খুঁজুন
শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ভারত থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করলো মণিপুর!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩২ অপরাহ্ণ
ভারত থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করলো মণিপুর!

লন্ডনের একটি প্রেস কনফারেন্সে দুজন ব্যক্তি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর-এর স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছে। পেছনের ব্যানারে স্পষ্ট লেখা—ভারত থেকে মণিপুর ঘোষণার ঘোষণা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, ‘স্বাধীনতা ঘোষণা করলো ভারতের মণিপুর’

ভাইরাল পোস্টগুলোর ক্যাপশনে দাবি করা হচ্ছে,ভারতীয় ‘দখলদারিত্বের’বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে মণিপুর। কিছু পোস্টে এটিকে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র।

বিষয়টি যাচাই করতে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে খোঁজ নেওয়া হলে সাম্প্রতিক সময়ে মণিপুরের স্বাধীনতা ঘোষণার কোনো নির্ভরযোগ্য খবর পাওয়া যায়নি। চলমান জাতিগত উত্তেজনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ থাকলেও স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণার বিষয়ে কোনো স্বীকৃত সূত্র তথ্য দেয়নি।

রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে জানা যায়, ভাইরাল ভিডিওটি নতুন নয়। এটি ২০১৯ সালের একটি ঘটনার ভিডিও। সে সময় লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে দুজন বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা নিজেদের ‘মণিপুর রাজ্য পরিষদ’-এর প্রতিনিধি দাবি করে প্রবাসী সরকার গঠনের ঘোষণা দেন। তারা দাবি করেন, তারা মণিপুরের মহারাজার পক্ষে কথা বলছেন। তবে তাদের ঘোষণার কোনো সরকারি বা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ছিল না।

ভিডিওর ভিজ্যুয়াল বিশ্লেষণেও মিলেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। ব্যানারে স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে “29 October, London”- যা ২০১৯ সালের ওই সংবাদ সম্মেলনের তারিখ ও স্থানের সঙ্গে মিলে যায়। অথচ ভাইরাল পোস্টে ভিডিওটি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন এটি সাম্প্রতিক ও আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রঘোষণা।

বর্তমান বাস্তবতা হলো, মণিপুর এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত-এর একটি অঙ্গরাজ্য। কোনো স্বীকৃত আন্তর্জাতিক সংস্থা বা ভারত সরকার মণিপুরের স্বাধীনতার ঘোষণা নিশ্চিত করেনি।

‘স্বাধীনতা ঘোষণা করলো ভারতের মণিপুর’ শিরোনামে প্রচারিত তথ্যটি বিভ্রান্তিকর। এটি মূলত ২০১৯ সালের একটি বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক ঘটনার ভিডিও, যা নতুন প্রেক্ষাপটে ছড়িয়ে ভুল ধারণা তৈরি করা হচ্ছে। তাই সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত এমন সংবাদের ক্ষেত্রে সতর্কতা ও তথ্য যাচাই অত্যন্ত জরুরি।

কট্টর হিন্দুত্ববাদের নিরাপত্তা অজুহাত

কলকাতায় ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদ সরানোর পরিকল্পনা উগ্রবাদী শুভেন্দুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ১২:৪৭ অপরাহ্ণ
কলকাতায় ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদ সরানোর পরিকল্পনা উগ্রবাদী শুভেন্দুর

কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের অপারেশনাল এলাকার ভেতরে থাকা ১৩৬ বছরের পুরোনো গৌরীপুর জামে মসজিদ অবশেষে স্থানান্তরিত করতে কাজ করছে কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদী শুভেন্দু সরকার। পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করার পরই নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে এই মসজিদকে ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে।

গত মঙ্গলবার বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা মসজিদ পরিদর্শন করেন। বুধবার উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসকের দপ্তরে বৈঠকে বসেন প্রশাসন, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং মসজিদ কমিটির প্রতিনিধিরা।

কলকাতা বিমানবন্দরের অধিকর্তা বিক্রম সিং বলেন, বিমানবন্দরের ভিতরে এই মসজিদের উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যা তৈরি করছে। ফ্লাইট পরিচালনায় একাধিক সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

এদিকে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মসজিদ ভেঙে ফেলার বিষয়টি শুধুমাত্র স্থানীয় কমিটির সিদ্ধান্তে সম্ভব নয়। তারা এই বিষয়ে দারুল উলুম দেওবন্দ, অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড এবং জমিয়তে উলেমা-ই-হিন্দের মতো সংগঠনের মতামতের উপর নির্ভর করতে চায়।

সমঝোতায় পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, অপেক্ষা ট্রাম্পের অনুমোদনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ১২:৪০ অপরাহ্ণ
সমঝোতায় পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, অপেক্ষা ট্রাম্পের অনুমোদনের

চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করার জন্য ৬০ দিনের একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চূড়ান্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকেরা। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো এই চুক্তিতে তাঁর চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন দুজন মার্কিন কর্মকর্তা ও মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত আঞ্চলিক একটি সূত্র। ইরানও এখন পর্যন্ত এই সমঝোতা চুক্তিটি মেনে নেওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

এই সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হলে তা হবে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সবচেয়ে বড় ও তাৎপর্যপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি। তবে ট্রাম্পের পরমাণু-সংক্রান্ত দাবিগুলোর স্থায়ী সমাধান করে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে হলে সামনে আরও দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজন হবে।

আলোচনার সঙ্গে জড়িত একজন মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, ‘এটি মূলত সবাইকে আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসার একটি চুক্তি। মূল আলোচনার টেবিলেই আমরা বাকি খুঁটিনাটি বিষয়গুলো সমাধান করব।’

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবার নাগাদ এই চুক্তির শর্তাবলি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল, তবে উভয় পক্ষেরই শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানি প্রতিনিধিরা পরে ফিরে এসে জানান যে এতে তাঁদের অনুমোদন রয়েছে এবং তাঁরা স্বাক্ষর করতে প্রস্তুত। যদিও ইরান এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি।

এদিকে মার্কিন আলোচকেরা চূড়ান্ত চুক্তির বিস্তারিত বিবরণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অবহিত করলেও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে এতে সই করেননি। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, প্রেসিডেন্ট মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করার জন্য তাঁর আরও দু-এক দিন সময় প্রয়োজন। এর আগেও যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ে ট্রাম্প ও তাঁর উপদেষ্টারা চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছেন বলে মনে করলেও বারবার আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছিল।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারকে যেসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

হরমুজ প্রণালিতে মুক্ত চলাচল:
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল হবে সম্পূর্ণ ‘অবাধ ও উন্মুক্ত’। এর অর্থ হলো কোনো ধরনের শুল্ক (টোল) আদায় করা যাবে না এবং কোনো জাহাজকে হয়রানি করা যাবে না। একই সঙ্গে ইরানকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই প্রণালি থেকে সমস্ত সামুদ্রিক মাইন অপসারণ করতে হবে।

অবরোধ প্রত্যাহার ও নিষেধাজ্ঞা শিথিল:
যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া হবে, তবে তা হবে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের স্বাভাবিকতার সমান্তরালে। এ ছাড়া ইরান যাতে অবাধে তেল বিক্রি করতে পারে, সে জন্য যুক্তরাষ্ট্র কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি:
সমঝোতা স্মারকে ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই ৬০ দিনের সময়সীমার মধ্যে প্রথম আলোচনা হবে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কীভাবে স্থানান্তর বা ধ্বংস করা যায় এবং ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। বিনিময়ে আলোচনার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করে রাখা তহবিল মুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা করতে সম্মত হবে।

মানবিক সহায়তা ও আঞ্চলিক শান্তি:
ইরান যাতে আন্তর্জাতিক পণ্য ও মানবিক সহায়তা পেতে পারে, সে জন্য একটি বিশেষ কার্যপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হবে। এ ছাড়া এই সমঝোতা স্মারকে লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টিও উল্লেখ থাকবে।

এদিকে চুক্তিটি যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, ঠিক তখনই গত ৪৮ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুটি ছোটখাটো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ‘ইরানের সামনে এখন তাদের অর্থনীতিকে সচল করার একটি বড় সুযোগ এসেছে। তিনি বলেন, ইরানের শাসনব্যবস্থার ভেতরে এমন কিছু মানুষ আছেন, যাঁরা বোঝেন এখন তাঁদের ভিন্ন পথে হাঁটার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই ৬০ দিনের আলোচনার সময়ই আমরা বুঝতে পারব আসলে কী ঘটে। ইরান আলোচনায় যত বেশি ছাড় দিতে রাজি হবে, তারা তত বেশি সুবিধা পাবে।’

তবে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, আলোচনার সময় যদি এটি স্পষ্ট হয় যে ইরান পরমাণু ইস্যুতে তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারছে না, তবে ট্রাম্পের সামনে অর্থনৈতিক ও সামরিক—সব পথই খোলা থাকবে। এই অঞ্চলে মোতায়েন করা মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি কেবল একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী চুক্তির ওপরই নির্ভর করছে।

ব্যাংক লুটের গডফাদার তিনি

৮০০ কোটি ইউরো পাচারের অভিযোগ, সাইপ্রাসে এস আলমের সম্পত্তি ক্রোক

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ
৮০০ কোটি ইউরো পাচারের অভিযোগ, সাইপ্রাসে এস আলমের সম্পত্তি ক্রোক

বাংলাদেশের বিতর্কিত ব্যবসায়ী ও এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম এবং তার স্ত্রীর মালিকানাধীন একটি সম্পত্তি জব্দ করেছে সাইপ্রাসের কর্তৃপক্ষ। ব্যাংক জালিয়াতি এবং অর্থপাচারের অভিযোগে চলমান একটি ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসেবে এই আদেশ জারি করা হয়। ৮০০ কোটি ইউরো পাচারের অভিযোগে এই আদেশ দেন সাইপ্রাসের নিকোসিয়া জেলা আদালত।

