খুঁজুন
শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ২৭ চৈত্র, ১৪৩২

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও বিশ্বকাপের আয়োজকস্বত্ব হারাতে পারে ভারত, ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:০৯ অপরাহ্ণ
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও বিশ্বকাপের আয়োজকস্বত্ব হারাতে পারে ভারত, ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

ভারত ও শ্রীলঙ্কায় চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর আগেই ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আইসিসির কাছে নিজেদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের আবেদন জানিয়েছিল বাংলাদেশ।

কিন্তু আইসিসি সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আইসিসির বিরুদ্ধে ‘দ্বিচারিতা’র অভিযোগ তোলে এবং বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়, যদিও আইসিসি, বিসিবি ও পিসিবির সংলাপের পর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়।

শেষ পর্যন্ত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মাঠে গড়ালেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে হয়ত বড় মাশুল গুনতে হবে ভারতকে। ক্রিকেটের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশটি ২০২৯ ও ২০৩১ সালের আইসিসি ইভেন্টগুলোর আয়োজকস্বত্ব হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানা গেছে। সে ক্ষেত্রে ২০৩১ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সহআয়োজকস্বত্বও অনিশ্চয়তায় পড়তে যাচ্ছে।

২০৩১ সাল পর্যন্ত ভারতের হাতে পুরুষদের দুটি বড় বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের আয়োজকত্ব আছে– ২০২৯ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে আইসিসি, বিসিসিআই ও পিসিবির মধ্যে হওয়া হাইব্রিড-মডেল চুক্তি অনুযায়ী, ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের দেশে বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে ম্যাচ খেলবে না, সেটি পুরুষ বা নারী উভয় ক্ষেত্রেই। পরিবর্তে নিরপেক্ষ ভেন্যু নির্ধারণ করা হবে।

গত বছর পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আনুষ্ঠানিক আয়োজক থাকলেও, ভারতের সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল দুবাইয়ে। এ বছর বিসিসিআই টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন করলে শ্রীলঙ্কাকে সহ-আয়োজক হিসেবে যুক্ত করা হয়।

তবে দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, চলমান টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময়কার রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে ভারত ২০২৯ ও ২০৩১ সালের আইসিসি ইভেন্টের আয়োজকত্ব হারাতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিসি বিকল্প আয়োজক হিসেবে অস্ট্রেলিয়াকে বিবেচনা করছে। ২০৩১ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সহআয়োজক হিসেবে ভারতের সঙ্গে আছে বাংলাদেশও।

অস্থিরতার সূচনা হয় জানুয়ারির শুরুতে, যখন আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিসিসিআই আইপিএল দল থেকে বাংলাদেশের মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেয়। এরপর বাংলাদেশ নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে আইসিসির কাছে তাদের বিশ্বকাপ ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানায়। আইসিসি সেই অনুরোধ মঞ্জুর করেনি। পরিস্থিতির সমাধান না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে প্রত্যাহার করা হয়, যা পাকিস্তানকে ক্ষুব্ধ করে এবং তারা বয়কটের হুমকি দেয়।

এই বয়কট হুমকির ফলে প্রায় ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্প্রচার ও বাণিজ্যিক আয় ঝুঁকির মুখে পড়ে। দীর্ঘ আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ম্যাচটি কলম্বোতে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ভারত ৬১ রানে জয় পায়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই বিশৃঙ্খলার পর আইসিসির শীর্ষ প্রশাসকরা ভবিষ্যতের বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে এমন বিঘ্ন এড়াতে বিকল্প আয়োজক দেশ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন।

বর্তমান ব্যবস্থায় ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের ম্যাচ আয়োজন করবে না। একই ধরনের বোঝাপড়া বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে, যদিও সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর বিসিসিআই ও বিসিবির মধ্যে এ বিষয়ে এখনো আলোচনা হয়নি।

যদি এই উত্তেজনা সময়সূচি ও সম্প্রচার চুক্তিতে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে, তবে আইসিসি ২০২৯ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ (যা বর্তমানে ভারত ও বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত) অস্ট্রেলিয়ায় সরিয়ে নেওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারে। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়া ২০২৮ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজন করার কথা রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া এর আগে সফলভাবে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ আয়োজন করেছে। ২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ৪১,৫৮৭ জন দর্শক উপস্থিত ছিলেন, আর ২০২২ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে রেকর্ড ৯০,২৯৩ দর্শক ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ উপভোগ করেন।

অস্ট্রেলিয়ার সময় অঞ্চলও (টাইমজোন) উপমহাদেশীয় টিভি বাজারের জন্য অনুকূল বলে বিবেচিত হয়, বিশেষ করে প্রাইম-টাইম ম্যাচ সম্প্রচারের ক্ষেত্রে।

