অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলা করেছে ‘অ্যাপোনিয়া’ নামের একটি অনলাইন ফ্যাশন পেজ। কিছুদিন আগে ওই পেইজ থেকে ২৮ হাজার ৮০০ টাকার মূল্যের একটি শাড়ি নিয়ে প্রমোশন, মূল্য পরিশোধ না করে এক পর্যায়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্যই প্রতারণার অভিযোগ এনেছিলেন ফ্যাশন পেজটির কর্ণধার এক নারী উদ্যোক্তা।
বিষয়টি নিয়ে তিশা তার ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে দাবি করেছিলেন, ওই শাড়িটি নাকি উপহার দিয়েছেন নারী উদ্যোক্তা। এরপর প্রতারণা, মানহানিকর কথা ও ছলচাতুরীর অভিযোগ এবং এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে তানজিন তিশাকে আইনি নোটিশ দিয়েছিলেন ‘অ্যাপোনিয়া’ অনলাইন ফ্যাশন পেজের এক্সিকিউটিভ মো. আমিনুল ইসলামের পক্ষে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সলিমুল্লাহ সরকার।
এবার প্রতারণা ও মানহানির অভিযোগে তিশার বিরুদ্ধে মামলা করেছে অ্যাপোনিয়া কর্তপক্ষ। বুধবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ১৮ নম্বর কোর্টে ৪২০/৪০৬ ধারায় প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ এনে বাদী হয়ে এ মামলাটি করেন অ্যাপোনিয়ার এক্সিকিউটিভ মো. আমিনুল ইসলাম। সি আর মামলা নম্বর ৯৬২/২০২৫।
মামলায় দণ্ডবিধির ৪২০/৪০৬ ধারায় অপরাধ আমলে নিয়ে আসামির প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আদেশ চাওয়া হলে ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত তিশার বিরুদ্ধে মামলাটি আমলে নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থাকে (ডিবি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
এর আগে গত ২২ অক্টোবর তানজিন তিশার বাসায় ঠিকানায় ডাকযোগে এবং তিশার হোয়াটসঅ্যাপে আইনি নোটিশটি পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছিল অ্যাপোনিয়া কর্তৃপক্ষ।
আইনি নোটিশে এক সপ্তাহের মধ্যে ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি ওই নারী উদ্যোক্তাকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যাচার করার জন্য ক্ষমা চাইতে বলা হয় তিশাকে। কিন্তু আইনি নোটিশে বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও বিষয়টি নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন এই তারকা অভিনেত্রী।
দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনা হরহামেশাই মুখোমুখি হয় একে অপরের। কিন্তু ফিফা বিশ্বকাপে এই নজির খুবই বিরল। সবশেষ ১৯৯০ সালে দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল ফুটবলের বিশ্বআসরে। ৩৬ বছর পর আবারও দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা জেগেছে ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে।
তবে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে কোন পর্যায়ে—এই প্রশ্নের উত্তর পুরোটা নির্ভর করছে গ্রুপপর্বের অবস্থানের ওপর। দুটি দলই যদি নিজ নিজ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়, তাহলে সেমিফাইনালের আগে তাদের দেখা হওয়ার সুযোগ নেই। দুই দলই যদি রানার্সআপ হয়, তবুও সেমিফাইনালের আগে মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
