খুঁজুন
রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ভারতকে ইলিশ দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণ জানালেন আসিফ নজরুল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ১:৪৭ অপরাহ্ণ
ভারতকে ইলিশ দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণ জানালেন আসিফ নজরুল

হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজা উৎসব মানেই আলোচনায় আসে ভারতে ইলিশ পাঠানোর প্রসঙ্গ। হাসিনা সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন ভারতকে কখনোই এতোটা আলোচনা করতে হয়নি ইলিশ নিয়ে। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ভারত পালিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশে গঠন করা হয় একটি অন্তর্বর্তী সরকার। এ সরকার আসার পর থেকে দেশের নাগরিকদের মধ্যে বেড়ে যায় বিরত বিরোধিতা। যার কারণে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের দূরত্ব তৈরি হয় নানা চাপ। সরকারের উপদেষ্টারা প্রথমে ভারতে মাছ পাঠাতে না চাইলেও পরবর্তীতে ভারতে ৩ হাজার টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি আদেশ জারি করা হয়।

গত ২১ সেপ্টেম্বর ভারতে ৩ হাজার টন ইলিশ রফতানির অনুমতিসংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সরকারের ইলিশ রফতানির এ সিদ্ধান্তে চারদিকে সমালোচনা শুরু হয়। এসব বিষয়ে জানতে আইন এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের মুখোমুখি হন নিউইয়র্ক থেকে সম্প্রচার হওয়া ঠিকানা টিভির প্রধান সম্পাদক খালেদ মুহিউদ্দীন।

মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে সম্প্রচার হওয়া ওই সাক্ষাৎকারের কিছু অংশ সময় সংবাদের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ৫০০ টন ইলিশ রফতানি করা হয়েছিল। তখন আপনি (আসিফ নজরুল) বলেছিলেন কেন ইলিশ রফতানি করা হবে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ৩ হাজার টন ইলিশ রফতানি করছে। এর কারণ কী?

খালেদ মুহিউদ্দীনের এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, যখন ইলিশ রফতানির স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম, তখন আমি উপদেষ্টা ছিলাম না। গত বছর ৩ হাজার ৯৫০ টন ইলিশ রফতানির সর্বোচ্চ অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। এ বছর তারচেয়ে কম অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ৩ হাজার টন। পরিসংখ্যানের দিক থেকে ৩ হাজার ৯৫০ টনের সঙ্গে ৩ হাজার টনের তুলনা করতে হবে। ৫০০ টনের যে স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম তা দ্বিতীয় ফেজে রফতানি হয়েছিল। গত বছর আসলে রফতানি হয়েছিল ৮০২ টন। এ নিয়ে পত্রিকায়ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। আর এ বছর প্রকৃত রফতানি কত হবে শেষ পর্যন্ত দেখেন।

‘যখন ইলিশ নিয়ে পোস্ট দিয়েছিলাম আমি বলেছিলাম, ৫০০ টন ইলিশ কেন পাঠানো হচ্ছে? ভারতকে খুশি করানোর জন্য, যারা আমাদের পানি দেয় না, যারা সীমান্তে হত্যা করে, যারা আমাদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করে। যদি ভারতের সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্ক থাকে কিংবা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকে- এর আলোকে আপনি ইলিশ রফতানি করবেন কী করবেন না সেটা মানুষের মাথা ব্যথা থাকতো না,’ যোগ করেন আসিফ নজরুল।

ভারতের প্রতি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের নতজানুমূলক দৃষ্টিভঙ্গির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সীমান্তে মানুষ মারা যাচ্ছে আর বাংলাদেশ সরকারের সাফল্য ছিল লাশটা নিয়ে আসা। মানুষ মারা যাচ্ছে সেটা শেখ হাসিনার সরকার সমর্থন করতো। বলতো, আমাদের লোক অপরাধ করে, সীমান্তে যায় দেখে মারা যায়। কিন্তু আমরা পানি পাচ্ছি না, তার জন্য প্রতিবাদ করতো না। অথচ ফেনী নদীর পানি ভারতকে দিচ্ছে।’

‘আমাদের দেশের ভেতর দিয়ে ট্রানজিট নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমার দেশ নেপাল আর ভুটানের সামান্য ট্রানজিটও পাচ্ছে না। দিনের পর দিন ভারতের শাসকরা আমাদের দেশ সম্পর্কে অত্যন্ত অবমাননাকর অপমানজনক উক্তি করতো। এতে আমাদের মন বিষিয়ে থাকতো সব সময়। এমন একটা দেশকে নিয়ে আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী বলে থাকতেন, ভারতকে যা দিয়েছি কখনও তারা ভুলতে পারবে না। তখন মনে প্রশ্ন জাগতো, এটা কি আপনার পৈতৃক সম্পত্তি, আপনি যা ইচ্ছা দেবেন,’ বলেন আসিফ নজরুল।

