খুঁজুন

ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রীস্তম্ভ পার্কের নীরব উদ্বোধন, যা বললেন জেলা প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১৬ পূর্বাহ্ণ
ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রীস্তম্ভ পার্কের নীরব উদ্বোধন, যা বললেন জেলা প্রশাসক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের কামাউড়া নামক স্থানে অনেকটা চুপচাপ অনাড়ম্বর পরিবেশে উদ্বোধন করা হয়েছে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত ভারতের মিত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর স্মরণে নির্মিত বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রীস্তম্ভ পার্ক। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে পার্কটির উদ্বোধন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ। এ সময় তার সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ঠিকাদার ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে আশুগঞ্জের কামাউড়ায় মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি স্মারক ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রীস্তম্ভ ও পার্কের নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে গত বছরের (২০২৫) নভেম্বর মাসে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এটি উদ্বোধন করার কথা ছিল।

কিন্তু বৃহস্পতিবার অনেকটা নীরবেই ফিতা কেটে উদ্বোধন করা হলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে দুই দেশের স্মৃতি স্মারক দৃষ্টিনন্দন মৈত্রীস্তম্ভ পার্কটি।

অনাড়ম্বর পরিবেশে পার্কটির উদ্বোধন সম্পর্কে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাস আবু সাঈদ বলেন, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছিলাম। তারা সবাই আসলে একসঙ্গে হতে পারছেন না। আমাকে বলেছেন, উদ্বোধন করার জন্য। কারণ পার্কটির জিনিসপত্র ব্যবহার না হওয়ায় নষ্ট হতে চলেছে। তাই জনসাধারণের জন্য দ্রুত পার্কটি উন্মুক্ত করার জন্যই অনাড়ম্বর পরিবেশে উদ্বোধন করা হয়েছে।’

অপর এক প্রশ্নে জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ গণমাধ্যমে জানান, এটির জনসাধারণের জন্য জেলা প্রশাসনের অধীনে আপাতত উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। জনপ্রতি ২০ টাকা করে প্রবেশ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মৈত্রীস্তম্ভ পার্কটিতে কী আছে জানতে চাইলে জানান, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের আদলে মুক্তিযুদ্ধের কিছু স্মৃতি চিহ্ন রয়েছে। ভেতরে থাকা নামের তালিকায় কাদের নাম আছে? জানতে চাইলে কৌশলে এড়িয়ে যান।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মুক্তিযোদ্ধা জানান, বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক বর্তমানে স্বাভাবিক না থাকায়, অনেকটা অনাড়ম্বর পরিবেশে পার্কটি উদ্বোধন করা হয়েছে। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকর্মের ওপর আঘাত আসতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই নীরব পরিবেশে উদ্বোধনের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়। এর বেশি কথা বলতে চাননি তিনি।

যে কারণে আশুগঞ্জে মৈত্রীস্তম্ভ:

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, ১৯৭১ সালে তুমুল যুদ্ধের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পূর্বাঞ্চলের আখাউড়া ৬ ডিসেম্বর মুক্ত হয়। পরে মিত্র বাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধারা অগ্নিঝরা দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দিকে অগ্রসর হন। কোনও ধরনের প্রতিরোধ যুদ্ধ ছাড়াই ৮ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্ত হয়। পরে ভারতের ৪র্থ মাউন্টেন ডিভিশনের মিত্র বাহিনীর সদস্যরা ও মুক্তিবাহিনীর এস ফোর্সের প্রধান মেজর জেনারেল কে এম সফিউল্লাহর নেতৃত্বে যৌথভাবে আশুগঞ্জের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে ভুল তথ্যের কারণে ৯ ডিসেম্বর রাতে আশুগঞ্জ সোহাগপুর ও কামাউড়া এলাকায় মিত্রবাহিনীর সদস্যরা এলে আগে থেকে ওতপেতে থাকা পাক বাহিনীর সদস্যরা তীব্র হামলা চালায়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধে ভারতের অনেক সৈন্য প্রাণ হারান, হতাহত হন অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা। এই যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের এই আত্মত্যাগের স্মরণে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় আশুগঞ্জে ‘মৈত্রী স্মারক’ স্মৃতিস্তম্ভ পার্কটি নির্মাণ করে।

স্থানীয়রা জানান, এই মৈত্রী স্মারকের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে।

কী আছে মৈত্রী স্মৃতিস্তম্ভে:

