রাজারহাটে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উদ্বোধন, আলোচনা সভা ও মৎস্যচাষীদের পুরস্কার প্রদান
“রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সফল মৎস্যচাষীদের পুরস্কার প্রদান করা হয়।
রোববার (১৬ আগস্ট) উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে মৎস্যচাষি, মৎস্যজীবী, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় মৎস্য পক্ষের গুরুত্ব ও দেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান তুলে ধরে আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষের অন্যতম প্রধান উৎস মাছ। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে মৎস্য খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বক্তারা আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে মাছ চাষের পরিধি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ, জলাশয়ের পরিবেশ রক্ষা, মাছের অভয়াশ্রম সংরক্ষণ এবং ক্ষতিকর উপায়ে মাছ শিকার বন্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
আলোচনা সভায় মৎস্যচাষীদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়েও আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে মাছের খাদ্য, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ, উন্নত জাতের পোনা সরবরাহ, বাজারজাতকরণ এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে মৎস্য খাতে বিশেষ অবদান রাখা সফল মৎস্যচাষীদের হাতে সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তরা আধুনিক ও টেকসই পদ্ধতিতে মাছ চাষের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে মৎস্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলে আয়োজকরা জানান।
উপজেলা মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, জাতীয় মৎস্য পক্ষের মূল উদ্দেশ্য হলো মৎস্য সম্পদের উন্নয়ন, সংরক্ষণ এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীকে আরও সচেতন ও সম্পৃক্ত করা। রাজারহাটে মৎস্য উৎপাদন বাড়াতে চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা মৎস্য খাতের উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি মৎস্যচাষী ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব মাছ উৎপাদনের মাধ্যমে রাজারহাটকে মৎস্য উৎপাদনে আরও সমৃদ্ধ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে রাজারহাটে আয়োজিত এ কর্মসূচি মৎস্যচাষী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।

আপনার মতামত লিখুন