গতকাল আওয়ামী আমলের চেয়েও খারাপ নির্বাচন হয়েছে: গোলাম পরওয়ার

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:২৪ অপরাহ্ণ
গতকাল আওয়ামী আমলের চেয়েও খারাপ নির্বাচন হয়েছে: গোলাম পরওয়ার

দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়, তা গতকালের নির্বাচনই প্রমাণ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বগুড়া ও শেরপুরের দুটি আসনে পুনঃনির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আজ শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে ঢাকা মহানগরের উত্তর ও দক্ষিণ জামায়াতের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে উপনির্বাচনে ভোট কারচুপি, জাল ভোট, এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা এই নির্বাচন বর্জন করছি। আমরা চাই, নতুন করে আবার এই দুই আসনে নির্বাচন দেওয়া হোক।’

গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, ‘আবার প্রমাণ করল দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না। বিএনপি আমলে আওয়ামী লীগ আমলের থেকেও খারাপ নির্বাচন হয়েছে।’

বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে ফ্যাসিবাদী রূপ ধারণ করেছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, গণভোটের রায় নিয়ে সরকার দ্বিচারিতা করছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ছাড়া এ জাতির ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি লাভের কোনো রাস্তা অবশিষ্ট নেই।

এ সময় ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, উত্তরের সেক্রেটারি ডা. রেজাউল করিম, দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ডা. আবদুল মান্নান প্রমুখ।

ঢাকা থেকে সরিয়ে প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়াম ও ইইউ’র রাষ্ট্রদূত করলো ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
ঢাকা থেকে সরিয়ে প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়াম ও ইইউ’র রাষ্ট্রদূত করলো ভারত

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়াম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। খবর এএনআই।

সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রণয় ভার্মা (আইএফএস: ১৯৯৪), বর্তমানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাকে বেলজিয়াম এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’ তিনি শিগগিরই নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানানো হয়েছে।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ভারতের বাংলাদেশ মিশনের দায়িত্ব পালন করে আসা প্রণয়কে ব্রাসেলসে নেওয়ার উদ্যোগের কথা সম্প্রতি দেশটির সংবাদমাধ্যম বলা হচ্ছিল। গত ২৭ জানুয়ারি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির পরে সেখানকার দায়িত্ব ভারতের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এই চুক্তির মাধ্যমে পণ্য, সেবা ও বিনিয়োগ খাতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এটি ২০২৭ সালের শুরুর দিকে কার্যকর হতে পারে।

ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই এফটিএ ভবিষ্যত-উপযোগী বাণিজ্য কাঠামো তৈরি করবে, যা ভারতের নতুন প্রজন্মের অর্থনৈতিক খাতগুলোকে সহায়তা করবে। বিশেষ করে প্রকৌশল ও উৎপাদন খাতে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ভারত।

ইউরোপের প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ার ফলে ভারতের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং ইউরোপীয় সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে ভারতীয় উৎপাদকদের সংযুক্তি আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ চুক্তিতে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) এবং আঞ্চলিক শিল্প ক্লাস্টারগুলোর ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশ ও ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারতের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুই পক্ষের মধ্যে পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১১.৫ লাখ কোটি রুপি (১৩৬.৫৪ বিলিয়ন ডলার)। এর মধ্যে রপ্তানি ছিল ৬.৪ লাখ কোটি রুপি এবং আমদানি ছিল ৫.১ লাখ কোটি রুপি।

একই সময়ে সেবা খাতে বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭.২ লাখ কোটি রুপি (৮৩.১০ বিলিয়ন ডলার), যা দুই পক্ষের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান গভীরতার ইঙ্গিত দেয়।

বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন যথাক্রমে চতুর্থ ও দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে বিবেচিত। একসঙ্গে তারা বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ২৫ শতাংশ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের এক-তৃতীয়াংশের প্রতিনিধিত্ব করে।

ভারত সরকার মনে করছে, এই চুক্তি দুই পক্ষের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে এবং প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

প্রণয় ভার্মা বাংলাদেশে আসার আগে ভিয়েতনামে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন। ভারতীয় পররাষ্ট্র সার্ভিসের ১৯৯৪ ব্যাচের এ কর্মকর্তা তার আগে হংকং, স্যান ফ্রান্সিসকো, বেইজিং, কাঠমান্ডু ও ওয়াশিংটন ডিসিতে ভারতীয় মিশনে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৯ সালের জুলাইয়ে হ্যানয় দূতাবাসে রাষ্ট্রদূত হয়ে যাওয়ার আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব-এশিয়া বিভাগের যুগ্ম সচিব ছিলেন তিনি।

