খুঁজুন

রাজনীতি বিষয়ক প্রবন্ধ

নরপিশাচরা এখনও মানবরূপেই আছে

মোঃ ইলিয়াস কাশেম
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৪, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ
নরপিশাচরা এখনও মানবরূপেই আছে

লেখক: ইলিয়াস কাশেম
(সাংবাদিক,কলামিস্ট ও কথাসাহিত্যিক)

বিভৎস চেতনা হৃদয়ে লালন-পালনকারীরা রাজনীতির মতো একটি মহতি শব্দকে অপবিত্র করে ফেলেছে।দেখতে শুনতে ওদের মানুষের মতো দেখালেও,ওরা আদতে সেই বিভৎস চেতনা খেকো আওয়ামিলীগই বটে।জালিমের অনুসারীরা কখনও প্রকৃত বিবেকবান মানুষ হতে পারেনা,এই মহাসত্য বলার অপরাধে যদি আমার ফাঁসিও হয়!সেও হাসিমুখে মেনে নিব,কিন্তু এই মহাসত্যকে অস্বীকার করতে পারবোনা।

এরা হৃদয়ে ভিনদেশী চেতনা গোপনে লালন-পালন করে দেশপ্রেমিক বলে যতই গলা ফাটিয়ে মরুক,এদের হৃদয়ে জালিয়াতির সিলমোহর মেরে দেয়া হয়েছে মহান রব আল্লাহ্ র পক্ষ থেকে। এটা আমার দীর্ঘদিনে নিজ চোখে দেখে আসা বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি।এরমধ্যে কেউ কেউ আছেন সরল হৃদয়ের মানুষ,কিন্তু এরা খুব সহজেই মিথ্যাকে সত্য বলে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন।আর এই ভুলকেও তারা কোনদিন ভুল ভাবতেও চেষ্টা করেননা,আর কেউ কেউ চেষ্টা করলেও অন্তর্দৃষ্টি তাদেরকে আচ্ছন্ন করেই সেই একই পথ অনুসরণ করাতে থাকে।

সরকারের উদারনীতির ফলে এরা মরতে গিয়েও বেঁচে ফিরে আসছে ধিরে ধিরে।শাসককে নমনীয় হতে হয় প্রকৃত মানুষের জন্য,যারা ভুল করেই ভুল করেছে অথবা পরিস্থিতির শিকার হয়ে ভুল পথে নিজেকে নিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে তাদের জন্য। কিন্তু যারা ভুল করবার জন্যই পৃথিবীতে জন্মেছে,সমাজ,ধর্ম ও রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিশৃঙ্খলা ও অশান্তি সৃষ্টি করে আপনাদের সরলতার সুযোগ নিচ্ছে,তাদের প্রতি পুরো রাষ্ট্র যন্ত্রকে সাধারণ জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা নিয়ে কঠোর থেকে কঠোর হস্তে দমন নীতি গ্রহণ করতে হবে।জাতির রূপ ও মনমানসিকতার পরিমাপ অনুযায়ী সরকারকে প্রয়োজন মাফিক জায়গা বুঝে কঠোর ও নমনীয় কিংবা সংবেদনশীল আচরণ করা শিখতে হবে।মনে রাখতে হবে,এ জাতি শক্তের ভক্ত নরমের যম।বাংলাদেশের মতো জায়গায় যদি আল্লাহ্ র ফেরেশতাও শাসন ভারের দায়িত্ব নিয়ে বসেন,সেই ফেরেশতাকেও মাত্র কয়েকমাসের ব্যবধানে এরা পাগল করে ছাড়বেন,এটা নিশ্চিত।

যেখানে রাষ্ট্রের প্রতিটি সেক্টরে এতদিন অবাদে ঘুষ-দুর্নীতির মহোৎসব চলেছে,সেখানে রাতারাতি আপনাদের পক্ষে এই দেশ সুদ্ধ করবার চিন্তা নেহাতই বেমানান ও অসম্ভব বিষয়। কারণ দেশে এখনও ঘুষ-দুর্নীতিবাজরা জনসংখ্যার গড় হিসেবে সংখ্যা গরিষ্ঠ।পাশাপাশি পরাজিত অপশক্তি তো প্রতিশোধের রক্তলাল চোখে ঘুমহীন ষড়যন্ত্রের জাল,মাকড়সার জালের মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে উদ পেতে বসেই নয়,অবিরাম দৌড়ের উপর আছেই।এদিকে আমাদের কথিত বন্ধু রাষ্ট্রও বসে নেই,অর্থ দিয়ে,অস্ত্র দিয়ে,পেশিশক্তির সহযোগিতা দিয়ে,যেখানে যা কিছু প্রয়োজন তার সবকিছু দিয়েই বদ্ধমূল অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

