খুঁজুন

গোপালগঞ্জে ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ণ
গোপালগঞ্জে ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস (৫ আগস্ট) এবং আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গোপালগঞ্জে ৫ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রতিরোধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেল থেকেই গোপালগঞ্জ শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড়, সরকারি স্থাপনা ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় বিজিবির সদস্যরা টহল শুরু করেছেন। বিজিবির পাশাপাশি জেলা পুলিশ, ৮ প্লাটুন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং ৫ প্লাটুন রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স (আরআরএফ) সদস্যদের সমন্বয়ে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট স্থাপন, যৌথ টহল এবং সন্দেহজনক ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র জানায়, জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, প্রশাসনিক ভবন, স্মৃতিস্তম্ভ এবং অনুষ্ঠানস্থলকে বিশেষ নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ বলেন, গোপালগঞ্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা হওয়ায় আগেভাগেই প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, নিয়মিত টহল, যানবাহন তল্লাশি এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। জনগণকে গুজব বা উসকানিমূলক প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বানও জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে গোপালগঞ্জে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এসব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিজিবিসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে। তিনি জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বিজিবির মোতায়েন অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজন হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।

তারেক রহমান ভারত না এলে যোগাযোগের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে: সাবেক কূটনীতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩৬ অপরাহ্ণ
তারেক রহমান ভারত না এলে যোগাযোগের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে: সাবেক কূটনীতিক

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর দুই দেশের জন্যই ফলপ্রসূ হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সাবেক ভারতীয় কূটনীতিক বিদ্যাভূষণ সোনি। তিনি মনে করছেন, তারেক রহমান ভারতে না এলে এই সুযোগ হারিয়ে যেতে পারে এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের পথও খোলা নাও থাকতে পারে।

ভারতীয় বার্তাসংস্থা এএনআইকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বিদ্যাভূষণ সোনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, এই সফরের মাধ্যমে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় সমস্যা সমাধানের পথও খুলতে পারে।

সাক্ষাৎকারে সোনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে অনেক বিষয় এখনও অমীমাংসিত রয়েছে। এর মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বেশিরভাগ বিষয়ে দুই দেশ একমত হলেও পরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।

সোনি বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যার সমাধানেও বাংলাদেশ ভারতের আরও সক্রিয় ভূমিকা চায়। তার মতে, এ ক্ষেত্রে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা ছাড়া ভারতের তেমন কিছু করার নেই। কারণ, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ভারতের কথা শুনতে পারে। তারেক রহমানের ভারত সফরের মাধ্যমে সেই সুযোগ তৈরি হলে বাংলাদেশ ভারতকে এসব সমস্যা সমাধানে তার প্রভাব কাজে লাগানোর অনুরোধ করতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তুলনামূলকভাবে ‘অনেক বেশি খোলামেলা’ এবং ‘ভারতবিরোধী নন’ বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যাভূষণ সোনি। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন সোনি। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, তারেক রহমান তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি খোলামেলা মানুষ। তিনি ভারতবিরোধী নন এবং নিজে এমন কোনও বক্তব্যও দেননি, যেটিকে ভারতের বিরুদ্ধে বলে মনে করা যায়। তাই ভারতও সতর্কভাবে এই সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা করছে।’

তিনি বলেন, দুই দেশের সরকারি মুখপাত্ররা এখন পর্যন্ত যেসব বক্তব্য দিয়েছেন, সেগুলো মূলত রাজনৈতিক বক্তব্য। তবে দুই দেশের রাজনীতিবিদরা এ বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেননি। তাই তারেক রহমানের ভারত সফরের এখনও সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

সোনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে খুবই আশাবাদী’। তার মতে, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর এই সুযোগ কোনোভাবেই হাতছাড়া করা উচিত নয়। তিনি বলেন, ‘তিনি (তারেক রহমান) যদি না আসেন, তাহলে এই সুযোগটি হারিয়ে যাবে। দীর্ঘ সময়ের জন্য এই যোগাযোগের পথ খোলা নাও থাকতে পারে। আমরা কেউই এই সুযোগ হারাতে চাই না। তাই আমি বেশ আশাবাদী।’

তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে নয়াদিল্লি ও ঢাকার কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগ চলছে। গত রোববার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শহীদুল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তারেক রহমান দিল্লিতে গেলে সেটি হবে ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেয়ার পর তার প্রথম ভারত সফর। সফর নিয়ে আলোচনা চললেও এখনও কোনও চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।

ফেসবুকে সরকারের সমালোচনা: ঢাবি ছাত্রদল নেতা আজীবন বহিষ্কার

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২৭ অপরাহ্ণ
ফেসবুকে সরকারের সমালোচনা: ঢাবি ছাত্রদল নেতা আজীবন বহিষ্কার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করে পোস্ট দেওয়া, সাংগঠনিক শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা এবং দীর্ঘদিন সংগঠনের কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের এক নেতাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কৃত নেতা হলেন মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক আলামিন ফারাজি।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক ওয়াসি উদ্দিন তামী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা এবং দীর্ঘদিন সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আলামিন ফারাজিকে সংগঠনের সব সাংগঠনিক পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। একই সঙ্গে আলামিন ফারাজির সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের বিষয়ে আলামিন ফারাজি বলেন, তার ফেসবুক পোস্টে সরকারের ভুল-ত্রুটির সমালোচনা করা হয়েছে। যৌক্তিক ও ন্যায়ের জায়গা থেকে তিনি ভবিষ্যতেও সরকারের সমালোচনা করবেন।

তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্যের উদ্দেশ্য সরকারের ভুল সংশোধনে সমালোচনা করা। তার ভাষ্য, সরকার যদি সমালোচকদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে এবং চাটুকারদের বন্ধু মনে করে, তাহলে ওই চাটুকাররাই একসময় সরকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

আলামিন ফারাজি আরও বলেন, দেশের প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও তাকে রাজপথে পাওয়া যাবে—লাঠি হাতে কিংবা কলম হাতে।

তারেক রহমান ভারত না এলে যোগাযোগের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে: সাবেক কূটনীতিক ফেসবুকে সরকারের সমালোচনা: ঢাবি ছাত্রদল নেতা আজীবন বহিষ্কার প্রবাসীর পাল্টা অভিযোগ: খাসির জন্য নয়, ১০ গুণ দেনমোহর ধরায় ভেঙেছে বিয়ে কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে অস্ত্র হাতে সাবেক ছাত্রদল নেতার মহড়া, এলাকায় আতঙ্ক