খুঁজুন
বুধবার, ২ এপ্রিল, ২০২৫, ১৯ চৈত্র, ১৪৩১

লুটেপুটে খেতেই দুষ্কৃতিকারীদের ষড়যন্ত্র

বিআরটিসির চলমান উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতেই দুষ্কৃতিকারীদের নাটকীয় মানববন্ধনের অপচেষ্টা-থানায় জিডি

মোঃ হাসানুজ্জামান, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৪, ৭:১১ অপরাহ্ণ
বিআরটিসির চলমান উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতেই দুষ্কৃতিকারীদের নাটকীয় মানববন্ধনের অপচেষ্টা-থানায় জিডি

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন বা বিআরটিসি একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পরিবহন সংস্থা। দেশের অধিকাংশ সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতোই বিআরটিসিও একটা দীর্ঘ সময় ধরে ভুগছিলো লোকসান নামক পুষ্টিহীনতায়। কিন্তু ২০২১ সালে মোঃ তাজুল ইসলাম বিআরটিসির দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পাল্টে যায় সংস্থাটির সার্বিক চিত্র। লোকসান কাটিয়ে লাভের মুখ দেখতে শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।

কিন্তু বিগত সরকারের আমলে লুটেপুটে খাওয়া দুষ্কৃতিকারীদের তা মোটেও সহ্য হচ্ছে না। তাই বিআরটিসি ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মোঃ তাজুল ইসলামের সুনাম ক্ষুন্ন করতে তথাকথিত কিছু গণমাধ্যমের সহায়তায় একদল দুষ্কৃতিকারী বহিরাগত লোক ভাড়া করে সাজানো হয়েছে একটি নাটকীয় মানববন্ধন।

অজস্র ভুল বানানের সমারোহে “ছাত্র জনতা ও বিআরটিসি ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ” নামক ব্যানারে ১৬ অক্টোবর বিআরটিসি ভবনের সামনে একটি নাটকীয় মানববন্ধন করে কথিত কিছু দুষ্কৃতিকারী সদস্য। কিন্তু পরে জানা যায় তারা বহিরাগত এবং একটি সিন্ডিকেটের সদস্য। তাদের কার্যবিধি দেখে সন্দেহ হলে সিসিটিভির ফুটেজ দেখে স্থানীয় সচেতন লোকদের সহায়তায় একজনকে আটক করে নিরাপত্তা কর্মীরা। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। জানা যায়, বিআরটিসির বাস চুক্তিতে নিতে চান একটি শক্তিশালী প্রতারক চক্র। চুক্তির নামে বাসগুলো লুটেপুটে খাওয়াই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য। কিন্তু রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেই বিআরটিসির বর্তমান চেয়ারম্যান কোনো অপচক্রের হাতে বাস তুলে দিতে রাজি হননি। ব্যস এখানেই ষড়যন্ত্রের শুরু।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘কথিত ওই মানববন্ধন যে সম্পূর্ণ সাজানো ও কুচক্রের অংশ তা খুব সহজেই অনুমান করা যায়। কারণ তাদের দাবি ছিলো বিআরটিসির চেয়ারম্যান মোঃ তাজুল ইসলামের পদত্যাগ। বছরের পর বছর ধরে যে প্রতিষ্ঠানটি মুখ থুবড়ে পড়ে থাকে। আর নতুন একজন এসে যখন সেই প্রতিষ্ঠানকে অন্ধকার থেকে আলোর মুখ দেখান। তাকে অপসারণের দাবি যে একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ তা বুঝতে আর রকেট সাইন্টিস্ট হতে হবে না।’

মাঝবয়সী আরেকজন স্টাফ বলেন, ওই কথিত মানববন্ধনে বিআরটিসির কোনো স্টাফ ছিলো না। থাকলে আমি সবাইকে চিনতাম। এমনকি ব্যানারের লেখা, শব্দচয়ন, তাদের শারীরিক ভাষা, আন্দোলন ও দাবির ধরন, ভিন্ন ভিন্ন স্লোগান দেখে বোঝা-ই যায় এটি কোনো ভুক্তভোগী গোষ্ঠী নয়।’

এ ঘটনায় বিআরটিসির চেয়ারম্যান জনাব মোঃ তাজুল ইসলামের মতামত জানতে একাধিকবার কথা বলি আমরা। তিনি বলেন, “বিআরটিসি এখন আর সরকার ও জনগণের জন্য কোনো বোঝা নয়। আমরা এটিকে একটি জনকল্যাণমুখী সংস্থায় রুপদান করতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু যারা কথিত এই মানববন্ধন করেছে। তারা একটি বড় সুবিধা হাসিল করতে চায়। বিআরটিসিকে নিয়ে যত ষড়যন্ত্রই করা হোক না কেনো। আমাদের সুনাম ও উন্নয়নের ধারাকে কেউই থামাতে পারবে না।”

