফেলছে।

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফ্লাইট চালু বা বাতিলের সিদ্ধান্ত পুরোপুরি নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর। যেহেতু সংঘাত এখনো অব্যাহত রয়েছে, তাই প্রতিনিয়ত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এয়ারলাইন্সগুলোও যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। অনেক ক্ষেত্রে ফ্লাইট বিলম্বিত করা হচ্ছে বা বিকল্প রুট ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ভ্রমণ সময় দীর্ঘ করে তুলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, পর্যটন এবং প্রবাসী যাত্রীদের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর শ্রমবাজারে বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলে ধীরে ধীরে আকাশপথ আবার স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা

ইমেইল ঃ infobdnews999@gmail.com

প্রিন্ট করুন