ক্ষোভ প্রকাশ করে আসিফ নজরুল বলেন, ‘আপনি এমন একটা দেশকে এই জিনিসগুলো দিচ্ছেন যারা সীমান্তে আমাদের মানুষ মারে, পানি দেয় না, ওটা দেয় না। সেই ক্ষোভ থেকে তখন অনেক কিছু বলেছি। এখন আর সেই সরকার নেই। এখন কি আমার সরকার সীমান্তে হত্যা হলে প্রতিবাদ করে না? কঠোরভাবে প্রতিবাদ করে। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সম্প্রতি একটা বক্তব্য দিয়েছেন, তার বক্তব্য দেখেন কত কড়াভাবে বলা হয়েছে। আমাদের প্রধান উপদেষ্টা ভারত সম্পর্কে কীভাবে কথা বলেন সেটা দেখতে হবে। আমি প্রথম আলোর সাক্ষাৎকারে কীভাবে ভারত সম্পর্কে কথা বলেছি সেটা দেখতে হবে। বর্তমানে ইলিশ রফতানি নিয়ে অনেকগুলো যুক্তি রয়েছে।

বাংলাদেশের সরকার পরিবর্তন হলেও ভারত সরকারের আচরণগত পরিবর্তন হয়নি। গত সরকার (আওয়ামী লীগ) কড়া কথা বলতো না, ইলিশ দিতো। তার মানে আপনারা কড়া কথা বলছেন আবার ইলিশও দিচ্ছেন। এটা কি সিম্বোলিক যে, আপনারা ভারতের সঙ্গে একই রকম সম্পর্ক রাখবেন, শুধু কিছু কড়া কথা মাঝখানে বলবেন। ব্যাপারটা কি এ রকম?

খালেদ মুহিউদ্দীনের- এমন প্রশ্নের জবাবে ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘না, এমন না। ইলিশ রফতানি নিয়ে আমি অনুসন্ধান করেছি, বিভিন্ন কথা শুনেছি। তখন একটা কথা বলা হয়েছে- আমাদের ছাত্র-জনতার যে বিপ্লব হয়েছিল, তাতে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সমর্থন ছিল। তারা আমাদের ওখানকার দূতাবাসের সামনে কর্মসূচি পালন করেছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি কড়া ভাষায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর (শেখ হাসিনা) সমালোচনা করেছিলেন এবং এটা নিয়ে একটা টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছিল। ইলিশ প্রধানত পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জন্য যাচ্ছে। এগুলো কিন্তু আমার যুক্তি না, এসব আমি শুনেছি। আরেকটা বিষয়, মোট যে ইলিশ রফতানি করা হচ্ছে সেটা শূন্য দশমিক ২৯ শতাংশ।’

‘সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক রি-অ্যালাইনমেন করতে যাচ্ছি। ভারসাম্যমূলক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার দিকে যাচ্ছি। যেখানে আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্র, রামপাল কেন্দ্র, বর্ডার কিলিং ইস্যু রয়েছ, সেখানে একটা অপেক্ষাকৃত লঘু বিষয়ে আমরা তাদের বার্তা দিতে চাই না, তোমাদের সঙ্গে হোস্টআই। আমরা ভারসাম্যমূলক সম্পর্ক সৃষ্টির প্রয়াস হিসেবে ইলিশের মতো ছোট একটা জিনিস নিয়ে আঘাত করতে চাই না,’ বলেন আসিফ নজরুল।

মমতা ব্যানার্জি এখন তার দেশে কিংবা তার প্রদেশে একটি ধর্ষণকাণ্ড নিয়ে বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছেন। তাকে সেফ করার জন্য আপনারা ইলিশ মাছ দিচ্ছেন। এতে মোদি সরকার বিরক্ত হবে বিব্রত হবে, সেটা আপনাদের লক্ষ্য- এটাও অনেকে বলছেন।

খালেদ মুহিউদ্দীনের এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমি সেভাবে বলতে চাচ্ছি না। আমি শুধু শুনেছি পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আমাদের আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা শক্তভাবে নিন্দা করেছেন। ইলিশ পাঠানো বন্ধ মানে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সঙ্গে হোস্টেলটির মতো- এটা আমি শুনেছি।’

