খুঁজুন
শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

পুলিশ হবে জনগণের, পুলিশ হবে রাষ্ট্রের

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৪, ১০:৫৬ অপরাহ্ণ
পুলিশ হবে জনগণের, পুলিশ হবে রাষ্ট্রের

পুলিশ হবে জনগণের পুলিশ হবে রাষ্ট্রের ঢাকার ধামরাইয়ে পূজা মন্ডপ পরিদর্শন কালে এমন বক্তব্য রাখেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার আহম্মেদ মইদ। পূজা মন্ডপে নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টিকে বেশি প্রাধান্য দেন তিনি। সোমবার (৭ অক্টোবর) দুপুরের দিকে মাধববাড়ি মন্দির পরিদর্শন কালে এমন কথা বলেন তিনি।

পুলিশ সুপার আহম্মেদ মইদ সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, পূজা মন্ডপে সকল বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার জন্য কাজ করবেন। স্থানীয় প্রশাসন রয়েছে মাঠে। থানা পুলিশ, সেনাবাহিনীর সদস্যরাও নিরাপত্তায় কাজ করবেন। কোন দুষ্কৃতকারী যদি ঝামেলা সৃষ্টি করতে চায় তাদের কোন প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। আমি আবারও আসবো আপনাদের মাঝে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নকালে পুলিশ সুপার বলেন, ৫ আগষ্টের পর সারা দেশেই দুষ্কৃতকারীরা পুলিশি সেবাদানের গাড়িগুলো পুরিয়ে দিয়েছে। এতে শুরুতে একটু সমস্যা হয়েছিল। সেটা এখন আর নেই। বেশির ভাগ সমস্যাই সমাধান হয়ে গেছে। বাকি সমস্যাও তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাবে। এবারের পূজায় মাঠে র‌্যাব, সেনাবাহিনী, যৌথ বাহিনী থাকবে। যা আগে ছিল না। এছাড়া আনসার, পুলিশ, জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবী রয়েছে। কেউ যদি পূজার আনন্দকে নসাৎ করতে চায় তারা কিন্তু পার পাবে না।

পৌরসভার দক্ষিণ পাড়া কালীমন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের বিষয়ে আহম্মেদ মইদ বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে বানরের ছবি পাওয়া গেছে। প্রতিমা ভাঙচুরের সাথে মানুষের কোন সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় নি। আমরা আশে পাশে লোকজনের সাথেও এ বিষয়ে কথা বলেছি। ওই এলাকায় প্রচুর বানরের উপদ্রপ রয়েছে। তারপরও তদন্ত চলছে। যদি কোন সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় সেক্ষেত্রে কোন ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশ সুপার আরো বলেন, পুলিশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এটা কি জনগণের পুলিশ না রাষ্ট্রের। কারণ পুলিশ ছাড়া জনগণ চলতে পারবে না, জনগণ ছাড়া পুলিশও চলতে পারবে না। আমাদের পরিবার আছে। আপনাদেরও পরিবার আছে। আপনাদের জন্য কাজ করাই হলো আমাদের জন্য কাজ করা। পুলিশ হবে জনগণের, পুলিশ হবে রাষ্ট্রের। পুলিশের পরিবহনের যে সমস্যা সেই গ্যাপটা পূরণ করা হচ্ছে। লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি অস্ত্র যা এখনো ফেরত আসে নাই তাও উদ্ধারের চেষ্টা চলমান। আসামী গ্রেফতার হলেই অভিযান চলমান তা নয়। আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে।

