কুড়িগ্রামের রাজারহাটে দাম্পত্য বিরোধের জেরে জামাইকে হত্যার অভিযোগে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তাকৃতরা হলেন-মৃত ফুল মিয়ার শ্বশুর এমতাজুল এবং শ্যালিকা রুনা আক্তার। শনিবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুলাই উলিপুর উপজেলার ধামশ্রেনী ইউনিয়নের দরিচর পাচপাড়া গ্রামের বাসিন্দা খুল্লনা বেগম ৬ জনের নাম উল্লেখ করে রাজারহাট থানায় মামলা করেন। এজাহারে তিনি অভিযোগ করেন, দাম্পত্য বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
গত ২৬জুন মোবাইল ফোনে ডেকে রাজারহাট উপজেলার নাজিমখান ইউনিয়নের রতিরাম পাঠানপাড়া (চেংপাড়া) এলাকায় নিয়ে তার ছেলে ফুল মিয়ার ওপর সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়। দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধরে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে প্রথমে উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। এছাড়া ছেলেকে উদ্ধার করতে গেলে অভিযোগকারী খুল্লনা বেগমকেও মারধর করা হয়।
এ সময় তার গলায় থাকা প্রায় দেড় ভরি ওজনের দুটি স্বর্ণের চেইন, যার আনুমানিক মূল্য সাড়ে তিন লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়র ও অভিযোগ করেন। এঘটনায় হামলা ও চুরি-ছিনতাইয়ের অভিযোগে ৯ জুলাই রাজারহাট থানায় ফুলমিয়ার মা খুল্লনা বেগম বাদী হয়ে ফুল মিয়ার স্ত্রী ও তার শ্বশুর-শাশুড়ি, শ্যালিকা ও ভায়রা ভাই সহ ৬জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এর একদিন পর ১০জুলাই মৃত্যুবরণ করেন ফুল মিয়া।
পরে ওইদিন (১০জুলাই, শুক্রবার) সন্ধ্যায় রাজারহাট থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ফুল মিয়ার শশুর এমতাজুল ও শ্যালিকা রুনা বেগমকে গ্রেপ্তার করেন।
রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পূর্বের মামলাটি হত্যা মামলায় রুপান্তরের জন্য আবেদন করা হয়েছে। এরই মধ্যে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মোঃ রেজাউল হক, কুড়িগ্রামঃ
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬ । ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