বাজেট অধিবেশন: সংবিধান ‘সংশোধন নাকি সংস্কার’ বিতর্কে উত্তাপের আভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ৮:৪০ পূর্বাহ্ণ
বাজেট অধিবেশন: সংবিধান ‘সংশোধন নাকি সংস্কার’ বিতর্কে উত্তাপের আভাস

বহুল আকাঙ্খিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় তথা বাজেট অধিবেশন বসছে আজ রবিবার (৭ জুন)। বেলা ৩টায় শুরু হবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের এই প্রথম বাজেট অধিবেশন। মূলত এই অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন ও পাসের কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

আগামী ১১ জুন সংসদে এবার ৯ লাখ কোটি টাকার বেশি বাজেট উপস্থাপন করবেন বর্তমান সরকারের মাননীয় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এদিকে বাজেট অধিবেশনকে ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, বাজেট অধিবেশন ঘিরে সংসদ সচিবালয়ের সব প্রস্তুতি তারা শেষ করেছেন। অধিবেশন কক্ষের সাউন্ড সিস্টেম আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে পুরো সাউন্ড সিস্টেম আধুনিকায়নের কাজ শেষ করতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।

বাজেট অধিবেশন কতদিন চলবে, সে বিষয়ে অধিবেশন শুরুর আগে অনুষ্ঠিত আজকের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদে দেওয়া ক্ষমতাবলে এ অধিবেশন আহ্বান করেন। জাতীয় সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, শেরে বাংলা নগরের জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এ অধিবেশনেই নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট নিয়ে আলোচনা, মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বরাদ্দ অনুমোদন, অর্থবিল এবং সংশ্লিষ্ট আইন পাসের কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, বাজেট বক্তৃতা, অর্থবিল, বরাদ্দসংক্রান্ত নথি, সংসদ সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রকাশনা ও তথ্যপত্র প্রস্তুতের কাজ ইতোমধ্যে শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অধিবেশন নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনিক, কারিগরি ও নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।

শনিবার জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ গণমাধ্যমে জানান, ‘বাজেট অধিবেশন সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন। সে অনুযায়ী সংসদ সচিবালয়ের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে। সংসদের নিরাপত্তা, অধিবেশন কক্ষের অবকাঠামো, চেয়ার-টেবিল, লজিস্টিক সাপোর্ট থেকে শুরু করে সংসদ পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিষয় তদারকি করা হচ্ছে।’

এ সময় গত অধিবেশনে সাউন্ড সিস্টেম বিভ্রাটের বিষয়টি স্বীকার করে চিফ হুইপ জানান, আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়নে আরও সময় লাগবে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে চাহিদা জেনে প্রেজেন্টেশন নেওয়া হয়েছে এবং সম্ভাব্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বাস্তব প্রদর্শনী দেখার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাজেট অধিবেশনকে ঘিরে সংসদ ভবন এলাকার নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করেছে প্রশাসন। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) শনিবার রাত ১২টা থেকে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে। একই সঙ্গে অস্ত্র, বিস্ফোরক ও অন্যান্য ক্ষতিকর দ্রব্য বহনের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিধিনিষেধ বহাল থাকবে।

এর আগে গত ৩০ এপ্রিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শেষ হয়। ২৫ কার্যদিবসের ওই অধিবেশনে ৯৪টি বিল পাস এবং ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হয়। ৭টি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয় এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নেন ২৮০ জন সংসদ সদস্য।

নতুন সংসদের কার্যক্রমের ভিত্তি স্থাপনকারী সেই অধিবেশনের পর প্রথমবারের মতো বাজেট অধিবেশনে বসছে বিএনপি সরকার। আর এই অধিবেশনে আগামী এক বছরের জন্য দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরা হবে। জুলাই সনদ ইস্যু সহ নানা বিষয়ে এখন সবার নজর সংসদ অধিবেশনে।

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলে হাজারো নেতাকর্মী, সরে গেল পুলিশ

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলে হাজারো নেতাকর্মী, সরে গেল পুলিশ

নোয়াখালী সদরে বড় ধরনের মিছিল দিয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তাদের উপস্থিতি দেখে সরে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে সুধারাম থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (৫ জুন) জুমার নামাজের পর নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধের হাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সমর্থনে এবং বর্তমান সরকারের ‌‘সন্ত্রাস-চাঁদাবাজির’ বিরুদ্ধে ওই মিছিল বের করে ছাত্রলীগ। এতে হাজারের বেশি নেতাকর্মী অংশ নেন।

স্থানীয়রা জানান, জুমার নামাজের পর সদর উপজেলা ছাত্রলীগ-যুবলীগের হাজারের বেশি কর্মী-সমর্থক মিছিলটি বের করলে পুলিশ তাতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করেই নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে অগ্রসর হন। এসময় পুলিশ সদস্যরা গা-ঢাকা দেন।

