রাজারহাটে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে প্রস্তুতিমূলক সভা
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ পূজা উদযাপনের আশ্বাস।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজারহাট উপজেলা অডিটোরিয়াম হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা তাসনিম। সভায় আসন্ন দুর্গাপূজাকে ঘিরে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ ও আলোকসজ্জা, সিসিটিভি স্থাপন, স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় রাজারহাট উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ, পূজা উদযাপন কমিটির প্রতিনিধি এবং উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ১৩১টি পূজামণ্ডপের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা তাসনিম বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কোথাও যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিয়মিত টহল জোরদার করার বিষয়ে সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এছাড়া মণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পূজা চলাকালে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন বলে সভায় জানানো হয়। সভায় উপস্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে দুর্গাপূজা উদযাপনে প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।
প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনৈতিক দল, পূজা উদযাপন কমিটি ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতায় রাজারহাটে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

