ইসরায়েলের নির্বাচনে কে জিতল, তা নিয়ে ‘মাথাব্যাথা’ নেই হিজবুল্লাহর
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের নির্বাচন শেষ হলেও ভোটের জটিল সমীকরণের কারণে কে প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন— তা এখনও নির্ধারণ করা যায়নি। অনেকে এ নির্বাচন বাতিল করে ফের নির্বাচনের দাবিও তুলছেন।
বিজ্ঞাপন
তবে ইসরায়েলের অন্যতম শক্তিশালী বৈরীপক্ষ হিজবুল্লাহর এ নির্বাচন নিয়ে কোনো আগ্রহ নেই। ইসরায়েলের প্রতিবেশী দেশ লেবাননের এই ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীটির প্রধঅন নাইম কাসেম জোর দিয়ে বলেছেন, ইসরায়েলে যেই জয়ী হোক না কেন, দেশটির বিরুদ্ধে তাদের ‘প্রতিরোধ’ সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ৮৫ শতাংশ ভোট গণনার পর দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট প্রধান বিরোধী জোটের চেয়ে সামান্য এগিয়ে রয়েছে, তবে পুরোপুরি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি তারা।
বুধবার এক লিখিত বিবৃতিতে নাইম বলেছেন, “ইসরায়েল কে শাসন করছে তা নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। তবে এটি স্পষ্ট যে, তারা তাদের দখলদারিত্ব চালিয়ে যেতে পারবে না এবং আমাদের ভূখণ্ড থেকে তাদের সরে যেতেই হবে।”
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, “প্রতিরোধ সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে… এবং আমাদের ওপর ও লেবাননের ওপর চালানো যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমরা রুখে দাঁড়াব। যতক্ষণ পর্যন্ত দখলদারিত্ব ও আগ্রাসন বজায় থাকবে, ততক্ষণ হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে আলোচনার কোনো অবকাশ নেই।”
লেবাননের রাজনীতিতে এক সময়ের অত্যন্ত প্রভাবশালী এই গোষ্ঠীটি গত দু’বছরে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দুটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পর বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে।
গত জুন মাসে লেবানন ও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ একটি কাঠামো চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল। সেই চুক্তিতে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ, দখলকৃত অঞ্চল থেকে ইসরায়েলের পর্যায়ক্রমে সরে আসা এবং ওই এলাকায় লেবানিজ সেনাবাহিনী মোতায়েনের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
বিজ্ঞাপন
তবে ইসরায়েল এখনো তাদের দখলকৃত অঞ্চল ও এর আশপাশে বিচ্ছিন্নভাবে হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, হিজবুল্লাহও তাদের নিরস্ত্রীকরণের জন্য সরকারের নেওয়া পরিকল্পনা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
সূত্র: এএফপি, আরব নিউজ