এর আগে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ভারতের পরমাণু কূটনীতি নিয়ে কাজ করা অ্যাটমিক এনার্জি বিভাগের যুগ্ম সচিবের দায়িত্ব সামলেছেন প্রণয় ভার্মা।

যন্ত্রকৌশলে স্নাতক করা প্রণয় ভার্মা ফরেন সার্ভিসে আসার আগে টাটা স্টিলে কর্মজীবন শুরু করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মিডলবারি ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ থেকে চীনা ভাষার উপর স্নাতকোত্তর করেছেন তিনি।

হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ২০ কোটি ডলার মূল্যের ড্রোন নিখোঁজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ণ
হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ২০ কোটি ডলার মূল্যের ড্রোন নিখোঁজ

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল ড্রোন, এমকিউ-৪সি ট্রাইটন, হরমুজ প্রণালির আকাশে নিখোঁজ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিখোঁজ হওয়ার ঠিক আগে ড্রোনটি একটি জরুরি সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিল।

বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী ও ওপেন-সোর্স ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, অধিক উচ্চতায় উড্ডয়ন করতে সক্ষম এই ড্রোনটি হঠাৎ উচ্চতা হারাতে শুরু করে। নিখোঁজ হওয়ার ঠিক আগে এটি জরুরি অবস্থা বোঝাতে আন্তর্জাতিক ‘৭৭০০’ ডিস্ট্রেস কোড পাঠিয়েছিল। কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঠিক আগে ড্রোনটি কিছুটা ইরানের আকাশসীমার দিকে মোড় নিয়েছিল এবং এরপরই দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে।

ফ্লাইটরাডার ২৪-এর মতো প্ল্যাটফর্ম থেকে পাওয়া এই তথ্যগুলো এখনো স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ড্রোনটি কারিগরি ত্রুটির কারণে নিখোঁজ হয়েছে, নাকি সেটিকে ভূপাতিত করা হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। নিখোঁজ হওয়ার আগে এই ট্রাইটন ড্রোনটি ‘কমব্যাট সার্চ-অ্যান্ড-রেসকিউ’ (অনুসন্ধান ও উদ্ধার) অভিযানে যুক্ত ছিল। এর আগে এটি ইতালির সিগোনেলা নৌ-ঘাঁটিতে অবস্থান করছিল।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকেও একটি এমকিউ-৪সি ড্রোন নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়েছিল, যা পরবর্তীতে মার্কিন কর্মকর্তারা ভিত্তিহীন বলে নাকচ করে দিয়েছিলেন। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি ট্রাইটন ড্রোন সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি ঘাঁটিতে নিরাপদে ফিরে আসে। তার ঠিক একদিন পর, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হয়। এছাড়া গত ৩ এপ্রিল এই অভিযানে একটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমানও বিধ্বস্ত হয়েছে।

ড্রোনটি নিখোঁজ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই দাবি করছেন যে, ইরান এই ড্রোনটিকে গুলি করে নামিয়ে থাকতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত মার্কিন সামরিক বাহিনী বা নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ বা বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

এই চালকহীন বিমানটি এমন এক সময়ে নিখোঁজ হওয়ার খবর এল যখন মাত্র দুই দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছেছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইরান বাণিজ্যিক চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে সম্মত হয়েছিল।

এমকিউ-৪সি ট্রাইটন হলো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থাকা সবচেয়ে দামি ড্রোনগুলোর একটি, যার প্রতিটি ইউনিটের বাজারমূল্য প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। এটি মূলত মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের হয়ে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে কৌশলগত নজরদারি করে থাকে।

সাধারণ ড্রোনের চেয়ে এটি অনেক বেশি শক্তিশালী। এটি ৫০ হাজার ফুটেরও বেশি উচ্চতায় টানা ২৪ ঘণ্টা ওড়ার সক্ষমতা রাখে এবং এর পাল্লা প্রায় ৭,৪০০ নটিক্যাল মাইল। ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনীর কাছে বর্তমানে ২০টি এ ধরনের ড্রোন রয়েছে এবং আরও সাতটি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।

গতকাল আওয়ামী আমলের চেয়েও খারাপ নির্বাচন হয়েছে: গোলাম পরওয়ার ঢাকা থেকে সরিয়ে প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়াম ও ইইউ’র রাষ্ট্রদূত করলো ভারত হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ২০ কোটি ডলার মূল্যের ড্রোন নিখোঁজ নারায়নগঞ্জে যুবদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে শিশুসহ গুলিবিদ্ধ ৩, আহত ১০ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু