খুঁজুন

দেড় মাস ধরে বের হচ্ছে গ্যাস

নদীর তলদেশে পাইপ কেটে গ্যাস চুরির চেষ্টা, স্থানীয়দের ক্ষোভ

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৬ অপরাহ্ণ
নদীর তলদেশে পাইপ কেটে গ্যাস চুরির চেষ্টা, স্থানীয়দের ক্ষোভ

সারাদেশে চলমান তীব্র গ্যাসের সংকটে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত, ভোগান্তিতে পড়ছেন আবাসিক গ্রাহক। কিন্তু সেই বাস্তবতার উল্টো চিত্র কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে। সেখানে আড়িয়াল খাঁ নদীর তলদেশে তিতাসের উচ্চচাপের মূল সঞ্চালন লাইন থেকে প্রায় দেড় মাস ধরে অবিরাম বের হচ্ছে গ্যাস।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় একটি চুন কারখানার জন্য গ্যাস চুরির উদ্দেশ্যে মূল পাইপলাইনে ছিদ্র করে সংযোগ নেওয়ার চেষ্টার সময়ই এই লিকেজের সৃষ্টি হয়। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। রহস্যজনক এই ঘটনায় রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় নিয়ে উঠেছে জবাবদিহির প্রশ্ন।

ঘটনাটি কটিয়াদী উপজেলার মসুয়া ইউনিয়নের আড়িয়াল খাঁ নদীতীরবর্তী কাজীর চর এলাকায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্যাস লিকেজের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, স্থানীয় ইউপি সদস্য মিলন মিয়ার সহযোগিতায় গত জুনের শুরুতে নদীতীরে ১৭ শতাংশ জমিতে একটি চুন কারখানা স্থাপন করা হয়। কারখানার মালিক সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার দেলোয়ার হোসেন তালুকদার। স্থানীয়দের দাবি, কারখানায় গ্যাস সরবরাহের জন্য রাতের অন্ধকারে নদীর তলদেশে থাকা তিতাসের উচ্চচাপের পাইপলাইনে অবৈধ সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় পাইপলাইনে ছিদ্র হয়ে গ্যাস বের হতে শুরু করে। পরে সেটি কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখার চেষ্টা করা হলেও গ্যাসের বুদবুদ ও তীব্র গন্ধে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। অভিযোগ ওঠার পর কারখানাটি বন্ধ করে মালিক ও শ্রমিকরা এলাকা ছেড়ে চলে যান।

তবে ইউপি সদস্য মিলন মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে গণমাধ্যমে বলেন, আমি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হয়ে এতো বড় কাজ কীভাবে করবো। আমার বিরুদ্ধে আমার প্রতিপক্ষের লোকজন কাজ করছে, তারাই আমার নামটি বলেছে। যেখানে কারখানা হয়েছে ওই কারখানার একটি জমির পরে আমার জমি রয়েছে। এমনকি কারখানা কর্তৃপক্ষ ও জমিদাতাদের যে দলিল হয়েছে, ওই দলিলেও আমার স্বাক্ষর নেই। প্রতিপক্ষের লোকজন আমাকে ফাঁসাতেই আমার নাম বলছে।

মসূয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক গণমাধ্যমে বলেন, এখানে অনেকদিন যাবত গ্যাস বেড় হয়ে যাচ্ছে। গতকালকে উপজেলা উপজেলা প্রশাসনের লোকজন পরিদর্শন করেছে। লিকেজ বন্ধ করতে তিতাস গ্যাস কর্মীরা কাজ করছে। স্থানীয়দের মুখে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মিলনের নাম শুনেছি। তবে এই ঘটনার সঙ্গে যেই জড়িত হোক না কেন তার বিচার দাবি করছি।

পাশ্ববর্তী পাকুন্দিয়া উপজেলার বুরুদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের একজন জানান, প্রায় দেড় মাস ধরে গ্যাস লিক হচ্ছে। শুরুতে অল্প বুদবুদ দেখা গেলেও এখন পরিস্থিতি ভয়াবহ। তার অভিযোগ, নিম্নমানের মেরামত ও ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে কাজ দীর্ঘায়িত হয়েছে। দক্ষ প্রকৌশলী ও মেরিন বিশেষজ্ঞ দিয়ে কাজ করলে অল্প সময়েই লিকেজ বন্ধ করা সম্ভব।

ছাত্রদলের ওই নেতা অভিযোগ করেন, গ্যাস চুরি ও অবৈধ সংযোগের সঙ্গে অসাধু চক্র এবং গ্যাস বিভাগের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশ থাকতে পারে। তিনি নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, প্রায় দেড় মাস আগে ৫০-৬০ জন লোককে ওই এলাকায় খননকাজ করতে দেখেন। তাদের হাতে নকশা ও রড ছিল। পরে সেখানে বুদবুদ উঠতে দেখে স্থানীয়রা গ্যাস লিকেজের সন্দেহ করেন।

তিনি দাবি করেন, কাজে নিয়োজিত কয়েকজনের কাছে শুনেছেন, সেখান থেকে গ্যাস নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। বিষয়টি স্থানীয়রা তিতাস কর্তৃপক্ষকে জানালেও শুরুতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লিকেজের স্থানও বড় হয়ে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে গত ৯ জুলাই থেকে মেরামতকাজ শুরু হয়।

শনিবার (১ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এখনও নদীর তলদেশ থেকে গ্যাস বের হচ্ছে। মেরামতকাজ করছে তিতাস গ্যাসের কর্মীরা। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎসুক জনতা বিল করছে।

কিশোরগঞ্জ তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির জোনাল বিক্রয় অফিসের ব্যবস্থাপক মো. মোশাররফ হোসেন গণমাধ্যমে বলেন, লিকেজের কারণে পাইপলাইনে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। কিশোরগঞ্জের পুরো গ্যাস সরবরাহ এ লাইন দিয়েই হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে বর্তমানে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং পাইপলাইনের চাপও অনেক কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিশোরগঞ্জে তিতাসের প্রায় আট থেকে নয় হাজার গ্রাহক রয়েছেন।

তিতাস গ্যাসের ভালুকা ডিভিশনের ব্যবস্থাপক (অপারেশন) মো. শামীম হোসেন গণমাধ্যমে বলেন, ঘটনাটি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত করা হচ্ছে। কারা কীভাবে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছেন।

তিনি বলেন, লিকেজ মেরামত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। তবে এটি নদীর তলদেশে উচ্চচাপের পাইপলাইনের অত্যন্ত জটিল কারিগরি কাজ। বর্ষাকালে প্রবল স্রোত, পানির চাপ ও মাটি ধসে যাওয়ায় কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তবুও দক্ষ প্রকৌশলী ও কর্মীরা দিনরাত কাজ করছেন।

অবৈধ সংযোগের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগের কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি। এটি মনোহরদী থেকে কিশোরগঞ্জ ডিআরএস পর্যন্ত গ্যাস পরিবহনের একটি উচ্চচাপের সঞ্চালন লাইন। এ লাইন থেকে সরাসরি কোনো গ্রাহককে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয় না।

কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ গণমাধ্যমে বলেন, তিতাস কর্তৃপক্ষ লিকেজ বন্ধের জন্য কাজ করছে। আমরাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তিতাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লিকেজ পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার পরই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে, এখান থেকে কেউ অবৈধ সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছিল কি না। যদি তদন্তে এমন প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তিতাস কর্তৃপক্ষ মামলা করবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

এদিকে স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি সত্যিই অবৈধ সংযোগের চেষ্টা না হয়ে থাকে, তাহলে উচ্চচাপের মূল সঞ্চালন লাইনে এমন বড় ধরনের ছিদ্র কীভাবে তৈরি হলো? প্রায় দেড় মাস ধরে লাখ লাখ ঘনফুট গ্যাস অপচয়ের পরও এখন পর্যন্ত দায়ীদের শনাক্ত কিংবা কোনো মামলা না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান

সাবেক এমপি ইকবালের কার্যালয় সিলগালা, ৩০০’র বেশি দলিল ও চেক জব্দ

বিশেষ প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৬ অপরাহ্ণ
সাবেক এমপি ইকবালের কার্যালয় সিলগালা, ৩০০’র বেশি দলিল ও চেক জব্দ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এইচ বি এম ইকবালের কার্যালয় সিলগালা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গত বুধবার (১২ আগস্ট) বনানীর ইকবাল সেন্টারের ১৬ তলায় ওই কার্যালয় সিলগালা করে দুদক। সংস্থাটির শীর্ষ কর্মকর্তা সোমবার (১৭ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানান, ৪ দিন ধরে অভিযান চালিয়ে কার্যালয়টি থেকে তার সম্পদ-সংক্রান্ত তিনশ’র বেশি দলিল জব্দ করা হয়েছে। সেখানে পাওয়া গেছে কয়েকশ চেকবই, সাতটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং স্থায়ী আমানত-এফডিআর সংক্রান্ত নথি। নগদ প্রায় দেড় লাখ টাকাও জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথিও পাওয়া গেছে।

প্রিমিয়ার গ্রুপের অভিযোগ অনুসন্ধানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুদকের উপপরিচালক হোসাইন শরীফ। তিনি বলেন, বনানীতে পুরো ইকবাল সেন্টার সিলগালা করা হয়নি। ইকবালের চেম্বার ও একটি পরিচালক কক্ষ সিলগালা করা হয়েছে।

ইকবাল সেন্টারের মালিক এইচ বি এম ইকবাল। ১৯৯৯ সালে লাইসেন্স পাওয়ার পর ২৬ বছর এই ভবনেই প্রিমিয়ার ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ছিল। গত ৩ আগস্ট থেকে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের কার্যক্রম তেজগাঁওয়ের শান্তা পিনাকলে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ইকবালের কার্যালয়ে অভিযান ও সিলগালার মধ্যেই আজ সোমবার প্রিমিয়ার গ্রুপের তিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে দুদক।

দুদক সূত্র জানায়, একাধিক দফায় চারদিন অভিযান চালানোর পর গত বুধবার কার্যালয়টি সিলগালা করা হয়। একজন বিচারিক হাকিমের উপস্থিতিতে তল্লাশি ও জব্দতালিকা করা হয়। ওই কার্যালয় থেকে জব্দ করা জিনিসের পাঁচটি আলাদা তালিকা করা হয়েছে। এর মধ্যে সম্পদের দলিলের তালিকাই হয়েছে প্রায় ৩৭ পৃষ্ঠা। ইকবালের সম্পদের তিনশ’র বেশি দলিল পাওয়া গেছে। সেখানে পাঁচশ থেকে ছয়শ’র বেশি চেকবই পাওয়া গেছে। এছাড়া আরও নথি পাওয়া গেছে।

জানা যায়, ওই কার্যালয়ে জব্দ করা সাতটি ডিভাইসের মধ্যে একটি ম্যাকবুক, কয়েকটি মোবাইল ফোন, একটি নেক্সাস ট্যাব ও একটি আইপ্যাড। এর কয়েকটি ইকবালের ছেলেরা ব্যবহার করতেন। তল্লাশির সময় কক্ষের ভেতরে থাকা নথি যেন সরানো না যায়, সেজন্য সেগুলো তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। পরে কারিগরি কর্মী নিয়ে গিয়ে দরজাগুলো সিলগালা করা হয়।

দুদক সূত্র জানায়, বনানীর ইকবাল সেন্টারের পূর্ব পাশে একটি আলাদা লিফট রয়েছে। সেটি দিয়ে ১৬, ১৭ ও ২২ তলায় যাওয়া যায়। লিফটটি দিয়ে সরাসরি ইকবালের চেম্বারে প্রবেশ করা যেত। ১৬ তলায় ইকবালের দুই ছেলে ও এক জামাই বসতেন। সেখানে একটি পরিচালক কক্ষও ছিল। ওই কক্ষটিও সিলগালা করা হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, প্রিমিয়ার গ্রুপের অনিয়মের অভিযোগে এখন পর্যন্ত ১৬টি মামলা হয়েছে। আরও পাঁচটি মামলার সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা রয়েছে। দুদকের চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের পদ শূন্য থাকায় সেগুলোর অনুমোদন হয়নি। নতুন কমিশন গঠনের পর অনুমোদন পেলে মামলাগুলো করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনার পরিবার ও ১০টি শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘুস, দুর্নীতি, প্রতারণা, জালিয়াতি, অর্থপাচার এবং কর ও শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু হয়। পরে যোগ হওয়া ওই শিল্পগ্রুপের অন্যতম একটি প্রিমিয়ার গ্রুপ।