অজ্ঞাত ৪/৫ হাজার জনের নামে মামলা হয়েছে এ বিষয়ে পুলিশ সুপার বলেন, মামলায় অনেক নিরপরাধ সাধারণ মানুষের নাম চলে আসছে। সেগুলো সঠিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। একজন বাদি যদি মামলা করতে আসে আমরা তাদের ফেরত পাঠাতে পারি না। সেগুলো তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পূজা মন্ডপ পরিদর্শনকালে আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহীনুর কবির, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ( ভারপ্রাপ্ত) প্রশান্ত কুমার বৈদ্য, ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম, ওসি (তদন্ত) ফজলুল হক, ঢাকা জেলা পূজা উৎযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নন্দ গোপাল সেন, ধামরাই উপজেলা পূজা উৎযাপন কমিটির সভাপতি অজিত কুমার মজুমদারসহ বিভিন্ন মন্ডপের পূজা উৎযাপন কমিটির সদস্য।

প্রধানমন্ত্রীর “৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ” কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় সিরাজগঞ্জে বৃক্ষরোপণ উদ্বোধন

মোঃ রেজাউল করিম, সিনিয়র রিপোর্টার:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৭:১৫ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর “৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ” কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় সিরাজগঞ্জে বৃক্ষরোপণ উদ্বোধন

বর্তমান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশব্যাপী ৫’বছরে ২৫’কোটি বৃক্ষরোপণ” কর্মসূচি’র উদ্বোধনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে-সারাদেশের ন্যায় সিরাজগঞ্জে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি পালনের শুভ উদ্বোধন করা হয়।

এ সময় আলোচনাসভা শেষে জনপ্রতি শিক্ষার্থীদের মাঝে তিনটি করে ফলজ বৃক্ষ বিতরণ করা সহ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ও প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবিলায়  কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষ রোপণ করা হয়।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং এডমিকি ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায়- শনিবার (১৩জুন)  দুপুরে সিরাজগঞ্জ কালেক্টরেট স্কুল প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের মাঝে ২,০০০-এর অধিক বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়।

এ বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিরাজগঞ্জ  জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আমিনুল ইসলাম। এসময়ে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গণপতি রায়, কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও সিরাজগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ) শাহাদাত হুসেইন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মামুন খান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক জেরিন আহমেদ, সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইদুর রহমান বাচ্চু, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান দুলাল, সিরাজগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলাম, সামাজিক বনবিভাগ সিরাজগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রিজিয়া পারভীন মিষ্টি প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার উম্মে নাজনীন নিশাত। এ সময়ে  জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, এডমিকি ফাউন্ডেশনের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ, সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।।

ডিবি পরিচয়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈমকে মারধর, গুম করার চেষ্টা

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১২:৫৯ অপরাহ্ণ
ডিবি পরিচয়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈমকে মারধর, গুম করার চেষ্টা

জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগে পুলিশের এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিন সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। একইসঙ্গে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের খুলশী থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

জানা যায়, শুক্রবার (১২ জুন) রাতে চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার এলাকায় নাঈম হাসানকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এছাড়াও তাকে খুলশী থানায় নিয়ে গিয়েও হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন নাঈম।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ছুটিতে ঢাকায় রয়েছেন খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম। তিনি এসআই শফিকুল ইসলামকে তথ্য দেন একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে সোনার চোরাচালান আসবে। এই তথ্যের ভিত্তিতে শফিকুল লালখান বাজার এলাকায় অভিযানে যান। মনিরুল একটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে চোরাচালানের এই তথ্য পেয়েছেন দাবি করেছেন।

তবে নাঈম হাসান অভিযোগ করেন, ঢাকায় প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষ করে শুক্রবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটের ফ্লাইটে চট্টগ্রাম আসার কথা ছিল তাঁর। তবে বিলম্ব হওয়ায় রাত ১০টা ২০ মিনিটে তিনি চট্টগ্রাম পৌঁছান। এরপর চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অটোরিকশা করে বাসার উদ্দেশে রওনা দেন। অটোরিকশাটি এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার পর লালখান বাজার এলাকায় পুলিশের এক সদস্য থামার সংকেত দেন।

