খুঁজুন
শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ২৭ চৈত্র, ১৪৩২

টানা বৃষ্টিতে ভেসে গেছে ৭ হাজার মাছের ঘের, শত কোটি টাকার ক্ষতি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ
টানা বৃষ্টিতে ভেসে গেছে ৭ হাজার মাছের ঘের, শত কোটি টাকার ক্ষতি

বাগেরহাটে টানা বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ভেসে গেছে প্রায় ৭ হাজার ঘেরের মাছ। অতিরিক্ত পানিতে খাল-নদী, মাঠ ও মাছের ঘের সব মিলে একাকার হয়ে গেছে। কোনো কোনো চাষি আবার নেট নিয়ে শেষ রক্ষার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। সবকিছু মিলিয়ে চাষিদের কয়েকশ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত বিরামহীন বৃষ্টিতে অন্তত ৭ হাজার ঘের ভেসে গেছে বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ। চাষিদের চিংড়ি সেক্টরকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধিরা।

বিজ্ঞাপন

মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবারের বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন গলদা চিংড়ি উৎপাদনের অন্যতম এলাকা জেলার ফকিরহাট, চিতলমারী ও মোল্লাহাট উপজেলার চাষিরা। সেইসঙ্গে মোংলা, রামপাল ও মোরেলগঞ্জ উপজেলার চাষিদের ক্ষতির পরিমাণও কম না। চাষিদের দাবি, কয়েকশ কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে এই পানিতে।

ফকিরহাট উপজেলার ফলতিতা এলাকার কাজী মিরাজুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির পানিতে ঘের ডুবে একাকার হয়ে গেছে। ঘেরের পাড়ের উপর হাঁটু পানি। নেট, কচুরিপানা ও ঘাস দিয়ে মাছ ভেসে যাওয়া ঠেকানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু কতটুকু কাজে দিয়েছে জানি না।

বিজ্ঞাপন

নুর মোহাম্মাদ নামে আরেক চাষি বলেন, এখন আসলে মাছ ধরার সময় আমাদের। কিন্তু হঠাৎ দুর্যোগ আমাদের পথে বসিয়ে গেল। আমার তিনটি ঘেরের প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। পানি টানার সঙ্গে সঙ্গে ঘেরের পাড়ের সবজি গাছও মরে যাবে।

মোল্লাহাট উপজেলার কাহালপুর গ্রামের নাসির মিয়া বলেন, আমার ৫০ বিঘার দুটি ঘেরসহ আশপাশের সবার ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। এলাকার মানুষের কোটি কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে।

চিতলমারী উপজেলা সদরের চাষি মুমিনুল হক টুলু বলেন, এলাকার মানুষের জীবিকার প্রধান উৎস ঘেরর মাছ ও পাড়ের সবজি। ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করি আমরা। মাছ বের হয়ে যাওয়ায় আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। সরকারের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এদিকে ফকিরহাট, চিতলমারী ও মোল্লাহাটের বিভিন্ন এলাকায় খেওলা জাল দিয়ে পানিতে ভেসে যাওয়া মাছ ধরতে দেখা যায় স্থানীয়দের। প্রতিটি জালেই চিংড়ি, রুই, কাতলা, মৃগেল, মিনারকার্পসহ বিভিন্ন প্রকার চাষের মাছ পাওয়া যাচ্ছে। কেউ কেউ থলে ভর্তি মাছ পেয়েছেন।

ফকিরহাটের ফলতিতা-বটতলা এলাকায় মাছ ধরতে আসা মহিদুল নামে এক যুবক বলেন, আমার নিজের ঘেরও তলিয়েছে। মাঠের সব ঘের এখন একাকার হয়ে গেছে। সবাই জাল নিয়ে এসেছেন তাই আমিও এসেছি। বড়-ছোট মিলিয়ে ১০ কেজির উপরে মাছ পেয়েছি। সবাই মাছ পাচ্ছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বাগেরহাট জেলা বিএনপির নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান এবং আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কামরুল ইসলাম গোরা।

সাবেক সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান বলেন, মাছ চাষিরা আর্থিকভাবে খুব বিপদে পড়েছেন। আমরা তাদের খোঁজ খবর নিচ্ছি। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা প্রয়োজন। এছাড়া যারা ব্যাংক ঋণ নিয়েছেন তাদের সুদ মৌকুফ করা এবং এনজিওগুলো আপাতত কিস্তি না নেওয়া দরকার। যখন সবকিছু স্বাভাবিক হবে তখন আবার ঋণের কিস্তি পরিশোধের পরামর্শ দেন তিনি।

এদিকে টাকার অঙ্কে চাষিদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ না জানাতে পারলেও ক্ষতিগ্রস্তদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এএসএম রাসেল।

তিনি বলেন, প্রায় প্রতি বছরই বন্যা ও বৃষ্টির পানিতে ঘেরের মাছ ভেসে যায়। আবার শুকনো মৌসুমে পানির অভাবে মাছ মারা যায়। এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে বাঁচতে ঘেরের গভীরতা ও পাড়ের উচ্চতা বৃদ্ধির করতে হবে। বৃষ্টির পানি নেমে গেলে চুন প্রয়োগ করে পরিমাণমতো খাবার দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

শেখ আবু তালেব/এফআরএস

গতকাল আওয়ামী আমলের চেয়েও খারাপ নির্বাচন হয়েছে: গোলাম পরওয়ার

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:২৪ অপরাহ্ণ
গতকাল আওয়ামী আমলের চেয়েও খারাপ নির্বাচন হয়েছে: গোলাম পরওয়ার

দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়, তা গতকালের নির্বাচনই প্রমাণ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বগুড়া ও শেরপুরের দুটি আসনে পুনঃনির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আজ শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে ঢাকা মহানগরের উত্তর ও দক্ষিণ জামায়াতের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে উপনির্বাচনে ভোট কারচুপি, জাল ভোট, এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা এই নির্বাচন বর্জন করছি। আমরা চাই, নতুন করে আবার এই দুই আসনে নির্বাচন দেওয়া হোক।’

গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, ‘আবার প্রমাণ করল দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না। বিএনপি আমলে আওয়ামী লীগ আমলের থেকেও খারাপ নির্বাচন হয়েছে।’

বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে ফ্যাসিবাদী রূপ ধারণ করেছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, গণভোটের রায় নিয়ে সরকার দ্বিচারিতা করছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ছাড়া এ জাতির ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি লাভের কোনো রাস্তা অবশিষ্ট নেই।

এ সময় ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, উত্তরের সেক্রেটারি ডা. রেজাউল করিম, দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ডা. আবদুল মান্নান প্রমুখ।

ঢাকা থেকে সরিয়ে প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়াম ও ইইউ’র রাষ্ট্রদূত করলো ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
ঢাকা থেকে সরিয়ে প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়াম ও ইইউ’র রাষ্ট্রদূত করলো ভারত

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়াম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। খবর এএনআই।

সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রণয় ভার্মা (আইএফএস: ১৯৯৪), বর্তমানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাকে বেলজিয়াম এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’ তিনি শিগগিরই নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানানো হয়েছে।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ভারতের বাংলাদেশ মিশনের দায়িত্ব পালন করে আসা প্রণয়কে ব্রাসেলসে নেওয়ার উদ্যোগের কথা সম্প্রতি দেশটির সংবাদমাধ্যম বলা হচ্ছিল। গত ২৭ জানুয়ারি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির পরে সেখানকার দায়িত্ব ভারতের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এই চুক্তির মাধ্যমে পণ্য, সেবা ও বিনিয়োগ খাতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এটি ২০২৭ সালের শুরুর দিকে কার্যকর হতে পারে।

ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই এফটিএ ভবিষ্যত-উপযোগী বাণিজ্য কাঠামো তৈরি করবে, যা ভারতের নতুন প্রজন্মের অর্থনৈতিক খাতগুলোকে সহায়তা করবে। বিশেষ করে প্রকৌশল ও উৎপাদন খাতে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ভারত।

ইউরোপের প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ার ফলে ভারতের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং ইউরোপীয় সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে ভারতীয় উৎপাদকদের সংযুক্তি আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ চুক্তিতে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) এবং আঞ্চলিক শিল্প ক্লাস্টারগুলোর ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশ ও ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারতের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুই পক্ষের মধ্যে পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১১.৫ লাখ কোটি রুপি (১৩৬.৫৪ বিলিয়ন ডলার)। এর মধ্যে রপ্তানি ছিল ৬.৪ লাখ কোটি রুপি এবং আমদানি ছিল ৫.১ লাখ কোটি রুপি।

একই সময়ে সেবা খাতে বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭.২ লাখ কোটি রুপি (৮৩.১০ বিলিয়ন ডলার), যা দুই পক্ষের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান গভীরতার ইঙ্গিত দেয়।

বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন যথাক্রমে চতুর্থ ও দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে বিবেচিত। একসঙ্গে তারা বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ২৫ শতাংশ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের এক-তৃতীয়াংশের প্রতিনিধিত্ব করে।

ভারত সরকার মনে করছে, এই চুক্তি দুই পক্ষের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে এবং প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

প্রণয় ভার্মা বাংলাদেশে আসার আগে ভিয়েতনামে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন। ভারতীয় পররাষ্ট্র সার্ভিসের ১৯৯৪ ব্যাচের এ কর্মকর্তা তার আগে হংকং, স্যান ফ্রান্সিসকো, বেইজিং, কাঠমান্ডু ও ওয়াশিংটন ডিসিতে ভারতীয় মিশনে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৯ সালের জুলাইয়ে হ্যানয় দূতাবাসে রাষ্ট্রদূত হয়ে যাওয়ার আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব-এশিয়া বিভাগের যুগ্ম সচিব ছিলেন তিনি।

এর আগে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ভারতের পরমাণু কূটনীতি নিয়ে কাজ করা অ্যাটমিক এনার্জি বিভাগের যুগ্ম সচিবের দায়িত্ব সামলেছেন প্রণয় ভার্মা।

যন্ত্রকৌশলে স্নাতক করা প্রণয় ভার্মা ফরেন সার্ভিসে আসার আগে টাটা স্টিলে কর্মজীবন শুরু করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মিডলবারি ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ থেকে চীনা ভাষার উপর স্নাতকোত্তর করেছেন তিনি।

হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ২০ কোটি ডলার মূল্যের ড্রোন নিখোঁজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ণ
হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ২০ কোটি ডলার মূল্যের ড্রোন নিখোঁজ

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল ড্রোন, এমকিউ-৪সি ট্রাইটন, হরমুজ প্রণালির আকাশে নিখোঁজ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিখোঁজ হওয়ার ঠিক আগে ড্রোনটি একটি জরুরি সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিল।

বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী ও ওপেন-সোর্স ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, অধিক উচ্চতায় উড্ডয়ন করতে সক্ষম এই ড্রোনটি হঠাৎ উচ্চতা হারাতে শুরু করে। নিখোঁজ হওয়ার ঠিক আগে এটি জরুরি অবস্থা বোঝাতে আন্তর্জাতিক ‘৭৭০০’ ডিস্ট্রেস কোড পাঠিয়েছিল। কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঠিক আগে ড্রোনটি কিছুটা ইরানের আকাশসীমার দিকে মোড় নিয়েছিল এবং এরপরই দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে।

ফ্লাইটরাডার ২৪-এর মতো প্ল্যাটফর্ম থেকে পাওয়া এই তথ্যগুলো এখনো স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ড্রোনটি কারিগরি ত্রুটির কারণে নিখোঁজ হয়েছে, নাকি সেটিকে ভূপাতিত করা হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। নিখোঁজ হওয়ার আগে এই ট্রাইটন ড্রোনটি ‘কমব্যাট সার্চ-অ্যান্ড-রেসকিউ’ (অনুসন্ধান ও উদ্ধার) অভিযানে যুক্ত ছিল। এর আগে এটি ইতালির সিগোনেলা নৌ-ঘাঁটিতে অবস্থান করছিল।

এর আগে গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকেও একটি এমকিউ-৪সি ড্রোন নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়েছিল, যা পরবর্তীতে মার্কিন কর্মকর্তারা ভিত্তিহীন বলে নাকচ করে দিয়েছিলেন। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি ট্রাইটন ড্রোন সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি ঘাঁটিতে নিরাপদে ফিরে আসে। তার ঠিক একদিন পর, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হয়। এছাড়া গত ৩ এপ্রিল এই অভিযানে একটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমানও বিধ্বস্ত হয়েছে।

ড্রোনটি নিখোঁজ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই দাবি করছেন যে, ইরান এই ড্রোনটিকে গুলি করে নামিয়ে থাকতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত মার্কিন সামরিক বাহিনী বা নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ বা বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

এই চালকহীন বিমানটি এমন এক সময়ে নিখোঁজ হওয়ার খবর এল যখন মাত্র দুই দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছেছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইরান বাণিজ্যিক চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে সম্মত হয়েছিল।

এমকিউ-৪সি ট্রাইটন হলো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থাকা সবচেয়ে দামি ড্রোনগুলোর একটি, যার প্রতিটি ইউনিটের বাজারমূল্য প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। এটি মূলত মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের হয়ে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে কৌশলগত নজরদারি করে থাকে।

সাধারণ ড্রোনের চেয়ে এটি অনেক বেশি শক্তিশালী। এটি ৫০ হাজার ফুটেরও বেশি উচ্চতায় টানা ২৪ ঘণ্টা ওড়ার সক্ষমতা রাখে এবং এর পাল্লা প্রায় ৭,৪০০ নটিক্যাল মাইল। ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনীর কাছে বর্তমানে ২০টি এ ধরনের ড্রোন রয়েছে এবং আরও সাতটি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।

গতকাল আওয়ামী আমলের চেয়েও খারাপ নির্বাচন হয়েছে: গোলাম পরওয়ার ঢাকা থেকে সরিয়ে প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়াম ও ইইউ’র রাষ্ট্রদূত করলো ভারত হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ২০ কোটি ডলার মূল্যের ড্রোন নিখোঁজ নারায়নগঞ্জে যুবদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে শিশুসহ গুলিবিদ্ধ ৩, আহত ১০ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু