আফগানিস্তান যুদ্ধ নিয়ে সিনেমা বানাচ্ছেন হ্যারি-মেগান
ব্রিটিশ রাজপরিবারের ডিউক এবং ডাচসেস অব সাসেক্স এবার হাতে নিয়েছেন আফগানিস্তান যুদ্ধের সত্য ঘটনা অবলম্বনে সিনেমা বানানোর এক বড় প্রজেক্ট। হ্যারি ও মেগানের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘আর্চওয়েল’ বর্তমানে কাজ করছে মেজর অ্যাডাম জোয়েটের সাড়াজাগানো বই ‘নো ওয়ে আউট’ নিয়ে, যা খুব শীঘ্রই দেখা যাবে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে।
গল্পের মূল নায়ক মেজর জোয়েট ২০০৬ সালে এক অসম সাহসী লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন হেলমান্দ প্রদেশের তালেবান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত মুসা কালা শহরে। সেখানে তার অধীনে থাকা একদল ব্রিটিশ সৈন্য টানা কয়েক দিন ধরে রক্ষা করেছিলেন একটি কম্পাউন্ডকে, যেখানে একের পর এক ধেয়ে আসছিল শত্রুপক্ষের ভয়ানক সব হামলা।
আফগান যুদ্ধের এই বিষয়টি প্রিন্স হ্যারির কাছে আসলে নিজের জীবনের মতোই এক ব্যক্তিগত আবেগ। তিনি নিজে ২০১৫ সাল পর্যন্ত টানা ১০ বছর যুক্ত ছিলেন ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে এবং দুই দফায় যুদ্ধের ময়দানে থেকে সরাসরি পালন করেছেন কঠিন সব দায়িত্ব।
সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিলেও হ্যারি সবসময় পাশে দাঁড়িয়েছেন যুদ্ধাহত আর অসুস্থ সামরিক কর্মীদের। তিনি তাদের মনোবল বাড়াতে নিয়মিত আয়োজন করছেন ‘ইনভিক্টাস গেমস’-এর মতো বড় সব আসর।
হৃদয়ের গভীর থেকে আসা সেই আবেগী কণ্ঠে হ্যারি বলেছিলেন, ‘আমি নিজে ওই যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিয়েছি। সেখানে আমি যেমন আজীবনের জন্য ভালো কিছু বন্ধু পেয়েছি, তেমনি আপন অনেক বন্ধুকে যুদ্ধের ময়দানে হারিয়েছিও।’
হ্যারির নিজের জীবনের এই যুদ্ধের অভিজ্ঞতাই এখন ফুটে উঠবে ‘নো ওয়ে আউট’ সিনেমার প্রতিটি দৃশ্যে। সিনেমাটির চিত্রনাট্য লেখার গুরুদায়িত্ব পালন করছেন বিখ্যাত লেখক ম্যাট চারম্যান, যিনি এর আগে অস্কারের মঞ্চে মনোনয়ন পেয়েছিলেন স্পিলবার্গের ‘ব্রিজ অব স্পাইজ’ সিনেমার জন্য।
নেটফ্লিক্সের সাথে হ্যারি-মেগান দম্পতির এই নতুন কাজ নিয়ে ভক্তদের মধ্যে শুরু হয়েছে চরম উত্তেজনা। তারা এর আগে পোলো খেলা আর রোমান্টিক গল্প নিয়ে কাজ করলেও, এবারের যুদ্ধের সিনেমাটি হবে একদমই ভিন্ন স্বাদের।
তবে নেটফ্লিক্সের সাথে এই দম্পতির ব্যবসায়িক সম্পর্ক গত বছর থেকে কিছুটা বদলে গিয়েছে। পুরনো চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ার পর এখন তারা নতুন এক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছেন, যার ফলে তাদের যেকোনো নতুন কাজের আইডিয়া আগে নেটফ্লিক্সের কাছেই জমা দিতে হবে।





আপনার মতামত লিখুন