খুঁজুন
রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

এডিবির পূর্বাভাস

শিগগিরই কমছে না মূল্যস্ফীতি, প্রবৃদ্ধি ৬.৬ থেকে কমে হবে ৫.১%

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ১:৫৮ পূর্বাহ্ণ
শিগগিরই কমছে না মূল্যস্ফীতি, প্রবৃদ্ধি ৬.৬ থেকে কমে হবে ৫.১%

২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। একই সঙ্গে দেশে চলমান মূল্যস্ফীতিও শিগগিরই নিয়ন্ত্রণে আসবে না বলেও আশঙ্কা করছে সংস্থাটি। সংস্থাটির গতকাল প্রকাশিত এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুকের সেপ্টেম্বর সংস্করণে এ পূর্বাভাস দেয়া হয়।

এতে চলতি অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রক্ষেপণ কমিয়ে ৫ দশমিক ১ শতাংশে নামিয়ে এনেছে এডিবি। এর আগে এপ্রিলের পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৬ শতাংশ হবে। এ অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে সংস্থাটির পূর্বাভাস সংশোধন করে কমানো হলো ১ দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট।

এর আগে গত এপ্রিলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নেমে আসতে পারে। কিন্তু এখন এডিবি বলছে, মূল্যস্ফীতি শিগগিরই কমছে না। বরং তা উন্নীত হতে পারে ১০ দশমিক ১ শতাংশে। অর্থাৎ দেশের চলমান মূল্যস্ফীতির বর্তমান ধারা বজায় থাকবে বলে মনে করছে সংস্থাটি। এডিবির বক্তব্য হলো গত জুলাই ও আগস্টে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অর্থনৈতিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাম্প্রতিক বন্যার প্রভাব। এ দুইয়ের সম্মিলিত প্রভাবে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হয়ে আসবে।

এ বিষয়ে সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, রাজস্ব ও আর্থিক নীতির কঠোরতা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া ক্রয় ও বিনিয়োগ আরো কমবে। নেতিবাচক ঝুঁকি থাকায় সামষ্টিক অর্থনীতির পূর্বাভাস অত্যন্ত অনিশ্চিত। এসব ঝুঁকির উৎস হলো চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, ভঙ্গুর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও আর্থিক খাতের দুর্বলতা।

এছাড়া উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈশ্বিক অর্থনীতির ধীরগতি ও অন্যান্য সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণে দেশে চাহিদা কমবে বলে মনে করছে এডিবি। সংস্থাটির এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুকে বলা হয়, পণ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং টাকার অবমূল্যায়নে ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে মূল্যস্ফীতি, যা আবার দুই অংকের ঘরে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। তবে আমদানি-রফতানি কমায় চলতি হিসাবের ঘাটতি কমেছে।

রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, সুদ ও টাকার বিনিময় হার যথাযথ নীতির মাধ্যমে স্থিতিশীল করা এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের ওপর সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নির্ভর করবে বলে মনে করছে এডিবি।

ধারাবাহিক উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক হিসাবের ওপর চাপ, আমদানি নিয়ন্ত্রণ ও বেসরকারি বিনিয়োগের ধীরগতির কারণে গত দুই অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ শতাংশের নিচে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ; ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ।

শেখ হাসিনা সরকারের পূর্বাভাস ছিল, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ। চলমান চ্যালেঞ্জের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থনীতিবিদরা একে ‘উচ্চাভিলাষী ও বাস্তবসম্মত নয়’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। গত সরকারের আমলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব এ উচ্চ প্রবৃদ্ধিকে অর্থনীতিতে বড় সাফল্য হিসেবে দেখিয়েছে। কিন্তু কভিড শুরুর পর থেকে প্রবৃদ্ধি কমতে থাকে। অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকের বেহাল দশা শুরু হয়। একই সঙ্গে তৎকালীন সরকারের দেখানো পরিসংখ্যানের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদরা।

