জনগণের নির্বাচিত সরকার ছাড়া দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কিশোরগঞ্জে বিএনপির জনসমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে নেতাকর্মীদের প্রতি এ আহ্বান জানান তিনি।
এ-সময় তারেক রহমান বলেন, বিএনপি আগামীতে ক্ষমতায় গেলে প্রত্যেক পরিবারকে খাদ্য সহযোগিতা হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। শহীদদের আত্মত্যাগ ধরে রাখতে হলে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সবাইকে নিয়ে দেশের উন্নয়ন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্যও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। জনগণের নির্বাচিত সরকার ছাড়া দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি সম্ভব নয়। এ জন্য দরকার ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত জনগণের সরকার। জনগণের এই অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই জুলাই বিপ্লবে অসংখ্য ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছেন। তাদের কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর দুই দেশের জন্যই ফলপ্রসূ হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সাবেক ভারতীয় কূটনীতিক বিদ্যাভূষণ সোনি। তিনি মনে করছেন, তারেক রহমান ভারতে না এলে এই সুযোগ হারিয়ে যেতে পারে এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের পথও খোলা নাও থাকতে পারে।
ভারতীয় বার্তাসংস্থা এএনআইকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বিদ্যাভূষণ সোনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, এই সফরের মাধ্যমে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় সমস্যা সমাধানের পথও খুলতে পারে।
সাক্ষাৎকারে সোনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে অনেক বিষয় এখনও অমীমাংসিত রয়েছে। এর মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বেশিরভাগ বিষয়ে দুই দেশ একমত হলেও পরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।
সোনি বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যার সমাধানেও বাংলাদেশ ভারতের আরও সক্রিয় ভূমিকা চায়। তার মতে, এ ক্ষেত্রে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা ছাড়া ভারতের তেমন কিছু করার নেই। কারণ, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ভারতের কথা শুনতে পারে। তারেক রহমানের ভারত সফরের মাধ্যমে সেই সুযোগ তৈরি হলে বাংলাদেশ ভারতকে এসব সমস্যা সমাধানে তার প্রভাব কাজে লাগানোর অনুরোধ করতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তুলনামূলকভাবে ‘অনেক বেশি খোলামেলা’ এবং ‘ভারতবিরোধী নন’ বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যাভূষণ সোনি। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন সোনি। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, তারেক রহমান তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি খোলামেলা মানুষ। তিনি ভারতবিরোধী নন এবং নিজে এমন কোনও বক্তব্যও দেননি, যেটিকে ভারতের বিরুদ্ধে বলে মনে করা যায়। তাই ভারতও সতর্কভাবে এই সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা করছে।’
তিনি বলেন, দুই দেশের সরকারি মুখপাত্ররা এখন পর্যন্ত যেসব বক্তব্য দিয়েছেন, সেগুলো মূলত রাজনৈতিক বক্তব্য। তবে দুই দেশের রাজনীতিবিদরা এ বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেননি। তাই তারেক রহমানের ভারত সফরের এখনও সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
সোনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে খুবই আশাবাদী’। তার মতে, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর এই সুযোগ কোনোভাবেই হাতছাড়া করা উচিত নয়। তিনি বলেন, ‘তিনি (তারেক রহমান) যদি না আসেন, তাহলে এই সুযোগটি হারিয়ে যাবে। দীর্ঘ সময়ের জন্য এই যোগাযোগের পথ খোলা নাও থাকতে পারে। আমরা কেউই এই সুযোগ হারাতে চাই না। তাই আমি বেশ আশাবাদী।’
তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে নয়াদিল্লি ও ঢাকার কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগ চলছে। গত রোববার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শহীদুল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তারেক রহমান দিল্লিতে গেলে সেটি হবে ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেয়ার পর তার প্রথম ভারত সফর। সফর নিয়ে আলোচনা চললেও এখনও কোনও চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করে পোস্ট দেওয়া, সাংগঠনিক শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা এবং দীর্ঘদিন সংগঠনের কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের এক নেতাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিষ্কৃত নেতা হলেন মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক আলামিন ফারাজি।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক ওয়াসি উদ্দিন তামী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা এবং দীর্ঘদিন সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আলামিন ফারাজিকে সংগঠনের সব সাংগঠনিক পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। একই সঙ্গে আলামিন ফারাজির সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের বিষয়ে আলামিন ফারাজি বলেন, তার ফেসবুক পোস্টে সরকারের ভুল-ত্রুটির সমালোচনা করা হয়েছে। যৌক্তিক ও ন্যায়ের জায়গা থেকে তিনি ভবিষ্যতেও সরকারের সমালোচনা করবেন।
তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্যের উদ্দেশ্য সরকারের ভুল সংশোধনে সমালোচনা করা। তার ভাষ্য, সরকার যদি সমালোচকদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে এবং চাটুকারদের বন্ধু মনে করে, তাহলে ওই চাটুকাররাই একসময় সরকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
আলামিন ফারাজি আরও বলেন, দেশের প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও তাকে রাজপথে পাওয়া যাবে—লাঠি হাতে কিংবা কলম হাতে।
আপনার মতামত লিখুন