খুঁজুন
বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৮ মাঘ, ১৪৩২

লুটেপুটে খেতেই দুষ্কৃতিকারীদের ষড়যন্ত্র

বিআরটিসির চলমান উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতেই দুষ্কৃতিকারীদের নাটকীয় মানববন্ধনের অপচেষ্টা-থানায় জিডি

মোঃ হাসানুজ্জামান, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৪, ৭:১১ অপরাহ্ণ
বিআরটিসির চলমান উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতেই দুষ্কৃতিকারীদের নাটকীয় মানববন্ধনের অপচেষ্টা-থানায় জিডি

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন বা বিআরটিসি একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পরিবহন সংস্থা। দেশের অধিকাংশ সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতোই বিআরটিসিও একটা দীর্ঘ সময় ধরে ভুগছিলো লোকসান নামক পুষ্টিহীনতায়। কিন্তু ২০২১ সালে মোঃ তাজুল ইসলাম বিআরটিসির দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পাল্টে যায় সংস্থাটির সার্বিক চিত্র। লোকসান কাটিয়ে লাভের মুখ দেখতে শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।

কিন্তু বিগত সরকারের আমলে লুটেপুটে খাওয়া দুষ্কৃতিকারীদের তা মোটেও সহ্য হচ্ছে না। তাই বিআরটিসি ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মোঃ তাজুল ইসলামের সুনাম ক্ষুন্ন করতে তথাকথিত কিছু গণমাধ্যমের সহায়তায় একদল দুষ্কৃতিকারী বহিরাগত লোক ভাড়া করে সাজানো হয়েছে একটি নাটকীয় মানববন্ধন।

অজস্র ভুল বানানের সমারোহে “ছাত্র জনতা ও বিআরটিসি ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ” নামক ব্যানারে ১৬ অক্টোবর বিআরটিসি ভবনের সামনে একটি নাটকীয় মানববন্ধন করে কথিত কিছু দুষ্কৃতিকারী সদস্য। কিন্তু পরে জানা যায় তারা বহিরাগত এবং একটি সিন্ডিকেটের সদস্য। তাদের কার্যবিধি দেখে সন্দেহ হলে সিসিটিভির ফুটেজ দেখে স্থানীয় সচেতন লোকদের সহায়তায় একজনকে আটক করে নিরাপত্তা কর্মীরা। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। জানা যায়, বিআরটিসির বাস চুক্তিতে নিতে চান একটি শক্তিশালী প্রতারক চক্র। চুক্তির নামে বাসগুলো লুটেপুটে খাওয়াই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য। কিন্তু রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেই বিআরটিসির বর্তমান চেয়ারম্যান কোনো অপচক্রের হাতে বাস তুলে দিতে রাজি হননি। ব্যস এখানেই ষড়যন্ত্রের শুরু।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘কথিত ওই মানববন্ধন যে সম্পূর্ণ সাজানো ও কুচক্রের অংশ তা খুব সহজেই অনুমান করা যায়। কারণ তাদের দাবি ছিলো বিআরটিসির চেয়ারম্যান মোঃ তাজুল ইসলামের পদত্যাগ। বছরের পর বছর ধরে যে প্রতিষ্ঠানটি মুখ থুবড়ে পড়ে থাকে। আর নতুন একজন এসে যখন সেই প্রতিষ্ঠানকে অন্ধকার থেকে আলোর মুখ দেখান। তাকে অপসারণের দাবি যে একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ তা বুঝতে আর রকেট সাইন্টিস্ট হতে হবে না।’

মাঝবয়সী আরেকজন স্টাফ বলেন, ওই কথিত মানববন্ধনে বিআরটিসির কোনো স্টাফ ছিলো না। থাকলে আমি সবাইকে চিনতাম। এমনকি ব্যানারের লেখা, শব্দচয়ন, তাদের শারীরিক ভাষা, আন্দোলন ও দাবির ধরন, ভিন্ন ভিন্ন স্লোগান দেখে বোঝা-ই যায় এটি কোনো ভুক্তভোগী গোষ্ঠী নয়।’

এ ঘটনায় বিআরটিসির চেয়ারম্যান জনাব মোঃ তাজুল ইসলামের মতামত জানতে একাধিকবার কথা বলি আমরা। তিনি বলেন, “বিআরটিসি এখন আর সরকার ও জনগণের জন্য কোনো বোঝা নয়। আমরা এটিকে একটি জনকল্যাণমুখী সংস্থায় রুপদান করতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু যারা কথিত এই মানববন্ধন করেছে। তারা একটি বড় সুবিধা হাসিল করতে চায়। বিআরটিসিকে নিয়ে যত ষড়যন্ত্রই করা হোক না কেনো। আমাদের সুনাম ও উন্নয়নের ধারাকে কেউই থামাতে পারবে না।”

এবিষয়ে বিআরটিসি মিডিয়া মুখপাত্র (কারিগরি পরিচালক) কর্নেল মোহাম্মদ মোবারক হোসেন মজুমদার-পিএসসি বলেন, ‘ওইদিন যারা ব্যানার নিয়ে কথিত মানববন্ধন করেছে, তাদের কেউই আমাদের প্রতিষ্ঠানের লোক নয়। এমনকি ছাত্র জনতা বলা হলেও সেখানে কোনো ছাত্রই ছিলোনা। মূলত বহিরাগত একদল দুষ্কৃতিকারী গোষ্ঠী আমাদের প্রতিষ্ঠানের চলমান উন্নয়নের ধারাকে বাধাগ্রস্ত করতেই এসব পাঁয়তারা করছে। আমরা প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

তথ্য বলছে, বিআরটিসির বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ তাজুল ইসলাম ২০২১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিআরটিসির সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বেতন ভাতা নিজস্ব আয় হতে প্রতিমাসের ১ তারিখে পরিশোধ করা হচ্ছে। যা ইতোপূর্বে কখনো নিয়মিত পরিশোধ হতো না। ৩ মাস অন্তর অন্তর গ্র্যাচুইটি, সিপিএফ ও ছুটি নগদায়নের অর্থ অনলাইনে পরিশোধ করা হচ্ছে। কর্পোরেশনের কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পূর্বের বকেয়া বেতনের টাকা অনলাইন ব্যাংকিং এর মাধ্যমে তাদের স্ব-স্ব ব্যাংক হিসাবে পরিশোধ করেছেন।

বিআরটিসির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে ১৪,৭৯৪ জন ও ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ৬,৯৬২ জন নারী ও পুরুষকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। মেট্রোরেলের যাত্রী পরিবহনের জন্য বিআরটিসি ও ডিএমটিসিএল এর মধ্যে চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে মেট্রোরেলের যাত্রী পরিবহন সেবা চলমান রয়েছে।

বর্ণিত সময়ের মধ্যে ভারী মেরামত করা গাড়ীর সংখ্যা প্রায় ৪০০। বহরে থাকা সচল গাড়ীর সংখ্যা ১১৯৮ টি এবং আরও নতুন কিছু গাড়ি বিআরটিসির বহরে শিগগিরই যুক্ত হবে বলে জানা যায়। বর্তমানে ১৯১টি এসি বাসে আনলিমিটেড ডরভর সুবিধা চালু করা হয়েছে। বিআরটিসি তার জনকল্যাণকর কাজের জন্য জনসাধারণ, সংবাদ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছে। যার স্বীকৃতিস্বরুপ ২০২১-২২ অর্থ বছরে এপিএ বাস্তবায়নের প্রথম স্থান অর্জন, মন্ত্রণালয়ের অধিনস্থ প্রতিষ্ঠান প্রধানদের মধ্যে শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রাপ্তি এবং সেবা সহজিকরণ ও বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগের জন্য জনপ্রশাসন পদক প্রদান সংক্রান্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বাছাই কমিটির সুপারিশক্রমে জাতীয় কমিটিতে উপস্থাপিত হয়েছে এবং উদ্যোগসমুহ গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণকর কাজ হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে। বর্তমানে বিআরটিসি কর্তৃক নিয়মিত ত্রৈমাসিক সমাচার ও বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয।

যুগের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণে নতুন মাত্রা আনয়নের লক্ষ্যে অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে ভর্তি এবং আধুনিক প্রশিক্ষণের জন্য সিমুলেটর সংযোজন করা হয়েছে। বর্তমানের প্রত্যেক ডিপো/ইউনিটে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক প্রধান কার্যালয় হতে মনিটরিং করা হচ্ছে। কর্পোরেশনের সম্পদ রক্ষার্থে অগ্নি নির্বাপক প্রশিক্ষণ এর কার্যক্রমের ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করেন।

এছাড়া সার্বিক তথ্য ও প্রতিষ্ঠানটির স্টাফদের বক্তব্য অনুযায়ী চেয়ারম্যানের যুগোপযোগী ও বহুমুখী সিদ্ধান্তের ফলে প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে অনেক গতি সঞ্চারিত হয়েছে। বর্তমানে ২ টি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ও ২৬ টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে বিআরটিসি ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

একটি প্রতিষ্ঠান সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করে দেশ, জনগণ ও স্টাফদের সার্বিক কল্যান নিশ্চিত করতে যা যা প্রয়োজন তার সবই করছেন মোঃ তাজুল ইসলাম। অথচ এই গুণী মানুষটির পদত্যাগের দাবিতে গুটিকয়েক অসাধু ব্যক্তি এবং বহিরাগত একশ্রেণির দুষ্কৃতিকারীদের অপতৎপরতা নিঃসন্দেহে বড় ধরনের ষড়যন্ত্রের অংশ। তাই বিআরটিসির সুনাম ও সেবা অক্ষুন্ন রাখতে অভিযুক্ত কথিত আন্দোলনকারীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সকলেই। এ রিপোর্ট প্রকাশ করা পর্যন্ত বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ পল্টন থানায় অজ্ঞাত নামা দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরী করেছেন।

জামায়াত নেতার টাকা প্রসঙ্গ

৫০ লাখ নয়, প্রয়োজনে ৫ কোটি টাকা বহনেও সমস্যা নেই: ইসি সচিব

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৫০ অপরাহ্ণ
৫০ লাখ নয়, প্রয়োজনে ৫ কোটি টাকা বহনেও সমস্যা নেই: ইসি সচিব

ভোটের সময় নগদ টাকা বহনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো সর্বোচ্চ সীমা নেই বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। টাকার বৈধ উৎস ও ব্যবহারের খাত দেখাতে পারলে প্রয়োজনে ৫ কোটি টাকা বহন করতেও বাধা নেই বলে স্পষ্ট করেছেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ভোটের সময় টাকা পরিবহনের সীমা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

একজন ব্যক্তি ভোটের সময় কত টাকা বহন করতে পারবেন-এমন প্রশ্নে সচিব বলেন, টাকা যদি বৈধ হয় এবং তার উৎস সঠিকভাবে দেখানো যায়, তাহলে সমস্যা নেই। ব্যক্তিগত প্রয়োজনে যে কেউ যে কোনো পরিমাণ টাকা বহন করতে পারবেন।

তিনি বলেন, ভোটের সময় টাকা বহনের নির্দিষ্ট সীমা নেই। সোর্স ও ব্যবহারের বৈধ খাত দেখাতে পারলে ৫০ লাখ নয়, প্রয়োজনে ৫ কোটি টাকা বহনেও সমস্যা নেই।

তিনি আরও বলেন, ওই টাকা যদি ভোটে কাউকে প্রভাবিত করার কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি ‘নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি’ দেখবে। আর টাকা অবৈধ হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

প্রসঙ্গেত, বুধবার দুপুর ১২টায় ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমীর বেলাল উদ্দিন প্রধানকে আনুমানিক ৫০ লাখ টাকাসহ আটক করে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থানা পুলিশ। এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে টাকা বহনের সীমা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানায় জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়- অনুমতি নিয়ে, নিয়ম মেনেই টাকা বহন করছিলেন জেলা আমির। তাছাড়া ওই সম্পূর্ণ টাকা তার নিজের ব্যবসায়ের। একটি পক্ষ জামায়াতের নামে কুৎসা রটনার লক্ষ্যে জেলা আমিরের ব্যক্তিগত টাকা অন্য খাতে দেখানোর অপচেষ্টা করে।

ঢাকার দূষণ রোধে ৪৫২৮ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন বিশ্বব্যাংকের

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
ঢাকার দূষণ রোধে ৪৫২৮ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন বিশ্বব্যাংকের