অটোরিকশাটি থামাতেই কয়েকজন ডিবি পুলিশ পরিচয়ে চালকের কাছ থেকে কাগজপত্র নিয়ে নেন জানিয়ে জাতীয় ক্রিকেট দলের এই স্পিনার বলেন, তারা আমাকে নামিয়ে গলায় ধাক্কা দিয়ে পুলিশের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। তখন আমি নিজেকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দেই, পরিচয়পত্রও দেখাই। তবু আমাকে ঘটনাস্থলে থাকা খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম হাতে থাকা লাঠি দিয়ে কোমরে আঘাত করতে থাকেন। পুলিশের ওই এসআইয়ের সঙ্গে সাদা পোশাকে থাকা (পুলিশের সোর্স সোহেল) এক ব্যক্তিও হাতে থাকা পাইপ দিয়ে পেটান।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নাঈম বলেন, মারধরের সময় ঘটনাস্থলে লোকজন জড়ো হয়ে যায়। প্রায় ১০০ থেকে ২০০ মানুষ জড়ো হয়ে আমার ক্রিকেটার পরিচয় দিলেও তারা মারধর থামায়নি। তারা বলছিল-তুই আসামি, চুপ থাক, একটা কথাও বলবি না। মারধরের একপর্যায়ে আরেকটি অটোরিকশায় তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। পুলিশের গাড়ি থাকলেও সেখানে আমাকে তোলা হয়নি। মারধরের একপর্যায়ে আমাকে থানায় নিয়ে যান এসআই শফিকুল। এরপর ওসির কক্ষে নেওয়া হয় আমাকে।

ওসির কক্ষেও আমাকে হেনস্তা করা হয়েছে বলে জানিয়ে নাঈম বলেন, ওসিকে আমি যখন ঘটনার বিস্তারিত জানাচ্ছিলাম তখন ওসি বারবার বলেন চোখ নিচু করে কথা বলতে। এর মধ্যেই একটি ফোন পেয়ে ওসি শান্ত হন।

তিনি বলেন, ‘অটোরিকশা থেকে নামানোর পর আমার ফোন নিয়ে নেওয়া হয়। থানায় আসার পর ফোনটি পেয়ে আমি বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবালকে ফোন করি। তিনি বিসিবির সদস্য ইসরাফিল খসরুকে বিষয়টি জানান। এরপর তারা পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন।’

আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই জানিয়ে নাঈম বলেন, ‘আজকে আমার সঙ্গে হয়েছে। আমার জন্য অনেক লোক এসেছে থানায়। কিন্তু অন্য সাধারণ লোকের জন্য কেউ থানায় আসবে না। আর কাউকে যাতে এভাবে হয়রানির শিকার হতে না হয়।’

খুলশী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুল ইসলাম বলেন,‘অভিযানের বিষয়ে এসআই শফিকুল ইসলাম আমাকে কিছু জানাননি। থানায় নিয়ে আসার পর ক্রিকেটার নাঈমের পরিচয় জানি। দুঃখ প্রকাশ করে সসম্মানে থানা থেকে তাকে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। তবে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা থানা থেকে যাবেন না জানান। পরে এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।’

এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল ও অভিযানে থাকা আরেক কনস্টেবলকে তাৎক্ষণিক ক্লোজ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ওসি।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) আমিরুল ইসলাম বলেন, চোরাচালানের তথ্য ছিল অটোরিকশাটির বিরুদ্ধে। তবে এই তথ্য কতটুকু সঠিক যাচাই করা হচ্ছে। আর অভিযান চালানোর আগে নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানো হয়েছে কি না তা–ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযান কিংবা তল্লাশিতে পুলিশের কিছু নিয়মকানুন রয়েছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি।

অভিযান চালানোর নিয়ম রয়েছে জানিয়ে আমিরুল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, আপাতদৃষ্টিতে এখানে ভুলত্রুটি রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনা হবে।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর। একইসঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

ঝুম বৃষ্টি উপেক্ষা করে কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১২:০৯ অপরাহ্ণ
ঝুম বৃষ্টি উপেক্ষা করে কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী

সকাল থেকেই আকাশ ছিল মেঘে ঢাকা। থেমে থেমে নয়, কখনো মাঝারি আবার কখনো ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে পুরো কক্সবাজারে। এমন বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেই একদিনের সফরে কক্সবাজারে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তার আগমনকে ঘিরে পুরো জেলায় নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং সফরসূচির প্রতিটি স্থান কার্যত নিরাপত্তা বলয়ে পরিণত হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) সকাল ৯টা ৪৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সকাল ১০টার দিকে তিনি বিমানবন্দরের ভিআইপি গেট দিয়ে বের হন। এ সময় ঝুম বৃষ্টির মধ্যেও বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহম্মদ, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী। বৃষ্টি উপেক্ষা করে অনেককে হাতে ছাতা, আবার অনেককে ভিজেই প্রধানমন্ত্রীর আগমনের অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায়।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই কক্সবাজার শহরের চিত্র ছিল ভিন্ন। বিমানবন্দর সড়ক, হলিডে মোড়, কলাতলী, সুগন্ধা পয়েন্ট, বাস টার্মিনাল, লিংক রোডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়। বিভিন্ন স্থানে বসানো হয় চেকপোস্ট। নিরাপত্তাবাহিনী, সরকারি অতিথি এবং দলীয় নেতাকর্মীদের বহনকারী যানবাহন ছাড়া সাধারণ যান চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।

এর ফলে দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে কক্সবাজার বিমানবন্দরে আসা-যাওয়া করা যাত্রীদের অনেকেই যানবাহন সংকটে পড়েন। বৃষ্টির কারণে এমনিতেই চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল, তার ওপর নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধে অনেককে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা যায়। শহরের বিভিন্ন এলাকায় যানজট ও ধীরগতির যান চলাচলের ঘটনাও লক্ষ্য করা গেছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দর থেকে সরাসরি সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন এবং সেখানে আয়োজিত পথসভায় অংশ নেবেন। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত এ প্রকল্পের উদ্বোধনের মাধ্যমে স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এরপর তিনি ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করবেন এবং মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পরে প্রধানমন্ত্রী পেকুয়া উপজেলায় গিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। শহীদ পরিবারের প্রতি রাষ্ট্রের শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দিতে এ কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এছাড়া সফরে নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভা এবং নতুন মাতামুহুরি উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ দুটি প্রশাসনিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিকেলে চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল মাঠে আয়োজিত এক রাজনৈতিক জনসভায় ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এ জনসভাকে ঘিরে চকরিয়াসহ আশপাশের উপজেলা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকের সমাগমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জনসভাস্থলে ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করবেন। পরে রাতে কক্সবাজার শহরের লং বিচ হোটেলের অডিটোরিয়ামে সুধী সমাবেশে অংশগ্রহণ করবেন।

সেখানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের কথা রয়েছে।

সবশেষ রাতেই কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রায় ১২ ঘণ্টাব্যাপী ব্যস্ত কর্মসূচি শেষে রাত ১১টার দিকে তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ঘিরে কক্সবাজারে রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। টানা বৃষ্টি সত্ত্বেও সফরসূচির প্রতিটি কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীরা তৎপর রয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর “৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ” কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় সিরাজগঞ্জে বৃক্ষরোপণ উদ্বোধন ডিবি পরিচয়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈমকে মারধর, গুম করার চেষ্টা ঝুম বৃষ্টি উপেক্ষা করে কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী বেলকুচিতে উদ্ভাবন নির্ভর বাংলাদেশ গঠনে বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নতুন উদ্ভাবনে মুখরিত রাজারহাটের খুদে বিজ্ঞানীদের স্টার্টআপ ও বিজ্ঞান প্রকল্প প্রদর্শন অনুষ্ঠিত