খুঁজুন
শনিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ২১ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২

৭ কলেজ নিয়ে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’

মোঃ হাসানুজ্জামান, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ, ২০২৫, ৯:৫৯ অপরাহ্ণ
৭ কলেজ নিয়ে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’

রাজধানীর সরকারি সাত কলেজকে নিয়ে যে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হতে যাচ্ছে, তার নাম হবে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি (ডিসিইউ)। গত রবিবার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অডিটরিয়ামে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের ৩২ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজসহ অন্যদের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই নাম চূড়ান্ত হয়।

তবে এর কার্যক্রম শুরু হতে বেশ সময় লাগবে। এজন্য আগামী ২০৩১ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তাই নাম চূড়ান্ত হলেও ২০৩১ সাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অধীনে স্বতন্ত্র নজরদারি সংস্থা কাঠামো থেকে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে সাত কলেজ। এদিকে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির মূল ক্যাম্পাস কোথায় হবে, সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। জানা গেছে, তিতুমীর কলেজে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস হতে পারে। প্রসঙ্গত, বর্তমানে এই সাত কলেজে শিক্ষার্থী প্রায় ২ লাখ, শিক্ষক ১ হাজারের বেশি।

সূত্র জানায়, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির কার্যক্রমের পরিকল্পনা করা হচ্ছে কলেজগুলোর ঐতিহ্যকে ধারণ করেই। বিশ্ববিদ্যালয়টি শুধুমাত্র কলেজগুলোর সময় ও জায়গা শেয়ার করবে। সাত কলেজের যে পাঁচটিতে ইন্টারমিডিয়েট শিক্ষার্থী ছিল সেটি তেমনই থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়টি শুধু কলেজের সময় ও জায়গা শেয়ার করবে। এতে ইন্টারমিডিয়েট শিক্ষার্থী ও উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষকদের অবস্থান একই থাকবে। তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী এটি হবে নতুন মডেলের বিশ্ববিদ্যালয়। যা নিয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একাধিক শিক্ষক কাজ করছেন বলেও জানা গেছে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) বৈঠক পূর্বনির্ধারিত ছিল। রবিবার সকাল থেকেই দলে দলে শিক্ষার্থীদের আগমন ঘটে। গোলটেবিল বৈঠকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শুরু হয় আলোচনা। ইউজিসি চেয়ারম্যান, সদস্যসচিব ও কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এরপরই বেশিসংখ্যক প্রার্থীর সুপারিশের ভিত্তিতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের সম্মতি দেওয়া হয়। তবে কিছু শিক্ষার্থীর অভিযোগ, সাত কলেজ হওয়ায় বিভিন্ন ধরনের নামই প্রস্তাব করা হয়েছে। নাম নির্ধারণে যেন কোনো সমস্যা না হয় এজন্য তালিকাভুক্ত করে শিক্ষার্থীদের ইনভাইটেশন দেওয়া হয়েছে। তবে তিতুমীরের শিক্ষার্থীদের এই নামে কোনো ধরনের আপত্তি নেই বলে একাধিক শিক্ষার্থী জানায়। আবার তিতুমীরের একাধিক শিক্ষার্থী আপত্তিও জানায়। তবে নতুন নামকরণ নিয়ে শিক্ষার্থীরা আনন্দে স্লোগানে ইউজিসি ভবনে শোরগোল তোলেন। তাদের নতুন পরিচয় ডিএসইউ নিয়েও মাতামাতি করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ বলেন, ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি সরকারের অনুমোদনের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকেও সার্বিক সহযোগিতা পাচ্ছি। সব উদ্যোগের সঙ্গে সাত কলেজের শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা রয়েছেন। তাদের সঙ্গে নিয়ে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’