বিক্ষোভ মিছিলে সভাপতিত্ব করেন নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আশরাফুল করিম চৌধুরী বাবু।

মিছিল শেষে সমাবেশে আশরাফুল করিম চৌধুরী বাবু বলেন, ‘আমরা এখানে যারা রাজপথে নেমেছি, তারা প্রত্যেকেই অন্যায় ও সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এসেছি। আমাদের এই প্রতিবাদী আন্দোলন ইনশাআল্লাহ অব্যাহত থাকবে। যতদিন পর্যন্ত শেখ হাসিনা ফিরে না আসবেন, ততদিন আমরা শান্ত হবো না। আমরা রাজপথ ছাড়ববো না।’

কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দেশে বর্তমানে সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজি বেড়ে গেছে। একজন বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হিসেবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্বে জায়গা থেকেই আমরা প্রতিবাদ করেছি।’

এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই টের পেয়ে পুলিশের ছয় সদস্যের দল সেখানে উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা এত বেশি ছিল যে আমাদের কিছুই করার ছিল না। আমরা মিছিলের শুরুতে তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। পরে তাদের উপস্থিতি সংখ্যা বেড়ে গেলে আমাদের সদস্যরা সরে পড়েন।’

উচ্চ ঝুঁকিতে ২ কোটি মানুষ

পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, তালিকায় আরও ১৭ অঞ্চল

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ১০:৪৫ অপরাহ্ণ
পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, তালিকায় আরও ১৭ অঞ্চল

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বের ১৭টি অঞ্চল অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, শতাব্দীর শেষ নাগাদ এসব অঞ্চলের কিছু অংশ বা সম্পূর্ণ এলাকা পৃথিবীর মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যেতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশও।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি) ধারণা করছে, ২১০০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩২ থেকে ৮৪ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে নিম্নাঞ্চলীয় দ্বীপরাষ্ট্র, উপকূলীয় শহর ও বদ্বীপ অঞ্চলগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ বাংলাদেশ তার মোট ভূখণ্ডের প্রায় ১৭ শতাংশ হারাতে পারে। এর ফলে প্রায় ২ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার বিস্তার, ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে মানুষের জীবন ও জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অভিবাসনও বাড়তে পারে।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ছোট ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলো:

★মালদ্বীপ: ২০৫০ সালের মধ্যে দেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ দ্বীপ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যেতে পারে।
★টুভালু: ২১০০ সালের মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
★কিরিবাতি: এখানে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় অনেক দ্রুত বাড়ছে।

মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ ও সলোমন দ্বীপপুঞ্জের কিছু দ্বীপ ইতোমধ্যে আংশিকভাবে সমুদ্রগর্ভে বিলীন হতে শুরু করেছে। শুধু উন্নয়নশীল দেশ নয়, উন্নত দেশ ও ঐতিহাসিক নগরীগুলোও হুমকির মুখে।

★ভেনিস প্রতি বছর ১-২ মিলিমিটার করে নিচে নেমে যাচ্ছে এবং বারবার বন্যার মুখোমুখি হচ্ছে।
★মিয়ামি দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে।
★নেদারল্যান্ডসের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এলাকা সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে অবস্থিত এবং দেশটির ৬০ শতাংশ মানুষ বন্যাপ্রবণ অঞ্চলে বসবাস করে।

এছাড়া নাউরু, পালাউ, ভানুয়াতু, সেশেলস, সামোয়া, ফিজি এবং বাহামাসও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের তালিকায় রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এসব অঞ্চল হারিয়ে গেলে শুধু ভৌগোলিক মানচিত্রই বদলাবে না, বদলে যাবে বৈশ্বিক জীববৈচিত্র্য, অর্থনীতি ও জনসংখ্যার বিন্যাসও। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি লাখো মানুষের বাসস্থান, খাদ্যনিরাপত্তা এবং জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এখনই কার্যকর বৈশ্বিক পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও ভয়াবহ বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকেরা।

সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট।

বাজেট অধিবেশন: সংবিধান ‘সংশোধন নাকি সংস্কার’ বিতর্কে উত্তাপের আভাস নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলে হাজারো নেতাকর্মী, সরে গেল পুলিশ পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, তালিকায় আরও ১৭ অঞ্চল বেলকুচির মেঘুল্লা বাস দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তায় এমপি আলীম বেলকুচির কামারপাড়া বাজার বণিক সমিতির নির্বাচন উপলক্ষে সভাপতি প্রার্থী লাবলুর মতবিনিময়