শীঘ্রই আসছে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি, আলোচনায় ত্যাগী ও যোগ্যরা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত মার্চের শুরুতেই। যেকোনো সময় কমিটি ঘোষণা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক- শীর্ষ এই দুই গুরুত্বপূর্ণ পদকে ঘিরে দলের ভেতরে-বাইরে চলছে শেষ মুহূর্তের নানা সমীকরণ ও আলোচনা। পাশাপাশি শুরু হয়েছে পদপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ ও তদবির।
পদপ্রত্যাশী নেতারা বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত নেতাদের দিয়েই নতুন কমিটি গঠন করা হলে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে। তারা আরও বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান এবং তিনি যাকে যে দায়িত্ব দেবেন, সেটিই সবাই মেনে নেবেন।
ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে কৌতূহল বাড়ছে। তৃণমূলের প্রত্যাশা, আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের হাতেই আগামী দিনের নেতৃত্ব তুলে দেয়া হবে।
জানা গেছে, ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান- তিনি দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পরামর্শের পাশাপাশি পদপ্রত্যাশীদের বিগত দিনের আমলনামাও বিবেচনায় নিয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ একসঙ্গে শীর্ষ পদগুলো ঘোষণা করতে পারেন। সেক্ষেত্রে পরীক্ষিত এবং ৫ আগস্টের আগে মামলায় জর্জরিত, হাসিনা রেজিমে নির্যাতিত, যোগ্য ও ত্যাগীদের প্রাধান্য দেয়া হবে। তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীর সংশ্লিষ্টতা থাকলে তাদের ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বে মূল্যায়ন করা হবে না বলে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে।
পাশাপাশি ক্ষমতা হারানোর দেড় যুগ পর পুনরায় ক্ষমতায় এসে ছাত্রদলের কমিটিতে যাতে কোনো বিতর্কিত ব্যক্তির স্থান না হয়, সেজন্য সরকারি একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এতে যাদের প্রতিবেদন নেতিবাচক আসবে, তারা দলের পরীক্ষিত ও ত্যাগী হলেও নেতৃত্বে স্থান পাবেন না। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কোন অবস্থাতেই বিভিন্ন কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত কোন ছাত্রনেতাকে ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বে আনবে না বলে নিশ্চিত করেছেন দলটির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র।
কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনার শীর্ষে আছেন যারা:
ছাত্রদলের নতুন কমিটির সম্ভাবনা ও সামগ্রিক বিষয়ে খোঁজ নেয়া হয় কয়েকটি বিশ্বস্ত ও নির্ভরযেগ্য সূত্রের মাধ্যমে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, এবার ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদে কয়েকটি সেশনের (ঢাবি) যোগ্য ও ক্লিন ইমেজের নেতারা কমিটির জন্য বিবেচিত হতে পারে। সেই হিসেবে কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ সভাপতি আবু আফসান ইয়াহিয়া, কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সোহেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মঞ্জুরুল রিয়াদ রয়েছেন আলোচনার শীর্ষে।
তবে শ্যামল মালুম- কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, মমিনুল ইসলাম জিসান- কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রয়েছেন শীর্ষ আলোচনায়।
এছাড়াও মাসুদুর রহমান মাসুদ- কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সালেহ মোহাম্মদ আদনান- কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, আমানউল্লাহ আমান- কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, শরিফ প্রধান শুভ- কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, মিনহাজ আহমেদ- কেন্দ্রীয় সহ সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক সহ বেশ কিছু নাম রয়েছে আলোচনায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে অন্য সুপার ইউনিট থেকেও কেন্দ্রীয় সুপার পাঁচ ও শীর্ষ নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ আসতে পারে বলে কিছুটা গুঞ্জন রয়েছে। জুলাই আন্দোলনের বিবেচনায় অন্যান্য ইউনিট অনেকটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমান প্রজন্মের সাথে সামঞ্জস্য রেখে গঠনমূলক আলোচনা এবং রাজপথেও বেশ অবদান রেখেছেন উপরোক্ত ছাত্র নেতারা। তাদের প্রত্যেকেই বিগত কমিটিতে সামনে থেকে আন্দোলন সংগ্রামে অবদান রেখেছে।
সংগঠনটির তৃণমূলের নেতাকর্মীদেরও একই প্রত্যাশা, আগামী দিনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাজপথের পরীক্ষিত, নির্ভীক ও তরুণ নেতৃত্বই যেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের হাল ধরেন।







আপনার মতামত লিখুন