‘ভূতের ভয়ে’ হোস্টেল ছাড়ল ৬০০ শিক্ষার্থী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৬ অপরাহ্ণ
‘ভূতের ভয়ে’ হোস্টেল ছাড়ল ৬০০ শিক্ষার্থী

ভারতের মহারাষ্ট্রের অমরাবতী জেলার একটি সরকারি উপজাতীয় আবাসিক হোস্টেলে কয়েকজন ছাত্রীর ওপর ভূত ভর করার গুজবে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী হোস্টেল ছেড়ে চলে গেছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

মুম্বাই থেকে ৭০০ কিলোমিটার দূরে মেলঘাট অঞ্চলের চিকলদারা তালুকের ডোমা গ্রামে আদিবাসী উন্নয়ন বিভাগ পরিচালিত এই আবাসিক বিদ্যালয়ে ৮১০ জন ছাত্র-ছাত্রী বাস করত। গত ২২ জুলাই থেকে চারজন ছাত্রী অনিয়ন্ত্রিতভাবে হাসাকাঁদা শুরু করাসহ অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে। একপর্যায়ে কয়েকজন ছাত্রী নূপুরের শব্দ শোনার দাবি করলে হোস্টেলটিতে ভূতের উপদ্রব রয়েছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে।

উপজাতীয় বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছে। তাদের মতে, এটি কোনো অলৌকিক ঘটনা নয় বরং মানসিক চাপজনিত ‘সিলেক্টিভ হিস্টেরিয়া’ হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শিক্ষার্থীরা বিশ্বাস করত বিদ্যালয়ের মহুয়া গাছ কেটে ফেলা, ড্রেনেজের কারণে স্থানীয় দেবীর মন্দির ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং কাছেই এক আদিবাসী যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মা রুষ্ট হয়েছে।

কুসংস্কার দূরীকরণে কাজ করা সংস্থা ‘মহারাষ্ট্র অন্ধশ্রদ্ধা নির্মূলন সমিতি’ শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং করছে এবং জনগণকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ঘটনাটি দেখার আহ্বান জানিয়েছে। অমরাবতীর সংসদ সদস্য বলবন্ত ওয়াংখেড়ে শিক্ষার্থীদের ভয় না পেয়ে ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় চৌধুরী জানান যে শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে এবং কয়েকজন ইতোমধ্যে ফিরে এসেছে।

সূত্র: এনডিটিভি

৩ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গা ফেরত নিতে রাজি মিয়ানমার

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
৩ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গা ফেরত নিতে রাজি মিয়ানমার

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ৩ লাখ ৮ হাজার ৯৭৫ জন রোহিঙ্গাকে রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে মিয়ানমার। রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সোমবার (১৭ আগস্ট) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, যাচাই-বাছাই শেষে ৩ লাখ ৮ হাজার ৯৭৫ জন বাস্তুচ্যুত মানুষকে রাখাইনের বাসিন্দা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কার্যকর হবে না।

নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব ও মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা না থাকায় এর আগে একাধিকবার প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা ব্যর্থ হয়। তাছাড়া মিয়ানমার সেনাবাহিনী এবং আরাকান আর্মির মধ্যকার চলমান সশস্ত্র সংঘাতের কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি আরও জটিল হয়ে পড়েছে।

২০১৭ সাল থেকে শুরু হওয়া সহিংসতা ও নির্যাতনের মুখে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। বাংলাদেশ শুরু থেকেই নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, তবে রোহিঙ্গারা নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে আসছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

সাবেক এমপি ইকবালের কার্যালয় সিলগালা, ৩০০'র বেশি দলিল ও চেক জব্দ ‘ভূতের ভয়ে’ হোস্টেল ছাড়ল ৬০০ শিক্ষার্থী ৩ লাখ ৯ হাজার রোহিঙ্গা ফেরত নিতে রাজি মিয়ানমার অটোরিকশায় সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া চার্জ দিলে জরিমানা, নিবন্ধন-নবায়নও নয়: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী সিরাজগঞ্জে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষ্যে, র‍্যালি, আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