খুঁজুন
রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৫ মাঘ, ১৪৩২

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে: ফখরুল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে: ফখরুল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে।বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে বৈঠকের পর ভারতীয় বার্তাসংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। বাংলাদেশে গত নির্বাচনের পর থেকেই আমাদের (বাংলাদেশ ও ভারতের) সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন ছিল বলেও জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল।

এছাড়া ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে পারবে না বলেও ভারতে আশ্বস্ত করেছে বিএনপি। বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএনআই।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ক্ষমতাচ্যুত এবং অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারতের সাথে সম্পর্কের “বরফ গলতে শুরু করেছে” বলে বিশ্বাস করে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

যদিও বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি এর আগে হাসিনার মেয়াদে গত ১৫ বছরে ভারতের সাথে সম্পন্ন হওয়া বেশ কিছু উদ্যোগ ও চুক্তির সমালোচনা করেছে।

এএনআই বলছে, সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করতে বিএনপির কার্যালয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে বৈঠক করেন।

এ বিষয়ে এএনআই-এর সাথে কথা বলার সময় মির্জা ফখরুল বলেন, প্রণয় ভার্মার সঙ্গে হওয়া এই বৈঠক উভয় দেশকে অনেক ইতিবাচক দিকে নিয়ে গেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, “বাংলাদেশে গত নির্বাচনের পর থেকেই আমাদের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন ছিল। কিন্তু এবার আমাদের অফিসে (ভারতের) হাইকমিশনার আসায় অবশ্যই পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বরফ গলতে শুরু করেছে।”

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছিল বিএনপি। তিনি বলেন, “ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সবসময়ই খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে এবং সম্পর্ক উন্নত হয়েছে। অবশ্যই, এটিও ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের একটি টার্নিং পয়েন্ট।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, তার দল ভারতকে আশ্বস্ত করেছে যে— ক্ষমতায় এলে তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ড বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনকে ব্যবহার করতে দেবে না। যদিও অতীতে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার রিপোর্ট রয়েছে।

ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সাথে বৈঠক সম্পর্কে এএনআইকে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা পানি ভাগাভাগি সমস্যা, সীমান্ত হত্যা, বিদ্যমান বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতার কথা উল্লেখ করেছি। একই সময়ে, ভারতের প্রধান ইস্যু ছিল নিরাপত্তা সমস্যা। আমরা আশ্বস্ত করেছি, আমরা ক্ষমতায় থাকলে, আমরা নিশ্চিত করব— এই ভূখণ্ডটি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ব্যবহার করবে না।”

এক মাসেরও বেশি আগে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণআন্দোলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন। এর আগে টানা কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনায় ৬০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন। পদত্যাগের পর শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট ভারতে পালিয়ে যান এবং এরপর নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়।

হাসিনা সরকারের পতনের একদিন পরই কারাগার থেকে মুক্তি পান বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, “বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক সব সময়ই খুব ভালো ছিল। কিন্তু বিএনপি ও ভারতের সম্পর্ক নিয়ে কিছু ভুল বোঝাবুঝি ছিল। আমি মনে করি— বরফ গলতে শুরু করেছে। আশা করি এই সম্পর্ক আরও ভালো হবে। এইবার তারা (ভারত) আমাদের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করবে, বিশেষ করে ভারতকে এই দেশের মানুষের পালস্ বোঝার চেষ্টা করা উচিত। তাদের সব ডিম এক ঝুড়িতে রাখা উচিত নয়। তাদের উচিত (উভয় দেশের) জনগণের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে তোলা।”

এদিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনের ফাঁকে অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বৈঠক করেছেন। বৈঠকে ঢাকা ও দি‌ল্লির পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “অবশ্যই, এটা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশের ক্ষমতার রাজনীতিতে এই পরিবর্তনের পর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে জয়শঙ্করের সাক্ষাৎ অবশ্যই খুবই তাৎপর্যপূর্ণ এবং খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং আমরা বিশ্বাস করি, এই বৈঠকের পর সম্পর্ক আরও মজবুত হবে।”

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, “ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হওয়া উচিত। জনগণের মধ্যে সম্পর্কই ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে শক্তিশালী করার মূল চাবিকাঠি।”

এএনআই বলছে, বিএনপি বিশ্বাস করে— হাসিনার বাংলাদেশে ফিরে আসা উচিত এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের মুখোমুখি হওয়া উচিত।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমি এখনও জানি না যে, সরকার তাকে (শেখ হাসিনা) বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করেছে কিনা। তবে আমি মনে করি, তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের মুখোমুখি হওয়ার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ফিরে আসা উচিত এবং তার জবাবদিহি করা উচিত।

এদিকে বিএনপি বলেছে, আগামী ৯ থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত পালিত হতে যাওয়া দুর্গাপূজা উৎসবের আগে তারা দেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার বিষয়ে তাদের ইউনিটগুলোকে সতর্ক করেছে। বাংলাদেশের ৩২ হাজার ৬৬৬টি প্যাভিলিয়নে এবার পূজা উদযাপন করা হবে।

ফখরুল বলেন, বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায় গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে— এমন ভুল বর্ণনা নিয়ে আমরা খুব উদ্বিগ্ন। আমি মনে করি না, কোনও গুরুতর সমস্যা চলছে। প্রতিটি পরিবর্তনের পর কিছু সমস্যা থাকে যা পুরোটাই রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক নয়। কিন্তু, আমরা আমাদের দেশের সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার জন্য খুবই সজাগ। বিশেষ করে, পূজার আগে আমরা ইতোমধ্যেই সারা দেশে আমাদের ইউনিটগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছি।

জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে ইসিতে আবেদন নারী নেত্রীদের

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ণ
জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে ইসিতে আবেদন নারী নেত্রীদের

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ‌‘এক্স’ (টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে নারীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগ তুলে তার প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বিতর্কিত একাধিক নারী নেত্রী। তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের কাছে এ সংক্রান্ত একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন।

রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাত করে তারা এ আবেদন জমা দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিতর্কিত গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু।

তিনি বলেন, সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তার ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে যে অবমাননাকর, কুরুচিপূর্ণ ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্য করেছেন, তা শুধু নারীদের প্রতি চরম অবমাননাই নয়; বরং দেশের কোটি কোটি শ্রমজীবী নারীর শ্রম, সম্মান ও সামাজিক অবদানের সরাসরি অস্বীকৃতি।

মোশরেফা মিশু আরও বলেন, পরবর্তীতে দলীয়ভাবে ওই মন্তব্যকে ‘হ্যাকিং’-এর ফল বলে দাবি করা হলেও ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত বক্তব্যের ক্ষেত্রে এ ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, স্বচ্ছ তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা প্রামাণ্য তথ্য এখনও জনসমক্ষে আসেনি।

বিতর্কিত এই নেত্রী দাবি করেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে, হ্যাকিং অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার দেখানো হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হ্যাকিংয়ে জড়িত থাকার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এতে তথাকথিত ‘হ্যাকিং’ দাবি আরও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

কথিত ওইসব নারী নেত্রীরা বলেন, গার্মেন্টস শিল্পসহ দেশের বিভিন্ন খাতে শ্রমজীবী নারীরা দীর্ঘদিন ধরে পরিবার, সমাজ ও জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তাদের এই অবদানকে হেয় করে প্রকাশ্যে এমন বক্তব্য দেওয়া সংবিধানস্বীকৃত সমতা, মানবাধিকার, নারী মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থি।

তারা আরও বলেন, এ ধরনের মন্তব্য নারীর প্রতি ঘৃণা, বৈষম্য ও সহিংসতার সংস্কৃতিকে উসকে দেয় এবং নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশকে ঝুঁকির মুখে ফেলে। একজন রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

আবেদনে চার দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো-অবিলম্বে বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহার, কর্মজীবী নারী ও নারী শ্রমিকদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা, ভবিষ্যতে নারীর মর্যাদা ও শ্রম অবমাননা করে কোনো বক্তব্য না দেওয়ার অঙ্গীকার এবং নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল।

এ সময় সিইসির সঙ্গে বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ, এনপিএ মুখপাত্র ফেরদৌস আরা রুমী, নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরামের সংগঠক নাফিসা রায়হানা এবং আইনজীবী ও অধিকারকর্মী তাবাসসুম মেহেনাজ মিমিসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কারাগারে বলিউডের জনপ্রিয় কমেডিয়ান রাজপাল যাদব

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৫০ অপরাহ্ণ
কারাগারে বলিউডের জনপ্রিয় কমেডিয়ান রাজপাল যাদব

পর্দায় যাঁর উপস্থিতি মানেই হাসির রোল, সেই অভিনেতা রাজপাল যাদব এখন জেলে। ৫ কোটি রুপি ঋণ সুদে-আসলে ৯ কোটিতে পৌঁছানো এবং বারবার চেক বাউন্স হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে দিল্লির তিহার জেলে আত্মসমর্পণ করেছেন তিনি। দিল্লি হাইকোর্ট তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো দয়া না দেখিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আইন সবার জন্য সমান।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজপাল যাদবের এই বিপত্তির শুরু প্রায় ১৬ বছর আগে। ২০১০ সালে নিজের পরিচালিত প্রথম ছবি ‘আতা পাতা লাপাতা’ নির্মাণের জন্য দিল্লির মুরলি প্রজেক্টস নামের একটি সংস্থা থেকে ৫ কোটি রুপি ঋণ নিয়েছিলেন তিনি। ২০১২ সালে ছবিটি মুক্তি পেলেও বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে। এর পর থেকে শুরু হয় ঋণ পরিশোধের টানাপোড়েন।

তদন্তে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে রাজপাল আদালতকে অন্তত ২০ বার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি অর্থ শোধ করবেন। কিন্তু প্রতিবারই তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।

প্রথম ২০১৮ সালে দিল্লির একটি আদালত চেক বাউন্স মামলায় রাজপাল ও তাঁর স্ত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করে ছয় মাসের সাজা দেন। এরপর ২০২৪ সালে হাইকোর্ট তাঁর সাজা সাময়িকভাবে স্থগিত করে সমঝোতার সুযোগ দেন।

তবে গত বছরের ডিসেম্বরে ৪০ লাখ এবং জানুয়ারিতে ২ কোটি রুপি দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি তা দেননি।

গত বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজপাল যাদব ক্ষমা প্রার্থনা করে আরও এক সপ্তাহ সময় চেয়েছিলেন। কিন্তু বিচারপতি স্বর্ণ কান্ত শর্মা সেই আবেদন খারিজ করে দিয়ে বলেন, কেবল কেউ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত বলে আদালত তাঁর জন্য কোনো বিশেষ নিয়ম তৈরি করতে পারেন না। নমনীয়তা দেখানো হয়েছে, কিন্তু আইন অমান্য করলে তার সাজা পেতেই হবে। আদালতের মতে, রাজপালের এই আচরণ বিচারব্যবস্থার প্রতি ‘অসম্মান’ প্রদর্শনের শামিল।

গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টা নাগাদ রাজপাল তিহার জেল কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। জেল সূত্রে জানা গেছে, সেখানে বর্তমানে তিনি একজন সাধারণ কয়েদি হিসেবে ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করবেন। রাজপালের আইনজীবী জানিয়েছেন, আত্মসমর্পণের পর এখন নতুন করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে ঋণের অর্থ পরিশোধ করে দ্রুত মুক্তি পাওয়া যায়।

হাঙ্গামা, ভুলভুলাইয়া ও চুপ চুপ কের মতো কালজয়ী সিনেমার এই অভিনেতার এমন পরিণতিতে ভক্তদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বলিউডের কোনো তারকা এই বিপদে তাঁর পাশে দাঁড়াবেন কি না, তা নিয়ে চলছে আলোচনা।