মনে রাখতে হবে,তাদের গোপনে বহুমূল্যে কেনা বাংলাদেশের পুতুল শাসকের পতন মানেই তাদের বিশ্বসেরা অবমাননা ও কর্তৃত্ববাদীর চরম পরাজয়।কাজেই বাংলাদেশ ভালো থাকলে ওদের শান্তিতে চরম আঘাত ও অশান্তি সৃষ্টি করে। ওদের মানসিকতা ফেরাউনের প্রেতাত্মা ভর করে আছে,যেকোনো মূল্যে ওরা এখন চেষ্টা করবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত হানতে।এছাড়াও খুব সম্ভব এরা দাজ্জালে অনুসারীই হবে। ওদের কোন ভাবে বিশ্বাস ও মানবিক বিবেচনায় আওয়ামিলীগের রাজনীতির পূনঃবাসন মানেই,ওদের সাধারণ ক্ষমা মানেই এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পরাধীনতা নিশ্চিত করে দেয়ার পথ পাকাপোক্ত করা।

অতিরিক্ত স্বাধীনতা মানুষকে উলঙ্গ হতে উৎসাহ যোগায়।আগে একদল খেয়েছে,এখন সবদল যার যার মতো খাচ্ছে।শৃঙ্খলা সম্পূর্ণভাবে ভেঙ্গে পড়েছে,কেউ মানতে নারাজ কাউকেই।এমন পরিস্থিতি সামাল দেয়া একটি অনির্বাচিত ও অস্থায়ী সরকারে পক্ষে এককভাবে কোন মতেই সম্ভব হবেনা।সমস্যা যেমন একদিনে সৃষ্টি হয়নি,তেমনি সমাধানও কারও পক্ষেই রাতারাতি করে ফেলা সম্ভব নয়।দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করাও অস্থায়ী,অনির্বাচিত,সুশীল ও অন্তর্বতীকালী সরকারের পক্ষে অসম্ভব বিষয়।

হাতেগোনা কিছু সমস্যা হয়তোবা মোকাবেলা করা যাবে,কিন্তু এদেশে দীর্ঘ সতেরো বছরে লক্ষ লক্ষ সমস্যা সৃষ্টি করা হয়েছে,সেই সাথে আরও কিছু সমস্যার বীজ বপন করা হয়েছে।এতগুলো সমস্যার সমাধানে গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যে,সরকার আসবেন,সাংবিধানিক এক মেয়াদ সময়েও এ-সব সমস্যার পরিপূর্ণ সমাধান সম্ভব হবেনা।এদিকে জমিনে আগাছা সৃষ্টির মতো সমস্যা তো সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে সৃষ্টি হতেই থাকে,তাকে সেবা যত্ন কিংবা পরিচর্চার প্রয়োজন পড়ে না।পৃথিবীতে বাংলাদেশের চেয়ে বহুগুণ বেশি জনসংখ্যা সংবলিত দেশ রয়েছে,সে-সব দেশের মাটি এতটা আগাছা কিংবা পরগাছা জন্মানোর মতো উর্বর নয়,যতটা উর্বর বাংলাদেশের মাটি।

সেইসব দেশে মানুষ সৃষ্টি হয় মোটামুটি একটা হিসাব কষেই,আবার মানুষের শিক্ষা,সংস্কৃতি,সভ্যতা,সামাজিক ও ধর্মীয় বিশ্বাসও গড়ে উঠে বেশ হিসাব করেই।আমাদের দেশের মতো এত নারী-পুরুষের ঘনবসতি প্রেম ভালবাসা ও যত্রতত্র মানব চাষের সংস্কৃতি সেইসব দেশে এতটা অবাদ নয়,তবে সবকিছুতেই অবাদ স্বাধীনতার ফল তারা ভোগ করেই অভ্যস্ত।সেইসব দেশগুলোতে আইন ও সংবিধান তৈরি হয় সাধারণের অবাদ স্বাধীনতা ভোগ করবার মহতি উদ্দেশ্য নিয়ে এবং গভীর জ্ঞানগর্ভ চেতনাকে প্রধান্য দিয়েই।কিন্তু আমাদের দেশে আইন ও সংবিধান তৈরি হয় নির্দ্দিষ্ট কোন রাজনৈতিক দল,পরিবার কিংবা গোষ্ঠীকে উদ্ধারের কারিশমা মাথায় নিয়ে,আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিংবা বিচার বিভাগকে পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করে সেইসব আইন ও সংবিধান প্রয়োগকারী সংশ্লিষ্টদের যথেষ্ট ফাঁকফোকর সৃষ্টি, আইনপ্রনয়নকারীরা ইচ্ছা করেই রেখে যান।যাতে করে নিজেদের সুবিধা মতো প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের ঘুষদুর্নীতির সুযোগ থাকে, আবার সেই সুযোগ সৃষ্টি করা হয় প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে ইচ্ছে মাফিক নিজেদের দল,পরিবার কিংবা গোষ্ঠী উদ্ধার করতে।

