খুঁজুন

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বানানোর ‘প্রধান কারিগর’ জামুকা: মুক্তিযোদ্ধা নেতা নঈম জাহাঙ্গীর

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৫, ৮:৩২ অপরাহ্ণ
ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বানানোর ‘প্রধান কারিগর’ জামুকা: মুক্তিযোদ্ধা নেতা নঈম জাহাঙ্গীর

বিগত সরকারগুলোর আমলে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় ‘ভুয়া’ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির জন্য মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলকে (জামুকা) দায়ী করেছেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতা নঈম জাহাঙ্গীর।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর বলেছেন, “ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বানানোর যাত্রাটা কবে শুরু হয়েছে? যেদিন জামুকার জন্ম হয়েছে। জামুকা হল ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সরকারি বৈধতা দেওয়ার প্রধান কারিগর।

“অর্থের বিনিময়ে তারা মুক্তিযোদ্ধা বানিয়েছে, আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের দালাল বানিয়ে তাদের মাধ্যমে অর্থ নেওয়া হয়েছে। জামুকা হল মুক্তিযোদ্ধা ভুয়া বানানোর প্রধান কারিগর। জামুকা তৈরি হওয়ার আগ পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধাদের মনে এই ধরনের প্রশ্ন ছিল না।”

শনিবার (১১ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা নৌকমান্ডো অ্যাসোসিয়েশনের’ ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন। এ-সময় মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই মুক্তিযোদ্ধা।

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইনের আওতায় ২০০২ সালে জামুকা চালু হয়। আইনটি প্রণীত হয় ওই বছরের ৩ জুন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার তখন ক্ষমতায়।

ওই আইনের মাধ্যমে জামুকাকে মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের কল্যাণ এবং তাদের তালিকা নিয়ন্ত্রণে কাজ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়।

বিগত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ২০ বছর পর ২০২২ সালে আইনটি ‘পরিমার্জনপূর্বক যুগোপযোগী’ করে নতুনভাবে প্রণয়ন করে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার গত ৩ জুন মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় পরিবর্তন এনে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন সংশোধন করে। তাতে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ ও ‘মুক্তিযোদ্ধা সহযোগী’ নামে দুটো আলাদা ভাগ করা হয়। পাশাপাশি আরও কিছু বিষয়ে নতুন সংজ্ঞা দেওয়া হয়।

মুক্তিযুদ্ধের ৫৩ বছর পর এসে মুক্তিযোদ্ধার সঠিক সংখ্যা ও শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক নঈম জাহাঙ্গীর বলেন, এটি কোনো ‘কাল্পনিক কাহিনী নয়’।

“১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তখনকার অ্যাক্টিং প্রেসিডেন্ট অব বাংলাদেশ, তিনি একটি চিঠি লিখছেন যে, ৮০ হাজার মুক্তিযোদ্ধার ভরণপোষণ, যাতায়াত খরচ এবং অন্যান্য খরচাদি বহন করার মত টাকা এই মুহূর্তে আমাদের কাছে নাই। টাকা সংগ্রহ করতে হবে।

“৮০ হাজার, এখন মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় কতজন আছে? প্রায় আড়াই লাখ। তার মানে প্রতি তিনজনে দুইজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা। আমরা এই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার রাজত্বে বসবাস করছি।”

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এতদিন যে ইতিহাস ও বয়ান লেখা আছে, সেটি ‘সঠিক নয় এবং বিভ্রান্তিতে ভরা’ বলে মন্তব্য করেন নঈম জাহাঙ্গীর।

তিনি বলেন, “যুদ্ধ একটা খেলনা নয়। জীবন নেওয়া ও দেওয়ার বিষয়। আমরা অস্ত্র নিয়ে অস্ত্র মোকাবিলা করেছি। কখনো আমরা মরেছি, কখনও তাদের হত্যা করেছি।

