খুঁজুন

লেবানন থেকে ফিরলেন ৩৬ বাংলাদেশি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৪, ১:০৫ অপরাহ্ণ
লেবানন থেকে ফিরলেন ৩৬ বাংলাদেশি

যুদ্ধবিধ্বস্ত লেবানন থেকে দেশে ফিরেছেন ৩৬ জন প্রবাসী বাংলাদেশি। বুধবার (৩০ অক্টোবর) সৌদি এয়ারের একটি ফ্লাইটে তাদের ফিরিয়ে আনা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বৈরুতের বাংলাদেশ দূতাবাস এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম’র সহযোগিতায় সম্পূর্ণ সরকারি খরচে এসব বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন।

এ পর্যন্ত মোট ২১৬ জন বাংলাদেশিকে লেবানন থেকে বাংলাদেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে।

দেশে ফেরা বাংলাদেশি নাগরিকদের বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তারা।

আইওএম’র পক্ষ থেকে লেবানন থেকে প্রত্যাবাসনকৃত প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা হাতখরচ, কিছু খাদ্যসামগ্রী ও প্রাথমিক মেডিকেল চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

বিমানবন্দরে ফিরে আসা বাংলাদেশিদের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক মোস্তফা জামিল খান যুদ্ধের ভয়াবহতা নিয়ে কথা বলেন ও তাদের খোঁজখবর নেন। এখনো কোনো বাংলাদেশি লেবাননে হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

লেবাননে চলমান সাম্প্রতিক যুদ্ধাবস্থায় যত জন প্রবাসী বাংলাদেশি দেশে ফিরে আসতে ইচ্ছুক তাদের সবাইকে সরকার নিজ খরচে দেশে ফেরত আনবে। বৈরুতের বাংলাদেশ দূতাবাস দেশে ফিরে আসতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের নিরাপদে প্রত্যাবর্তন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

ইউপি চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক করতে হাইকোর্টের রুল

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ২:১৫ অপরাহ্ণ
ইউপি চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক করতে হাইকোর্টের রুল

ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা (কমপক্ষে স্নাতক) নির্ধারন করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণে ব্যর্থ ইউনিয়ন পরিষদ আইনের ২৬ ধারা কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, রুলে সেটিও জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবীর করা রিটের ওপর প্রাথমিক শুনানি শেষে আজ বুধবার (২২ জুলাই) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেন।

এলজিআরডি সচিব, আইন সচিব ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিট দায়ের করেন আইনজীবী কাজী ফেরদাউসুল হাসান ও মো. তানভীর আহমেদ খান।

আদেশের পর আইনজীবী কাজী ফেরদাউসুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘একজন চেয়ারম্যানকে নানা ধরনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গ্রাম আদালত পরিচালনা করার ক্ষমতা। সেখানে তিন লাখ টাকা মূল্যের মামলা পরিচালনা করতে পারেন। অথচ এই ক্ষমতা যে ম্যাজিস্ট্রেটের রয়েছে, তাকে আইনে স্নাতক সম্পন্ন করে বিজেএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। এখানে চেয়ারম্যানের কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগে না।’

তিনি বলেন, ‘তাই স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এ চেয়ারম্যানের যোগ্যতা সংক্রান্ত ২৬ ধারা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। আমরা চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম স্নাতক চেয়েছি।’

রাজারহাটে দীর্ঘ ১৭ বছর পর জটিলতার অবসান: কর্মস্থলে যোগ দিলেন আরিফুল ইসলাম

মোঃ রেজাউল করিম, সিনিয়র রিপোর্টার:
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ২:০৭ অপরাহ্ণ
রাজারহাটে দীর্ঘ ১৭ বছর পর জটিলতার অবসান: কর্মস্থলে যোগ দিলেন আরিফুল ইসলাম

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার পাঠানহাট মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চলা জটিলতা ও ভুল বোঝাবুঝির অবশেষে স্থায়ী অবসান ঘটেছে। মাদ্রাসার সুপার জনাব আবুল হোসেন, অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারী এবং অফিস সহকারী খন্দকার আরিফুল ইসলামের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও ইতিবাচক আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান হয়।