সমস্যার সমাধান যেখান থেকে শুরু হবার কথা,সমস্যার সৃষ্টিও সেই একই জায়গা থেকেই শুরু হচ্ছে।তবে সমস্যা সমাধানের চেয়ে সমস্যা সৃষ্টি দৌড়ে সবসময়ই আমাদের দেশ এগিয়ে থাকে।তারপর সেই সমস্যা এতটা দ্রুত বেগে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে,যা কি-না সাধারণের একেবারে দোরগোড়া পর্যন্ত পর্যাপ্ত বিস্তৃত লাভ করে বসে।একটি সময় সমাধানের জন্য যেই আইন বা সংবিধান সৃষ্টি করা হয়,সেই আইন বা সংবিধান নিজেই সমস্যার সবচেয়ে বড় ঠিকাদার হিসেবে দাঁড় হতে বাধ্য হয়।

অনিরাপদ ও বিশৃঙ্খলা দমন করা যায়না,নিজেদের ষড়-রিপু যতক্ষণ পর্যন্ত নিজেরাই দমন করতে ব্যর্থ হয়।দেশ স্বৈরশাসক মুক্ত হলেও,আমাদের সমাজ,বিবেগ ও মনুষ্যত্ব এখন আত্নস্বৈরচার হিসাবে দেখা দিয়েছে।এর প্রতিকার ও প্রতিরোধ করা শুধু মাত্র রাষ্ট্রীয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে অসম্ভব!যদি এদেশের মানুষের আত্ন-পরিসুদ্ধি অর্জন সম্ভব না হয়।নিজের জীবনের প্রতি মায়া সামান্য একটি কীটপতঙ্গ কিংবা যেকোনো প্রাণীরও আছে,সেখানে একজন মানুষ হয়ে আরেকজন মানুষের জীবন কেড়ে নেয়া,ধর্ম নিয়ে রক্তারক্তি করাটা মানব জাতিকে বর্বর ও হিংস্র প্রাণী হিসেবেই কি পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন না?সভ্য ও সুশিক্ষিত আমরা নাইবা হলাম!অন্তত পক্ষে মানুষ তো হতে চেষ্টা করতে পারি।মানব দেহে আজকাল কিভাবে নরপিশাচ ও শয়তান ইবলিস এসে জায়গা নিতে সক্ষম হলো!সেই এখন সবচেয়ে বড় ভাবনার বিষয়।শতভাগ নিরপরাধ ও নিষ্পাপ হয়ে পৃথিবীতে আগম করার পরও আমরা কেন শতভাগ অমানুষ হয়েই অনন্তকালের যাত্রায় গমন করতে এতটা মরিয়া!পৃথিবীর একমাত্র মানুষ ব্যতীত আর কোন প্রাণীর শুধু মাত্র জীবিকা ছাড়া বিলাসী জীবন যাপনের প্রয়োজন পড়েনা,এজন্যই কি আমরা সৃষ্টির সেরা নিজেদের দাবি করতে পারি!আমি আর এখন কাউকেই প্রশ্ন করিনা,শুধু আশ্চর্য হই নিজেকে নিয়েই,এ-সব দেখার জন্য,মেনে নেবার জন্যই কি তাহলে আমার /আমাদের আগমন এই মানব জনমে?

