খুঁজুন
মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ২৪ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয় যেভাবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৪, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয় যেভাবে

আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। আগামী চার বছরের জন্য নিজেদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবেন মার্কিন জনগণ। এই ভোট আর তার ফলের দিকে নজর থাকবে সারাবিশ্বের।

মার্কিন রাজনীতিতে সবচেয়ে প্রভাবশালী দল মাত্র দুটি–রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক পার্টি। সাধারণত এই দুই দলের যেকোনো একটি দল থেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। অবশ্য ছোট ছোট কিছু রাজনৈতিক দল যেমন লিবার্টারিয়ান, গ্রিন, ইন্ডিপেনডেন্ট পার্টি–তারাও কখনো কখনো প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী মনোনয়ন ঘোষণা করে। রিপাবলিকান পার্টি একটি রক্ষণশীল দল হিসেবে পরিচিত। এ দলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট ছিলেন আব্রাহাম লিঙ্কন, জর্জ ডাব্লিও বুশ ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। অপরদিকে ডেমোক্রেটিক দল তুলনামূলকভাবে উদারনৈতিক রাজনৈতিক দল। দলটি থেকে উল্লেখযোগ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট ছিলেন জন এফ কেনেডি, বিল ক্লিনটন, বারাক ওবামা এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

বর্তমানে ডেমোক্রেটিক দলের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বয়স ৮০ বছর। বয়স কোনো ফ্যাক্টর নয় বলে ২০২৪ সালে পুনর্নির্বাচনী প্রস্তুতিও তিনি শুরু করেছিলেন। কিন্তু গত জুলাইয়ে বাইডেন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে সমর্থন দেন। মূলত এরপর থেকেই উভয় শিবিরে জোর প্রচার শুরু হয়।

তবে প্রেসিডেন্ট কে হবেন, সেটি নির্ধারণ হবে আগামী ৫ নভেম্বরের নির্বাচনে। কীভাবে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তা নিয়ে কিছু প্রশ্নের উত্তর থাকছে এই লেখায়।

কারা প্রার্থী হতে পারেন:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে সংবিধান অনুযায়ী তিনটি শর্ত পূরণ করতে হবে। প্রার্থীকে জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হতে হবে, বয়স হতে হবে অন্তত ৩৫ বছর এবং ১৪ বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করতে হবে। তবে মার্কিন সেনাবাহিনীর সদস্যদের জন্য শেষ শর্তটির ব্যতিক্রম রয়েছে।

প্রার্থীদের যোগ্যতা:
ইলিনয় স্টেটের ডেপল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ওয়েন স্টেগার ডয়চে ভেলেকে বলেন, প্রাপ্তবয়স্ক যেকোনো নাগরিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হতে পারেন। এমনকি অপরাধী সাব্যস্ত হওয়া ব্যক্তিরও প্রার্থী হতে বাধা নেই। স্টেগার জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে প্রকৃতপক্ষে আলাদা বিধান রয়েছে। যাতে রাজনৈতিক বন্দীরা প্রার্থী হওয়া থেকে বঞ্চিত না হন।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীতে রাজনৈতিক পদে থাকা ব্যক্তি দেশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে যুক্ত হলে বা শত্রুদের সহায়তা করলে তিনি প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হতে পারবেন না। কিন্তু আসন্ন নির্বাচনে এই ধারার প্রভাবের সম্ভাবনা তেমন দেখছেন না স্টেগার।

প্রাইমারি ও ককাস কী?
নির্বাচনে লড়াইয়ের ময়দান উন্মুক্ত থাকলেও প্রাইমারি ও ককাসের মাধ্যমে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থীর সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়। এই দুই পদ্ধতির মাধ্যমে দলগুলো তাদের প্রার্থী বাছাই করে। নির্বাচনী বছরের বসন্তের শুরুর দিকে অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। স্বাধীনভাবে কেউ প্রার্থী না হলে কোনো একটি রাজনৈতিক দলের অধীনে তাঁকে নিজ অঙ্গরাজ্যে নিবন্ধন করতে হয়।

প্রাইমারিতে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে দলের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ককাস প্রক্রিয়াটি আরও জটিল। এ জন্য অঙ্গরাজ্যগুলোতে রাজনৈতিক দলের সদস্যরা একত্র হন। সেখানে তারা ভোটাভুটির মাধ্যমে নিজেদের প্রার্থী বাছাই করেন।

অঙ্গরাজ্য ও দলভেদে প্রাইমারি ও ককাসের ভিন্নতা থাকলেও মূল লক্ষ্য একই। প্রার্থীর সমর্থন নির্ধারণ ও সাধারণ নির্বাচনের জন্য একজন প্রার্থী বাছাই করা।

নির্বাচনে কী ঘটে:
জাতীয় কনভেনশনের পরই নির্বাচনের উত্তাপ শুরু হয়। নির্বাচনের দিনে দেশজুড়ে কয়েক হাজার শহরে ভোট গ্রহণ চলে। নিবন্ধিত যেকোনো মার্কিন নাগরিক এই নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন।

জাতীয় কনভেনশনের ভূমিকা:
রাজ্য পর্যায়ে প্রাইমারি ও ককাস শেষ হলে রাজনৈতিক দলগুলো জাতীয় কনভেনশনের (সম্মেলন) মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ও তার রানিংমেট বা ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বাছাই করে।

কনভেনশনে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি রাজ্য থেকে আসা ডেলিগেটরা (প্রতিনিধি) প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বাছাইয়ে ভোট দেন। একজন প্রার্থীকে মনোনয়ন পেতে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পেতে হয়।

ডেলিগেটদের মধ্যেও দুটি ভাগ রয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের ক্ষেত্রে বলা হয় প্লেজড বা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আনপ্লেজড বা অপ্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রিপাবলিকানদের ক্ষেত্রে বাউন্ড বা বাধ্যতামূলক এবং আনবাউন্ড বা বাধ্যতামূলক নন। প্রতিশ্রুতিবদ্ধ/বাধ্যতামূলক ডেলিগেটরা অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে প্রাইমারিতে জিতে আসা প্রার্থীদেরই শুধু ভোট দিতে পারেন।

অন্যদিকে অপ্রতিশ্রুতিবদ্ধ/বাধ্যতামূলক নন এমন ডেলিগেটরা নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন। ডেমোক্র্যাট কনভেনশনে অপ্রতিশ্রুতিবদ্ধ ডেলিগেটরা দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই শুধু ভোট দিতে পারেন।

চলতি বছরের জুলাইতে বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে সমর্থন দেন। সে সময় যেসব ডেমোক্র্যাট ডেলিগেট আগে বাইডেনকে ভোট দিয়েছিলেন, তারা ন্যাশনাল কনভেনশনের প্রার্থীদের যে কাউকে বেছে নেওয়ার সুযোগ পান। কেননা প্রাইমারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে প্রার্থীকে তারা বেছে নিয়েছিলেন, তিনি আর নির্বাচনে লড়ছেন না। এ ক্ষেত্রে বেশির ভাগই হ্যারিসের পক্ষে ভোট দিয়েছেন, যে কারণে তিনিই ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন।

ইলেকটোরাল কলেজ:
সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট নয়, বরং মার্কিন প্রেসিডেন্ট কে হবেন, তা নির্ধারণ করে ‘ইলেকটোরাল কলেজ’। ইলেকটোরাল কলেজ নামের ব্যবস্থায় ৫৩৮ জন ইলেকটর নির্বাচিত হন। তারাই শেষমেশ নির্ধারণ করবেন, যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কে হবেন।

ইলেকটোরাল কলেজে ৫০টি অঙ্গরাজ্যের নির্দিষ্টসংখ্যক প্রতিনিধি থাকবেন। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উভয় কক্ষ মিলিয়ে রাজ্যটির যত প্রতিনিধি, সেটাই হলো তার ইলেকটরদের সংখ্যা।

হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভসে (কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ) একটি রাজ্যের প্রতিনিধি সংখ্যা নির্ভর করে রাজ্যটির জনসংখ্যার ওপর। অপর দিকে সিনেটে প্রতি রাজ্যের দুটি করে আসন থাকে। সব মিলিয়ে ৫০টি রাজ্যের ৪৩৫ জন রিপ্রেজেন্টেটেটিভ ও সেই সঙ্গে ১০০ জন সিনেটর। এ ছাড়া ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ার তিনজন ইলেকটর। সব মিলিয়ে ৫৩৮টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট। জনসংখ্যার দিক থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় সবচেয়ে বেশি ৫৪টি ইলেকটোরাল ভোট রয়েছে। অপর দিকে ভারমন্টের সর্বসাকল্য তিনটি ইলেকটোরাল ভোট রয়েছে।

নির্বাচনে জিততে হলে কোনো প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে সংখ্যাগরিষ্ঠ বা অন্তত ২৭০টি ইলেকটোরাল ভোট পেতে হবে। মেইন আর নেব্রাস্কা ছাড়া বাকি অঙ্গরাজ্যগুলোতে ‘উইনার টেকস অল’ ভিত্তিতে ইলেকটোরাল ভোট নির্ধারিত হয়। অর্থাৎ কোনো প্রেসিডেন্ট প্রার্থী যে রাজ্যে এগিয়ে থাকবেন, তিনি সেই রাজ্যের সব কজন ইলেকটরের সমর্থন পাবেন।

ঢাবিতে পাকিস্তানের পতাকা পদদলিত করলো একদল শিক্ষার্থী, ভিডিও ভাইরাল

মহানগর প্রতিনিধি, ঢাকা
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৯:৪২ অপরাহ্ণ
ঢাবিতে পাকিস্তানের পতাকা পদদলিত করলো একদল শিক্ষার্থী, ভিডিও ভাইরাল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) তিনটি হলের প্রবেশপথে পাকিস্তানের প্রতীকী পতাকার ওপর হেঁটে প্রতিবাদ জানিয়েছে একদল শিক্ষার্থী। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়াউর রহমান হল ও বিজয় একাত্তর হলে এবং গতকাল রোববার রাতে সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে এ প্রতিবাদ জানান তাঁরা। যার ছবি ও ভিডিও করে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা কিছু গণমাধ্যমের হাতে দেয়।

ভিডিওতে দেখা যায়- প্রতীকী ওই পতাকায় লেখা রয়েছে, ‘নো কম্প্রোমাইজ উইথ রাজাকার।’ এর আগে গতকাল রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবনের সামনের মাটিতেও পাকিস্তানের পতাকা লাগিয়ে সেটির ওপর পায়ে হাঁটতে দেখা যায়। আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ দৃশ্য ভাইরাল হয়। যা নিয়ে শুরু হয় নানা বিতর্ক। তবে পরে সেই পতাকা আর দেখা যায়নি।

জিয়াউর রহমান হলের প্রবেশপথের মেঝেতে পতাকা লাগিয়ে তার ওপর হেঁটে যাওয়া এক শিক্ষার্থী গণমাধ্যমে জানায়, ‘মহান বিজয় দিবসের এই মাসে আমাদের আজকের উদ্যোগ হলো সেই শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতার এক প্রকাশ, যাঁদের ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জন করেছি। একই সঙ্গে আমরা ঘৃণা ও প্রতিবাদ জানাই সেই পাক-হানাদার বাহিনী এবং তাদের দোসর রাজাকার-আলবদরদের প্রতি, যারা আমাদের মা-বোনদের ওপর নির্বিচারে নির্যাতন চালিয়েছিল এবং মুক্তিযোদ্ধাদের নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল।’

ওই শিক্ষার্থী আরও জানায়, ‘এই প্রতিবাদ, এই ক্ষোভ- সবই আমাদের ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং মানবতার প্রতি অঙ্গীকার থেকে উৎসারিত। আশা করি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমাদের এই উচ্চারণ স্বাধীনতার মূল্য স্মরণ করিয়ে দেবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় থাকার বার্তা দেবে।’

অবশ্য বিতর্কিত এমন কাজের বিষয়ে ক্ষোভ জানিয়েছে কিছু শিক্ষার্থীরা। তারা বলেম, প্রতিটি দেশের প্রতাকা তাদের জন্য সম্মানের। তাছাড়া পাকিস্তান কখনোই আমাদের সাথে মুক্তিযুদ্ধ বা স্বাধীনতা নিয়ে কোনো বিতর্কে জড়ায় নি। বরং আমাদেরকে নানাভাবে শোষণ করছে ভারত। আমাদের মতে পাকিস্তানের পতাকা এভাবে পদদলিত করে কথিত প্রতিবাদ জানানো নেহাতই বাড়াবাড়ি।

আমরা ঋণের ফাঁদে পড়ে গেছি: এনবিআর চেয়ারম্যান

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৯:২৮ অপরাহ্ণ
আমরা ঋণের ফাঁদে পড়ে গেছি: এনবিআর চেয়ারম্যান

দেশের ঋণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান মন্তব্য করেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই ঋণের ফাঁদে পড়েছি; এ সত্য স্বীকার না করলে সামনে এগোনো সম্ভব নয়।

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সেমিনারে এসব কথা বলেন তাঁরা। বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) ‘বাংলাদেশ স্টেট অব দ্য ইকোনমি ২০২৫’ ও ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) অগ্রগতি প্রতিবেদন ২০২৫’ প্রকাশ ও উপস্থাপন উপলক্ষে এ সেমিনার আয়োজন করে।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, কয়েক বছর আগেও আমাদের কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশের বেশি ছিল, এখন তা ৭ শতাংশের ঘরে ঘোরাফেরা করছে। সমস্যাটি কোথায়, তা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হবে। কর-জিডিপি অনুপাত কমার একটি বড় কারণ হলো, জিডিপির সব খাত থেকে রাজস্ব সংগ্রহ সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই এনবিআর দুই ভাগ হয়ে দুজন সচিবের নেতৃত্বে কাজ শুরু করবে বলে জানান আবদুর রহমান খান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর জানিয়েছেন, সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ব্যাংকের সংযুক্তির প্রক্রিয়া দ্রুত এগোচ্ছে। ডিপোজিট গ্যারান্টি ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ করা হয়েছে। এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে আমানতকারীদের মধ্যে অর্থ বিতরণ শুরু হতে পারে।

সরকারের এ উদ্যোগের ফলে পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকসহ ৭৬ লাখ পরিবার আমানত ফেরত পাবেন বলে জনান গভর্নর। এ ছাড়া নতুন ব্যাংকটি প্রথম বা দ্বিতীয় বছরেই মুনাফার মুখ দেখতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সিপিডির ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঋণের ফাঁদে পড়া আমাদের দেশের জন্য ভালো হবে না। তখন ঋণ নিয়ে আবার ঋণ পরিশোধ করতে হবে। ইতিমধ্যে রাজস্ব বাজেটে ব্যয়ের প্রধান খাতের মধ্যে ছিল সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও পেনশন। এরপর দ্বিতীয় স্থানে ছিল কৃষি ও শিক্ষা। কিন্তু কৃষি ও শিক্ষার মতো খাত পেছনে ফেলে এখন জায়গা এখন নিয়েছে ঋণের সুদ পরিশোধ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার অর্থবিষয়ক বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম প্রমুখ।

২০০ আসন পেলেও জাতীয় সরকার গঠন করা হবে: ডা. শফিকুর রহমান

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৯:২১ অপরাহ্ণ
২০০ আসন পেলেও জাতীয় সরকার গঠন করা হবে: ডা. শফিকুর রহমান

ক্ষমতায় গেলে জামায়াতে ইসলামী জাতীয় সরকার গঠন করবে বলে জানিয়েছেন দলের আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ২০০ আসনে বিজয়ী হলেও তার দল দেশের স্বার্থে, স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে জাতীয় সরকার গঠন করবে।

আজ সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বৈঠকে ইইউর পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান, সব মানুষের নিরাপত্তা এবং নির্বাচনী ইশতেহার ও নির্বাচন পরবর্তী ১০০ দিনের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয় বলে জানান জামায়াত আমির। তিনি ইইউ প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করেন যে, জামায়াত নির্বাচিত হলে একটি ‘ইনক্লুসিভ’ বাংলাদেশ গড়বে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কোনো দলকেই বাদ দেব না। আমরা দেশের স্বার্থে দারুণভাবে অনুভব করি যে, অন্তত আগামী পাঁচটা বছর দেশের স্থিতিশীলতা, অর্থনীতি ফিরিয়ে আনা, আইনের শাসন কায়েম করা এবং সমাজ থেকে দুর্নীতি নির্মূল করার জন্য আমাদের একটি জাতীয় সরকার প্রয়োজন। আমরা নির্বাচিত হলে সেই সরকারটাই গঠন করব।’

‘২০০ আসনেও আমরা বিজয়ী হয়ে যাই, তারপরেও আমরা এটি করব ইনশাআল্লাহ’, আরও উল্লেখ করেন তিনি।

জাতীয় সরকারে যারা অংশগ্রহণ করবেন, তাদের জন্য দুটি শর্তের কথা উল্লেখ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘নাম্বার ওয়ান- কেউ নিজে দুর্নীতি করবেন না এবং দুর্নীতিকে কোনোভাবে প্রশ্রয় দেবেন না। নাম্বার টু—সকলের জন্য সমান বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং এ ব্যাপারে রাজনৈতিকভাবে কোনো হস্তক্ষেপ করা যাবে না। মিনিমাম এই দুইটা জিনিসের ব্যাপারে যারা একমত হবেন, তাদের নিয়ে আমরা সরকার গঠন করতে আগ্রহী।’

ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোট (রেফারেন্ডাম) একই দিনে অনুষ্ঠানের বিষয়ে ইইউর প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষ ততটা এখনও সচেতন না। তাই একই দিনে দুটি নির্বাচন হলে দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার এবং ভোটার উপস্থিতি (টার্নওভার) কম হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই কারণে আমরা বলেছি, দুটি নির্বাচন আলাদা হওয়া উচিত।’

নির্বাচন পেছানো প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমরা ইলেকশন পেছানোর কোনো সুযোগ আছে বলে মনে করি না। ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হওয়া দরকার।’

পিআর বা সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতির বিষয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘পিআর আমাদের দাবি। আমরা এটা জনগণের জন্য করেছি, দলের জন্য নয়। এমনকি আমরা যদি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দেশ সেবার সুযোগ পাই, তখনও পিআর বাস্তবায়নে আন্তরিকতার পরিচয় দেব। জেতার পর পিআর-এর দরকার নেই- অতীতের এই কালচার আমরা পাল্টে দিতে চাই।’

রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা ধর্মকে কখনও ব্যবহার করি নাই, করব না। ধর্ম আমাদের চিন্তার অঙ্গ, কলিজার অংশ। ধর্ম নিয়ে কাজ করি, ব্যবহার করি না; কারা করে সেটা আপনারা ভালো বোঝেন। যারা ইলেকশনের সময় টুপি পরেন, তসবিহ হাতে ঘোরেন- তারা হয়তো করেন। আমরা তসবিহ মুখে নিয়ে ঘুরি না, তসবিহ বুকে নিয়ে ঘুরি।’

ঢাবিতে পাকিস্তানের পতাকা পদদলিত করলো একদল শিক্ষার্থী, ভিডিও ভাইরাল আমরা ঋণের ফাঁদে পড়ে গেছি: এনবিআর চেয়ারম্যান ২০০ আসন পেলেও জাতীয় সরকার গঠন করা হবে: ডা. শফিকুর রহমান সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের বিষয়ে সুখবর দিলেন গভর্নর ১০ ডিসেম্বর রেকর্ড হবে সিইসির ভাষণ, সেদিনই হতে পারে তফসিল ঘোষণা