এদিকে ইউজিসির উপপরিচালক (পাবলিক ইউনিভার্সিটি) জামাল উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ইউজিসির চেয়ারম্যান গতকাল সকালে সাত কলেজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসেছিলেন। সেখানে তিনি সাত কলেজের সমন্বয়ে গঠিত নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ ঘোষণা করেন। কবে থেকে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাত্র তো নাম ঠিক হলো। এখন আইন নিয়ে কাজ করতে হবে। এরপর সংসদে এ আইন পাশ করে তবেই বিশ্ববিদ্যালয়। পুরো শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে ২০৩১ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ঢাবির সিন্ডিকেট অনুমোদন দিলেই অন্তর্বর্তী প্রশাসনের কাঠামো চূড়ান্ত হবে।’

এদিকে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার একটি গণমাধ্যমে বলেন, সরকারি সাত কলেজকে নিয়ে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম হবে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি (ডিসিইউ)। এই নামটি চূড়ান্ত করার আগে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ইমেলের মাধ্যমে বিভিন্ন অংশীজনদের মতামত নিয়েছে। পাশাপাশি সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে ২৮টি টিম গঠন করা হয়েছে। এই ২৮টি টিম নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে মতামত দিয়েছে। গতকাল ইউজিসিতে এই ২৮টি টিমের লিডারদের সঙ্গে বসে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

রবিবার ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে প্রধান উপদেষ্টার আসন্ন চীন সফর নিয়ে কথা বলার সময় আজাদ মজুমদার সাত কলেজ নিয়ে আরও বলেন, ‘এই প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তী প্রশাসনের কাঠামো হবে, সেটার একটি রূপরেখা তৈরি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট অনুমোদন করলে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের যে কাঠামো সেটি চূড়ান্ত হয়ে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য একজন অন্তর্বর্তী প্রশাসক থাকবেন। এই সাত কলেজের যারা অধ্যক্ষ রয়েছেন, তাদের মধ্য থেকেই একজন হবেন নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তী প্রশাসক। যিনি মনোনীত হবেন, তার কলেজটাই হবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস।’

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ গত জানুয়ারিতে বলেছিলেন, সাত কলেজের জন্য পৃথক বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম হতে পারে ‘জুলাই ৩৬ বিশ্ববিদ্যালয়’। তবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার পর ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ নামটি চূড়ান্ত হলো।

সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপান্তর আন্দোলন টিমের ফোকাল পয়েন্ট ও ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেন, ‘সাত কলেজকে নিয়ে যে বিশ্ববিদ্যালয় হতে যাচ্ছে, সেটির নাম ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বা ডিসিইউ হতে যাচ্ছে। মোট ৪০টি নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল, সেখান থেকে দুটি নামে আসে। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ঢাকা ফেডারেল ইউনিভার্সিটি নামকরণের পক্ষে মত দিয়েছিল। কিন্তু পরে উভয় পক্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি নামটিই চূড়ান্ত করা হয়েছে।’

রাজধানীর সরকারি ৭টি কলেজ হলো:
ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ।

এই ৭টি কলেজে শিক্ষার্থী প্রায় ২ লাখ। একসময় দেশের সব ডিগ্রি কলেজ পরিচালিত হতো ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে। ১৯৯২ সালে সরকারি কলেজগুলোকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। ২০১৪ সালের শেষ দিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ২৭৯টি সরকারি কলেজকে বিভাগীয় পর্যায়ের পুরোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এর ধারাবাহিতায় ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সাত সরকারি কলেজকে ২০১৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নেওয়া হয়। ক্ষমতার পালাবদলের পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সাত সরকারি কলেজকে অধিভুক্তি থেকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এর অংশ হিসেবে ২০২৪-২৫ সেশন, অর্থাৎ চলতি বছর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সাত কলেজের শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম বন্ধ করার কথা জানানো হয় গত ২৭ জানুয়ারি। তার আগেই গত ডিসেম্বরে সাত কলেজের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সমকক্ষ একটি স্বতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর রূপরেখা প্রণয়নে চার সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি করা হয়।

ঐ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে একটি নজরদারি সংস্থা কাঠামো করার প্রস্তাব দেয়, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বাস্তবায়নের দায়িত্ব দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ঐ প্রস্তাব অনুযায়ী, ঢাকার সরকারি সাত কলেজ পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় বা সমকক্ষ হওয়ার আগ পর্যন্ত একজন অধ্যক্ষের নেতৃত্বে সার্বিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে আর পুরো কার্যক্রমের ওপর নজরদারি করবেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একজন সদস্য।

