খুঁজুন
মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

রাজনীতি বিষয়ক প্রবন্ধ

নরপিশাচরা এখনও মানবরূপেই আছে

মোঃ ইলিয়াস কাশেম
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৪, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ
নরপিশাচরা এখনও মানবরূপেই আছে

লেখক: ইলিয়াস কাশেম
(সাংবাদিক,কলামিস্ট ও কথাসাহিত্যিক)

বিভৎস চেতনা হৃদয়ে লালন-পালনকারীরা রাজনীতির মতো একটি মহতি শব্দকে অপবিত্র করে ফেলেছে।দেখতে শুনতে ওদের মানুষের মতো দেখালেও,ওরা আদতে সেই বিভৎস চেতনা খেকো আওয়ামিলীগই বটে।জালিমের অনুসারীরা কখনও প্রকৃত বিবেকবান মানুষ হতে পারেনা,এই মহাসত্য বলার অপরাধে যদি আমার ফাঁসিও হয়!সেও হাসিমুখে মেনে নিব,কিন্তু এই মহাসত্যকে অস্বীকার করতে পারবোনা।

এরা হৃদয়ে ভিনদেশী চেতনা গোপনে লালন-পালন করে দেশপ্রেমিক বলে যতই গলা ফাটিয়ে মরুক,এদের হৃদয়ে জালিয়াতির সিলমোহর মেরে দেয়া হয়েছে মহান রব আল্লাহ্ র পক্ষ থেকে। এটা আমার দীর্ঘদিনে নিজ চোখে দেখে আসা বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি।এরমধ্যে কেউ কেউ আছেন সরল হৃদয়ের মানুষ,কিন্তু এরা খুব সহজেই মিথ্যাকে সত্য বলে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন।আর এই ভুলকেও তারা কোনদিন ভুল ভাবতেও চেষ্টা করেননা,আর কেউ কেউ চেষ্টা করলেও অন্তর্দৃষ্টি তাদেরকে আচ্ছন্ন করেই সেই একই পথ অনুসরণ করাতে থাকে।

সরকারের উদারনীতির ফলে এরা মরতে গিয়েও বেঁচে ফিরে আসছে ধিরে ধিরে।শাসককে নমনীয় হতে হয় প্রকৃত মানুষের জন্য,যারা ভুল করেই ভুল করেছে অথবা পরিস্থিতির শিকার হয়ে ভুল পথে নিজেকে নিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে তাদের জন্য। কিন্তু যারা ভুল করবার জন্যই পৃথিবীতে জন্মেছে,সমাজ,ধর্ম ও রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিশৃঙ্খলা ও অশান্তি সৃষ্টি করে আপনাদের সরলতার সুযোগ নিচ্ছে,তাদের প্রতি পুরো রাষ্ট্র যন্ত্রকে সাধারণ জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা নিয়ে কঠোর থেকে কঠোর হস্তে দমন নীতি গ্রহণ করতে হবে।জাতির রূপ ও মনমানসিকতার পরিমাপ অনুযায়ী সরকারকে প্রয়োজন মাফিক জায়গা বুঝে কঠোর ও নমনীয় কিংবা সংবেদনশীল আচরণ করা শিখতে হবে।মনে রাখতে হবে,এ জাতি শক্তের ভক্ত নরমের যম।বাংলাদেশের মতো জায়গায় যদি আল্লাহ্ র ফেরেশতাও শাসন ভারের দায়িত্ব নিয়ে বসেন,সেই ফেরেশতাকেও মাত্র কয়েকমাসের ব্যবধানে এরা পাগল করে ছাড়বেন,এটা নিশ্চিত।

যেখানে রাষ্ট্রের প্রতিটি সেক্টরে এতদিন অবাদে ঘুষ-দুর্নীতির মহোৎসব চলেছে,সেখানে রাতারাতি আপনাদের পক্ষে এই দেশ সুদ্ধ করবার চিন্তা নেহাতই বেমানান ও অসম্ভব বিষয়। কারণ দেশে এখনও ঘুষ-দুর্নীতিবাজরা জনসংখ্যার গড় হিসেবে সংখ্যা গরিষ্ঠ।পাশাপাশি পরাজিত অপশক্তি তো প্রতিশোধের রক্তলাল চোখে ঘুমহীন ষড়যন্ত্রের জাল,মাকড়সার জালের মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে উদ পেতে বসেই নয়,অবিরাম দৌড়ের উপর আছেই।এদিকে আমাদের কথিত বন্ধু রাষ্ট্রও বসে নেই,অর্থ দিয়ে,অস্ত্র দিয়ে,পেশিশক্তির সহযোগিতা দিয়ে,যেখানে যা কিছু প্রয়োজন তার সবকিছু দিয়েই বদ্ধমূল অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

মনে রাখতে হবে,তাদের গোপনে বহুমূল্যে কেনা বাংলাদেশের পুতুল শাসকের পতন মানেই তাদের বিশ্বসেরা অবমাননা ও কর্তৃত্ববাদীর চরম পরাজয়।কাজেই বাংলাদেশ ভালো থাকলে ওদের শান্তিতে চরম আঘাত ও অশান্তি সৃষ্টি করে। ওদের মানসিকতা ফেরাউনের প্রেতাত্মা ভর করে আছে,যেকোনো মূল্যে ওরা এখন চেষ্টা করবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত হানতে।এছাড়াও খুব সম্ভব এরা দাজ্জালে অনুসারীই হবে। ওদের কোন ভাবে বিশ্বাস ও মানবিক বিবেচনায় আওয়ামিলীগের রাজনীতির পূনঃবাসন মানেই,ওদের সাধারণ ক্ষমা মানেই এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পরাধীনতা নিশ্চিত করে দেয়ার পথ পাকাপোক্ত করা।

অতিরিক্ত স্বাধীনতা মানুষকে উলঙ্গ হতে উৎসাহ যোগায়।আগে একদল খেয়েছে,এখন সবদল যার যার মতো খাচ্ছে।শৃঙ্খলা সম্পূর্ণভাবে ভেঙ্গে পড়েছে,কেউ মানতে নারাজ কাউকেই।এমন পরিস্থিতি সামাল দেয়া একটি অনির্বাচিত ও অস্থায়ী সরকারে পক্ষে এককভাবে কোন মতেই সম্ভব হবেনা।সমস্যা যেমন একদিনে সৃষ্টি হয়নি,তেমনি সমাধানও কারও পক্ষেই রাতারাতি করে ফেলা সম্ভব নয়।দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করাও অস্থায়ী,অনির্বাচিত,সুশীল ও অন্তর্বতীকালী সরকারের পক্ষে অসম্ভব বিষয়।

হাতেগোনা কিছু সমস্যা হয়তোবা মোকাবেলা করা যাবে,কিন্তু এদেশে দীর্ঘ সতেরো বছরে লক্ষ লক্ষ সমস্যা সৃষ্টি করা হয়েছে,সেই সাথে আরও কিছু সমস্যার বীজ বপন করা হয়েছে।এতগুলো সমস্যার সমাধানে গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যে,সরকার আসবেন,সাংবিধানিক এক মেয়াদ সময়েও এ-সব সমস্যার পরিপূর্ণ সমাধান সম্ভব হবেনা।এদিকে জমিনে আগাছা সৃষ্টির মতো সমস্যা তো সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে সৃষ্টি হতেই থাকে,তাকে সেবা যত্ন কিংবা পরিচর্চার প্রয়োজন পড়ে না।পৃথিবীতে বাংলাদেশের চেয়ে বহুগুণ বেশি জনসংখ্যা সংবলিত দেশ রয়েছে,সে-সব দেশের মাটি এতটা আগাছা কিংবা পরগাছা জন্মানোর মতো উর্বর নয়,যতটা উর্বর বাংলাদেশের মাটি।