এতে মাদ্রাসায় ফির এসেছে শিক্ষার সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ।
​ঘটনার পটভূমি ও দীর্ঘ আইনি পথচলা উপজেলার খুলিয়াতারী গ্রামের খন্দকার আরিফুল ইসলাম পাঠানহাট মহিলা দাখিল মাদ্রাসার অফিস সহকারী পদে যোগদান করেন। পরবর্তীতে এমপিওভুক্তি সংক্রান্ত বিষয় ও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সাথে আরিফুল ইসলামের দূরত্ব ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়। আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৭টি বছর কেটে যাওয়ার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, মাদ্রাসা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে পুরো বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয় এবং সম্প্রতি মাদ্রাসা কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সুপার জনাব আবুল হোসেন সহ শিক্ষক ও কর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দীর্ঘদিনের ভুল বোঝাবুঝি পেছনে ফেলে মাদ্রাসার সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। অফিস সহকারী হিসেবে খন্দকার আরিফুল ইসলামের প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রাকে আনুষ্ঠানিক স্বাগত জানানো হয় এবং দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সুগম করার সিদ্ধান্ত হয়।মাদ্রাসার একাডেমিক কার্যক্রম ও প্রশাসনিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে শিক্ষক-কর্মচারীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার তাগিদ দেওয়া হয়।

​মাদ্রাসার সুপার জনাব আবুল হোসেন বলেন, “প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই কিছু না কিছু সমস্যা বা ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে। তবে আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান করে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকে সবার আগে স্থান দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। খন্দকার আরিফুল ইসলামের যোগদানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক কাজে গতি আসবে বলে আমরা আশাবাদী।”

​নবাগত পদে দায়িত্ব নিশ্চিত হওয়া খন্দকার আরিফুল ইসলাম আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছরের ধৈর্য ও আইনি প্রক্রিয়ার পর বুধবার ২২ জুলাই ২০২৬ইং সকালে সহকর্মীদের সাথে বসে সব ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটাতে পেরে আমি আনন্দিত। মাদ্রাসার প্রশাসনিক কাজ সঠিকভাবে পরিচালনা করতে আমি সুপার মহোদয় ও সকল শিক্ষকদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।”

​দীর্ঘদিন পর মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ বিরোধের সমাধান হওয়ায় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সুশীল সমাজের মধ্যে সন্তোষ দেখা দিয়েছে। বর্তমানে পাঠদানের স্বাভাবিক পরিবেশের পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন উদ্দ্যম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সকল ভেদাভেদ ভুলে প্রতিষ্ঠানটি আগামীতে এই অঞ্চলের নারী শিক্ষা প্রসারে আরও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে#

বিশ্বকাপ ফাইনালে হাতাহাতি: ফিফার তদন্তের মুখে বিতর্কিত আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৯:১১ অপরাহ্ণ
বিশ্বকাপ ফাইনালে হাতাহাতি: ফিফার তদন্তের মুখে বিতর্কিত আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ বাঁশির পর স্পেনের উদ্‌যাপন ছাপিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে বিতর্কিত আর্জেন্টিনার আক্রমনাত্মক বেপরোয়া আচরণ। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর মাঠে যে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে ফিফা।

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ডিসিপ্লিনারি অ্যান্ড এথিকস প্রসিকিউটর নিয়োগ করেছে। জড়িত খেলোয়াড় বা কোচরা নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন; জরিমানা হতে পারে বিতর্কিত আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনেরও।

কিন্তু এই তদন্তের খবর শুধু ম্যাচ-পরবর্তী বিশৃঙ্খলার গল্প নয়। এটি আরও বড় একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে; ফাইনালের সবচেয়ে বড় রাতে আর্জেন্টিনার কী হয়েছিল? বাংলাদেশের আর্জেন্টিনা সমর্থক যে দলকে চেনেন; শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়ানো, আবেগকে শক্তিতে পরিণত করা, মেসির এক ঝলকে ম্যাচ বদলে দেওয়া; সেই আর্জেন্টিনা কেন স্পেনের বিপক্ষে দেখা গেল না?

বিবিসি স্পোর্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেষ বাঁশির পর স্পেনের খেলোয়াড়েরা যখন বিশ্বকাপ জয়ের উদ্‌যাপনে ছুটছিলেন, তখন আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় মাঠে বসে পড়েন বা স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। এরপর নাহুয়েল মোলিনা, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, থিয়াগো আলমাদা ও সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার নাম জড়িয়ে পড়ে উত্তেজনার ঘটনায়।

রয়টার্স জানিয়েছে, পারেদেস স্পেনের এরিক গার্সিয়া ও গাভির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন, পরে ঘটনাটি দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে বড় হাতাহাতিতে রূপ নেয়। স্কালোনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও প্রতিবেদনে এসেছে।

বিবিসির ম্যাচ-পরবর্তী বিশ্লেষণে অ্যালান শিয়ারার বলেন, হার কতটা কষ্টের তা বোঝা যায়, কিন্তু হারারও একটি পদ্ধতি আছে। জো হার্টও আর্জেন্টিনার আচরণকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। এই প্রতিক্রিয়াগুলো দেখিয়েছে, ফাইনালের হার শুধু ফলের কারণে নয়, আচরণের কারণেও আর্জেন্টিনাকে বড় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

এই আক্রমনাত্মক আচরণকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখলে পুরো ছবি বোঝা যাবে না। ফাইনালের আগেই আর্জেন্টিনা ছিল বিতর্ক ও চাপের মধ্যে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল জয়ের পর কয়েকজন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় ‘Las Malvinas son Argentinas’, অর্থাৎ ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার’ লেখা ব্যানার ধরে উদ্‌যাপন করেন। সেই রাজনৈতিক বার্তা নিয়েও ফিফা বিতর্কিত আর্জেন্টিনার আচরণ পর্যালোচনা করছিল বলে গার্ডিয়ান জানিয়েছে।

এটি সরাসরি মাঠের পারফরম্যান্স খারাপ হওয়ার একক কারণ; এমন দাবি করার মতো প্রমাণ নেই। তবে বড় ফাইনালের আগে এমন বিতর্ক দলের চারপাশে বাড়তি আবেগ, চাপ ও মনোযোগ তৈরি করে। তার ওপর ছিল শিরোপা ধরে রাখার চাপ, মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ, আর ২০২২ সালের চ্যাম্পিয়ন দলের মর্যাদা ধরে রাখার প্রত্যাশা।

এই সব চাপ নিয়ে যখন একটি দল এমন প্রতিপক্ষের সামনে পড়ে, যে প্রতিপক্ষ বল দখল, পাসিং ও ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে প্রায় নিখুঁত, তখন আবেগ অনেক সময় শক্তি না হয়ে বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।

এটা স্পষ্ট প্রতীয়মান যে, বিতর্কিত আর্জেন্টিনা ফাইনালে গোল খেয়ে হেরেছে; কিন্তু তার আগেই তারা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল খুবই বাজেভাবে। ফিফার ম্যাচ রিপোর্টে বলা হয়েছে, স্পেন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছে। লামিনে ইয়ামালের শুরুর প্রচেষ্টা থেকে শুরু করে পাউ কুবারসি, পেদ্রি, নিকো উইলিয়ামসদের আক্রমণ; বারবার আর্জেন্টিনাকে বাঁচিয়েছেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।

ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনা ছিল টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বেশি গোল করা দল; ১৯ গোল। অথচ স্পেনের নিয়ন্ত্রণ এতটাই দৃঢ় ছিল যে আর্জেন্টিনা অতিরিক্ত সময়ের আগে একটি শটও নিতে পারেনি। ফিফার রিপোর্টে এটিকে স্পেনের নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে বড় প্রমাণ হিসেবে দেখা হয়েছে।

স্কাই স্পোর্টসের পরিসংখ্যান আরও কঠিন ছবি দেয়। পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনার কোনো শট লক্ষ্যে ছিল না। মেসি তিন ঘণ্টার ম্যাচে বল ছুঁয়েছেন মাত্র ৫৪ বার। আর্জেন্টিনার বল দখল ছিল মাত্র ৩৪ দশমিক ৯ শতাংশ।

বাংলাদেশের আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা অপেক্ষায় ছিলেন; মেসি কখন বল পাবেন, কখন ঘুরে দাঁড়াবেন, কখন এক পাসে বা এক শটে ম্যাচ বদলে দেবেন। কিন্তু স্পেন সেই মুহূর্ত তৈরি হতে দেয়নি।

স্কাই স্পোর্টসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মেসি এই বিশ্বকাপে বারবার আর্জেন্টিনাকে টেনেছেন। কিন্তু ফাইনালে তিনি অদৃশ্য হয়ে পড়েন; পুরোটা তাঁর দোষ নয়; আর্জেন্টিনা তাঁর জন্য কার্যকর কিছু তৈরি করতেই পারেনি।

এখানেই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। মেসি খারাপ খেলেছেন; এই বাক্যটি পুরো সত্য নয়। বরং আর্জেন্টিনা মেসিকে খেলানোর মতো কাঠামোই তৈরি করতে পারেনি। মাঝমাঠ থেকে নিয়মিত বল আসেনি, সামনে দৌড় ছিল না, স্পেনের চাপের মধ্যে তিনি বারবার বিচ্ছিন্ন ছিলেন।

