যারা এখন সহিংস আন্দোলন করছে, তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক
০২ নভেম্বর ২০২৬ ৬:৫০ পিএম
যারা এখন সহিংস আন্দোলন করছে, তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যারা এখন সহিংস আন্দোলন করছে, তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, শ্রমিকদের এখন আর কোনো আন্দোলন বা ধর্মঘট চলছে না। তাদের দাবি ছিল মজুরি বোর্ড গঠনের, সেটি গঠন করা হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে পোশাকশিল্পের শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মজুরি বোর্ডের জন্য শ্রমিকরা কখনো সড়ক-মহামসড়ক অবরোধ করেনি। আমরা দেখেছি মুখোশধারী যারা গ্রেপ্তার হয়েছে, তারা ওখানে রাজনৈতিক স্লোগান দিয়েছে।

তিনি বলেন, আন্দোলনে যেসব শ্রমিক গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাদের দ্রুতই মুক্তির ব্যবস্থা করা হবে।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ছাড়াও শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীসহ গার্মেন্টস শিল্পের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। শ্রমিক নেতারা নিজেদের বিভিন্ন দাবি বৈঠকে তুলে ধরেছেন বলে জানা গেছে।

এর আগে বেলা ১১টার পর সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পোশাকশিল্প মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন জানান, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ হয়। তাদের জীবন মানের উন্নতি হয় এবং তাদের সমস্ত বিষয় বিবেচনা রেখে অত্যন্ত সহানুভূতির সঙ্গে সে বিষয়টি (ন্যূনতম মজুরি) নির্ধারিত হয়। এটা উভয়পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবতার নিরিখে নির্ধারিত হবে।

শ্রমিকদের জন্য রোববার (১ নভেম্বর) মজুরি বোর্ড গঠিত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আজ (সোমবার) হয়তো তাদের প্রথম সভা হতে পারে বা সম্ভাব্য স্বল্প সময়ে তারা বসবেন। আলাপ-আলোচনা হবে। সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যথা শিগগির সম্ভব তাদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করে ঘোষণা হতে পারে। সময় রেখা তিন বছর পূর্ণ হতে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় আছে। আশা করি, তারা সব পক্ষের সঙ্গে আলাপ করে ন্যূনতম মজুরি ঠিক করত পারবেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যে সব সহিংস ঘটনা বিগত কয়েক দিনে সংঘটিত হয়েছে, কয়েক সপ্তাহ যাবৎ সংঘটিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করে, আগুন জ্বালিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে, তাদের পেছনে যারা ইন্ধন দিচ্ছে, তারা চিহ্নিত হয়েছে। দুঃখজনক হলো, এখানে কিছু শিল্প ও মিল মালিকরা জড়িত আছেন। কিছু শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে- যারা শ্রমিকদের কল্যাণ চায় কি না প্রশ্নবিদ্ধ, সেসব লোক অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। সহিংসতা সৃষ্টি করেছে।

অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মন্ত্রী বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের নামে যারা শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কাজে লিপ্ত, আইনশৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত, দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা গতকাল এ ধরনের কিছু ব্যক্তিকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।

বর্তমানে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। বাড়ি ভাড়া, খাবার খরচ, যাতায়াত এবং চিকিৎসা ব্যয়সহ জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে শ্রমিকেরা এ মজুরি বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়েছে।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...