স্থানীয় গণমাধ্যম সাইপ্রাস মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাইপ্রাসের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ইউনিটের (মোকাস) আবেদনের পর ১৯ মে এই সম্পত্তি জব্দের আদেশ দেওয়া হয়। দুই দেশের পারস্পরিক আইনি সহযোগিতা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো অনুরোধের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে তার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাইফুল আলম।

সাইপ্রাসের আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, দেশটির পারেক্লিশা এলাকায় অবস্থিত সাইফুল আলমের একটি দোতলা আবাসিক ভবন ক্রোক করা হয়েছে।

বাংলাদেশি তদন্তকারীদের সাইপ্রাস কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া নথিপত্র অনুসারে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পরিচালিত একটি কোম্পানির নেটওয়ার্ক ও তাদের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ। এই তদন্তের মূল বিষয়বস্তুর মধ্যে রয়েছে জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ নেওয়া, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিং।

তদন্তের অংশ হিসেবে ২০১৬ সালে সাইফুল আলমের মালিকানাধীন সাইপ্রাসে নিবন্ধিত কোম্পানি ‌‘এসিএলএআরই ইন্টারন্যাশনাল’ এবং সাইপ্রাস, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস ও জার্সিতে থাকা বিভিন্ন ট্রাস্ট ও কোম্পানির নেটওয়ার্ক পরীক্ষা করে দেখছেন গোয়েন্দারা।

সাইপ্রাসের আদালতে সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ জারির ঠিক এক দিন পর বাংলাদেশে একটি আদালত সাইফুল আলম এবং তার ১০ জন আত্মীয় ও সহযোগীকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড থেকে এস আলম গ্রুপের একটি সহযোগী সংস্থাকে দেওয়া প্রায় ৬০ লাখ ইউরোর (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮০ কোটি টাকা) একটি ঋণের বিপরীতে ১৩৪টি বাস কেনার কথা ছিল। তবে সেই বাসগুলো কেনা হয়নি- এমন অভিযোগে করা মামলায় এই সাজা দেওয়া হয়।

তবে বাংলাদেশের তদন্তের ব্যাপ্তি কেবল এই একটি মামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সাইপ্রাসের কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধে বলা হয়েছে, সাইফুল আলমের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন কোম্পানি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের বেশ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়েছে, যার একটি বড় অংশ পরে খেলাপি হয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন যে, এই ঋণের অর্থ বিভিন্ন দেশের জটিল প্রাতিষ্ঠানিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে কিনা।

সম্প্রতি বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর জানিয়েছেন, এই প্রক্রিয়ায় দেশ থেকে প্রায় ৮ বিলিয়ন ইউরোর (৮০০ কোটি ইউরো) বেশি অর্থ পাচার করা হয়েছে। বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের ধারণা, এই পাচার করা অর্থের একটি অংশ সাইপ্রাস, সিঙ্গাপুর ও অন্যান্য দেশের সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করা হয়েছে।

সাইফুল আলমের পক্ষে তার আইনি সংস্থা- কুইন ইমানুয়েল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তার সমস্ত আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বৈধ বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থায়িত এবং তার বিরুদ্ধে নেওয়া এই পদক্ষেপগুলো সম্পূর্ণ অন্যায্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

ইতিমধ্যে সাইফুল আলম আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তি সংস্থায় (আইসিএসআইডি) এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। তার দাবি, সম্পত্তি জব্দের এই সিদ্ধান্তগুলো আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির লঙ্ঘন।

উল্লেখ্য, সাইফুল আলম ২০১৬ সালে সাইপ্রাসের বিতর্কিত সিটিজেন-বাই-ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রামের (যা সাধারণত গোল্ডেন পাসপোর্ট নামে পরিচিত) মাধ্যমে দেশটির নাগরিকত্ব লাভ করেন। পরে নানাবিধ বিতর্কের কারণে সাইপ্রাস সরকার এই কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। তবে এই নাগরিকত্ব প্রদান প্রক্রিয়ার ত্রুটি-বিচ্যুতি তদন্তে গঠিত নিকোলাটোস কমিটির প্রতিবেদনে সাইফুল আলমের নামের কোনো উল্লেখ ছিল না।

কলকাতায় ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদ সরানোর পরিকল্পনা উগ্রবাদী শুভেন্দুর সমঝোতায় পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, অপেক্ষা ট্রাম্পের অনুমোদনের ৮০০ কোটি ইউরো পাচারের অভিযোগ, সাইপ্রাসে এস আলমের সম্পত্তি ক্রোক চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে বাস-লেগুনা সংঘর্ষে নিহত ৩ এবারও হতাশ চামড়া ব্যবসায়ীরা, দাম গত বছরের চেয়েও কম