একটি দল যদি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় এবং অন্যটি রানার্সআপ হয়ে পরবর্তী রাউন্ডে ওঠে, তাহলেও ফাইনালের আগে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী একে অপরের সামনে পড়বে না।
তবে কোনো একটি দল যদি সেরা আটটি তৃতীয় স্থানের দল হিসেবে নকআউট পর্বে যায়, তখন পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়বে। সেই অবস্থায় দুই দলের ঠিক কোন পর্যায়ে মুখোমুখি হতে পারে, তা অনুমান করা কঠিন। আজ বিশ্বকাপের নকআউটের সূচি নির্ধারিত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে পরিষ্কার জানা যেতে পারে।
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)–এর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের সঙ্গে আদিয়ালা কারাগারে সব ধরনের সাক্ষাৎ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এ ঘোষণা দেন। সেইসঙ্গে তিনি ইমরান খানকে ‘যুদ্ধোন্মাদনায় আক্রান্ত উগ্রপন্থি’ হিসেবে আখ্যা দেন।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের ‘নয়া পাকিস্তান’ অনুষ্ঠানে তারার বলেন, ‘কারাগারের নিয়ম অনুযায়ীই বন্দীদের সাক্ষাৎকার হয়। এখন কোনো সাক্ষাৎ নেই; সব সাক্ষাৎ বন্ধ।’
কারাগারের বাইরে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে কেউ চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব পুনরুদ্ধারের এখনই সময়। কোনো জেল সাক্ষাৎ হবে না, কোনো জমায়েতও অনুমোদন দেওয়া হবে না।’
কারা বিধি অনুযায়ী সাক্ষাতের সময় জেল সুপারিনটেন্ডেন্ট উপস্থিত থাকেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে এসব সাক্ষাতে রাজনৈতিক আলোচনা এবং নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছিল।
তিনি বলেন, ‘কারাগারের ভেতর থেকে রাষ্ট্রবিরোধী এজেন্ডা এগিয়ে নিতে কোনো অনুমতি দেওয়া হবে না।’
তারার দাবি করেন, খান ও তার দল দেশকে ডিফল্টে ঠেলে দিতে চেয়েছিল। ‘আইএমএফকে চিঠি লেখা হয়েছিল যাতে পাকিস্তান ডিফল্টে যায়। ৯ মে সামরিক স্থাপনায় হামলাও চালানো হয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত দেখেই রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য ছড়াচ্ছেন।’
তিনি আরও দাবি করেন, ইমরান খানের ‘তালেবানসুলভ মানসিকতা’ রয়েছে এবং তিনি ‘সন্ত্রাসীদের বন্ধু’ মনে করেন।
তারার প্রশ্ন ছুড়ে দেন, ‘এই উগ্র ও যুদ্ধোন্মাদ ব্যক্তি—তাকে তার নিজের দলের সদস্যরাই বা আর কতদিন সহ্য করবে?’
তথ্যমন্ত্রী জানান, ফেডারেল সরকার খাইবার পাখতুনখোয়ায় গভর্নর শাসন জারির বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে।
তিনি আরও বলেন, ‘পিটিআই সদস্যরা তার (ইমরান খানের) বর্ণনার সঙ্গে নেই।’ রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণা চালানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
তারার বলেন, ‘তাদের আর কোনো ভবিষ্যৎ নেই; তাদের রাজনৈতিক জায়গা ও বর্ণনা সীমিত করে দেওয়া হবে।’
পিটিআইয়ের সঙ্গে পুনর্মিলন সম্ভব কি না- এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘তারা সুযোগ নষ্ট করেছে। যারা বিশৃঙ্খলা, সন্ত্রাস বা উগ্রবাদী চিন্তা ছড়ায়, তাদের সঙ্গে কোনো সংলাপ হবে না।’
দুই হাতে শক্ত করে জড়িয়ে আছে একটি সাপ। সরীসৃপটির শীতল স্পর্শ যেন এক মুহূর্তের জন্য শান্তি দিল। তবে চোখ বন্ধ করলেই ফিরে আসে যুদ্ধের শব্দ। আতঙ্কে নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। গাজায় যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে সেনাবাহিনী ছাড়ার ১৮ মাস পার হয়ে গেলেও এই মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি মিলছে না। এ অবস্থা হামাসের হামলায় আহত ২৭ বছর বয়সী এক সার্জেন্ট মেজরের। যুদ্ধের ট্রমা থেকে বের হয়ে আসতে ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলের এক খামারে নিচ্ছিলেন প্রাণীর সংস্পর্শে থাকার থেরাপি।
সাবেক এক ইসরায়েলি সেনা জানান তাঁর দুই সহযোদ্ধা আত্মহত্যা করেছেন। দুজনের বয়সই ছিল কুড়ির ঘরে। থেরাপি নেওয়ার পরের অবস্থার বোঝাতে এই ইসরায়েলি সেনা বলেন, ‘এখন পাশ দিয়ে যদি কোনো বিমান বা ড্রোন উড়ে যায় কিংবা কেউ চিৎকার করতে থাকে, তাতে কিছু যায় আসে না। কারণ আমি এখন এই সাপের সঙ্গে আছি।’
মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায়, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) সঙ্গে কথা বলা এই সেনা নিজের নাম প্রকাশ করতে চাননি।
ইসরায়েলের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চালিয়ে যাওয়া গাজাযুদ্ধে চলছে ভঙ্গুর এক বিরতি। এই বিরতির চুক্তি অনেকবারই ভঙ্গ করছে ইসরায়েল। তবে গাজা ছেড়ে যাওয়া অনেক সেনার স্মৃতিতে যুদ্ধের সময়গুলো যেন কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন অনেকে। বাড়ছে পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পিটিএসডি), বিষণ্নতা এবং অন্যান্য মানসিক সমস্যা। পাশাপাশি আত্মহননের ঘটনাও ঘটছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে প্রায় ১১ হাজার সেনা ‘মানসিক আঘাত’ জনিত সমস্যায় ভুগছেন। এই সংখ্যা ইসরায়েলের ৮০ বছরের ইতিহাসে সব যুদ্ধ মিলিয়ে এমন আঘাতে আক্রান্ত মোট সেনার এক–তৃতীয়াংশেরও বেশি।
মন্ত্রণালয় ‘মানসিক আঘাত’ বলতে পিটিএসডি, উদ্বেগ, বিষণ্নতা ও অন্যান্য মানসিক সমস্যাকে বুঝিয়েছে।
এদিকে, ইসরায়েলি সেনাদের আত্মহত্যার হারও বেড়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে এক দশক ধরে প্রতি বছর গড়ে ১৩ জন সেনা আত্মহত্যা করতেন। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পর এই সংখ্যা বেড়ে গেছে। সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ২১ জন সেনা আত্মহত্যা করেছেন।
তবে এই হিসাবের মধ্যে দায়িত্বরত সেনা ও রিজার্ভ সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত। সেনাবাহিনী ছাড়ার পর যারা আত্মহত্যা করেছেন, তারা এই পরিসংখ্যানে নেই।
গত মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট জানায়, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত আরও ২৭৯ জন সেনা আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। তবে তারা বেঁচে গেছেন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পুনর্বাসন বিভাগের প্রধান ও উপমহাপরিচালক লিমোর লুরিয়া বলেন, ‘মানসিক আঘাতের প্রভাব কতটা গভীর সেটা এখন সবাই উপলব্ধি করছে। এর চিকিৎসা প্রয়োজন এবং সম্ভবও।’
লুরিয়া আরও বলেন, ‘আমরা এখন প্রজন্মগত পার্থক্য দেখছি। আগের যুদ্ধের বহু আহত সেনা কখনো সাহায্য নেননি, কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের আহতরা একেবারে ভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন।’
এই সংকট মোকাবিলায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে। শত শত মানসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাদের সহায়তার জন্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের পাঠানো হচ্ছে। একই সঙ্গে সহায়তা হটলাইন চালু করা হয়েছে। এর পাশাপাশি অবসরের পর যৌথ থেরাপি সেশন আয়োজন করা হচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ইসরায়েল এখনো এত বড় পরিসরের মানসিক সংকট সামলানোর মতো প্রস্তুত নয়। বিষয়টি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পুনর্বাসন বিভাগও স্বীকার করেছে। তাদের মতে, এই সংকট পুরো জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থাকেই প্রভাবিত করছে।
ট্রমা থেরাপি স্পেশালিস্ট টুলি ফ্লিন্ট বলেন, এই যুদ্ধের দীর্ঘ মেয়াদ ও তীব্রতা, পাশাপাশি বারবার মোতায়েন করা সেনাদের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। এতে সেনারা শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। এটি ভবিষ্যতে দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ‘যুদ্ধের মানসিক ভুক্তভোগীদের যদি যথাযথ চিকিৎসা না দেওয়া হয়, তারা নিজেদের, পরিবারের এবং সমাজের জন্য একপ্রকার বোঝা হয়ে উঠতে পারেন।’
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সঙ্গে কথা বলা ইসরায়েলি সেনা ও তাঁদের চিকিৎসায় নিযুক্ত মনোবিজ্ঞানীরা বলেছেন, যুদ্ধ শেষে অনেকেই জীবনের উদ্দেশ্য হারিয়ে ফেলছেন। তাদের মনোযোগ ধরে রাখা, সম্পর্ক গড়া বা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অসহায়ত্ব ও হতাশার অনুভূতি আরও গভীর হয়েছে।
ট্রমা থেরাপিস্ট টুলি ফ্লিন্ট জানান, কিছু সেনা ‘নৈতিকভাবে আহত’ হয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ শেষে অনেক সেনা নিজেদের প্রশ্ন করেন- যা দেখেছি, যা করেছি, তার পর আমি আসলে কে? আমি কী ধরনের মানুষ?’
যুদ্ধের শুরুতে প্রায় ছয় মাস রেডিও টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করা ২৭ বছর বয়সী এক সাবেক সেনা জানান, এ বছরের শুরুতে তিনি এই খামারে আসেন, কারণ তখন নিজেকে পুরোপুরি হারিয়ে ফেলা মনে হচ্ছিল।
গাজার সীমান্তে তাঁর ঘাঁটিতে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে, তাতে তাঁর পিঠে গুরুতর আঘাত লাগে। এরপর থেকে তিনি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন, শব্দে আতঙ্কিত ও সবসময় টানটান উত্তেজিত মানসিক অবস্থায় থাকতেন।
তিনি বলেন, ‘সবকিছু আরও বেড়ে যেতে থাকল। আমার রাগ, আমার চিৎকার, আমার অনুভূতি। যেন কেউ ভলিউম বাড়িয়ে দিয়েছে।’
তিনি সেনাবাহিনীর মাধ্যমে চিকিৎসা নিচ্ছেন, তবে এই খামার তাঁকে এক ভিন্নভাবে সুস্থ হওয়ার সুযোগ দিয়েছে। একই অভিজ্ঞতার মানুষদের সঙ্গে থাকা এবং প্রাণীদের যত্ন নেওয়ার মাধ্যমে তিনি মনকে শান্ত রাখতে পারছেন, ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছেন।