রাজধানীর স্যানিটেশন ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিষেবা উন্নত করতে, পানি দূষণ কমাতে এবং নদী ও খাল পুনরুদ্ধারের জন্য ৩৭ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। যা প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩৯ পয়সা ধরে বাংলাদেশি মুদ্রায় দাঁড়ায় প্রায় ৪ হাজার ৫২৮ কোটি টাকা। সংস্থাটির প্রধান কার্যালয় ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত বোর্ড সভায় এ ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়। বুধবার সংস্থাটির ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মেট্রো ঢাকায় পানি নিরাপত্তা ও টেকসই কর্মসূচির মাধ্যমে বৃহত্তর ঢাকায় পানি দূষণ কমাতে স্থানীয় ও জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলির সক্ষমতা জোরদার করা হবে। কর্মসূচিটি সিটি করপোরেশন এবং ওয়াসাকে গ্রাউন্ড ওয়াটার উত্তোলনে শক্তিশালী করা হবে।যাতে করে ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে নিরাপদ পানি ও ৫ লাখ মানুষকে উন্নত স্যানিটেশন সুবিধার আওতায় আনা যায়।এতে মানুষকে উন্নত কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিষেবা দেবে, দূষণ এবং পরিষেবার ঘাটতির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়গুলোকে অগ্রাধিকার দেবে।

বাংলাদেশ ও ভুটান নিযুক্ত বিশ্বব্যাংক বিভাগীয় পরিচালক জ্যাঁ পেম বলেন, বৃহত্তর ঢাকার লাখ মানুষের জন্য পানি হলো জীবনরেখা। কিন্তু দ্রুত, অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং শিল্প প্রবৃদ্ধি বজ্যের কারণে পানি দূষণ বাড়ছে। কিন্তু দূষণ শহরের ছাড়িয়ে গেছে, যা জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই কর্মসূচি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঢাকার নদী ও খালের দূষণ কমাতে এবং স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরিতে সহায়তা করবে।

বিশ্বব্যাংক জানায়, ঢাকায় বর্জ্য এবং পানি দূষণের তীব্র চ্যালেঞ্জ রয়েছে। মাত্র ২০ শতাংশ বাসিন্দার পাইপযুক্ত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার সংযোগ রয়েছে এবং আরও ২ শতাংশ কার্যকরী মল-মূত্র ব্যবস্থাপনা ব্যবহার করেন। ৮০ শতাংশেরও বেশি অপরিশোধিত বর্জ্য পানি এবং পয়ঃনিষ্কাশন ঢাকার আন্তঃসংযুক্ত জলপথে ফেলা হয়। ঢাকার অর্ধেকেরও বেশি খাল অদৃশ্য হয়ে গেছে অথবা আটকে গেছে, যা দূষণকে আরও খারাপ করে তুলেছে। এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার জন্য, এই অভিযানটি সরকারি ও বেসরকারি খাতের পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশনগুলোকে জড়িত করে একটি সামগ্রিক পদ্ধতি গ্রহণ করে। এটি পরিষেবা সরবরাহ উন্নত করতে, নিয়ন্ত্রক কাঠামো শক্তিশালী করতে এবং দূষণ হ্রাস করে এবং প্রবাহ ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করে ঢাকার চারপাশের নদী এবং খালগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে সহায়তা করবে।

প্রায় ৮০ শতাংশ রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানা ঢাকায় অবস্থিত। ৭ হাজারের বেশি কারখানা প্রতিদিন আনুমানিক ২ হাজার ৪০০ মিলিয়ন লিটার অপরিশোধিত বর্জ্য পানিপথে ছেড়ে দেয় যা ত্বক, ডায়রিয়া এবং স্নায়বিক রোগের সৃষ্টি করে। এই কর্মসূচিটি বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণকে, বিশেষ করে ঢাকার আশেপাশের শিল্প বর্জ্য পরিশোধন এবং পানি পুনঃব্যবহার বৃদ্ধির জন্য তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা হবে।

বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন বিশেষজ্ঞ এবং প্রকল্পের টাস্ক টিম লিডার হার্ষা গোয়েল বলেন, এই কর্মসূচি বাংলাদেশের বৃহত্তর পানি সুরক্ষা এবং টেকসই কর্মসূচিকে সমর্থন করে। এই পর্যায়ে ঢাকার জলাশয়ে দূষণের নির্গমন হ্রাস করা, ঢাকার নদীগুলির জন্য একটি বিস্তৃত পানির মান সূচকসহ প্রাতিষ্ঠানিক এবং নিয়ন্ত্রক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, ডিজিটাল রিয়েল-টাইম দূষণ পর্যবেক্ষণ স্থাপন করা এবং ঢাকার চারটি নদীর জন্য সমন্বিত নদী পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা তৈরি করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