দুই বছর ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজমান। সীমিত আয়ের মানুষকে চড়া দামে বাজার থেকে পণ্য কিনতে হচ্ছে। গত জুলাইয়ে দেশের মূল্যস্ফীতি দুই অংকের ঘর ছাড়িয়ে যায়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে, জুলাইয়ে দেশে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশ, যা গত এক যুগে সর্বোচ্চ। আগস্টে এ হার কিছুটা কমেছে। কিন্তু তা ১০ শতাংশের ওপরেই রয়ে গেছে। এ সময় খাদ্যের মূল্যস্ফীতি ছিল সাড়ে ১১ শতাংশের মতো।

এছাড়া গত জুন পর্যন্ত আগের এক বছরের প্রতি মাসেই মূল্যস্ফীতির হার ছিল সাড়ে ৯ শতাংশের আশপাশে। এ উচ্চ মূল্যস্ফীতিকেই এখন অর্থনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন কয়েকজন উপদেষ্টা। সে আলোকে কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে নীতি সুদহার। সামনে তা আরো বাড়বে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর।

অর্থনীতিবিদরাও বলছেন, প্রবৃদ্ধি হয়তো কিছুটা কমবে। আর মূল্যস্ফীতি কমতেও সময় লাগবে। এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি হ্রাসে ব্যাংকের নীতি সুদহার বৃদ্ধিসহ সরকার বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপের প্রভাব বাজারে পড়তে কিছুটা সময় লাগবে। বাজার ব্যবস্থা উন্নত করার মাধ্যমে খুব দ্রুত মূল্যস্ফীতি নামিয়ে নিয়ে আসার কথা ভাবলেও সেটা হয়তো হবে না। আর প্রবৃদ্ধি কিছুটা স্তিমিত হয়ে ৫ শতাংশের আশপাশেই থাকবে।

কারণ দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ব্যক্তি খাত এখনো স্বস্তির স্থানে পৌঁছেনি। তাই এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ছে না। আবার সরকারি বিনিয়োগ বা এডিপিতেও কিছুটা কাটছাঁট করা হবে। তবে কিছুটা কম প্রবৃদ্ধি হলেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে অর্থনীতিকে বেগবান করা যাবে। সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা এলে পরে উচ্চতর প্রবৃদ্ধির দিকে যাওয়া যাবে।’

বাজেট অধিবেশন: সংবিধান ‘সংশোধন নাকি সংস্কার’ বিতর্কে উত্তাপের আভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ৮:৪০ পূর্বাহ্ণ
বাজেট অধিবেশন: সংবিধান ‘সংশোধন নাকি সংস্কার’ বিতর্কে উত্তাপের আভাস

বহুল আকাঙ্খিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় তথা বাজেট অধিবেশন বসছে আজ রবিবার (৭ জুন)। বেলা ৩টায় শুরু হবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের এই প্রথম বাজেট অধিবেশন। মূলত এই অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন ও পাসের কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

আগামী ১১ জুন সংসদে এবার ৯ লাখ কোটি টাকার বেশি বাজেট উপস্থাপন করবেন বর্তমান সরকারের মাননীয় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এদিকে বাজেট অধিবেশনকে ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, বাজেট অধিবেশন ঘিরে সংসদ সচিবালয়ের সব প্রস্তুতি তারা শেষ করেছেন। অধিবেশন কক্ষের সাউন্ড সিস্টেম আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে পুরো সাউন্ড সিস্টেম আধুনিকায়নের কাজ শেষ করতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।

বাজেট অধিবেশন কতদিন চলবে, সে বিষয়ে অধিবেশন শুরুর আগে অনুষ্ঠিত আজকের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদে দেওয়া ক্ষমতাবলে এ অধিবেশন আহ্বান করেন। জাতীয় সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, শেরে বাংলা নগরের জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এ অধিবেশনেই নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট নিয়ে আলোচনা, মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বরাদ্দ অনুমোদন, অর্থবিল এবং সংশ্লিষ্ট আইন পাসের কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, বাজেট বক্তৃতা, অর্থবিল, বরাদ্দসংক্রান্ত নথি, সংসদ সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রকাশনা ও তথ্যপত্র প্রস্তুতের কাজ ইতোমধ্যে শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অধিবেশন নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনিক, কারিগরি ও নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।