এবিষয়ে বিআরটিসি মিডিয়া মুখপাত্র (কারিগরি পরিচালক) কর্নেল মোহাম্মদ মোবারক হোসেন মজুমদার-পিএসসি বলেন, ‘ওইদিন যারা ব্যানার নিয়ে কথিত মানববন্ধন করেছে, তাদের কেউই আমাদের প্রতিষ্ঠানের লোক নয়। এমনকি ছাত্র জনতা বলা হলেও সেখানে কোনো ছাত্রই ছিলোনা। মূলত বহিরাগত একদল দুষ্কৃতিকারী গোষ্ঠী আমাদের প্রতিষ্ঠানের চলমান উন্নয়নের ধারাকে বাধাগ্রস্ত করতেই এসব পাঁয়তারা করছে। আমরা প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

তথ্য বলছে, বিআরটিসির বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ তাজুল ইসলাম ২০২১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিআরটিসির সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বেতন ভাতা নিজস্ব আয় হতে প্রতিমাসের ১ তারিখে পরিশোধ করা হচ্ছে। যা ইতোপূর্বে কখনো নিয়মিত পরিশোধ হতো না। ৩ মাস অন্তর অন্তর গ্র্যাচুইটি, সিপিএফ ও ছুটি নগদায়নের অর্থ অনলাইনে পরিশোধ করা হচ্ছে। কর্পোরেশনের কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পূর্বের বকেয়া বেতনের টাকা অনলাইন ব্যাংকিং এর মাধ্যমে তাদের স্ব-স্ব ব্যাংক হিসাবে পরিশোধ করেছেন।

বিআরটিসির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে ১৪,৭৯৪ জন ও ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ৬,৯৬২ জন নারী ও পুরুষকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। মেট্রোরেলের যাত্রী পরিবহনের জন্য বিআরটিসি ও ডিএমটিসিএল এর মধ্যে চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে মেট্রোরেলের যাত্রী পরিবহন সেবা চলমান রয়েছে।

বর্ণিত সময়ের মধ্যে ভারী মেরামত করা গাড়ীর সংখ্যা প্রায় ৪০০। বহরে থাকা সচল গাড়ীর সংখ্যা ১১৯৮ টি এবং আরও নতুন কিছু গাড়ি বিআরটিসির বহরে শিগগিরই যুক্ত হবে বলে জানা যায়। বর্তমানে ১৯১টি এসি বাসে আনলিমিটেড ডরভর সুবিধা চালু করা হয়েছে। বিআরটিসি তার জনকল্যাণকর কাজের জন্য জনসাধারণ, সংবাদ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছে। যার স্বীকৃতিস্বরুপ ২০২১-২২ অর্থ বছরে এপিএ বাস্তবায়নের প্রথম স্থান অর্জন, মন্ত্রণালয়ের অধিনস্থ প্রতিষ্ঠান প্রধানদের মধ্যে শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রাপ্তি এবং সেবা সহজিকরণ ও বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগের জন্য জনপ্রশাসন পদক প্রদান সংক্রান্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বাছাই কমিটির সুপারিশক্রমে জাতীয় কমিটিতে উপস্থাপিত হয়েছে এবং উদ্যোগসমুহ গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণকর কাজ হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে। বর্তমানে বিআরটিসি কর্তৃক নিয়মিত ত্রৈমাসিক সমাচার ও বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয।

যুগের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণে নতুন মাত্রা আনয়নের লক্ষ্যে অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে ভর্তি এবং আধুনিক প্রশিক্ষণের জন্য সিমুলেটর সংযোজন করা হয়েছে। বর্তমানের প্রত্যেক ডিপো/ইউনিটে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক প্রধান কার্যালয় হতে মনিটরিং করা হচ্ছে। কর্পোরেশনের সম্পদ রক্ষার্থে অগ্নি নির্বাপক প্রশিক্ষণ এর কার্যক্রমের ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করেন।

এছাড়া সার্বিক তথ্য ও প্রতিষ্ঠানটির স্টাফদের বক্তব্য অনুযায়ী চেয়ারম্যানের যুগোপযোগী ও বহুমুখী সিদ্ধান্তের ফলে প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে অনেক গতি সঞ্চারিত হয়েছে। বর্তমানে ২ টি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ও ২৬ টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে বিআরটিসি ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

একটি প্রতিষ্ঠান সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করে দেশ, জনগণ ও স্টাফদের সার্বিক কল্যান নিশ্চিত করতে যা যা প্রয়োজন তার সবই করছেন মোঃ তাজুল ইসলাম। অথচ এই গুণী মানুষটির পদত্যাগের দাবিতে গুটিকয়েক অসাধু ব্যক্তি এবং বহিরাগত একশ্রেণির দুষ্কৃতিকারীদের অপতৎপরতা নিঃসন্দেহে বড় ধরনের ষড়যন্ত্রের অংশ। তাই বিআরটিসির সুনাম ও সেবা অক্ষুন্ন রাখতে অভিযুক্ত কথিত আন্দোলনকারীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সকলেই। এ রিপোর্ট প্রকাশ করা পর্যন্ত বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ পল্টন থানায় অজ্ঞাত নামা দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরী করেছেন।

দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হলে সরকার হার্ডলাইনে যাবে : তথ্য উপদেষ্টা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২ এপ্রিল, ২০২৫, ২:০১ অপরাহ্ণ
দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হলে সরকার হার্ডলাইনে যাবে : তথ্য উপদেষ্টা

তিশীল করার চেষ্টা হলে সরকার হার্ডলাইনে যাবে।

গণঅভ্যুত্থানে শহীদ মাসুম মিয়ার কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার উত্তর রামপুর গ্রামে কবর জিয়ারত ও পরিবারের সাথে সাক্ষাত শেষে সাংবাদিকদের তিনি আজ এ কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বাংলাদেশে চরমপন্থার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ সুযোগ কাউকে নিতে দেওয়া হবে না। আমরা চেষ্টা করব বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উগ্রপন্থা যেন মাথাচাড়া দিতে না পারে। নির্বাচনের মাধ্যমে যেন গণতান্ত্রিক রূপান্তরের ভূমিকা রাখতে পারি। যদি আলোচনা সতর্কতায় কাজ না হয়, যদি দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হয়, সরকার অবশ্যই হার্ডলাইনে যাবে।

মাহফুজ আরো বলেন, শহীদের চেতনা যেন বাংলাদেশের জনগণ ধারণ করে। আমরা চেষ্টা করবো যাতে গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের খুনিদের বিচার কাজ শেষ করে যেতে পারি।

শহীদদের আকাঙ্খার বাংলাদেশ বিনির্মাণে এই সরকারের চেষ্টা আছে। জনগণ এটার সাথে আছে। আমরা বিশ্বাস করি এই চেতনার সাথে রাজনৈতিক দলের সদিচ্ছা প্রকাশ করলে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ গঠন করবো।

গণমাধ্যমের সংস্কার প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, যতদিন আছি আমরা চাইবো গণমাধ্যমের একটি গুণগত সংস্কারের জন্য। গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের পর্যালোচনা ও প্রস্তাবনায় মফস্বল ও কেন্দ্র নিয়ে বিস্তারিত বর্ণনা আছে।

এই সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান, বাংলাদেশ নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন শিশির, সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবাইয়া খানম, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন কুমিল্লা মহানগরের আহবায়ক আবু রায়হান ও সদস্য সচিব রাশেদুল হাসানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

৪০ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব, হামাসকে যে শর্ত দিল ইসরাইল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল, ২০২৫, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
৪০ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব, হামাসকে যে শর্ত দিল ইসরাইল

৫০ দিনের নয়, দখলদার ইসরাইল গাজায় ৪০ দিনের যুদ্ধবিরতির একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে। যার মাধ্যমে ১১ জন জীবিত ইসরাইলি বন্দিকে মুক্ত করার পাশাপাশি ১৬টি মরদেহও ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করছে নেতানিয়াহুর সরকার।

Advertisement

বিপরীতে ইসরাইলের কারাগার থেকে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ফিলিস্তিনি বন্দির মুক্তি দেওয়া হবে।

সোমবার ইসরাইলি প্রভাবশালী দৈনিক হারেৎজ এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, মিশর ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের কাছে এই প্রস্তাব পাঠিয়েছে।

প্রস্তাবের প্রধান শর্তগুলো হলো:

৪০ দিনের যুদ্ধবিরতি;
হামাসের কাছ থেকে ১১ জন জীবিত বন্দির মুক্তি ও ১৬টি মরদেহ ফেরত;
ইসরাইলের কারাগার থেকে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ফিলিস্তিনি বন্দির মুক্তি;
যুদ্ধবিরতির ৫ম দিনে হামাসের কাছে বাকি বন্দিদের তথ্য চাওয়া;
১০ম দিনে ১৬ জনের মরদেহ হস্তান্তরের অনুরোধ।
পক্ষগুলোর প্রতিক্রিয়া

যদিও এই প্রতিবেদনের বিষয়ে ইসরাইল, হামাস বা মধ্যস্থতাকারীদের কেউই এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

বর্তমান পরিস্থিতি

নেতানিয়াহুর সরকার মনে করে যে, গাজায় হামাসের হাতে এখনো ৫৯ জন ইসরাইলি বন্দি রয়েছে। যাদের মধ্যে অন্তত ২৪ জন জীবিত।