এই কর্মসূচি প্রথম পর্যায়ে ঢাকা এবং নারায়ণগঞ্জের নির্বাচিত এলাকাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করবে। এটি প্রাথমিক বর্জ্য সংগ্রহের কভারেজ উন্নত করতে সাহায্য করবে – প্রধান খাল এবং নদীর কাছাকাছি সুবিধাবঞ্চিত সম্প্রদায়গুলোকে অগ্রাধিকার দেবে এবং পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থা উন্নত করবে। এটি কঠিন বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে, ড্রেনেজ নেটওয়ার্কে সরাসরি পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং শিল্প বর্জ্য নদী ও খালে ফেলা বন্ধ করতে হবে।

ব্যালট বাক্সে হাত দিলে হাতই থাকবে না: এডিসি জুয়েল রানা

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৩০ অপরাহ্ণ
ব্যালট বাক্সে হাত দিলে হাতই থাকবে না: এডিসি জুয়েল রানা

নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা।

তিনি বলেছেন, নির্বাচন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে থাকবে এবং ব্যালট বাক্সে হাত দেয়ার চেষ্টা করলে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

ব্যালট বাক্স ছিনতাই প্রসঙ্গে জুয়েল রানা বলেন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসার সবার হাতে দামি দামি অস্ত্র থাকবে। সবার হাতে একে-৪৭ থাকবে, এগুলো দেখলে ভোটের ব্যালট বাক্সে হাত দেওয়ার সাহসই পাবে না।

তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। কোনো ধরনের সন্ত্রাস, ভোট কারচুপি কিংবা কেন্দ্র দখলের চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের দিন প্রতিটি কেন্দ্র থাকবে কড়া নজরদারিতে। পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে। যারা ভোটের পরিবেশ নষ্ট করতে চাইবে, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে মোহাম্মদপুর তিন রাস্তার মোড়ে নির্বাচন উপলক্ষে র‍্যাব, সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ ফুট পেট্রোল মহড়া শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে মোহাম্মদপুরে র‍্যাব, সেনাবাহিনী ও পুলিশ এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করেছে, যেখানে দুষ্কৃতিকারী কিংবা বিশৃঙ্খলাকারীদের মধ্যে এখন আতঙ্ক কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, এর আগে আমরা দিনদুপুরে রেট দিয়েছি এবং ইতোমধ্যে দুষ্কৃতিকারীরা এলাকা ছাড়া হয়েছে। সাংবাদিকরাও কোনো প্রশ্ন তুলতে পারেননি। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুরে দুষ্কৃতিকারীদের সাইজ করে ফেলা হয়েছে।

পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ ও বিজিবির পক্ষ থেকে ওয়াদা করেছিলাম ঢাকা-১৩ আসনে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সবার সহযোগিতায় এখনও পর্যন্ত শতভাগ নিরাপদ পরিবেশ বজায় রয়েছে। প্রচারণা যেহেতু শেষ এখন পুরো কেন্দ্র, পুরো আসন আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর দখলে। একইসঙ্গে সাধারণ ভোটারদের নিশ্চয়তা দিতে চাই—নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসুন এবং নিজের ভোট দিন।

তিনি বলেন, যারা দুষ্কৃতিকারী আছে তাদের মনে ভয় ও আতঙ্ক ঢুকিয়ে দিতে চাই। যেন ভোটের আগেই তারা মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শেরেবাংলা নগর এলাকা ছেড়ে চলে যায়। ১২ ফেব্রুয়ারি হবে শুধু ভোটার ও প্রশাসনের দিন।

ঢাকা-১৩ আসনের ‘ঝুঁকি’ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কোনো ঝুঁকিপূর্ণ আসন নেই। গত ১০-১৫ দিনে এখানে আমরা একটা পাতাও পড়তে দেইনি। মারামারি, কাটাকাটি কিংবা ফাটাফাটি অনেক দূরের বিষয়।

৫০ লাখ নয়, প্রয়োজনে ৫ কোটি টাকা বহনেও সমস্যা নেই: ইসি সচিব ঢাকার দূষণ রোধে ৪৫২৮ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন বিশ্বব্যাংকের ব্যালট বাক্সে হাত দিলে হাতই থাকবে না: এডিসি জুয়েল রানা এককভাবে সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী তারেক রহমান সারাদেশে বৈধ অ//স্ত্র জমা ২৭ হাজার, বাকি আছে ২০ হাজার