নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ ২৫ বছর পর নিজ ভিটায় ফিরলেন কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বাদিয়ারছড়া গ্রামের মো. রেজাউল। দীর্ঘ আড়াই দশক আগে হারিয়ে যাওয়া টগবগে যুবক রেজাউল যখন প্রৌঢ়ত্ব ছুঁইছুঁই অবস্থায় গ্রামে পা রাখলেন, তখন পুরো এলাকায় নেমে আসে আনন্দের অশ্রু। পাড়া-প্রতিবেশী থেকে শুরু করে আত্মীয়-স্বজন—সবাইকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৫ বছর আগে হঠাৎ করেই নিখোঁজ হন মো. কুদ্দুস মিয়ার ছেলে রেজাউল। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তখন তার কোনো হদিস পায়নি পরিবার। রেজাউল জানান, তাকে ফুসলিয়ে সীমান্ত পার করে ভারতে পাচার করে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে তাকে বন্দি করা হয় একটি দুর্গম গরুর খামারে।
রেজাউলের ভাষ্যমতে, ভারতের সেই খামারে তাকে অমানবিক পরিশ্রম করানো হতো। দীর্ঘ ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেখানে কাজ করলেও তাকে কোনো পারিশ্রমিক দেওয়া হয়নি। বিনিময়ে জুটতো কেবল তিন বেলা খাবার। খামার মালিক তাকে কড়া পাহারায় রাখতেন যাতে তিনি পালিয়ে যেতে বা কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারেন। কার্যত দাসের মতো জীবন কাটিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি সুযোগ বুঝে সেই খামার থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন রেজাউল। সীমান্ত এলাকায় পৌঁছে তিনি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যদের কাছে নিজের করুণ কাহিনী তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশে ফেরার আকুতি জানালে বিএসএফ সদস্যরা পাসপোর্ট-ভিসা না থাকায় আইনি জটিলতার কথা জানান।
তবে রেজাউলের দীর্ঘ ২৫ বছরের বন্দিদশার কথা শুনে বিএসএফ সদস্যরা মানবিক হয়ে ওঠেন। রেজাউল জানান, তাকে বাংলাদেশে পাঠানোর সুবিধার্থে বিএসএফ সদস্যরা তাকে ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ সাজিয়ে এবং যাতায়াতের জন্য কিছু টাকা দিয়ে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে প্রবেশের ব্যবস্থা করে দেন।
দীর্ঘ আড়াই দশক পর নিজ গ্রামে ফিরলে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। রেজাউলের বাবা কুদ্দুস মিয়া এবং পরিবারের সদস্যরা তাকে ফিরে পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। তাকে এক নজর দেখতে বাদিয়ারছড়া গ্রামে ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক জনতা। হারিয়ে যাওয়া স্বজনকে ফিরে পেয়ে পরিবারটিতে এখন বইছে ঈদের আনন্দ।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশের সময়: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৮:২৭ অপরাহ্ণ