অন্যদিকে, ইসরাইলি কারাগারে ৯,৫০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছেন। যাদের ওপর চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন, নির্যাতন ও চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ রয়েছে।

ইসরাইল চলতি বছরের জানুয়ারিতে হওয়া একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে গাজায় গত ১৮ মার্চ থেকে নতুন বিমান হামলা চালিয়েছে। গত ১৫ দিন ধরে অব্যাহতভাবে চালানো এই হামলায় ১,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ২,৫০০-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছে।

এ নিয়ে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলের হামলায় সবমিলিয়ে ৬৩,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

আইসিসি (International Criminal Court) গত বছর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ICJ) ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলা চলমান।সূত্র: আনাদোলু

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনটি ‘উদ্বেগজনক ও বিভ্রান্তিকর’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল, ২০২৫, ৭:৩১ অপরাহ্ণ
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনটি ‘উদ্বেগজনক ও বিভ্রান্তিকর’

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, বাংলাদেশে ইসলামিস্টদের উত্থান নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনটি উদ্বেগজনক এবং বিভ্রান্তিকর।

মঙ্গলবার সিএ প্রেস উইং থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিউইয়র্ক টাইমসের নিবন্ধটি ইঙ্গিত দেয় যে বাংলাদেশে ধর্মীয় চরমপন্থা উত্থানের দ্বারপ্রান্তে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি বাংলাদেশের ভুল চিত্র তুলে ধরেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিভ্রান্তিকর এ চিত্রায়ন কেবল দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক গতিশীলতাকে অতি সরলীকৃত করে না বরং ১৮ কোটি মানুষের একটি সমগ্র জাতিকে অন্যায়ভাবে কলঙ্কিত করার ঝুঁকিও তৈরি করে।

নিউইয়র্ক টাইমস প্রকাশিত নিবন্ধে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ যখন নিজেকে পুনরুজ্জীবিত করছে, তখন কট্টরপন্থি ইসলামিস্টরা একটি সুযোগ দেখতে পাচ্ছে। তবে এ বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করে প্রেস উইং বলছে, নিউইয়র্ক টাইমসের নিবন্ধটি বাংলাদেশ সম্পর্কে একটি উদ্বেগজনক এবং একপেশে দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে।

সিএ প্রেস উইংয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রকাশ করার জন্য সুনির্দিষ্টভাবে উসকানিমূলক নিবন্ধের ওপর নির্ভর করার পরিবর্তে বাংলাদেশের অগ্রগতিকে স্বীকৃতি দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বছর ধরে বাংলাদেশ যে অগ্রগতি করেছে সেটাকে এবং পরিস্থিতির জটিলতাকে স্বীকার করা উচিত।

আরও বলছে, যদিও নিবন্ধটি ধর্মীয় উত্তেজনা এবং রক্ষণশীল আন্দোলনের কিছু ঘটনা তুলে ধরেছে, তবে এটি অগ্রগতির বৃহত্তর প্রেক্ষাপটকে উপেক্ষা করেছে। বাংলাদেশ নারীদের অবস্থার উন্নতিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের সুরক্ষা এবং কল্যাণের জন্য বিশেষভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এটি এমন একটি সরকার যা নারীর অধিকার এবং সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। অথচ নিবন্ধে এর উলটোটা বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের মতো একটি দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ধর্মীয় সহিংসতার মধ্যে পার্থক্য করা গুরুত্বপূর্ণ। শেখ হাসিনার বিদায়ের পর এবং তার পর থেকে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘটিত অনেক সংঘর্ষকে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হিসেবে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যদিও বাস্তবে এসব ঘটনা ঘটেছিল রাজনৈতিক কারণে। রাজনৈতিক দলগুলি প্রায়শই সমর্থন জোগাড় করার জন্য ধর্মকে ব্যবহার করে। যা বিষয়টিকে জটিল করে তোলে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতাকে ধর্মীয় নিপীড়নের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। সুতরাং পুরো পরিস্থিতিকে সাম্প্রদায়িক সংঘাত হিসেবে উপস্থাপন করা বিভ্রান্তিকর। এটি প্রকৃত রাজনৈতিক এবং আর্থ-সামাজিক বিষয়গুলিকে উপেক্ষা করে।

প্রেস উইং জানিয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সমস্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে রক্ষা করার জন্য তার প্রতিশ্রুতি স্পষ্ট করেছে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সন্ত্রাসবাদ দমন প্রচেষ্টার সাথে তার চলমান কাজ এই প্রতিশ্রুতিকে আরও জোরদার করে। সামাজিক সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে চরমপন্থা মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টা ভুল তথ্যের বিস্তারের দ্বারা ম্লান হওয়া উচিত নয়।