সেইসব দেশে মানুষ সৃষ্টি হয় মোটামুটি একটা হিসাব কষেই,আবার মানুষের শিক্ষা,সংস্কৃতি,সভ্যতা,সামাজিক ও ধর্মীয় বিশ্বাসও গড়ে উঠে বেশ হিসাব করেই।আমাদের দেশের মতো এত নারী-পুরুষের ঘনবসতি প্রেম ভালবাসা ও যত্রতত্র মানব চাষের সংস্কৃতি সেইসব দেশে এতটা অবাদ নয়,তবে সবকিছুতেই অবাদ স্বাধীনতার ফল তারা ভোগ করেই অভ্যস্ত।সেইসব দেশগুলোতে আইন ও সংবিধান তৈরি হয় সাধারণের অবাদ স্বাধীনতা ভোগ করবার মহতি উদ্দেশ্য নিয়ে এবং গভীর জ্ঞানগর্ভ চেতনাকে প্রধান্য দিয়েই।কিন্তু আমাদের দেশে আইন ও সংবিধান তৈরি হয় নির্দ্দিষ্ট কোন রাজনৈতিক দল,পরিবার কিংবা গোষ্ঠীকে উদ্ধারের কারিশমা মাথায় নিয়ে,আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিংবা বিচার বিভাগকে পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করে সেইসব আইন ও সংবিধান প্রয়োগকারী সংশ্লিষ্টদের যথেষ্ট ফাঁকফোকর সৃষ্টি, আইনপ্রনয়নকারীরা ইচ্ছা করেই রেখে যান।যাতে করে নিজেদের সুবিধা মতো প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের ঘুষদুর্নীতির সুযোগ থাকে, আবার সেই সুযোগ সৃষ্টি করা হয় প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে ইচ্ছে মাফিক নিজেদের দল,পরিবার কিংবা গোষ্ঠী উদ্ধার করতে।

সমস্যার সমাধান যেখান থেকে শুরু হবার কথা,সমস্যার সৃষ্টিও সেই একই জায়গা থেকেই শুরু হচ্ছে।তবে সমস্যা সমাধানের চেয়ে সমস্যা সৃষ্টি দৌড়ে সবসময়ই আমাদের দেশ এগিয়ে থাকে।তারপর সেই সমস্যা এতটা দ্রুত বেগে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে,যা কি-না সাধারণের একেবারে দোরগোড়া পর্যন্ত পর্যাপ্ত বিস্তৃত লাভ করে বসে।একটি সময় সমাধানের জন্য যেই আইন বা সংবিধান সৃষ্টি করা হয়,সেই আইন বা সংবিধান নিজেই সমস্যার সবচেয়ে বড় ঠিকাদার হিসেবে দাঁড় হতে বাধ্য হয়।

অনিরাপদ ও বিশৃঙ্খলা দমন করা যায়না,নিজেদের ষড়-রিপু যতক্ষণ পর্যন্ত নিজেরাই দমন করতে ব্যর্থ হয়।দেশ স্বৈরশাসক মুক্ত হলেও,আমাদের সমাজ,বিবেগ ও মনুষ্যত্ব এখন আত্নস্বৈরচার হিসাবে দেখা দিয়েছে।এর প্রতিকার ও প্রতিরোধ করা শুধু মাত্র রাষ্ট্রীয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে অসম্ভব!যদি এদেশের মানুষের আত্ন-পরিসুদ্ধি অর্জন সম্ভব না হয়।নিজের জীবনের প্রতি মায়া সামান্য একটি কীটপতঙ্গ কিংবা যেকোনো প্রাণীরও আছে,সেখানে একজন মানুষ হয়ে আরেকজন মানুষের জীবন কেড়ে নেয়া,ধর্ম নিয়ে রক্তারক্তি করাটা মানব জাতিকে বর্বর ও হিংস্র প্রাণী হিসেবেই কি পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন না?সভ্য ও সুশিক্ষিত আমরা নাইবা হলাম!অন্তত পক্ষে মানুষ তো হতে চেষ্টা করতে পারি।মানব দেহে আজকাল কিভাবে নরপিশাচ ও শয়তান ইবলিস এসে জায়গা নিতে সক্ষম হলো!সেই এখন সবচেয়ে বড় ভাবনার বিষয়।শতভাগ নিরপরাধ ও নিষ্পাপ হয়ে পৃথিবীতে আগম করার পরও আমরা কেন শতভাগ অমানুষ হয়েই অনন্তকালের যাত্রায় গমন করতে এতটা মরিয়া!পৃথিবীর একমাত্র মানুষ ব্যতীত আর কোন প্রাণীর শুধু মাত্র জীবিকা ছাড়া বিলাসী জীবন যাপনের প্রয়োজন পড়েনা,এজন্যই কি আমরা সৃষ্টির সেরা নিজেদের দাবি করতে পারি!আমি আর এখন কাউকেই প্রশ্ন করিনা,শুধু আশ্চর্য হই নিজেকে নিয়েই,এ-সব দেখার জন্য,মেনে নেবার জন্যই কি তাহলে আমার /আমাদের আগমন এই মানব জনমে?

এই সমাজে আমি আর নিজেকে শিক্ষিত ভাবিনা,এটাও বেশ আতংকের বিষয়।পাঠ্য পুস্তক আমাদের অশিক্ষা দান করলো কি-না জানিনা,তবে শিক্ষক সমাজ,পরিবার, রাষ্ট্র, সমাজিকতা আর ধর্মও কি আমাদের সাথে শুধুই বিনিময় মুদ্রা অর্জনের প্রতিযেগিতা করে যাচ্ছেন না!সহসাই সন্দেহ ও অবিশ্বাসের দোলাচালে এক জীবন পাড়ি দিয়ে কত শত কোটি মানুষই এ জগৎ সংসারে এসে আবার ফিরেও গিয়েছেন।কিন্তু আজ তাদের কোথায় কি অবস্থান,কেউ জানতে পারছিনা।মৃত্যু আমাদের অতীব জরুরি শিক্ষা, সেই শিক্ষা থেকে আমরা এখনও যদি নিজেদের যোজন যোজন দুরত্বে পড়ে থাকিই,তবে আর পাঠ্য পুস্তক,শিক্ষক সমাজ,পরিবার,ধর্ম,সমাজিকতা ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রতি কথায় কথায় আঙ্গুল তুলতে পারি কি আমরা?

এই সমাজ নিয়ে ভাবতে গেলে মস্তিষ্কে পঁচন ধরে যায়,হৃদয়ে বিদ্রোহের অনল জ্বলে উঠে।সমাজের মানুষগুলোর দৃষ্টিতে যখন চকচক করে বিভৎস,কুৎসিত ও পৈশাচিক নজর।বিবেগ,বিবেচনা ও বিচারিক শক্তিতে যখনই জন্তু জানোয়ারের স্বরূপ উন্মোচিত হতে দেখি,তখন কিভাবে মনে হবে এখনও এই সমাজেরই একজন দিব্যি মানুষ হয়েই বেঁচে আছি আমিও !যে সমাজের মানুষগুলো অন্যের নির্দোষ ও নিষ্পাপ চেহারার দিকেও চরম অবিচারের আঙ্গুল তোলে,তখনও সেই একই মানুষ তার নিজের অন্ধ বিবেগ,বিবেচনা ও বিচারের দিকে নিজেকে একজন ন্যায়পরায়ণ মানুষ হিসেবেই দেখে,চোখে মুখে জ্বল জ্বল করে নোংরা হাসি, তবুও কেন আমি এই সমাজ নিয়ে এতটা ভাবতে চেষ্টা করি!এখানে হুবহু সত্যেররূপে যখন মানুষ চরম মিথ্যাকেই আনন্দ চিত্তে গ্রহণ করেন ঘরে ঘরে,তখনও কি নিজেকে একজন সমাজবাদী, মানবহিতৈষী হিসেবে মেনে নিতে পারি! অর্থসম্পদের অন্ধ মোহে আজকাল যখন দেখি একই পিতার ঔরসজাত এবং একই মায়ের পেটের ভাই -বোনগুলোও নিজ রক্তকে ভুলে লোভের দাসত্ব করতে,তখনও কি পরিবার বাদী হিসেবে আর কোন কিছু ভাবতে পারি আমি?ধন্য এই সমাজ ব্যবস্থা!ধন্য এই পরিবার ব্যবস্থা!আমি কখনও স্বজ্ঞানে অজ্ঞান হতে পারিনি বলেই শত্রু-মিত্র নির্ণয় করতে এখনও শিখিনি!অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে গন্য করাই আমার আদর্শ,সে হোক দুর কিংবা অতি কাছের মানুষ।একমাত্র জন্মদাতা পিতামাতা ব্যতীত নিঃস্বার্থ দরদী কাউকে খুঁজে পাওয়া যে সমাজে দুঃসাধ্য বিষয়,সেই একই সমাজে এত প্রেম-ভালোবাসা,এত আপনের ছড়াছড়ি বেমানান ও বিষাদ নয় কি?

রাজারহাটে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবীতে অনশন কর্মসূচি

মোঃ রেজাউল করিম, সিনিয়র রিপোর্টার:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ
রাজারহাটে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবীতে অনশন কর্মসূচি

রাজারহাটের ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের খিতাম খা গ্রামে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবীতে মানববন্ধনে অংশ নেন ভুক্তভোগী নারী সহ এলাকার প্রায় শতাধিক নারী পুরুষ। সোমবার (৮ জুন) বিকেল ৫ টার সময় এই মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

জানা যায়, ২০১৭ সালের পাশ্ববর্তী রাজারহাট সদর ইউনিয়নের নাটুয়া মহল গ্রামের হায়দার আলীর মেয়ে সামিনার সাথে পারিবারিক ভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের খিতাবখা গ্রামের সোলেমান মুন্সীর চতুর্থ পুত্র রফিকুল ইসলাম। বিয়ের পরে তাদের সংসারে রোমানা নামের এক কন্যা সন্তান জন্ম নেয়।

বিয়ের পর রফিকুল ইসলাম তার ভাবীর সাথে পরকিয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে স্ত্রী সামিনার সাথে দুরত্ব তৈরি করতে থাকেন।এরেই এক পর্যায়ে ২০১৯ সালে তাদের মধ্যে ডিভোর্স হয়।সামিনার ডিভোর্সের পরে ঢাকায় গিয়ে একটি গার্মেন্টসে অপারেটর হিসাবে তিন বছর চাকুরী করেন।

এদিকে সামিনার সাবেক স্বামী রফিকুল ইসলাম বিদেশে (মরিচাস) গমন করেন।সামিনার সাবেক স্বামী রফিকুল ইসলাম পুনরায় সামিনার সাথে বিদেশ থেকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন।তাদের একমাত্র কন্যা সন্তানের কথা চিন্তা করে পুনরায় স্বামী স্ত্রী রুপে ঘর সংসার করার প্রলোভন দেখান।সামিনা অবুঝ কন্যা সন্তানের কথা চিন্তা করে তার সাবেক স্বামীর কথায় রাজি হন।এরপরে রফিকুল ইসলাম সামিনা কে তার গ্রামের বাড়িতে আসতে বলেন।সামিনা ঢাকায় চাকুরী ছেড়ে রফিকুল ইসলামের গ্রামের বাসায় অবস্থান করতে থাকেন।

কয়েকমাস পেরিয়ে গেলে রফিকুল ইসলাম তার বসতবাড়ি পাকা করনের প্রস্তাব সামিনা কে দেন এবং সামিনাকে তার চাকুরীরত অবস্থায় সঞ্চয় করা প্রায় ৪ লক্ষাধিক টাকা বাড়ির কাজের জন্য খরচ করতে বলেন।সাদাসিধে সামিনা তার স্বামীর কথায় রাজি হয়ে নিজ উদ্যোগে তার সঞ্চিত টাকা খরচ করে রফিকুল ইসলামের নিজ বাড়িতে টিনশেডের ঘর ভেঙ্গে ইটের দালাল নির্মাণ করেন।এই দালান নির্মাণের সামিনার সমস্ত জমাকৃত অর্থ খরচ করার পাশাপাশি বাড়ি নির্মাণের রাজমিস্ত্রীদের রান্না বান্না করেও খাওয়ান।

বাড়ির কাজ শেষ হবার পরে সামিনা তার বাবার বাসা নাটিয়া মহলে ঘুরতে যান।সেখান থেকে ঘুরে এসে দেখেন তার নিজ হাতে গড়া বাড়িতে রফিকুল ইসলাম বিদেশ থেকে তার ভাইকে নির্দেশ দিয়ে তালাবন্ধ করে রেখেছেন।
এই ঘটনায় জানাজানি হলে এলাকার সাধারণ নারীপুরুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

সামিনা রফিকুল ইসলাম তার বাড়িতে উঠতে না দিয়ে যে অন্যায় করেছেন তার প্রতিবাদে রফিকুল ইসলামের উঠানে এলাকার প্রায় শতাধিক নারীপুরুষ মানববন্ধন করে সামিনা কে স্ত্রী রূপে গ্রহণ করতে রফিকুল ইসলামের প্রতি আহবান জানান।

উক্ত মানববন্ধনে স্থানীয় নারী রোকাইয়া বেগম,আব্দুল লতিফ,নাসির শেখ,আতিয়ার রহমান সহ বেশ কয়েকজন বক্তব্য দেন।মানববন্ধনে বক্তারা সামিনার সাথে এধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান। সেই সাথে একমাত্র কন্যা সন্তান সহ সামিনাকে স্ত্রী রুপে গ্রহণ করার দাবী জানান।

ভুক্তভোগী সামিনা সাংবাদিক কে জানান,আমি ডিভোর্সের পরে আমার একমাত্র কন্যা সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ঢাকায় গিয়ে গার্মেন্টসে চাকরি করি।
তিন বছর চাকুরী করে প্রায় ৪ লক্ষাধিক টাকা জমা করি।আমার সাবেক স্বামী রফিকুল ইসলামের প্রলোভনে সব টাকা দিয়ে তার বাড়ি নির্মাণ করি,এই আশায় আমার একমাত্র কন্যা সন্তান নিয়ে সুখে শান্তিতে থাকবো বলে।

কিন্তু লোভী রফিকুল ইসলাম বার বার আমার সাথে প্রতারণা করলো।আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে এর উপযুক্ত বিচার চাই।

১৪০ দেশে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশের ওষুধ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৬:৫৪ অপরাহ্ণ
১৪০ দেশে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশের ওষুধ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

এখন পর্যন্ত ১৪০টি দেশে বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার সুবিধার্থে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজের এক লাখ ইন্ট্রাভেনাস ফ্লুইড (আইভি স্যালাইন) হস্তান্তর উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ১৪০টি দেশে আমাদের ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে। এতে আমরা গর্বিত। এখন দেশে টিকা তৈরি করতে পারলে সেটার পরিসর আরও বাড়বে। ওষুধ শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করতে আমরাও সহযোগিতা করে যাব।

তিনি বলেন, সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে আমরা নির্দেশনা পেয়েছি, আমাদের শাখাগুলো বাড়াতে হবে। আমাদের অনেকগুলো জানালা খুলতে হবে। নাহলে একটি মন্ত্রণালয় ভালোভাবে চলতে পারে না।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, সামনে ডেঙ্গু মৌসুম আসছে, সে বিষয়ে আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছি। পরিকল্পনা, চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ করছি। পাশাপাশি যারা আক্রান্ত হবেন, তারা যাতে যথাযথ চিকিৎসা পান, সেই ব্যবস্থা করছি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত তিন মাসে স্বাস্থ্যখাতে কৌশলগত বড় পরিবর্তন এসেছে। আমরা সবাই দেশের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করতে পারছি।

উলিপুরে দলিল লেখকদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

মোঃ রেজাউল হক, কুড়িগ্রামঃ
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৬:৪৪ অপরাহ্ণ
উলিপুরে দলিল লেখকদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সোমবার (৮ জুন) ২০২৬ ইং সকাল ১১টায় উলিপুর সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে দিনব্যাপী দলিল লেখকগণের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, শুদ্ধাচার চর্চা, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করণ বিষয়ক এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কুড়িগ্রামের উলিপুর সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের আয়োজনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ রুহুল কুদ্দুস জেলা রেজিস্টার কুড়িগ্রাম। প্রশিক্ষণ সমন্বয়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ অহেদুল ইসলাম উলিপুর সাব-রেজিস্ট্রার (অঃদাঃ) কুড়িগ্রাম।

এসময় উলিপুর সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মোঃ আব্দুল মালেক খাঁ সেক্রেটারি বাবলু পাঠান সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ হাফিজুর রহমান সহ শতাধিক সনদপ্রাপ্ত দলিল লেখক ও উলিপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত সকল কর্মকর্তা,কর্মচারীগণ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন উলিপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহকারী সাজ্জাদুর রহমান প্রমুখ।

রাজারহাটে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবীতে অনশন কর্মসূচি ১৪০ দেশে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশের ওষুধ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী উলিপুরে দলিল লেখকদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত ট্রাম্পের অবরোধ উপেক্ষা করে ইরানে পালটা হামলা চালাল ইসরাইল ঢাকা-চট্টগ্রামসহ ১১ জেলায় ঝড়বৃষ্টির আভাস