মেসির এই বিচ্ছিন্নতা আর্জেন্টিনার পুরো আক্রমণকেই নিষ্ক্রিয় করে দেয়। যে দল মেসির এক মুহূর্তের ওপর অনেকটা নির্ভরশীল, সে দল যখন তাঁকে ম্যাচে আনতে পারে না, তখন আক্রমণ স্বাভাবিকভাবেই ভেঙে পড়ে।

আর্জেন্টিনার ফাউল কেন বাড়লো:
বিতর্কিত আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা ফাইনালে বারবার ফাউলে জড়িয়েছেন। এর একটি কারণ ছিল হতাশা, আরেকটি ছিল স্পেনের গতি ও পাসিংয়ের সঙ্গে তাল রাখতে না পারা।

স্পেন যখন দ্রুত বল পাছ করছিল, আর্জেন্টিনার অনেক চ্যালেঞ্জ দেরিতে এসেছে। বলের আগে শরীর, পায়ের আগে প্রতিপক্ষ; এমন অবস্থায় ফাউল বেড়েছে। বড় ম্যাচে এটা শুধু আক্রমণ থামানোর কৌশল নয়; অনেক সময় নিয়ন্ত্রণ হারানোর লক্ষণও।

সবচেয়ে বেপরোয়া এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ড ছিল সেই নিয়ন্ত্রণ হারানোর সবচেয়ে বড় মুহূর্ত। নির্ধারিত সময়ের যোগ করা সময়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন তিনি। রয়টার্স ও ফিফা; দুই সূত্রই জানিয়েছে, এনজোর লাল কার্ডের পর আর্জেন্টিনার কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

১০ জনে নেমে যাওয়ার পর বিতর্কিত আর্জেন্টিনা আর ম্যাচ জিততে পারেনি; বরং পেনাল্টি পর্যন্ত টিকে থাকার চেষ্টায় নেমে যায়। কিন্তু স্পেনের ধৈর্য শেষ পর্যন্ত ইতিবাচক ফল দেয়।

এই ফাইনালে অসংখ্য বিতর্কের মাঝেও আর্জেন্টিনার সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। ফিফার রিপোর্টে বলা হয়েছে, স্পেনের চাপের মধ্যে তিনি বারবার দলকে বাঁচিয়েছেন। ইয়ামালের ফ্রি-কিকসহ বেশ কয়েকটি প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে রেখেছিলেন তিনি।

কিন্তু গোলরক্ষক যতই ভালো খেলুন, আক্রমণ যদি শট নিতে না পারে, ফাইনাল জেতা যায় না। আর্জেন্টিনার সমস্যা ছিল সামনে। তারা বল রাখতে পারেনি, মেসিকে খুঁজে পায়নি, স্পেনের বক্সে ভয় তৈরি করতে পারেনি।

বাংলাদেশি সমর্থকদের কাছে মার্তিনেজ পরিচিত নায়ক। এই ম্যাচেও তিনি একা লড়েছেন। কিন্তু একা গোলরক্ষক বিশ্বকাপ ফাইনাল বাঁচাতে পারেন, জিতিয়ে দিতে পারেন না; যদি সামনে দল জেগে না ওঠে।

ফাইনালের আরেকটি বড় পার্থক্য ছিল বদলি খেলোয়াড়দের প্রভাব। স্পেনের নিকো উইলিয়ামস ও ফেরান তোরেস বেঞ্চ থেকে নেমে ম্যাচে নতুন গতি আনেন। দ্য গার্ডিয়ান লিখেছে, স্পেনের সাফল্যের বড় কারণ ছিল তাদের অভিযোজনক্ষমতা ও দলগত কাঠামো; বদলি খেলোয়াড়রাও সেই কাঠামোর ভেতরেই ম্যাচ বদলে দেন।

১০৬ মিনিটে পেদ্রো পোরোর ক্রস নিকো উইলিয়ামস হেডে নামিয়ে দেন, আর ফেরান তোরেস প্রথম স্পর্শেই জোরালো শটে গোল করেন। ফিফা রিপোর্টেও বলা হয়েছে, মার্তিনেজের তখন আর কিছু করার ছিল না।

আর্জেন্টিনা যেখানে মেসির মুহূর্তের অপেক্ষায় ছিল, স্পেন সেখানে দলগত সমাধান খুঁজেছে। এটাই ফাইনালের সবচেয়ে বড় পার্থক্য।

বাংলাদেশের সমর্থকেরা যে আর্জেন্টিনাকে চেনেন, সেটি শুধু কৌশল নয়; এক ধরনের মানসিকতা। চাপের ম্যাচে দাঁড়িয়ে যাওয়া, শেষ দিকে তীব্রতা বাড়ানো, মেসির সঙ্গে বাকিদের সংযোগ, মার্তিনেজের সেভ, আর আবেগকে ফলাফলে বদলে দেওয়া।

ফাইনালে সেই ধারাবাহিকতা ছিল না। কারণ স্পেন ম্যাচটিকে আর্জেন্টিনার পছন্দের জায়গায় যেতে দেয়নি। ম্যাচ ভাঙেনি, খোলা হয়নি, বিশৃঙ্খল হয়নি। বরং স্পেন বল দখলে রেখে, আর্জেন্টিনাকে দৌড় করিয়ে, মেসিকে বিচ্ছিন্ন করে, ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেছে।

আর্জেন্টিনা যখন দেখল মেসি বল পাচ্ছেন না, শট আসছে না, সময় যাচ্ছে; তখন তাদের খেলায় অধৈর্যতা বাড়ে। সেই অধৈর্যতা প্রথমে ফাউলে, পরে লাল কার্ডে, শেষ বাঁশির পর হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

ফাইনালের আগে কী এমন হলো; এই প্রশ্নের সহজ উত্তর নেই। নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে এমন একক ঘটনার কথা পাওয়া যায় না, যা সরাসরি আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্স নষ্ট করেছে। বরং কারণ ছিল একাধিক।

প্রথমত, সেমিফাইনালের পর ফকল্যান্ড ব্যানার বিতর্ক দলকে বাড়তি নজরদারির মধ্যে ফেলেছিল। দ্বিতীয়ত, শিরোপা ধরে রাখার চাপ এবং মেসির শেষ বিশ্বকাপ-আবেগ দলের ওপর মানসিক ভার বাড়িয়েছিল। তৃতীয়ত, স্পেনের বল দখল ও প্রেসিং আর্জেন্টিনার স্বাভাবিক খেলাকে বন্ধ করে দেয়। চতুর্থত, মেসিকে বল না দিতে পারা আর্জেন্টিনার আক্রমণকে ভেঙে দেয়। পঞ্চমত, এনজোর লাল কার্ড ম্যাচের শেষ পরিকল্পনাও নষ্ট করে দেয়।

এর সঙ্গে যোগ হয় ম্যাচ-পরবর্তী আচরণ, যা দেখিয়েছে; আর্জেন্টিনা শুধু ম্যাচ নয়, নিজের আবেগও নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি।

আর্জেন্টিনা ফাইনাল হারল কারণ তারা গোল করতে পারেনি; এটা খুব সরল ব্যাখ্যা। আসল ব্যর্থতা আরও গভীরে। তারা মেসিকে খুঁজে পায়নি, স্পেনের নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে পারেনি, শট নিতে পারেনি, শেষ দিকে শৃঙ্খলা ধরে রাখতে পারেনি।

স্পেন দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে, আর বিতর্কিত আর্জেন্টিনা ফিরে গেছে তদন্ত, বিতর্ক ও হতাশা নিয়ে। মেসি পরে বলেছেন, এই হারের যন্ত্রণা অসীম এবং ক্ষত সারতে সময় লাগবে। একই সঙ্গে তিনি সতীর্থদের টানা দ্বিতীয় ফাইনালে ওঠার জন্য প্রশংসাও করেছেন।

বাংলাদেশের আর্জেন্টিনা সমর্থকেরাও হয়তো একইভাবে এই হারকে দেখবেন; শুধু এক গোলের হার নয়, এক অচেনা রাতের ব্যথা হিসেবে। যে রাতে মেসি ছিলেন, মার্তিনেজ ছিলেন, আকাশি-সাদা জার্সিও ছিল; কিন্তু ছিল না সেই চিরচেনা আর্জেন্টিনা। সেইসাথে বিতর্কিত আর্জেন্টিনার বেপরোয়া আচরণ ও বিতর্কিত মুহুর্তগুলোও ভুলবেনা দর্শকরা।

ইউপি চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক করতে হাইকোর্টের রুল রাজারহাটে দীর্ঘ ১৭ বছর পর জটিলতার অবসান: কর্মস্থলে যোগ দিলেন আরিফুল ইসলাম বিশ্বকাপ ফাইনালে হাতাহাতি: ফিফার তদন্তের মুখে বিতর্কিত আর্জেন্টিনা সিরাজগঞ্জে অনুমোদন ছাড়া দই উৎপাদন, খান মিষ্টান্ন ভাণ্ডারকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা বাজারহাটে চার্জশিট বাণিজ্যের ফাঁদে সংবাদকর্মী, তদন্ত না করেই আসামিপক্ষে পুলিশি প্রতিবেদন