উল্লেখ্য, রাজধানীর সরকারি ৭টি নামকরা কলেজকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৎকালীন শিক্ষা মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এর নিকট থেকে তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্কিত ভিসি আ.ফ.ম. আরেফিন সিদ্দিকী অন্তর্ভুক্ত করেন। নানা অনিয়ম, শোষণ, নিপীড়নের জেরে বিভিন্ন সময় আন্দোলন করে ৭ কলেজের শিক্ষার্থীরা। ঢাবির নানান বিতর্কিত অধ্যায়ের শেষে অবশেষে ৭টি কলেজ মুক্তি পেতে চলেছে।

বিএনপির সঙ্গে ২০ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করল বাংলাদেশ লেবার পার্টি

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ২:২১ অপরাহ্ণ
বিএনপির সঙ্গে ২০ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করল বাংলাদেশ লেবার পার্টি

আসনে ছাড় না পেয়ে এবার বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দিয়েছে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান।

শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) নয়া পল্টনের দলীয় কার্যালয়ে দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় লেবার পার্টির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠির একটি আসনে বিএনপির পক্ষ থেকে ছাড় দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আসনে বিএনপি নিজ দলের প্রার্থী ঘোষণা করায় ক্ষুব্ধ হয় দলটি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বিএনপির সঙ্গে প্রায় ২০ বছরের রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করল দলটি।

দলের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিএনপি দীর্ঘ দিনের মিত্রতার সম্পর্ককে অবজ্ঞা করে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। তারা সমমনা দলগুলোকে বাদ দিয়ে এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করছে। এমন আচরণকে প্রতারণামূলক ও বেঈমানিপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

লেবার পার্টির নেতৃবৃন্দ বলেন, বিএনপি অযোগ্য ও বিতর্কিত ব্যক্তিদকে মনোনয়ন দিয়ে টাকার বিনিময়ে ‘মনোনয়ন বাণিজ্যে’ লিপ্ত হয়েছে। এতে বিএনপির নৈতিক নেতৃত্ব সম্পূর্ণরূপে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার সংকটকালে মিত্রদের সঙ্গে এমন আচরণ কেউ প্রত্যাশা করেনি।

এছাড়া আগেও বিএনপি জামায়াতে ইসলামীকে বাদ দিয়ে ২০ দলীয় জোট ভেঙে দিয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তারা। নেতারা মনে করেন, শরিকদের প্রতি অবজ্ঞা ও নীতিহীন মনোনয়নের মধ্য দিয়ে বিএনপি নিজেকে বন্ধুহীন ও নেতৃত্বহীন দলে পরিণত হয়েছে।

সভায় লেবার পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান এস এম ইউসুফ আলী, অ্যাডভোকেট জোহরা খাতুন জুঁই, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যান্য সদস্যরা বক্তব্য দেন।

৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা মহারণের সম্ভাবনা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা মহারণের সম্ভাবনা

দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনা হরহামেশাই মুখোমুখি হয় একে অপরের। কিন্তু ফিফা বিশ্বকাপে এই নজির খুবই বিরল। সবশেষ ১৯৯০ সালে দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল ফুটবলের বিশ্বআসরে। ৩৬ বছর পর আবারও দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা জেগেছে ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে।

তবে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে কোন পর্যায়ে—এই প্রশ্নের উত্তর পুরোটা নির্ভর করছে গ্রুপপর্বের অবস্থানের ওপর। দুটি দলই যদি নিজ নিজ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়, তাহলে সেমিফাইনালের আগে তাদের দেখা হওয়ার সুযোগ নেই। দুই দলই যদি রানার্সআপ হয়, তবুও সেমিফাইনালের আগে মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।

একটি দল যদি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় এবং অন্যটি রানার্সআপ হয়ে পরবর্তী রাউন্ডে ওঠে, তাহলেও ফাইনালের আগে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী একে অপরের সামনে পড়বে না।

তবে কোনো একটি দল যদি সেরা আটটি তৃতীয় স্থানের দল হিসেবে নকআউট পর্বে যায়, তখন পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়বে। সেই অবস্থায় দুই দলের ঠিক কোন পর্যায়ে মুখোমুখি হতে পারে, তা অনুমান করা কঠিন। আজ বিশ্বকাপের নকআউটের সূচি নির্ধারিত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে পরিষ্কার জানা যেতে পারে।

ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিষিদ্ধ করলো পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১:৩৫ অপরাহ্ণ
ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিষিদ্ধ করলো পাকিস্তান

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)–এর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের সঙ্গে আদিয়ালা কারাগারে সব ধরনের সাক্ষাৎ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এ ঘোষণা দেন। সেইসঙ্গে তিনি ইমরান খানকে ‘যুদ্ধোন্মাদনায় আক্রান্ত উগ্রপন্থি’ হিসেবে আখ্যা দেন।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের ‘নয়া পাকিস্তান’ অনুষ্ঠানে তারার বলেন, ‘কারাগারের নিয়ম অনুযায়ীই বন্দীদের সাক্ষাৎকার হয়। এখন কোনো সাক্ষাৎ নেই; সব সাক্ষাৎ বন্ধ।’

কারাগারের বাইরে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে কেউ চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব পুনরুদ্ধারের এখনই সময়। কোনো জেল সাক্ষাৎ হবে না, কোনো জমায়েতও অনুমোদন দেওয়া হবে না।’

কারা বিধি অনুযায়ী সাক্ষাতের সময় জেল সুপারিনটেন্ডেন্ট উপস্থিত থাকেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে এসব সাক্ষাতে রাজনৈতিক আলোচনা এবং নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছিল।

তিনি বলেন, ‘কারাগারের ভেতর থেকে রাষ্ট্রবিরোধী এজেন্ডা এগিয়ে নিতে কোনো অনুমতি দেওয়া হবে না।’

তারার দাবি করেন, খান ও তার দল দেশকে ডিফল্টে ঠেলে দিতে চেয়েছিল। ‘আইএমএফকে চিঠি লেখা হয়েছিল যাতে পাকিস্তান ডিফল্টে যায়। ৯ মে সামরিক স্থাপনায় হামলাও চালানো হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত দেখেই রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য ছড়াচ্ছেন।’

তিনি আরও দাবি করেন, ইমরান খানের ‘তালেবানসুলভ মানসিকতা’ রয়েছে এবং তিনি ‘সন্ত্রাসীদের বন্ধু’ মনে করেন।

তারার প্রশ্ন ছুড়ে দেন, ‘এই উগ্র ও যুদ্ধোন্মাদ ব্যক্তি—তাকে তার নিজের দলের সদস্যরাই বা আর কতদিন সহ্য করবে?’

তথ্যমন্ত্রী জানান, ফেডারেল সরকার খাইবার পাখতুনখোয়ায় গভর্নর শাসন জারির বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে।

তিনি আরও বলেন, ‘পিটিআই সদস্যরা তার (ইমরান খানের) বর্ণনার সঙ্গে নেই।’ রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণা চালানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

তারার বলেন, ‘তাদের আর কোনো ভবিষ্যৎ নেই; তাদের রাজনৈতিক জায়গা ও বর্ণনা সীমিত করে দেওয়া হবে।’

পিটিআইয়ের সঙ্গে পুনর্মিলন সম্ভব কি না- এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘তারা সুযোগ নষ্ট করেছে। যারা বিশৃঙ্খলা, সন্ত্রাস বা উগ্রবাদী চিন্তা ছড়ায়, তাদের সঙ্গে কোনো সংলাপ হবে না।’

বিএনপির সঙ্গে ২০ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করল বাংলাদেশ লেবার পার্টি ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা মহারণের সম্ভাবনা ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিষিদ্ধ করলো পাকিস্তান নজিরবিহীন আত্মহত্যা ইসরাইলি বাহিনীতে, নেপথ্যে কী? পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে রাতভর গোলাগুলি, নিহত ৪