ডা. না হয়েও পদবি ব্যবহার, জামায়াত প্রার্থীকে শোকজ

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৪৪ অপরাহ্ণ
ডা. না হয়েও পদবি ব্যবহার, জামায়াত প্রার্থীকে শোকজ

নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করার অভিযোগে ফেনী-৩ আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুদ্দিনকে শোকজ করেছেন আসনের অনুসন্ধানকারী ও বিচারিক কর্মকর্তা সাজ্জাতুন নেছা।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তাকে লিখিতভাবে এ শোকজ নোটিশ প্রদান করা হয়।

শোকজ নোটিশে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচন আইন সহায়তা ও নির্বাচন পর্যবেক্ষক লিগ্যাল কমিটির অভিযোগ অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যবহৃত পোস্টার, লিফলেট, ব্যানার ও ফেস্টুনে মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করছেন। অথচ তার নির্বাচনী হলফনামায় তিনি ‘ডাক্তার’ পদবি উল্লেখ করেননি, যা স্পষ্টভাবে নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন।

নোটিশে আরও বলা হয়, এমবিবিএস বা বিডিএস ডিগ্রিধারী না হয়েও ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৭৭ (৩) (খ) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এমতাবস্থায় কেন মোহাম্মদ ফখরুদ্দিনের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে অপরাধ বিচারার্থে আমলে নেওয়া হবে না অথবা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান শেষে লিখিত সুপারিশসহ বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন পাঠানো হবে না- সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শোকজ নোটিশে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় কমিটির অস্থায়ী কার্যালয় তথা বিচারক (যুগ্ম জেলা জজ), ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল, ফেনীতে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

নিরাপত্তা চেয়ে মিন্টুর জিডি:

এদিকে এই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে দাগনভূঞা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তার পক্ষে নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্ট মোহাম্মদ শামছুদ্দিন থানায় জিডিটি দায়ের করেন।

জিডিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের সিলোনীয়া বাজারে অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর এক নির্বাচনী সভায় দলটির নেতা মেজবাহ উদ্দিন সাঈদ, বিএনপির প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টুকে উদ্দেশ করে হুমকিমূলক বক্তব্য দেন।

তিনি বক্তব্যে বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডা. শফিকুর রহমান ক্ষমতায় গেলে মিন্টু কোথায় পালিয়ে যাবেন- এ প্রশ্ন তোলেন। একইসঙ্গে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ভাত রেখে পালিয়ে গেছে, আপনাকেও কি রেখে পালাতে হবে- তা আমি বলতে চাই না।

জিডিতে আরও দাবি করা হয়, মেজবাহ উদ্দিন সাঈদসহ জামায়াতের বিভিন্ন নেতাকর্মী বিভিন্ন সময় ও বিভিন্ন মাধ্যমে নিয়মিত হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছেন। এতে করে আবদুল আউয়াল মিন্টু সম্মানহানি ও নিজের জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে আইনগত সুরক্ষা ও প্রতিকার চেয়ে থানায় লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।

আবদুল আউয়াল মিন্টু জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনীত ফেনী-৩ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী। তিনি দাগনভূঞা উপজেলার আলাইয়ারপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মরহুম আলহাজ্ব শফি উল্লাহ ও বদরের নেছার বড় ছেলে।

জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে ইসিতে আবেদন নারী নেত্রীদের কারাগারে বলিউডের জনপ্রিয় কমেডিয়ান রাজপাল যাদব ডা. না হয়েও পদবি ব্যবহার, জামায়াত প্রার্থীকে শোকজ আইন সুরক্ষা ফাউন্ডেশন (আসুফ) রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির সকল কার্যক্রম স্থগিত মুম্বাইয়ে জমকালো অনুষ্ঠান, অন্যান্য স্টেডিয়াম ফাঁকা