বিশ্ববাজারে টানা চতুর্থ দিন কমলো জ্বালানি তেলের দাম
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির বড় পরাজয়ের পর ইরান যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমতে পারে—এমন প্রত্যাশায় বিশ্ববাজারে টানা চতুর্থ দিনের মতো কমেছে জ্বালানি তেলের দাম।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৭ সেন্ট বা ১ দশমিক ০৩ শতাংশ কমে ৯৩ ডলার ৬৫ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ ডলার ১৪ সেন্ট বা ১ দশমিক ২৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৬ ডলার ৯৮ সেন্ট হয়েছে।
এর আগের কার্যদিবসে দুই ধরনের তেলের দামই ৮ শতাংশের বেশি কমেছিল। ওই দিন উভয় বেঞ্চমার্কের দাম ৩১ আগস্টের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি সরকারের ঘনিষ্ঠ সূত্র বুধবার জানিয়েছে, কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ সীমিত করতে পারে। এতে দুর্বল অবস্থানে থাকা ট্রাম্পের জন্য ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর তাগিদ বাড়তে পারে। তাদের মতে, এখন ইরানে পূর্ণমাত্রার হামলার সম্ভাবনাও কম মনে হচ্ছে।
যুদ্ধের অবসান হলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে। যুদ্ধের কারণে এ অঞ্চলের তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
স্পার্টা কমোডিটিজের জ্যেষ্ঠ তেল বিশ্লেষক জুন গো বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপে কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা বাজার বিশ্লেষণ করছে। যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে—এমন ধারণার ভিত্তিতেই তেলের দামে প্রভাব পড়ছে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধের অবসানে পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনো নানা অনিশ্চয়তায় ভরা। এদিকে বিশ্বের কৌশলগত তেলের মজুতও অনেক কমে গেছে। ফলে সামনে বাজারে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলের অধিকাংশ তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত তেল পরিবহন যুদ্ধের আগের অবস্থার কাছাকাছি ফিরে এসেছে। তবে এ জন্য পরিবহন ব্যয় বেড়েছে।
বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জেপি মরগান জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল সরবরাহ আবার শুরু হওয়ায় কয়েক মাসের যুদ্ধজনিত বিঘ্নের পর বিশ্ববাজারে সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি হয়ে উঠেছে।
ব্যাংকটির হিসাবে, সেপ্টেম্বরে বিশ্ববাজারে দৈনিক ১১ লাখ ব্যারেল তেলের উদ্বৃত্ত ছিল। অক্টোবরে তা বেড়ে দৈনিক ১৪ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে। গত বছর দৈনিক গড়ে ১৩ লাখ ব্যারেল উদ্বৃত্তের কাছাকাছি এই পরিমাণ।
তবে তেলের দামের এই বড় পতন দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। নির্বাচনের পরও তেলের দাম কম থাকবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জ্বালানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এক্সঅ্যানালিস্টসের প্রধান নির্বাহী মুকেশ সাহদেভ বলেন, ‘সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো, না।
সূত্র: রয়টার্স