“এটা জীবন নেওয়া ও দেওয়ার খেলা ছিল। এটা পল্টনের ভাষণ নয়, এটা সোহরাওয়ার্দীর ভাষণ নয়। এটা ছিল রণাঙ্গন। কিন্তু গণযুদ্ধে কতজন শহীদ হয়েছে, গণশহীদ হয়েছে তার কোনো তথ্য নাই।”

নঈম জাহাঙ্গী বলেন, “একটা জাতি মিথ্যা তথ্যের উপর দাঁড়াতে পারে না। একাত্তরে কতজন গণশহীদ হয়েছিল তার সঠিক তথ্য নাই। এটা মুখস্ত বিদ্যা নয়। এটা হাজার বছরের কোনো কাল্পনিক কাহিনী নয়। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ কতজন মা-বোন ইজ্জত দিয়েছে, তার কোনো সঠিক তথ্য নাই।”

“৮০-৯০ হাজার মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যাকে কারা, কোন স্বার্থে আড়াই লাখ বানিয়েছে,”– এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “তাদেরকে আমরা চিনি না? আমরা মুক্তিযোদ্ধারা টাকার বিনিময়ে বানিয়েছি, আত্মীয়তার কারণে বানিয়েছি। রাজনৈতিক কারণে, সামাজিক কারণে বানিয়েছি।”

মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বলেন, তিনি দায়িত্বে থাকলে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের ‘বহিষ্কার’ করবেন।

“আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের জায়গা দেবেন না। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ অবশ্যই রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন তাদের দিয়ে হবে।

“প্রকৃত না ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা! লজ্জাস্কর পরিস্থিতির মধ্যে আমরা পড়েছি। এ থেকে উদ্ধারের জন্য আমাদেরই চেষ্টা করতে হবে। আমরা মুক্ত হতে চাই ভুয়াদের কবল থেকে। ভুয়ারা আছে বলেই যারা ক্ষমতায় আসে তারা নিজের ইচ্ছামতো বয়ান তৈরি করে।”

জামুকা কী করবে, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট কী করবে–সেদিকে না তাকানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা সাধারণভাবে আপনাদের আহ্বান জানাব যে, রণাঙ্গণে যারা আপনাদের সাথে যুদ্ধ করেছে, তাদের একটি তালিকা তৈরি করবেন। এটার মধ্যে সংজ্ঞার কোনো বিষয় নাই। আমি যাদেরকে জানি, যাদের চিনি, তাদেরকে নিয়ে একটা তালিকা তৈরি করা হবে।

“আমার ধারণা, আমরা যারা বেঁচে আছি, আমার ধারণা, আমরা ৯০ ভাগ সফলভাবে একটা তালিকা তৈরি করতে পারব। আগামী সম্মেলনের পরে আমাদের প্রধান কাজটিই হবে এটি। মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা মুক্তিযোদ্ধারাই তৈরি করবে, জামুকা বা মন্ত্রণালয় নয়।”

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সারাদেশে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ৫৪টি অফিস পুড়িয়ে দেওয়ার কথাও তুলে ধরেন নঈম জাহাঙ্গী।

তিনি বলেন, “মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের গায়ে হাত দেওয়া হয়েছে। কেন হয়েছে? তারাতো (আন্দোলনকারী) আপনাদেরই সন্তান। আমাদেরই সন্তানরা যখন আবার সংগ্রাম করে, আমরা তাদের পাশে দাড়াই না কেন?”

নঈম জাহাঙ্গীরের ভাষ্য, ‘যুদ্ধ জয়ের গৌরব, প্রাপ্তি ও অহংকার’ জনগণের প্রাপ্য হলেও জনগণ সকল প্রাপ্তি থেকে ‘বঞ্চিত হয়েছে’। জনগণ ‘কলুর বলদের মত’ খেটে গেছে।

“৫৫ বছর ধরে তাদের উৎপাদন ভোগ করেছে ক্ষমতায় যাওয়া গোষ্ঠী। পাকিস্তান ও ব্রিটিশদের তাড়ানো হলেও যারা ক্ষমতায় এসেছে তারা কলোনির মত আচরণ করেছে।”

১৯৭২ সালের পর থেকে কত টাকা লুট হয়েছে, কত মানুষকে হত্যা হয়েছে, কত ‘মিথ্যা বয়ান’ দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে, সেসব তদন্তে একটি কমিশন করার দাবি জানান এই মুক্তিযোদ্ধা।

অটোরিকশার অবৈধ বিদ্যুতের ব্যবহার বন্ধে অভিযান, লাইন কাটতে গিয়ে উত্তেজনা

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১:০৭ অপরাহ্ণ
অটোরিকশার অবৈধ বিদ্যুতের ব্যবহার বন্ধে অভিযান, লাইন কাটতে গিয়ে উত্তেজনা

রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। সিটি করপোরেশন, বিদ্যুৎ বিভাগ ও পুলিশ যৌথভাবে গত রাতে অবৈধ চার্জিং ও বিদ্যুৎ ব্যবহার বন্ধে এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় উত্তেজনা তৈরি হলেও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নিয়ে নেয়।

তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার রফিকুল আলম জানান, গত রাতে অবৈধ বিদ্যুতের মাধ্যমে অটোরিকশা চার্জ দেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে পুলিশ যৌথ অভিযানে নামে। এক পর্যায়ে কিছু ব্যক্তি উত্তেজনা তৈরি করার চেষ্টা করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নিয়ে নেয়।

তিনি আরও জানান, অভিযানে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ নিয়ে অটোরিকশা চার্জের স্থানগুলো বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন কেটে দেয়।

৩ জেলার ডিসি প্রত্যাহার

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৯ অপরাহ্ণ
৩ জেলার ডিসি প্রত্যাহার

নাটোর, গাইবান্ধা ও রংপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনারকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করেছে সরকার।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রশাসন ক্যাডারের এই চার কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন, গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা এবং রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিনকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পরবর্তী পদায়নের জন্য তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ড. এ এন এম বজলুর রশীদকেও দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পরবর্তী পদায়নের জন্য তাকেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।

তবে প্রজ্ঞাপনে এই চার কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

সাবেক মন্ত্রী দীপু মনির স্বামী তৌফীক নাওয়াজ মারা গেছেন

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ২:১৪ পূর্বাহ্ণ
সাবেক মন্ত্রী দীপু মনির স্বামী তৌফীক নাওয়াজ মারা গেছেন

সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ডা. দীপু মনির স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

রাত পৌনে ১২টায় কন্টিনেন্টাল হাসপাতালের ডিউটি ম্যানেজার বলেন, “উনি একটু আগে মারা গেছেন। আপাতত আমরা শুধু এতটুকু তথ্যই দিতে পারি।”

দীপু মনির বড় ভাই জে আর ওয়াদুদ টিপু বলেন, “রাত ১০টা ২৭ মিনিটে তিনি মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।”

কোথায় কখন দাফন এবং জানাজা হবে, তা বুধবার দুপুরের পর সিদ্ধান্ত হবে বলেও জানান টিপু।

২০১৯ সালে স্ট্রোক করেন তৌফিক নেওয়াজ। গত ২৭ মে হুইলচেয়ারে করে কারাবন্দী স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করাতে তাকে আদালতে নিয়ে গিয়েছিলেন স্বজনেরা।

পেশায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ছিলেন তৌফীক নাওয়াজ, যিনি ধ্রুপদি সংগীতের চর্চাও করতেন।

অটোরিকশার অবৈধ বিদ্যুতের ব্যবহার বন্ধে অভিযান, লাইন কাটতে গিয়ে উত্তেজনা ৩ জেলার ডিসি প্রত্যাহার সাবেক মন্ত্রী দীপু মনির স্বামী তৌফীক নাওয়াজ মারা গেছেন "সবুজ ভুবন আমাদেরই প্রয়োজন" প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সভ্যতার ভবানীগঞ্জ'র বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি তারেক রহমান ভারত না এলে যোগাযোগের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে: সাবেক কূটনীতিক