SIBL মালিকানা ফেরত পেতে ৫ সাবেক পরিচালকের আবেদন
রাষ্ট্রায়ত্ত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে বেরিয়ে এসে আলাদা সত্তা হিসেবে পুনর্গঠনের আবেদন করেছে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল)। ব্যাংকটির উদ্যোক্তা পরিচালক ও সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল হক বাংলাদেশ ব্যাংকে এ আবেদন জমা দিয়েছেন। বেসরকারি মালিকানা থাকা অবস্থায় এসআইবিলের সবশেষ ২০১৭ সাল পর্যন্ত পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে ছিলেন তিনি।
ভেঙে দেয়া সর্বশেষ পর্ষদের পরিচালক জাবেদুল আলম চৌধুরী বলেন, ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হওয়ার পর ১৮(ক) ধারার সুযোগে আমরা আবেদন করেছি। তিনি জানান, সাবেক পর্ষদের পক্ষ থেকে আবেদনটি করা হয়েছে এবং এতে সদস্যদের সম্মতি রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমে বলেন, আবেদনটি সংশ্লিষ্ট বিভাগে গেলে আইন অনুযায়ী তা বিবেচনা করা হবে। এখনই কিছু বলার মতো হয়নি। গত বছরের ২১ ডিসেম্বর গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে চার মাসের মাথায় একীভূত কাঠামো থেকে বেরিয়ে আসার এটি প্রথম আনুষ্ঠানিক আবেদন।
অর্থপাচার, উচ্চ খেলাপি ঋণ ও তারল্য সংকটে জর্জরিত পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক–এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও এসআইবিএল-একীভূত করে এই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক গঠন করা হয়।
একীভূত প্রক্রিয়ার শুরুতে গত ৫ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক ওই পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার শূন্য ঘোষণা করে এবং সেগুলোকে ‘অকার্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করে। তৎকালীন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর তখন বলেন, সম্পদের বিপরীতে দায় হিসাব করলে শেয়ারগুলো নেগেটিভ হয়ে গেছে, তাই আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী শেয়ার শূন্য করা হয়েছে।
তবে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের মতামত ছাড়া এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে। সম্ভাব্য আইনি জটিলতা নিয়ে তখন গভর্নর বলেন, বিষয়টি আদালতই নির্ধারণ করবে।
পরবর্তীতে ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তরের সময় ১৮(ক) ধারা যুক্ত করা হয়, যেখানে সাবেক শেয়ারধারকদের পুনরায় ফেরার সুযোগ রাখা হয়েছে। এই ধারার ভিত্তিতেই বর্তমান আবেদনটি করা হয়েছে।
আবেদনে এসআইবিএলকে পৃথক করে নতুন মূলধন জোগান, তারল্য উন্নয়ন এবং পরিচালনায় শৃঙ্খলা ফেরানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ কমিয়ে খেলাপি ঋণ আদায় জোরদার করা হবে এবং মূলধন কাঠামো শক্তিশালী করা হবে।
প্রস্তাবে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দায়িত্ব পেলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে খেলাপি ঋণের হার ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। পাশাপাশি স্থগিত থাকা সরকারি ২২টি হিসাব পুনরায় সচল করে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ফেরত আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এছাড়া আগামী ১০ বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে ১১ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা চাওয়া হয়েছে। আবেদনটিতে সাবেক পরিচালক হাকিম মো ইউসুফ হারুন ভূইয়া, সুলতান মাহমুদ চৌধুরী, আফিয়া বেগম ও জাবেদুল আলম চৌধুরী স্বাক্ষর করেছেন।
এদিকে গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠন করার এক মাস পরে গত মার্চের ৬ তারিখে রাষ্ট্রায়ত্ব সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন মোহাম্মদ আউয়ুব মিয়া। বর্তমানে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদটি শূন্য রয়েছে। চলতি মাসের প্রথম দিকে জাতীয় সংসদে অধ্যাদেশটিতে ‘১৮(ক)’ ধারা যুক্ত করে আইনে পরিণত করে পাশ করে। সেখানে সাবেক শেয়ারধারকদের পূনরায় একীভূত হওয়া ব্যাংকে ফেরার সুযোগ রাখা হয়।
একীভূত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ থেকে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবেএল) পৃথক করলে আইন মেনে নতুন তহবিল যোগান দেয়া হবে যুক্তি দিয়ে একটি কৌশলগত পরিকল্পনা দিয়েছেন রেজাউল হক। সেখানে বলা হয়, তারল্য পরিস্থিতি উন্নত করতে নতুন মূলধন দেয়া হবে। পরিচালনগত দিক আরো শক্তিশালী করে শৃঙ্খলা ফেরানো হবে। ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ কমিয়ে এনে খেলাপী ঋণ আদায় করা হবে।
মূলধন স্তর শক্তিশালী করা হবে এমন পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রস্তাবনায় বলা হয়, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে পৃথক করে এসআইবিএলকে স্বাধীন করে পর্ষদে যুক্ত করলে ব্যাংকটিকে এগিয়ে নেয়া হবে। তার সময়ে থাকা পর্ষদ সদস্যদের ফিরিয়ে আনলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সকল নীতি মেনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতার আওতায় ব্যাংক পরিচালনা করা হবে বলে কৌশল পত্রে উল্লেখ করা হয়।
আমানতকারী ও শেয়ারধারকদের স্বার্থ সুরক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেয়া আবেদনে স্বাক্ষর করেন সাবেক পরিচালক হাকিম মো. ইউসুফ হারুন ভূইয়া, সুলতান মাহমুদ চৌধুরী, আফিয়া বেগম ও জাবেদুল আলম চৌধুরী। সরকারি দপ্তর, মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের থাকা ২২টি ব্যাংক হিসাব পূণরায় সচল করে ৫০০ কোটি টাকার মতো তহবিল ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়। দায়িত্ব পেলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে খেলাপি ঋণের হার ২৫ শতাংশে কমিয়ে আনার পরিকল্পনাও জানিয়েছেন তিনি।







আপনার মতামত লিখুন