আমির হামজার গাড়িতে অতর্কিত হামলা, জামায়াত-গণঅধিকার সংঘর্ষে আহত ১০
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আমির হামজার কর্মী-সমর্থকের ওপর গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের হামলা ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমির হামজা আহত হয়েছেন। সেইসঙ্গে দুই পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শহরের ছয় রাস্তা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
হামলার সময় এমপি আমির হামজার গাড়ির কাচ ভেঙে গেছে। সেইসঙ্গে গাড়ির সামনে বসা এমপির চাচার পা কেটে যায়। এ ছাড়াও আমির হামজা নিজেও মাথায় আঘাত পেয়েছেন। পরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এমপির বাড়িতেও ভাঙচুরের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গণআধিকার পরিষদকে নিয়ে মুফতি আমির হামজার বক্তব্যকে ঘিরে কুষ্টিয়া ছয় রাস্তার মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করছিল গণধিকার পরিষদ। এ সময় আমির হামজার গাড়ি ছয় রাস্তার মোড়ে পৌঁছালে তার গাড়িতে অতর্কিত হামলা করা হয়। এ সময় উভয় পক্ষই সংঘর্ষে জড়িয়ে যায়। এতে জামায়াতে ইসলামীর সাত জন ও গণঅধিকার পরিষদের তিন জন আহত হন। তারা কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আমির হামজা সম্প্রতি গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে বক্তব্য দেন। এর প্রেক্ষিতে সংগঠনের কুষ্টিয়া জেলা শাখার নেতাকর্মীরা শনিবার বিকালে শহরের ছয় রাস্তা মোড়ে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন। এই সমাবেশ স্থলের অদূরে আমির হামজার বাসভবন। সমাবেশের শেষের দিকে আমির হামজা পুলিশ প্রটোকল নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় সমাবেশস্থলে আসলে গাড়ির ভেতর থেকে তার সমর্থকরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর প্রথমে তাদের মধ্যে হাতাহাতি পরে দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এই সংঘর্ষ ঘিরে শহরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদ গণমাধ্যমে বলেন, ‘এমপি আমির হামজা আমাদের গণঅধিকার পরিষদকে নিয়ে বলেছেন- এই দল দুজনের, তাছাড়া এদের আর কোনও লোকজন নেই। এ ছাড়াও তিনি আরও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে আমাদের গণঅধিকার পরিষদ নিয়ে কথা বলেছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে আজকে আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিল চলছিল ছয় রাস্তার মোড়ে। এ সময় আমির হামজার সমর্থকরা আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে আমাদের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।’
এ ব্যাপারে আমির হামজার দুইজন কর্মী জানান, গণধিকার পরিষদের লোকজন প্রথমে তাদের ওপর হামলা চালান। তারা কেবল প্রতিরোধের চেষ্টা করেছেন।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ গণমাধ্যমে বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য দুই পক্ষকে থামানোর চেষ্টা করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আমির হামজা গণমাধ্যমে বলেন, ‘আমি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই দিকে প্রোগ্রামে ছিলাম। রাস্তাঘাট কালভার্ট কোথায় কোনটা করতে হবে সেই তথ্য নিচ্ছিলাম। আমি ২০ তারিখে মন্ত্রণালয়ে যাবো সেজন্য। এ সময় খবর পাই আমার বাবা-মা তুলে আমাকে গালাগালি করছে। আমি সদর থানার ওসিকে কল দিই। তার গাড়ি আগে এবং আমার গাড়ি পেছনে ছিল। এ সময় অতর্কিতভাবে আমার গাড়িতে লাঠি-হকিস্টিক দিয়ে হামলা করা হয়। গাড়ির সামনে বসে থাকা আমার চাচার পা কেটে যায় ও আমি মাথায় আঘাত পেয়েছি। গণধিকার পরিষদের আব্দুল খালেক ও তৌকিরের নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমি এ বিষয়ে আজকেই মামলা করবো।’




আপনার মতামত লিখুন