ভেতরে প্রবেশ করার আগে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে রয়েছে গ্লাসের দৃষ্টিনন্দন বেষ্টনী। পরে চোখে পড়বে ১৯৭১ এর অগ্নিঝরা দিনগুলো দেয়ালে ভাস্কর্য আকারে তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, ছেলে সন্তানসহ নারী-পুরুষরা উদ্বাস্তু হয়ে ভারতে চলে যাওয়ার দৃশ্য, মুক্তিযুদ্ধে রণাঙ্গনে সম্মুখযুদ্ধ, পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণের দৃশ্য, এবারের সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম, জয় বাংলা ও সিকান্দার আবু জাফরের কবিতার লাইন, ‘তুমি আমার বাতাস থেকে মোছো তোমার ধুলো’।

ভারতীয় বাহিনীর কারা শহীদ হয়েছিলেন:

আশুগঞ্জ যুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৭৯ কর্মকর্তা, ৭০ জন জেসিও, ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্য র‍্যাংকের ১৪৮২ সদস্য, ইস্টার্ন থিয়েটার থার্টি বিএসএফের ২৯ সদস্য, ইস্টার্ন থার্টি এয়ার ফোর্সের ১১ কর্মকর্তা, ইস্টার্ন থার্টি নেভির ৬ সদস্য শহীদ হন। তাদের প্রত্যেকের নামের তালিকা লোহার ভারী শিটে খোদাই করে মৈত্রীস্তম্ভের বেষ্টনীতে লেখা রয়েছে।

স্মৃতিস্তম্ভে পার্ক সম্পর্কে যা বললেন যুদ্ধকালীন কমান্ডার:

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে যুদ্ধকালীন কমান্ডার নুরুল ইসলাম গণমাধ্যমে বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালে ৯ ডিসেম্বর ভোরে পাঞ্জাবিদের এম্বোশে আমরা পড়ে গেলাম। এর মধ্যে একজন মুক্তিযোদ্ধা মারা গেলো। এটার মূল যুদ্ধ হয়েছে সোহাগপুর, বাহাদুরপুর, দুর্গাপুর মিলিয়ে যুদ্ধ হয়েছে। সেখানে বহু হতাহত হয়েছে। ভারতীয় অনেক সৈন্য মারা গেছে এই যুদ্ধে। পাক বাহিনীর কিছু লোক মারা গেছে। তখন আমরা সেখান থেকে বগইর পর্যন্ত এলাম। তখন ভৈরব থেকে আর্টিলারি মারলো বগইরে। তখন সেখান থেকে আমরা চলে আসলাম বেড়তলা। বেড়তলা থেকে পরের দিন আমরা এগিয়ে গেলাম আশুগঞ্জের দিকে। ওই যুদ্ধে ভারতের তিনটি ট্যাংক ধ্বংস হয়েছে সোহাগপুর গ্রামে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই যে মৈত্রীস্তম্ভটি করেছে, আমাদের বর্তমান প্রজন্ম জানে না- মুক্তিযুদ্ধে ঠিক কি হয়েছে। এই স্মৃতিস্তম্ভের মাধ্যমে এরা সবাই জানতে পারবে। সেজন্য আমরা বাংলাদেশ সরকার ও ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক যা জানালেন:

জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক হাজী সৈয়দ এমরানুর রেজা গণমাধ্যমে বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া আশুগঞ্জে যে মৈত্রীস্তম্ভটি করা হয়েছে এটাতে ইতিহাসটা আছে। বাংলাদেশের সৃষ্টির ইতিহাস, তাদের সারেন্ডারের ইতিহাস বাংলাদেশের প্রথম ভাগ থেকে শেষ ভাগ পর্যন্ত সমস্ত ইতিহাস আছে মৈত্রীস্তম্ভে। নিয়াজি যে আত্মসমর্পণ করলো এই দৃশ্যগুলো চিত্রের মধ্যদিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এগুলো নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করলে নতুন প্রজন্ম অনেক কিছুই জানতে পারবে।’
ভারতকে আমরা বন্ধু রাষ্ট্রের ভূমিকায় দেখতে চাই।

এদিকে আশুগঞ্জ উপজেলার সদ্য বিদায়ী নির্বাহী কর্মকর্তা রাফে মোহাম্মদ ছড়া গণমাধ্যমে বলেন, মৈত্রীস্তম্ভটি গত নভেম্বর মাসে ঠিকাদার থেকে গণপূর্ত বিভাগের মাধ্যমে আমরা বুঝে পেয়েছি। বর্তমানে এটি উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। স্তম্ভটি বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়ার জন্য যাবতীয় কার্যক্রম গ্রহণ চলছে। প্রায় সাড়ে তিন একর জমির ওপর মৈত্রীস্তম্ভটি নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করে মেসার্স নির্মাণ বিল্ডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নির্মাণকাজে ব্যয় হয়েছে ৭২ কোটি টাকা।

‘কোনো মানুষই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়’, আখতারুজ্জামানের পক্ষে জামায়াত আমীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ
‘কোনো মানুষই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়’, আখতারুজ্জামানের পক্ষে জামায়াত আমীর

‘কোনো মানুষই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়’- মন্তব্য করে গ্রেপ্তার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমান।

রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে শফিকুর রহমান লেখেন, বিমানবন্দরে যাত্রী সাধারণের দুর্ভোগ-ভোগান্তি, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, অনিয়ম ও অন্যায় কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আখতারুজ্জামান আওয়াজ তুলেছেন। কার্যত তিনি ভুক্তভোগী যাত্রী সাধারণ, বিশেষ করে বিদেশফেরত প্রবাসীদের প্রতিবাদের কণ্ঠে পরিণত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, তার এই প্রতিবাদকে আমলে নিয়ে দুর্বলতাগুলো সংশোধন করার পরিবর্তে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমনকি দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে জনসম্মুখে অপমানিত করার নানা হীন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও লেখেন, ‘জনগণ অন্ধ নয়, সবই দেখছে।’ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আখতারুজ্জামান বীরত্বের প্রমাণ দিয়েছেন এবং ভুক্তভোগী মানুষের হৃদয়ের বীরে পরিণত হয়েছেন বলেও দাবি করেন জামায়াতের আমীর।

শেষে আখতারুজ্জামানের জন্য দোয়া করে শফিকুর রহমান লেখেন, ‘আল্লাহ তায়ালা তার সম্মান বৃদ্ধি করুন। আমীন।’

এর আগে গত ১ অক্টোবর বিমানবন্দরে অব্যবস্থাপনা, লাগেজ ট্রলির সংকট, লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং জমজমের পানি না আসাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি হুমকি-ধামকির পর্যায়ে পৌঁছায়।

পরে বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে হেনস্তার অভিযোগে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএসের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

পরদিন শনিবার প্রিজনভ্যানে করে তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতে নেওয়ার সময় মাথায় নিরাপত্তা হেলমেট পরানো হয়। আদালতে নেওয়ার সময় হেলমেট পরার প্রতিবাদ করেন আখতারুজ্জামান। পরে তিনি হেলমেট খুলে ফেলে দেন।

প্রিজনভ্যান থেকে নামার সময় তিনি বলেন, ‘আমি হেলমেট পড়বো না। আমাকে অন্যায়ভাবে-অবৈধভাবে হেলমেট পরানো হচ্ছে। আমি আওয়ামী লীগ না। হালের হেলমেট এখন আওয়ামী লীগের ফ্যাশন হয়েছে। আমাকে হাতকড়া পরান।’ এরপর দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য তার হাতে হাতকড়া পরান।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর পরই ইরানে মার্কিন সেনা!

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ
মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর পরই ইরানে মার্কিন সেনা!

ইরানের বিপক্ষে বড় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে নভেম্বর মাসে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে সেনা মোতায়েনের বিষয় বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। গালফ নিউজের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট মনে করেন ইরানে সেনা পাঠানোর ক্ষেত্রে তার ‘হারানোর কিছু নেই’। ট্রাম্পের একাধিক হুমকি ও সেনা মোতায়েন নিয়ে অবশ্য তেমন উদ্বিগ্ন নয় ইরান। দেশটির মেহের নিউজের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন হামলার কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

গত শুক্রবার রাতে এক জনসভায় ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধও করে দেয়, তবুও ইরানের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে লেগে যাবে কয়েক বছর। ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমরা আগামীকালই চলে আসতে পারি; কিন্তু তাদের যে ক্ষতি করেছি, তা পুষিয়ে উঠতে তাদের কয়েক বছর সময় লাগবে। কারণ, তারা কোনো সমঝোতায় আসতে চায়নি। তারা তাদের চাল চেলেছিল; তবে তারা অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছিল।’

এরই মধ্যে ইরানের কাছাকাছি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্টের নেতৃত্বে একটি স্ট্রাইক গ্রুপ মোতায়েন করছে বলে আলজাজিরাকে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ অষ্টম মাসে গড়িয়েছে এবং উভয় পক্ষ সংঘাতের তীব্রতা বাড়ানো কিংবা কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

ইরানে নতুন করে সেনা মোতায়েন
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র এক মাস আগে পাঠানো হচ্ছে আরও হাজার হাজার সেনা। দেশটির আশপাশে নতুন করে প্রায় ১০ হাজার সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন। একজন মার্কিন কর্মকর্তা আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, ‘ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট’ ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপটি গত রবিবার স্যান ডিয়েগো ঘাঁটি থেকে ওই অঞ্চলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এর ঠিক এক দিন পর ‘মার্কিন আইল্যান্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট’ (এমইইউ), যেটিতে ২ হাজারের বেশি মেরিন সেনা রয়েছেন, সেটিও একই পথে যাত্রা করেছে। ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’- এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই স্ট্রাইক গ্রুপ ও নৌবাহিনীর মোতায়েন প্রক্রিয়ায় সব মিলিয়ে যুক্ত হতে পারে অতিরিক্ত ৯-১০ হাজার মার্কিন সেনা। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ ও অন্যান্য জাহাজে নিয়োজিত নাবিক ও মেরিন সেনাও।

জবাব দিতে প্রস্তুত ইরান
যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ‘ট্রিগারে আঙুল রেখে’ হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে তারা। মেহের নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বা আঞ্চলিক হুমকি, আগ্রাসন কিংবা ভুল পদক্ষেপের মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত আইআরজিসি। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনা এবং অবস্থান সম্পর্কে আইআরজিসির কাছে বিস্তারিত গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে এবং যেকোনো উসকানির জবাবে তারা “অত্যন্ত কঠোর, তাৎক্ষণিক, বেদনাদায়ক এবং ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ২’-এর চেয়েও অধিক প্রাণঘাতী” পাল্টা ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ২’ ছিল ২০২৪ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলের ওপর ইরানের চালানো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। সে সময় তেহরান নিক্ষেপ করেছিল প্রায় ২০০টি ক্ষেপণাস্ত্র। আইআরজিসি স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছে, নতুন কোনো সংঘাতের ঘটনা ঘটলে তার জবাবে যে পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা ওই হামলার চেয়েও অনেক বড় ও অধিক প্রাণঘাতী হতে পারে।

সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের ফু-ওয়াংসহ চার বারে অভিযান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৬ অপরাহ্ণ
সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের ফু-ওয়াংসহ চার বারে অভিযান

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নূর ইসলামের মালিকানাধীন ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডসহ রাজধানীর চারটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কয়েকটি সংস্থা।

শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে গুলশানের র-ক্যানভাস রেস্তোরাঁ, হাবিব হোটেল ইন্টারন্যাশনাল, মার্গারিটা লাউঞ্জ ও ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডে অভিযান শুরু হয়।

অভিযানের কারণ

শনিবার সন্ধ্যায় এনবিআরের বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনার কথা জানায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)।

সিআইআইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকার কিছু বার, রেস্তোরাঁ, ডিপ্লোম্যাটিক বন্ডেড ওয়্যারহাউজ ও ডিউটি ফ্রি শপে অবৈধ উৎস থেকে অ্যালকোহল বা অ্যালকোহলজাত পণ্য সংগ্রহ, শুল্ক-মূসক ও আয়কর ফাঁকি এবং অননুমোদিত গ্রাহকের কাছে এসব পণ্য সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ অনুসন্ধানে সিআইআইডি চারটি দল গঠন করে।

অভিযানে এসব দলের সঙ্গে এনবিআরের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল, মূসক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং ঢাকা উত্তর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন।

এনবিআর সূত্রের দাবি, ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের মালিক শেখ নুরুল ইসলাম। তবে ফু-ওয়াং কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে শেখ নুর ইসলাম বা তাঁর পরিবারের কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই।

অভিযান শেষে প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য ও সার্বিক ফলাফল জানাতে শনিবার রাতে সংবাদ সম্মেলন করবে এনবিআর। রাত সাড়ে ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিচতলায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার শুল্কমুক্ত মদ মজুদের অভিযোগে সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুরুল ইসলামের চারটি গুদাম সিলগালা করা হয়।

‘কোনো মানুষই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়’, আখতারুজ্জামানের পক্ষে জামায়াত আমীর মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর পরই ইরানে মার্কিন সেনা! সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের ফু-ওয়াংসহ চার বারে অভিযান একযোগে ১১ পুলিশ কর্মকর্তাকে ঢাকার বাইরে বদলি 'কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু