রাজশাহীর কাশিয়াডাঙ্গায় নানাবিধ অপরাধের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে বিশিষ্ট সাংবাদিক, বিডিনিউজ ট্রিপল নাইন ও বাংলা খবর প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক জনাব মোঃ শাহ আলমকে হত্যার হুমকি দিয়েছে আসামি ও চক্রের সদস্যরা। যা নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে সাংবাদিক মহলে।
মূলত রাজশাহীর কাশিয়াডাঙ্গায় কুখ্যাত মাদক চোরাকারবারি চক্রের হোতা মোঃ জনি বা ইয়াবা জনি, তার মা সেলিনা বেগম সহ চক্রের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই তারা সাংবাদিকদের মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছিলো। সবশেষ হত্যা চেষ্টা মামলার আসামিদের ১ অক্টোবর গ্রেফতারের পর মোবাইলে বেশ দাপটের সাথেই সাংবাদিককে মেরে ফেলার হুমকি দেয় আসামিপক্ষ। যার একটি ফোনকল রেকর্ড ভাইরাল হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত- রাজশাহীর কাশিয়াডাঙ্গায় মাদক ব্যবসায়ের বিরুদ্ধে এবং জমি দখল বা আত্মসাতের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে। কাশিয়াডাঙ্গা মোড়ে বয়োবৃদ্ধা ও মানসিক ভারসাম্যহীন গোলেনুর এর জমি তার মেয়ে সেলিনা বেগম, সেলিনার ছেলে জনি ও অন্যান্যরা, বোনের ছেলে নিরব সহ একটি চক্র কৌশলে প্রকৃত ওয়ারিশদের বঞ্চিত করে গোপনে জমি নিজেদের নামে লিখে নেয়ার পায়তারা শুরু করে। জানতে পেরে প্রতিবাদ করে ভুক্তভোগীরা। সাংবাদিকদের শরণাপন্ন হওয়ায় টানা ২২ দিন অনুসন্ধান শেষে সংবাদ প্রকাশ করে জনপ্রিয় বিডিনিউজ ট্রিপল নাইন, বাংলা খবর প্রতিদিন সহ বেশ কিছু অনলাইন ও প্রিন্ট পত্রিকা। এরপরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।
সংবাদ প্রকাশের পর জনি অরফে ইয়াবা জনির মাদকের ব্যবসায়ে ভাটা পড়া, জমি গোপনে আত্মসাৎ করতে না পারার কারণে তারা চরম ক্ষিপ্ত হয় সাংবাদিকদের উপর। এর উপরে মামলার স্বাক্ষী মোঃ আনোয়ার মুকিতকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করার সংবাদ প্রকাশ ও মামলার পর আসামিরা গ্রেফতার হওয়াতে ব্যাপক ক্ষিপ্ত হয়েছে তারা। ৫ আসামির মধ্যে ৩ জন গ্রেফতার হলেও বাইরে রয়েছে আরও ২ জন। তাদেরই ইন্ধনে চক্রের আরেক সদস্য “সোহেল” মেবাইল ফোনে প্রকাশ্যে সাংবাদিককে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। যা নিয়ে সাংবাদিক ও সম্পাদক মোঃ শাহ আলম খান এখন জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
জমি বিরোধ, মারধর ও শ্লীলতাহানির জেরে ভুক্তভোগী শিরিন বেগম ও এতিম মেয়ে আননি খাতুন একাধিক মামলা দায়ের করেন। যার মধ্যে ৩০৭, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ১০৭, জমিতে ১৪৫ ধারা অন্যতম। আর একাধিক মামলার স্বাক্ষী মোঃ আনোয়ার মুকিত। স্বাক্ষী আনোয়ার মুকিত ও আলামিনকে একাধিকবার হুমকি দেয় স্বাক্ষী না দিতে। আসামিদের বিপক্ষে স্বাক্ষী দিতে অনড় থাকায় আনোয়ার মুকিতকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করে আসামিরা। এতে পুনরায় সংবাদ প্রকাশ ও মামলা হয়। এরপরই কাশিয়াডাঙ্গা থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় আসামিদের ৩ জন। এদিন রাতেই ফোন করে এমন ঘৃণ্যভাবে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেয় জনি চক্রের আরেক সদস্য সোহেল।
এমন প্রকাশ্যে সাংবাদিককে মেরে ফেলার হুমকি দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠন। তাই অভিযুক্ত ও আসামিদের সকলকে দ্রুত গ্রেফতার করে কঠিন শাস্তি প্রদানের জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন তারা। তাছাড়া নিজের ও পরিবারের সকলের জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় থাকা সাংবাদিক শাহ আলম আসামি ও অভিযুক্তদের যথাযথ শাস্তি দাবি করেছেন।

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৫ । ১১:৫২ অপরাহ্ণ