শনিবার জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ গণমাধ্যমে জানান, ‘বাজেট অধিবেশন সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন। সে অনুযায়ী সংসদ সচিবালয়ের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে। সংসদের নিরাপত্তা, অধিবেশন কক্ষের অবকাঠামো, চেয়ার-টেবিল, লজিস্টিক সাপোর্ট থেকে শুরু করে সংসদ পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিষয় তদারকি করা হচ্ছে।’

এ সময় গত অধিবেশনে সাউন্ড সিস্টেম বিভ্রাটের বিষয়টি স্বীকার করে চিফ হুইপ জানান, আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়নে আরও সময় লাগবে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে চাহিদা জেনে প্রেজেন্টেশন নেওয়া হয়েছে এবং সম্ভাব্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বাস্তব প্রদর্শনী দেখার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাজেট অধিবেশনকে ঘিরে সংসদ ভবন এলাকার নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করেছে প্রশাসন। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) শনিবার রাত ১২টা থেকে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে। একই সঙ্গে অস্ত্র, বিস্ফোরক ও অন্যান্য ক্ষতিকর দ্রব্য বহনের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিধিনিষেধ বহাল থাকবে।

এর আগে গত ৩০ এপ্রিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শেষ হয়। ২৫ কার্যদিবসের ওই অধিবেশনে ৯৪টি বিল পাস এবং ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হয়। ৭টি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয় এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নেন ২৮০ জন সংসদ সদস্য।

নতুন সংসদের কার্যক্রমের ভিত্তি স্থাপনকারী সেই অধিবেশনের পর প্রথমবারের মতো বাজেট অধিবেশনে বসছে বিএনপি সরকার। আর এই অধিবেশনে আগামী এক বছরের জন্য দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরা হবে। জুলাই সনদ ইস্যু সহ নানা বিষয়ে এখন সবার নজর সংসদ অধিবেশনে।

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলে হাজারো নেতাকর্মী, সরে গেল পুলিশ

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলে হাজারো নেতাকর্মী, সরে গেল পুলিশ

নোয়াখালী সদরে বড় ধরনের মিছিল দিয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তাদের উপস্থিতি দেখে সরে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে সুধারাম থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (৫ জুন) জুমার নামাজের পর নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধের হাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সমর্থনে এবং বর্তমান সরকারের ‌‘সন্ত্রাস-চাঁদাবাজির’ বিরুদ্ধে ওই মিছিল বের করে ছাত্রলীগ। এতে হাজারের বেশি নেতাকর্মী অংশ নেন।

স্থানীয়রা জানান, জুমার নামাজের পর সদর উপজেলা ছাত্রলীগ-যুবলীগের হাজারের বেশি কর্মী-সমর্থক মিছিলটি বের করলে পুলিশ তাতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করেই নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে অগ্রসর হন। এসময় পুলিশ সদস্যরা গা-ঢাকা দেন।

বিক্ষোভ মিছিলে সভাপতিত্ব করেন নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আশরাফুল করিম চৌধুরী বাবু।

মিছিল শেষে সমাবেশে আশরাফুল করিম চৌধুরী বাবু বলেন, ‘আমরা এখানে যারা রাজপথে নেমেছি, তারা প্রত্যেকেই অন্যায় ও সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এসেছি। আমাদের এই প্রতিবাদী আন্দোলন ইনশাআল্লাহ অব্যাহত থাকবে। যতদিন পর্যন্ত শেখ হাসিনা ফিরে না আসবেন, ততদিন আমরা শান্ত হবো না। আমরা রাজপথ ছাড়ববো না।’

কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দেশে বর্তমানে সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজি বেড়ে গেছে। একজন বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হিসেবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্বে জায়গা থেকেই আমরা প্রতিবাদ করেছি।’

এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই টের পেয়ে পুলিশের ছয় সদস্যের দল সেখানে উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা এত বেশি ছিল যে আমাদের কিছুই করার ছিল না। আমরা মিছিলের শুরুতে তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। পরে তাদের উপস্থিতি সংখ্যা বেড়ে গেলে আমাদের সদস্যরা সরে পড়েন।’

উচ্চ ঝুঁকিতে ২ কোটি মানুষ

পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, তালিকায় আরও ১৭ অঞ্চল

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ১০:৪৫ অপরাহ্ণ
পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, তালিকায় আরও ১৭ অঞ্চল

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বের ১৭টি অঞ্চল অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, শতাব্দীর শেষ নাগাদ এসব অঞ্চলের কিছু অংশ বা সম্পূর্ণ এলাকা পৃথিবীর মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যেতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশও।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি) ধারণা করছে, ২১০০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩২ থেকে ৮৪ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে নিম্নাঞ্চলীয় দ্বীপরাষ্ট্র, উপকূলীয় শহর ও বদ্বীপ অঞ্চলগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ বাংলাদেশ তার মোট ভূখণ্ডের প্রায় ১৭ শতাংশ হারাতে পারে। এর ফলে প্রায় ২ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার বিস্তার, ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে মানুষের জীবন ও জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অভিবাসনও বাড়তে পারে।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ছোট ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলো:

★মালদ্বীপ: ২০৫০ সালের মধ্যে দেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ দ্বীপ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যেতে পারে।
★টুভালু: ২১০০ সালের মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
★কিরিবাতি: এখানে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় অনেক দ্রুত বাড়ছে।

মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ ও সলোমন দ্বীপপুঞ্জের কিছু দ্বীপ ইতোমধ্যে আংশিকভাবে সমুদ্রগর্ভে বিলীন হতে শুরু করেছে। শুধু উন্নয়নশীল দেশ নয়, উন্নত দেশ ও ঐতিহাসিক নগরীগুলোও হুমকির মুখে।

★ভেনিস প্রতি বছর ১-২ মিলিমিটার করে নিচে নেমে যাচ্ছে এবং বারবার বন্যার মুখোমুখি হচ্ছে।
★মিয়ামি দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে।
★নেদারল্যান্ডসের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এলাকা সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে অবস্থিত এবং দেশটির ৬০ শতাংশ মানুষ বন্যাপ্রবণ অঞ্চলে বসবাস করে।

এছাড়া নাউরু, পালাউ, ভানুয়াতু, সেশেলস, সামোয়া, ফিজি এবং বাহামাসও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের তালিকায় রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এসব অঞ্চল হারিয়ে গেলে শুধু ভৌগোলিক মানচিত্রই বদলাবে না, বদলে যাবে বৈশ্বিক জীববৈচিত্র্য, অর্থনীতি ও জনসংখ্যার বিন্যাসও। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি লাখো মানুষের বাসস্থান, খাদ্যনিরাপত্তা এবং জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এখনই কার্যকর বৈশ্বিক পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও ভয়াবহ বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকেরা।

সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট।

বাজেট অধিবেশন: সংবিধান ‘সংশোধন নাকি সংস্কার’ বিতর্কে উত্তাপের আভাস নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলে হাজারো নেতাকর্মী, সরে গেল পুলিশ পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, তালিকায় আরও ১৭ অঞ্চল বেলকুচির মেঘুল্লা বাস দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তায় এমপি আলীম বেলকুচির কামারপাড়া বাজার বণিক সমিতির নির্বাচন উপলক্ষে সভাপতি প্রার্থী লাবলুর মতবিনিময়