খুঁজুন
বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৩১ আষাঢ়, ১৪৩৩

উগ্র হিন্দুত্ববাদকে ধারণ করা দিল্লি ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ দেখতে চায় ঢাকাকে!

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ৪ খলিফার নামে কোম্পানি: কেন গাত্রদাহ ভারতে ?

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫৪ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ৪ খলিফার নামে কোম্পানি: কেন গাত্রদাহ ভারতে ?

বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির (বিএমএ) দীর্ঘ সামরিক ঐতিহ্যে যুক্ত হয়েছে এক নতুন অধ্যায়। সম্প্রতি একাডেমিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং প্রশিক্ষণরত অফিসার ক্যাডেটদের পেশাগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে গঠিত এই নতুন ব্যাটালিয়নের অধীনে ৪টি নতুন কোম্পানি গঠন করা হয়েছে। ইসলামের ইতিহাসের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় এবং চার প্রধান খলিফার স্মরণে এগুলোর নামকরণ করা হয়েছে- আবু বকর কোম্পানি, উমর কোম্পানি, উসমান কোম্পানি এবং আলী কোম্পানি।

গত ১৮ জুন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অফিসার ক্যাডেটদের প্রশিক্ষণের সার্বিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এই নতুন ব্যাটালিয়নের শুভ উদ্বোধন করেন।

জানা যায়, বিএমএ-তে দীর্ঘকাল ধরে পরিচালিত প্রথম ব্যাটালিয়নটি মহান মুক্তিযুদ্ধের পাঁচ বীরশ্রেষ্ঠের (জাহাঙ্গীর, রউফ, হামিদ, নূর মোহাম্মদ ও মোস্তফা) নামে পরিচালিত হয়ে আসছে। সেই ঐতিহ্যের পাশাপাশি নতুন ব্যাটালিয়নে মুসলিম বিশ্বের চার মহান খলিফার নাম যুক্ত করে সেনাবাহিনীতে এক নতুন মাত্রা যোগ করা হয়েছে, যা প্রশংসায় ভাসছে দেশপ্রেমিক নেটিজেনদের। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, সেনাবাহিনীতে প্রতিবছর রিক্রুট করা ক্যাডেটের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই নতুন ব্যাটালিয়নের প্রয়োজন দেখা দেয়। এছাড়া ভবিষ্যতে এখানে ‘ফাতেমা কোম্পানি’ ও ‘আয়েশা কোম্পানি’ নামে দুটি পূর্ণাঙ্গ নারী কোম্পানি গঠনেরও প্রস্তাব রয়েছে।

★ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের ‘ইসলামীকরণ’ জুজু ও গাত্রদাহ:

বাংলাদেশের সার্বভৌম সেনাবাহিনীর এই অভ্যন্তরীণ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী ভারতের সংবাদমাধ্যম এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র গাত্রদাহ ও বিতর্ক দানা বেঁধেছে। ‘নবভারত টাইমস’ তাদের প্রতিবেদনে শিরোনাম করেছে, ‘‘বাংলাদেশ আর্মি: ইজ জেনারেল জামান ফর্মিং অ্যান ইসলামিক আর্মি ফর বাংলাদেশ? আ কোম্পানি নেমড আফটার দ্য প্রফেটস ফার্স্ট ফোর খলিফাস।’’ অন্যদিকে উগ্র হিন্দুত্ববাদী ঘরানার পোর্টাল ‘নর্থইস্ট নিউজ’ এক নিবন্ধে মন্তব্য করেছে, চার খলিফার নামে এই নামকরণ মূলত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সুকৌশলে ‘ইসলামীকরণ’ প্রক্রিয়ারই সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ। নিবন্ধটি লিখেছেন বাংলাদেশ নিয়ে প্রোপাগান্ডা ও অপতথ্য ছড়ানোর জন্য বিশেষ পরিচিত পাওয়া কথিত সাংবাদিক চন্দন নন্দী।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দিল্লির নীতি-নির্ধারক ও তাদের অনুগত মিডিয়াগুলোর এই দৃষ্টিভঙ্গি চরম দ্বিমুখীতার শামিল। নিজেদের দেশ যখন উগ্র হিন্দুত্ববাদের জোয়ারে ভাসছে এবং খোদ ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী যখন শত বছর ধরে হিন্দু ধর্মীয় প্রতীক ও দেব-দেবীর চাদরে ঢাকা, তখন বাংলাদেশের একটি সাধারণ প্রশাসনিক নামকরণ নিয়ে তাদের এই মাথাঘামানো কেবলই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। উগ্র হিন্দুত্ববাদকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ধারণ করা আধিপত্যবাদী দিল্লি ঢাকাকে সর্বদা নিজেদের ইচ্ছেমতো ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ বা পুতুল রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায় বলেই এই গাত্রদাহ।

★হিন্দু দেব-দেবী ও প্রতীকে ঠাসা ভারতীয় সেনাবাহিনী:

বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের সেনাবাহিনী তাদের নিজস্ব ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় চেতনার সাথে সামঞ্জস্য রেখে ইউনিটের নামকরণ বা রণধ্বনি নির্ধারণ করে থাকে। এই নীতি যদি ভারতের ক্ষেত্রে বৈধ হয়, তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কেন নয়- এই প্রশ্ন এখন জোরালোভাবে তোলা হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর দিকে তাকালে দেখা যায়, সেখানে শতবর্ষ ধরে হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্য, পৌরাণিক বীরগাথা এবং সংস্কৃত শ্লোকের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতেই ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি এলিট ব্যাটালিয়নের নামকরণ করা হয়েছে শিবের অগ্নিমূর্তি ‘ভৈরব’-এর নামানুসারে (ভৈরব ব্যাটালিয়ন)।

এছাড়া ভারতীয় সেনাবাহিনীর একাধিক কোরের নাম সরাসরি হিন্দু পুরাণের দেব-দেবী ও অস্ত্রের সাথে যুক্ত। ১৭ কোর (ব্রহ্মাস্ত্র কোর) এর নামকরণ করা হয়েছে মহাভারত ও রামায়ণে উল্লিখিত ব্রহ্মা-প্রদত্ত অন্যতম শক্তিশালী দিব্যাস্ত্রের নামে। ২১ কোর (সুদর্শন চক্র কোর) হিন্দুদের ভগবান বিষ্ণু ও কৃষ্ণের ঐশ্বরিক অস্ত্রের নামে গঠিত, যা সনাতন ধর্মে অশুভ বিনাশের প্রতীক। ১১ কোর (বজ্র কোর) এর নামকরণ করা হয়েছে বৈদিক দেবতা ইন্দ্রের প্রধান অস্ত্রের নামানুসারে। ৩৩ কোর (ত্রিশক্তি কোর) এর নামটি হিন্দু ধর্মে মহাশক্তি বা দেবী দুর্গা, কালী ও পার্বতীর সম্মিলিত শক্তির ধারণার সাথে সম্পৃক্ত। মুঘল সম্রাট আকবরের বিরুদ্ধে হিন্দু প্রতিরোধের প্রতীক মহারানা প্রতাপের কিংবদন্তিতুল্য ঘোড়ার নামে ১০ কোর (চেতক কোর) এর নাম রাখা হয়েছে।

এছাড়াও, ভারতীয় সেনাবাহিনীর রেজিমেন্টাল কাঠামো ও রণধ্বনি লক্ষ্য করলে দেখা যায়, সেখানে প্রায় প্রতিটি পদক্ষেপেই হিন্দু ধর্মের গভীর প্রভাব বিদ্যমান। যেমন: রাজপুত ও বিহার রেজিমেন্টে রণক্ষেত্রে যাওয়ার সময় তাদের রণধ্বনি হলো- ‘বজরং বলী কী জয়’ (ভগবান হনুমানের জয়)। কুমায়ুন রেজিমেন্টের রণধ্বনি হলো— ‘কালিকা মাত কী জয়’ (দেবী কালীর জয়)। গাড়োয়াল রাইফেলসের রণধ্বনি— ‘বদ্রী বিশাল কী জয়’ (ভগবান বিষ্ণুর বদ্রীনাথ রূপ)। এছাড়াও আরও রণধ্বনি রয়েছে।

★বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিজস্ব ঐতিহ্য:

বাংলাদেশ একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। এ দেশের মানুষের ধর্মীয় আবেগ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতিফলন দেশের প্রতিটি স্তরে থাকাটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতেও এর ব্যতিক্রম নয়। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি গৌরবময় ডিভিশন হলো ‘১৯ পদাতিক ডিভিশন’। এই ১৯ পদাতিক ডিভিশনের নীতিবাক্য বা মোটো হলো— “পবিত্র সংখ্যার বাহক” । পবিত্র কুরআনে ‘১৯’ সংখ্যাটির যে অলৌকিক গাণিতিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে, তা এই নীতিবাক্যের মাধ্যমে সরাসরি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

অতএব, বীরশ্রেষ্ঠদের স্মরণের পাশাপাশি মুসলিম ইতিহাসের গৌরবোজ্জ্বল চার খলিফার নামে কোম্পানির নামকরণ করা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্য অত্যন্ত স্বাভাবিক ও ঐতিহ্যসম্মত একটি পদক্ষেপ।

ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই ভারতের একটি বিশেষ মহল বাংলাদেশের প্রতিটি জাতীয় সিদ্ধান্তকে বাঁকা চোখে দেখছে। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও তাদের এজেন্ট এবং মিডিয়াগুলো প্রচার করার চেষ্টা করছে যে, বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতার পিলারের অবক্ষয় ঘটছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ভারত নিজেই তার সামরিক বাহিনীকে সম্পূর্ণ হিন্দুত্ববাদী প্রতীকে রূপান্তর করার পরও বাংলাদেশের মুসলিম ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনকে ‘উগ্রবাদ’ হিসেবে তকমা দিচ্ছে।

নিজেরা দেবতাদের নামে সামরিক ইউনিট গড়ে তুললেও, বাংলাদেশ যখন ইসলামের গৌরবময় ইতিহাসের অংশ হিসেবে চার খলিফার নামে কোম্পানির নামকরণ করে, তখন দিল্লির এই হাহাকার ও গাত্রদাহ কেবল তাদের আধিপত্যবাদী মানসিকতা ও চরম দ্বিচারিতাকেই নগ্নভাবে উন্মোচিত করে। সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তার নিজস্ব সংস্কৃতি ও গৌরব অক্ষুণ্ণ রেখেই এগিয়ে যাবে— এটাই এ দেশের জনগণের প্রত্যাশা।

সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব

শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ
শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একটি করে গাছের চারা রোপণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ অনুষ্ঠান শেষে দেশব্যাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

এর আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের ১৭ ও ১৮ নম্বর অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শিশুদের প্রতিভা ও মননশীলতার বিকাশে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক, বিষয়ভিত্তিক কুইজ, কাবিং ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু হয়ে ধাপে ধাপে এসব প্রতিযোগিতা জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হয়।

এতে দেশের স্কুল পর্যায়ের ২ কোটি ১৮ লাখ ২৮ হাজার ৬৯৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের হাতে অনুষ্ঠানে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ তুলে দেওয়া হয়।

এছাড়া শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেওয়া হয়। ব্যক্তি পর্যায়ে ১৫টি ক্যাটাগরিতে ১২ হাজার ৩৮৪ জন এবং প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে দুটি ক্যাটাগরিতে ৬৫ হাজার ৫৪৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এ সম্মাননা লাভ করে।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

রাজারহাটে রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে নিহত ১, গ্রেফতার ১১

মোঃ রেজাউল হক, কুড়িগ্রামঃ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ
রাজারহাটে রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে নিহত ১, গ্রেফতার ১১

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার উমর মজিদ ইউনিয়নের ডাংঘাট গ্রামে রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

জানা গেছে, উমর মজিদ ইউপি’র ডাংহাট থেকে ফুলখা এলাকার ওই রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে ছিল। সম্প্রতি এসিল্যান্ডের সহযোগিতায় রাস্তাটি পুনরায় চালু করা হয়।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলের দিকে রাস্তাটি নিয়ে পুনরায় বিরোধ ও কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে ডাংঘাট গ্রামের জয়নাল গংয়ের নেতৃত্বে জাহিদুল ইসলাম জিন্নাত পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের শাবলের আঘাতে একই গ্রামের জাহিদুল ইসলাম জিন্নাত (৪৫) প্রাণ হারান। এঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। রাত ৮টা পর্যন্ত পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত ১১জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।

রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা এখনও ঘটনাস্থলেই আছি এবং বিষয়টির তদন্ত চলছে। অভিযোগ পাওয়া মাত্র মামলা রেকর্ড করা হবে।

এই ফার্মের মুরগিরা রাস্তায় এসেছে বলেই আজ আপনি শিক্ষামন্ত্রী: হাসনাত আব্দুল্লাহ

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ৯:৫৭ অপরাহ্ণ
এই ফার্মের মুরগিরা রাস্তায় এসেছে বলেই আজ আপনি শিক্ষামন্ত্রী: হাসনাত আব্দুল্লাহ

শিক্ষামন্ত্রীর সমালোচনা করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, এই ফার্মের মুরগিরা রাস্তায় নেমেছিল বলেই আপনি আজ মন্ত্রী হয়েছেন। শিলং থেকে সংবিধান বিশেষজ্ঞ আসতে পেরেছেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে জুলাই পদযাত্রা ও পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী সব জায়গায় গিয়ে বলেন- নকল আর চলবে না। ২০২৬ এর শিক্ষার্থীরা আপনাদেরকে দেখিয়ে দিচ্ছে- এই স্ট্যান্টবাজি আর বাংলাদেশে চলবে না। হাঁটুসমান পানিতে, বুকসমান পানিতে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ডুবিয়ে ডুবিয়ে আপনি পরীক্ষা দিতে বাধ্য করেছেন। একটা পরীক্ষার প্রশ্ন আপনি প্রণয়ন করেছেন, তার মধ্যে আপনি ভুল রেখে দিয়েছেন। একজন পরীক্ষার্থীর তখন মানসিক অবস্থা কী ধরনের হয়, একবার চিন্তা করেন। আপনারা একবার দুঃখ প্রকাশের প্রয়োজনও বোধ করলেন না, বরং এই শিক্ষার্থীদের আপনারা বলছেন মাদকাসক্ত।’

শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আপনি যাদেরকে ফার্মের মুরগি বলছেন, এই ফার্মের মুরগিরা রাস্তায় এসেছিল বলেই আজকে আপনি শিক্ষামন্ত্রী হয়েছেন। এই ফার্মের মুরগিরা রাস্তায় নেমে এসেছে বলেই শিলং থেকে এসে সংবিধান বিশেষজ্ঞ হয়েছেন। এই ফার্মের মুরগি রাস্তায় এসেছে বলেই আজকে লন্ডন থেকে এসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রিত্ব করছেন। শিক্ষামন্ত্রীকে বলবো, শিক্ষার্থীরা গিনিপিগ নয়। শিক্ষার্থীদের নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট বন্ধ করুন। কারণ আপনাদের সন্তানরা দেশে পড়াশোনা করে না, তাদের বিদেশে রেখে পড়াশোনা করান।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, ‘সংবিধান সংস্কার কমিটি নাকি কোনো সংবিধানে লেখা নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আপনাকে বলি, যদি এটি না থেকে থাকে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনও কোনো সংবিধানে নেই। সংবিধান অনুযায়ী তো নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল ২০২৯ সালে।’

দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, কক্সবাজার, সাতকানিয়া, আনোয়ারা ও বাঁশখালীসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও সহায়তা এখনো পর্যাপ্তভাবে পৌঁছেনি।

সোনারগাঁয়ের স্থানীয় রাজনীতি নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি। এ সময় স্থানীয় এক সংসদ সদস্যের ছেলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অনিয়মের সুযোগ না দেওয়ার আহ্বান জানান।

এছাড়া গ্যাস সংযোগ, ভূমি দখল এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এসব অনিয়ম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে চাঁদাবাজি চলতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

পথসভায় উপজেলা ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপির সমর্থিত কয়েকজন প্রার্থীর নামও ঘোষণা করেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর রাজারহাটে রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে নিহত ১, গ্রেফতার ১১ এই ফার্মের মুরগিরা রাস্তায় এসেছে বলেই আজ আপনি শিক্ষামন্ত্রী: হাসনাত আব্দুল্লাহ সায়েন্সল্যাব ছেড়ে শিক্ষা বোর্ড অভিমুখে শিক্ষার্থীরা, পথে পুলিশি বাধা ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আনছে সরকার: সড়কমন্ত্রী