সদোট ইয়াম কিবুতজে অবস্থিত ‘ব্যাক টু লাইফ’ খামারটি সেনাদের সহায়তার জন্য নেওয়া অনেক ছোট ছোট উদ্যোগের একটি।
২০১৪ সালে গাজায় যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন আমির ইয়ারদিনাই (দানি)। সেখান থেকে ফিরে বছরের পর বছর তীব্র পিটিএসডিতে বা মানসিক সমস্যায় ভুগে গত বছর আত্মহত্যা করেন। তাঁকে উৎসর্গ করে তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু আসি নাভে এই খামারটি প্রতিষ্ঠা করেন।
আসি নাভে বলেন, ‘দানির মৃত্যু আমাকে অনুভব করিয়েছিল—সে-ই শেষ নয়।’
এই খামার এখন দশকের পর দশক যুদ্ধফেরত সেনাদের জন্য এক প্রশান্ত আশ্রয়স্থল। এখানে তারা প্রচলিত কাউন্সেলিংয়ের পাশাপাশি কুকুরসহ বিভিন্ন প্রাণীর মাধ্যমে থেরাপি নেন। চারদিকে পাখির ডাক আর মুরগির ডাকের প্রাকৃতিক পরিবেশে সাবেক সেনারা উদ্ধারকৃত প্রাণীদের সঙ্গে কাজ করেন—যেখানে মানুষ ও প্রাণী দুজনেই একে অপরকে সুস্থ হতে সাহায্য করে।
এই খামারের থেরাপি কার্যক্রমে পরামর্শদাতা মনোবিজ্ঞানী গাই ফ্লুম্যান বলেন, সেনাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নাগরিক জীবনে ফিরে খাপ খাওয়ানো। প্রাণীদের সঙ্গে থাকা তাঁদের মনকে স্থিতিশীল করতে সাহায্য করে।
তিনি আরও বলেন, ‘তাদের অতীতের স্মৃতিগুলো সামলাতে সাহায্য করতে হবে, যাতে তারা যা ঘটেছে তার সঙ্গে শান্তিতে থাকতে শিখে… এবং পাশাপাশি আবার জীবনের সঙ্গে সংযোগ খুঁজে পায়।’
গাজা ও পশ্চিম তীরে এক বছর মোতায়েন থাকা ৩১ বছর বয়সী এক সেনা বাড়ি ফিরে আরেক লড়াইয়ের মুখোমুখি হয়েছে। ভেঙে গেছে যত্নে গড়া সম্পর্কগুলো। পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, ‘মনে হতো আমি এখনো সেখানেই আছি। আমার শরীর এখানে, কিন্তু মন এখনো যুদ্ধক্ষেত্রে রয়ে গেছে।’
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পুনর্বাসন বিভাগের পরিচালক লিমোর লুরিয়া স্বীকার করেছেন, সেনাদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার বিষয়টি সামাজিক কলঙ্কতে পরিণত হয়েছে। এই কলঙ্ক দূর করতে কাজ চলছে।
লুরিয়া জানান, জনসচেতনতামূলক প্রচারাভিযান, গণমাধ্যমে প্রচার এবং তরুণ যুদ্ধফেরতদের যুক্ত করতে পুনর্বাসন খামার ও অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের মতো কর্মসূচি রয়েছে।
৩২ বছর বয়সী এক রিজার্ভ সেনা বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর দক্ষিণ ইসরায়েলে নিহতদের মরদেহ সংগ্রহের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ওই হামলায় প্রায় ১২০০ জন নিহত ও ২৫১ জন জিম্মা হন।
তিনি জানান, তার ফ্ল্যাশব্যাকগুলো মৃতদেহের দৃশ্য নয়, বরং গন্ধের সঙ্গে বেশি যুক্ত। এই সেনা বলেন, ‘আমি যেন সবসময় মৃতদেহের গন্ধ পাই। এমনকি নিজের সন্তানের ডায়াপার বদলানোর সময়ও সেই গন্ধ মনে পড়ে যায়।’
তিনি নিজেও একজন থেরাপিস্ট। তাই দ্রুতই বুঝতে পারেন, এটি পিটিএসডির (PTSD) লক্ষণ। এরপর চিকিৎসা নেন তিনি। এখন অন্য সেনাদেরও সহায়তা করছেন।
তাঁর মতে, সেনাদের চিকিৎসা নিতে উৎসাহিত করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো মাঠপর্যায়ের কমান্ডারদের ভূমিকা।
ওই সেনা বলেন, ‘যখন কোনো কমান্ডার নিজেই বলেন, ‘তুমি সাহায্য নিতে পারো’। তখন বিষয়টা অনেক সহজ হয়। এতে ভয় বা সামাজিক কলঙ্ক কমে যায়।’
আপনার মতামত লিখুন