খুঁজুন
বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৮ মাঘ, ১৪৩২

সার্বিক আন্দোলনের নেপথ্যে শিবির !

‘ঝুঁকি নিয়ে ৯ দফা প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল শিবির’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ
‘ঝুঁকি নিয়ে ৯ দফা প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল শিবির’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ঘোষিত ঐতিহাসিক ৯ দফার পেছনের গল্প জানিয়েছেন আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের। ৯ দফা কীভাবে ঘোষণা হয়েছিল, এর পেছনে কাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল- সে বিষয়ে রোববার নিজের ফেসবুক আইডিতে বিস্তারিত জানান তিনি।

আব্দুল কাদের জানান, ‘কোটা সংস্কারকে উদ্দেশ্য করে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল; কিন্তু সরকার পরিস্থিতি ঘোলাটে করলে আন্দোলন ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। তারই ধারাবাহিকতায় ৯ দফার অবতারণা হয়। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছিলাম; কিন্তু ১৬ তারিখ মঙ্গলবার আবু সাঈদসহ ৬ জন যখন শহিদ হন, ওইদিন রাত ১২টায় সামনের সারির সমন্বয়করা মিলে আমরা একটা অনলাইন মিটিং করি। মিটিংয়ে প্রথম এজেন্ডাই ছিল আজকে যে ছয়জন শহিদ হলেন, এই ছয়টা লাশের বিনিময়ে শুধু কোটা সংস্কার কিনা? তখন সবাই হই হই করে বলে উঠে, ছয়টা লাশের বিনিময়ে শুধু কোটা সংস্কার হতে পারে না। পরবর্তীতে দীর্ঘক্ষণ আলাপ আলোচনা করা হয়’।

এই সমন্বয়ক বলেন, ‘বলে রাখা ভালো, আমরা এতোদিন “বাংলা ব্লকেড” থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি পেশসহ নানান সফট এবং হার্ড কর্মসূচি নিয়ে মাঠে অবস্থান করেছিলাম; কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে একেবারে নির্বিকার-নির্লিপ্ত মনোভাব পরিলক্ষিত হয়েছিল। আলাপ-আলোচনার ধার ধারেনি সরকার, কেবল হাইকোর্টের কাঁধে বন্দুক রেখে চুপচাপ দেখে যাচ্ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি যখন বেগতিক হয়ে যায়, ছয়জন শহিদ হয়; ওইদিনই সরকার আলোচনার জন্য তোড়জোড় শুরু করে দেয়, আমাদেরকে বিভিন্ন মাধ্যমে চাপ দিতে থাকে আলোচনায় বসার জন্য।

‘কিন্ত আমরা আলোচনার আহ্বানকে বরাবরের মতোই প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের দৃঢ় অবস্থান প্রকাশ করি। যদিও ভেতর-বাইরে থেকে আলোচনায় বসার নানারকম চাপ আসছিল’।

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার সংলাপের আহ্বান ফরমালি জানিয়েছিল কিন্ত সেটার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আমাদের অবস্থান ফরমালি ক্লিয়ার করিনি। ক্লিয়ার করার সুযোগও পাইনি। বুধবার গায়েবানা জানাযায় ঢাবি ক্যাম্পাসে পুলিশ আমাদের ওপর গুলি চালায়, আমিসহ কয়েকজন আহত হই। হান্নান মাসউদ গুলিবিদ্ধ হন। তখন থেকেই আমরা আন্দোলন পরিচালনা করে যাবার স্বার্থে কৌশলী অবস্থান নিয়ে গ্রেফতার এড়ানোর সিদ্ধান্ত নিই। যদিও সরকারের সংলাপকে প্রত্যাখ্যান করে মঙ্গলবার রাতে আমরা কিছু দাবি দাওয়া ঠিক করেছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে সবাই মিলে আলাপ-আলোচনা করে যে সেই দাবিগুলো ফাইনাল করব সে সময় পাইনি। তবে আমরা বৃহস্পতিবার মাঠের কর্মসূচি (কমপ্লিট শাটডাউন) দিয়ে নিজেদের অবস্থান ক্লিয়ার করেছিলাম। বৃহস্পতিবার আমি আর আসিফ ভাই এক বাসা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ভিন্ন ভিন্ন গন্তব্যে চলে যাই। ওইদিন ১৮ তারিখ রাতেই ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয় সরকার। আমরাও কর্মসূচি চলমান রাখতে, গ্রেপ্তার এড়াতে বার বার জায়গা পরিবর্তন করে বেড়াচ্ছি। কারো সাথে তেমন কোনো যোগাযোগ করতে পারছি না।’

‘আন্দোলনের শুরুতেই নাহিদ ভাই আমাকে ডেকে নিয়ে এক লোকের সঙ্গে মিট করায় এবং পরবর্তীতে আন্দোলনের পারপাসে একাধিকবার ওই লোকের সঙ্গে যোগাযোগ হয়; পরবর্তীতে জানতে পারি তিনি ঢাবি শিবিরের ছাত্র আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। কিন্ত তখনো শিবিরের সভাপতি এবং সেক্রেটারির সঙ্গে ওইভাবে যোগাযোগ হয়নি।’

‘শুক্রবার যাত্রাবাড়ী এলাকায় যখন আন্দোলন করছিলাম তখন শিবিরের ঢাবি সেক্রেটারি ফরহাদ ভাই আমাকে ফোন দিয়ে বললেন, “আন্দোলনরত কয়েকজন সমন্বয়ক সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে, এতো এতো শহিদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করতেছে তারা। আন্দোলন শেষ হয়ে যাবে। কিছু দাবি-দাওয়া দিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে, মানুষের সঙ্গে বেইমানি করা যাবে না”। আমি সম্মতি জানাই। আমাদের তো আগেই অবস্থান ছিল আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার। তাছাড়া মঙ্গলবার রাতের মিটিংয়ে ঠিক করা কিছু দাবি দাওয়া আমার মাথায় আছে।’

আব্দুল কাদের বলেন, আন্দোলন চালিয়ে নেওয়ার মতো মাঠে কোনো সিনিয়র নেই। আসিফ-নাহিদ ভাইকে গুম করে রেখেছে। আমি সাত-পাঁচ না ভেবে রিস্ক নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। ওইদিন জুমার নামাজের পর পরই যাত্রাবাড়ীতে কয়কজন শহিদ হন, সবগুলা আমার চোখের সামনেই ঘটতেছে। মানুষকে পাখির মতো গুলি করে মেরে ফেলছে, এটা আমি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলাম না। তাছাড়া দীর্ঘদিন জেল-জুলুম, হামলা-মামলার শিকার হয়ে হাসিনার এমন অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলে গেছি; মাথা নত করিনি। আমার পরিণতি কী হবে, সেটা ঘুণাক্ষরেও কল্পনা করিনি। চোখের সামনে মানুষ মেরে ফেলছে, মানুষের কথা চিন্তা করে নিজের জীবনের কথা ভাবার সময় পাইনি। গত ৪/৫ বছর ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াই আমাদেরকে দৃঢ়তা ধরে রাখার শিক্ষাই দিয়েছে। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে হাল ধরার সিদ্ধান্ত নিই।’

যাইহোক, কিছুক্ষণ বাদে শিবিরের সেক্রেটারি আমাকে আবারো ফোন দিলেন। বললেন, “কিছু দাবি দাওয়া খসড়া আকারে করছি, তোমার সঙ্গে আলোচনা করি”৷ আমাদেরও যেহেতু আগেই আলোচনা হয়েছিল অনেকগুলো দাবির ব্যাপারে সেগুলো তখন উনার সঙ্গে আলোচনা করে সমন্বিতভাবে তৈরি হয় ৯ দফা।’

‘তিনি একে একে কিছু দাবি বললেন। যেগুলা খুব কমন দাবি দাওয়া- যেমন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ, ছাত্র হত্যার সঙ্গে জড়িত পুলিশ প্রশাসনকে বরখাস্ত, সন্ত্রাসীদের বিচারের আওতায় আনা, ভিসির পদত্যাগ। যেগুলা ৬ জন শহিদ হওয়ার পর মঙ্গলবার রাতের বৈঠকের আলোচনাতেই আমরা ভেবেছিলাম। এছাড়া মানুষজনও সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন কিছু দাবিদাওয়া জানিয়ে আসছিল। শেষের দিকে গিয়ে শিবিরের সেক্রেটারি একটা দাবি অ্যাড করলেন, “ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে” এটা আমি মানি নাই, দীর্ঘক্ষণ আলাপ আলোচনা হলো। পরে আমি বললাম, ঢালাওভাবে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা যাবে না, এক্ষেত্রে লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের কথা বলতে পারেন। পরে সেটাই ঠিক হল, “লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে”।

‘এই হইলো ৯ দফা তৈরির পেছনের গল্প। তবে ৯ দফা প্রচার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল শিবির। যেহেতু নেট নেই, গোলাগুলি-কারফিউয়ের মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সশরীরে হাউসে হাউসে পৌঁছে দিয়েছে, বিদেশি সাংবাদিকদের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা তারাই করেছে।’

‘আমাকে নতুন একটা সিম এবং মোবাইল কালেক্ট করার পরামর্শ দিল তারা। আমি স্টুডেন্টের বাসা থেকে সিম নিয়ে ওই নম্বরটা ৯ দফা সংবলিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে দিয়ে দিলাম। ওইদিন সন্ধ্যায় বাসা থেকে ৪-৫ কিলো দূরে হেঁটে গিয়ে পরিচিত সাংবাদিকদেরকে ফোন দিয়ে ৯ দফার বিষয়টা জানালাম। টুকটাক ছাত্র রাজনীতি করার সুবাদে ক্যাম্পাসের সাংবাদিকদের সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল। তো ওই রাতে তাদের অনেককে একটা একটা করে দফা বাটন ফোন দিয়ে ম্যাসেজের মাধ্যমে দাবিগুলা লিখে পাঠাইছি। পুরো ৯টা দাবি একসঙ্গে ম্যাসেজে পাঠানো যায় না। কাউকে আবার মুখে বলে দিয়েছি, তিনি লিখে নিয়েছেন। কেউ আবার রেকর্ড করে নিয়েছেন। কনফার্ম হওয়ার জন্য অনেকেই ফোন দিয়েছেন, এটা আসলেই আমি দিয়েছি কিনা। বিদেশি সংবাদমাধ্যমগুলাকেও ফোন দিয়ে কনফার্ম করতে হয়েছে, “আমার পক্ষ থেকে এটা যাচ্ছে, আপনাকে একজন পেনড্রাইভের মাধ্যমে পৌঁছে দেবেন।” এইভাবে চলল রাতের ১১টা পর্যন্ত।’

এই সমন্বয়ক লিখেন, ‘প্রতিদিন রাতের বেলায় বাসা থেকে দূরে চলে যেতাম। ফোন অন করে সাংবাদিকদের সঙ্গে ২-৩ ঘণ্টা কথাবার্তা বলে, তাদেরকে কনফার্ম করে, ফোন বন্ধ করে আবার বাসায় ফিরতাম। সিনিয়ররা গুম অবস্থায় ছিল, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না বাকিদের সঙ্গেও। এইভাবেই চলতে থাকল। আমার বাসা ছিল যাত্রাবাড়ী থানার পাশেই। গ্রেফতারের আতঙ্ক, তারপরও বাসায় থাকতে হতো। শুরুতেই যাওয়ার কোনো জায়গা ছিল না। কোনো রাত মসজিদে কাটিয়েছি, কোনো রাত অর্ধেকটা বাইরে কিংবা বাসার ছাদে কাটিয়ে শেষ রাতে বাসায় ফিরেছি।’

পরিশেষে আব্দুল কাদের লিখেন, ‘এইতো ঐতিহাসিক ৯ দফা, আমাদের ৯ দফা, ফ্যাসিস্ট হাসিনা থেকে মুক্তি লাভের সনদ!’

সাংবাদিক সাগর-রুনি দম্পতি হত্যার ১৪ বছরেও অমীমাংসিত রহস্য, জানা গেল নেপথ্যে কারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:০৪ অপরাহ্ণ
সাংবাদিক সাগর-রুনি দম্পতি হত্যার ১৪ বছরেও অমীমাংসিত রহস্য, জানা গেল নেপথ্যে কারণ

রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজ বাসায় সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের ১৪ বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ভোরে নৃশংসভাবে খুন হন তারা। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো শনাক্ত হয়নি হত্যাকারীরা; শেষ হয়নি তদন্তও।

সাগর সরোয়ার ছিলেন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক এবং রুনি ছিলেন এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক। বহুল আলোচিত এ হত্যাকাণ্ড দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত সক্ষমতা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন তুলেছে। সময়ের সঙ্গে বদলেছে তদন্ত সংস্থা, কিন্তু মামলার অগ্রগতি নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও কোনো কূল-কিনারা করতে পারেনি এ হত্যাকাণ্ডের। আগের মতোই তদন্ত কর্মকর্তা দিনের পর দিন আদালতের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় পেছানোর আবেদন করছেন। এখন পর্যন্ত ১২৪ বার তদন্ত প্রতিবেদন দালিখের সময় বাড়িয়েছেন আদালত। তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দিয়েছেন আদালত। এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ক্লু উদ্ঘাটন করতে না পারায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ১৪ বছরেও কেন শেষ করা যায়নি তার উত্তর খুঁজতে গিয়ে পাওয়া গেছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

পিবিআই’র তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মামলাটির সব আলামত ধ্বংস করা হয়েছে। ফলে কিছু ছবি ও ভিডিও ফুটেজ ছাড়া আর কোনো আলামত তাদের কাছে নেই। তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে টাস্কফোর্সের আহ্বায়ক পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামাল যুগান্তরকে বলেন, আমাদের দৃষ্টিতে যেসব বিষয় আগের তদন্ত কর্মকর্তারা বিবেচনায় নেননি, সেগুলোকে তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনী হত্যা মামলার তদন্তের কাজ অলমোস্ট শেষ। তবে কারা খুন করেছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সাগর-রুনীর সন্তান মেঘ ও তাদের স্বজনরা জানেন না আদৌ বিচার পাবেন কি না। তারা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই বিচারের আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। তবে ছাত্রজনতার আন্দোলনে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে ফের আশায় বুক বাঁধেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও তদন্তের কিনারা না হওয়ায় আমরা সন্দিহান হয়ে পড়েছি।

মামলার বাদী নিহত রুনীর ভাই নওশের আলম রোমান ক্ষোভ প্রকাশ করে গণমাধ্যমে বলেন, এই দীর্ঘ সময়েও খুনিরা শনাক্ত না হওয়ায় আমরা হতাশ। বিগত সরকারের আমলেই বিচারের আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হওয়ার পর ভেবেছিলাম এবার হয়তো বিচার পাব। আমরা নতুন করে আশার আলো দেখছিলাম। কিন্তু এখনো কেউ শনাক্ত হলো না। আদৌ খুনিরা শনাক্ত হবে কিনা জানি না।

সাগর-রুনী হত্যার তদন্ত ও বিচার নিশ্চিতে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স। বর্তমানে এ মামলাটি তদন্তের মূল দায়িত্বে রয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এর আগে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল এ মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় র‌্যাব। বছরের পর বছর তদন্ত করেও কোনো কূল-কিনারা করতে পারেনি র‌্যাব। পরে মামলাটি টাস্কফোর্সের অধীনে এলে নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয় পিবিআই’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজিজুল হককে।

তদন্ত কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ:

পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনী হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন আদালত। সশরীরে তাকে আদালতে হাজির হয়ে কারণ ব্যাখ্যা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এ আদেশ দেন। প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১ এপ্রিল নির্ধারণ করেন আদালত। এ নিয়ে আলোচিত এই সাংবাদিক দম্পতির হত্যা মামলার প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ১২৪ বার পেছাল।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনীকে হত্যা করা হয়। ওই রাতে এই সাংবাদিক দম্পতির ৫ বছর বয়সের একমাত্র শিশুপুত্র মেঘ বাসায় ছিলেন। তবে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কোনো তথ্য দিতে পারেনি সে। বর্তমানে মেঘের বয়স ১৯ বছর।

এ ঘটনায় নিহত রুনীর ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। প্রথমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ওই থানার এক এসআই। হত্যার চার দিন পর চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে রহস্য উদ্ঘাটনে ব্যর্থ হয় ডিবি। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে একই বছরের ১৮ এপ্রিল হত্যা মামলাটির তদন্তভার হস্তান্তর করা হয় র‌্যাবের কাছে।

গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর সাগর ও রুনী হত্যার ঘটনায় করা মামলার তদন্তে বিভিন্ন বাহিনীর অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার নির্দেশও দেওয়া হয়। একইসঙ্গে মামলার তদন্ত থেকে র‌্যাবকে সরিয়ে দেওয়ারও আদেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে গত বছরের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্টের নির্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে টাস্কফোর্স গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়।

নেতাদের টাকা উদ্ধারের নামে ‘ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ চলছে: আসিফ মাহমুদ

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৫৩ অপরাহ্ণ
নেতাদের টাকা উদ্ধারের নামে ‘ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ চলছে: আসিফ মাহমুদ