এই সমাজে আমি আর নিজেকে শিক্ষিত ভাবিনা,এটাও বেশ আতংকের বিষয়।পাঠ্য পুস্তক আমাদের অশিক্ষা দান করলো কি-না জানিনা,তবে শিক্ষক সমাজ,পরিবার, রাষ্ট্র, সমাজিকতা আর ধর্মও কি আমাদের সাথে শুধুই বিনিময় মুদ্রা অর্জনের প্রতিযেগিতা করে যাচ্ছেন না!সহসাই সন্দেহ ও অবিশ্বাসের দোলাচালে এক জীবন পাড়ি দিয়ে কত শত কোটি মানুষই এ জগৎ সংসারে এসে আবার ফিরেও গিয়েছেন।কিন্তু আজ তাদের কোথায় কি অবস্থান,কেউ জানতে পারছিনা।মৃত্যু আমাদের অতীব জরুরি শিক্ষা, সেই শিক্ষা থেকে আমরা এখনও যদি নিজেদের যোজন যোজন দুরত্বে পড়ে থাকিই,তবে আর পাঠ্য পুস্তক,শিক্ষক সমাজ,পরিবার,ধর্ম,সমাজিকতা ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রতি কথায় কথায় আঙ্গুল তুলতে পারি কি আমরা?

এই সমাজ নিয়ে ভাবতে গেলে মস্তিষ্কে পঁচন ধরে যায়,হৃদয়ে বিদ্রোহের অনল জ্বলে উঠে।সমাজের মানুষগুলোর দৃষ্টিতে যখন চকচক করে বিভৎস,কুৎসিত ও পৈশাচিক নজর।বিবেগ,বিবেচনা ও বিচারিক শক্তিতে যখনই জন্তু জানোয়ারের স্বরূপ উন্মোচিত হতে দেখি,তখন কিভাবে মনে হবে এখনও এই সমাজেরই একজন দিব্যি মানুষ হয়েই বেঁচে আছি আমিও !যে সমাজের মানুষগুলো অন্যের নির্দোষ ও নিষ্পাপ চেহারার দিকেও চরম অবিচারের আঙ্গুল তোলে,তখনও সেই একই মানুষ তার নিজের অন্ধ বিবেগ,বিবেচনা ও বিচারের দিকে নিজেকে একজন ন্যায়পরায়ণ মানুষ হিসেবেই দেখে,চোখে মুখে জ্বল জ্বল করে নোংরা হাসি, তবুও কেন আমি এই সমাজ নিয়ে এতটা ভাবতে চেষ্টা করি!এখানে হুবহু সত্যেররূপে যখন মানুষ চরম মিথ্যাকেই আনন্দ চিত্তে গ্রহণ করেন ঘরে ঘরে,তখনও কি নিজেকে একজন সমাজবাদী, মানবহিতৈষী হিসেবে মেনে নিতে পারি! অর্থসম্পদের অন্ধ মোহে আজকাল যখন দেখি একই পিতার ঔরসজাত এবং একই মায়ের পেটের ভাই -বোনগুলোও নিজ রক্তকে ভুলে লোভের দাসত্ব করতে,তখনও কি পরিবার বাদী হিসেবে আর কোন কিছু ভাবতে পারি আমি?ধন্য এই সমাজ ব্যবস্থা!ধন্য এই পরিবার ব্যবস্থা!আমি কখনও স্বজ্ঞানে অজ্ঞান হতে পারিনি বলেই শত্রু-মিত্র নির্ণয় করতে এখনও শিখিনি!অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে গন্য করাই আমার আদর্শ,সে হোক দুর কিংবা অতি কাছের মানুষ।একমাত্র জন্মদাতা পিতামাতা ব্যতীত নিঃস্বার্থ দরদী কাউকে খুঁজে পাওয়া যে সমাজে দুঃসাধ্য বিষয়,সেই একই সমাজে এত প্রেম-ভালোবাসা,এত আপনের ছড়াছড়ি বেমানান ও বিষাদ নয় কি?

‘কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩০ অপরাহ্ণ
‘কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু

‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’-নির্বাচনী মাঠে এমন দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা বলার কয়েক ঘণ্টা পরই চিরতরে নির্বাচনী মাঠ ছাড়লেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম খোকন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে দিনভর গণসংযোগ করার পর রাতেই না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

তিনি চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে শুহিলপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ভোটার ও সমর্থকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন তিনি।

জানা যায়, এদিন নিজের ইউনিয়ন শুহিলপুরে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার লক্ষে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে গণসংযোগ করেন বিএনপির এ নেতা। চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দিনভর নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নির্বাচনী শোডাউন করেছিলেন তিনি। সন্ধ্যায় পথসভায়ও দিয়েছিলেন জয়ের প্রত্যয়ী বক্তব্য।

দিনভর প্রচারণা শেষে গতকাল সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত পথসভায় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বক্তব্য দেন খোকন।

পথসভায় বিএনপি নেতা বলেন, আপনারা কি চান, শাওন সাহেব (বর্তমান এমপি) আমাকে দলীয় প্রার্থী করুক? তাহলে নিশ্চিত থাকেন, শাওন সাহেব এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আমাকে প্রার্থী ঘোষণা করবেন।

তার বক্তব্যে ছিল নির্বাচনে জয়ের প্রত্যয়, ছিল ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা পরিকল্পনা। নেতা-কর্মীদের মধ্যেও ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই যেন বদলে গেল সবকিছু।

সারাদিনের নির্বাচনী কর্মসূচি শেষে রাতে বাড়ি ফিরে খাবার খান সাইফুল ইসলাম খোকন। এরপর ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পরে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সেখানে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন মেঝ ছেলে সাঈদ।

মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও যে মানুষটি নেতা-কর্মীদের সামনে দাঁড়িয়ে নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতার কথা বলছিলেন, রাত না পেরোতেই সেই মানুষটিই চলে গেলেন না ফেরার দেশে। থেমে গেল তার রাজনৈতিক পথচলা। থেমে গেল চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্ন। নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে গেলেন ঠিকই তবে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে পরাজিত হয়ে নয়, চিরদিনের জন্য।

সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ পুরো চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে বিরাজ করছে গভীর শোক ও বেদনা।

জানা যায়, আজ সকাল ১১টায় ইলিয়টগঞ্জ রা.বি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজে শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এদিকে জানাজা নামাজের আগে কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন আমার মরহুম পিতার সময়কাল থেকে বিএনপি’র রাজনীতি করেছেন। আমার কয়েকজন অভিভাবকদের মধ্যে তিনিও ছিলেন একজন। তার এই মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ উপজেলা বিএনপিতে শূন্যতা সৃষ্টি হবে।

‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৩ অপরাহ্ণ
‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি

‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ’- সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যের পর দেশজুড়ে পরিচিতি পাওয়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কর্মকর্তা মো. মাসুদ আলমকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটির আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায়িত্বেও রদবদল আনা হয়েছে।

গত ৩১ আগস্ট বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি ও পদায়নের বিষয়টি জানানো হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মাসুদ আলমকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) শফিকুজ্জামান ভূঞাকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের একই পদে বদলি করা হয়েছে। ফলে মাসুদ আলমের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি।

উল্লেখ্য, বিআরটিএর সেবা ও অনিয়ম নিয়ে এক পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা মাসুদ আলমকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘তুমি এখনো ভালো হওনি, ভালো হয়ে যাও মাসুদ।’ তার সেই বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং মাসুদ আলমকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়।

বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

মোঃ রেজাউল করিম, সিনিয়র রিপোর্টার:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৪ অপরাহ্ণ
বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে উপজেলার মুকুন্দগাঁতী ও ক্ষিদ্রমাটিয়া গ্রামের উদ্যোগে ও ঢাকা ব্যাংক পি এল সি অর্থায়নে ক্ষিদ্রমাটিয়া গ্রামের যমুনা নদীর শাখায় তিন দিনব্যাপী এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খাঁন আলীম। 

বাইচ কমিটির সভাপতি আলতাফ হোসেনের সভাপতিত্বে আরোও উপস্থিত ছিলেন, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিষ্টার শাহানাজ প্রধান, সহকারী পুলিশ সুপার বেলকুচি সার্কেল শহিদুল ইসলাম, বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুজ্জামান, বেলকুচি কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা বিএনপির সদস্য গোলাম আজম, উপজেলার বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক মন্ডলসহ স্থানীয় গনমান্য ব্যক্তিবর্গ। 

সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পানসি ১৮ টা ও ১২ টা কোষা নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করেন। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর রবিবার বাইচ প্রতিযোগিতার চুড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।

'কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু 'ভালো হয়ে যাও মাসুদ’ খ্যাত সেই বিআরটিএ কর্মকর্তা ঢাকায় বদলি বেলকুচিতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন বিশ্বের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ এখন বাংলাদেশ যতবারই নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে ততবারই বিএনপি জিতেছে: মন্ত্রী দুলু