টাকা উদ্ধারের নামে অনেকের ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। বুধবার রাতে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘১৮ বছর পর এ দেশের মানুষ ভোট দেওয়ার স্বপ্ন দেখছে। নির্বাচন নিয়ে মানুষের আগ্রহ ও উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু এই নির্বাচনের প্রাক্কালে মিসইনফরমেশন, ডিসইনফরমেশন ও পক্ষপাত দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন দলের নেতাদের টাকা উদ্ধারের নামে ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ চলছে।’

বুধবার সকালে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরের চেকপোস্টে নিয়মিত তল্লাশির সময় বিপুল টাকাসহ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বেলাল উদ্দিনকে আটক করে পুলিশ।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, বেলাল উদ্দিন সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবহার করে অন্যত্র যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় নিরাপত্তা তল্লাশির অংশ হিসেবে তাঁর ব্যাগ ও দেহ তল্লাশি করা হলে নগদ অর্থের বিষয়টি নজরে আসে। এত বড় অঙ্কের টাকা বহনের বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

অন্যদিকে আটক জামায়াত নেতা বেলাল উদ্দিন গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলে দাবি করেছেন, উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ ৫০ লাখ টাকার কিছু বেশি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ‘আমি ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক প্রয়োজনে এই টাকা বহন করছিলাম। এর সঙ্গে কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা নেই।’ তিনি আরও দাবি করেন, টাকার উৎস বৈধ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তিনি পরে দেখাতে পারবেন।

এ ঘটনাকে পরিকল্পিত বলে দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতারা।

অবৈধভাবে নির্বাচনি দায়িত্বে আনসারের ৩৩০ জন, পরে অব্যাহতি

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৪৭ অপরাহ্ণ
অবৈধভাবে নির্বাচনি দায়িত্বে আনসারের ৩৩০ জন, পরে অব্যাহতি

রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকার আনসারের এক দলনেতা টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে ৩৩০ জনকে নির্বাচনি দায়িত্বে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) আনসার বাহিনী থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ১৩ জন ‘প্রশিক্ষণবিহীন’ হওয়ার পরও নির্বাচনি দায়িত্ব পান। বিষয়টি প্রাথমিকভাবে সত্য প্রমাণিত হওয়ায় তাদেরকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

দুর্নীতিতে জড়িত যে কাউকেই তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে জানিয়ে বাহিনী আরও জানিয়েছে, রাজধানীর গুলশানের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের দলনেত্রী মোসাম্মৎ শাহনাজ সুলতানা এবং ভাটারা থানাধীন ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের দলনেত্রী সামসুন্নাহারকে ‘একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার পর দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে।

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জানায়, সম্প্রতি হাতিরঝিলের ঘটনার অভিযোগ পাওয়ার পর নিবিড় তদারকি চালিয়ে এ দুর্নীতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হাতিরঝিল থানার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের শহর প্রতিরক্ষা দলের (টিডিপি) নেতা মামুন জনপ্রতি ৪০০ টাকার বিনিময়ে ভুয়া সনদ তৈরি করে প্রশিক্ষণবিহীন ৩৩০ জনকে নির্বাচনি দায়িত্বে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। পরে দায়িত্ব দেওয়ার নামে জনপ্রতি ১ হাজার ১০০ টাকা হারে উৎকোচ নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত ওয়ার্ড দলনেতা মামুন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জানায়, নির্বাচনি দায়িত্বের জন্য শুধু শারীরিক সক্ষমতা নয়, বৈধ সনদ ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতাও বাধ্যতামূলক। ভুয়া সনদধারী, অযোগ্য বা প্রভাবিত ব্যক্তির মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ দেওয়া হবে না।

এবার ভোটের মাঠের নিরাপত্তায় বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় সাড়ে ৯ লাখ সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। এর মধ্যে আনসারের সংখ্যা সাড়ে ৫ লাখের বেশি।

সাংবাদিক সাগর-রুনি দম্পতি হত্যার ১৪ বছরেও অমীমাংসিত রহস্য, জানা গেল নেপথ্যে কারণ নেতাদের টাকা উদ্ধারের নামে ‘ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ চলছে: আসিফ মাহমুদ অবৈধভাবে নির্বাচনি দায়িত্বে আনসারের ৩৩০ জন, পরে অব্যাহতি দেশবাসীর উদ্দেশে তারেক রহমানের নির্বাচনী অডিও বার্তা ঢাকা-১৬ আসন: বিএনপি প্রার্থী আমিনুল হক এর সঙ্গে ইসি কর্মকর্তার গোপন বৈঠকের অভিযোগ