খুঁজুন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয় যেভাবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৪, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয় যেভাবে

আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। আগামী চার বছরের জন্য নিজেদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবেন মার্কিন জনগণ। এই ভোট আর তার ফলের দিকে নজর থাকবে সারাবিশ্বের।

মার্কিন রাজনীতিতে সবচেয়ে প্রভাবশালী দল মাত্র দুটি–রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক পার্টি। সাধারণত এই দুই দলের যেকোনো একটি দল থেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। অবশ্য ছোট ছোট কিছু রাজনৈতিক দল যেমন লিবার্টারিয়ান, গ্রিন, ইন্ডিপেনডেন্ট পার্টি–তারাও কখনো কখনো প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী মনোনয়ন ঘোষণা করে। রিপাবলিকান পার্টি একটি রক্ষণশীল দল হিসেবে পরিচিত। এ দলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট ছিলেন আব্রাহাম লিঙ্কন, জর্জ ডাব্লিও বুশ ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। অপরদিকে ডেমোক্রেটিক দল তুলনামূলকভাবে উদারনৈতিক রাজনৈতিক দল। দলটি থেকে উল্লেখযোগ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট ছিলেন জন এফ কেনেডি, বিল ক্লিনটন, বারাক ওবামা এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

বর্তমানে ডেমোক্রেটিক দলের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বয়স ৮০ বছর। বয়স কোনো ফ্যাক্টর নয় বলে ২০২৪ সালে পুনর্নির্বাচনী প্রস্তুতিও তিনি শুরু করেছিলেন। কিন্তু গত জুলাইয়ে বাইডেন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে সমর্থন দেন। মূলত এরপর থেকেই উভয় শিবিরে জোর প্রচার শুরু হয়।

তবে প্রেসিডেন্ট কে হবেন, সেটি নির্ধারণ হবে আগামী ৫ নভেম্বরের নির্বাচনে। কীভাবে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তা নিয়ে কিছু প্রশ্নের উত্তর থাকছে এই লেখায়।

কারা প্রার্থী হতে পারেন:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে সংবিধান অনুযায়ী তিনটি শর্ত পূরণ করতে হবে। প্রার্থীকে জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হতে হবে, বয়স হতে হবে অন্তত ৩৫ বছর এবং ১৪ বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করতে হবে। তবে মার্কিন সেনাবাহিনীর সদস্যদের জন্য শেষ শর্তটির ব্যতিক্রম রয়েছে।

প্রার্থীদের যোগ্যতা:
ইলিনয় স্টেটের ডেপল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ওয়েন স্টেগার ডয়চে ভেলেকে বলেন, প্রাপ্তবয়স্ক যেকোনো নাগরিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হতে পারেন। এমনকি অপরাধী সাব্যস্ত হওয়া ব্যক্তিরও প্রার্থী হতে বাধা নেই। স্টেগার জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে প্রকৃতপক্ষে আলাদা বিধান রয়েছে। যাতে রাজনৈতিক বন্দীরা প্রার্থী হওয়া থেকে বঞ্চিত না হন।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীতে রাজনৈতিক পদে থাকা ব্যক্তি দেশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে যুক্ত হলে বা শত্রুদের সহায়তা করলে তিনি প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হতে পারবেন না। কিন্তু আসন্ন নির্বাচনে এই ধারার প্রভাবের সম্ভাবনা তেমন দেখছেন না স্টেগার।

প্রাইমারি ও ককাস কী?
নির্বাচনে লড়াইয়ের ময়দান উন্মুক্ত থাকলেও প্রাইমারি ও ককাসের মাধ্যমে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থীর সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়। এই দুই পদ্ধতির মাধ্যমে দলগুলো তাদের প্রার্থী বাছাই করে। নির্বাচনী বছরের বসন্তের শুরুর দিকে অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। স্বাধীনভাবে কেউ প্রার্থী না হলে কোনো একটি রাজনৈতিক দলের অধীনে তাঁকে নিজ অঙ্গরাজ্যে নিবন্ধন করতে হয়।

প্রাইমারিতে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে দলের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ককাস প্রক্রিয়াটি আরও জটিল। এ জন্য অঙ্গরাজ্যগুলোতে রাজনৈতিক দলের সদস্যরা একত্র হন। সেখানে তারা ভোটাভুটির মাধ্যমে নিজেদের প্রার্থী বাছাই করেন।

অঙ্গরাজ্য ও দলভেদে প্রাইমারি ও ককাসের ভিন্নতা থাকলেও মূল লক্ষ্য একই। প্রার্থীর সমর্থন নির্ধারণ ও সাধারণ নির্বাচনের জন্য একজন প্রার্থী বাছাই করা।

নির্বাচনে কী ঘটে:
জাতীয় কনভেনশনের পরই নির্বাচনের উত্তাপ শুরু হয়। নির্বাচনের দিনে দেশজুড়ে কয়েক হাজার শহরে ভোট গ্রহণ চলে। নিবন্ধিত যেকোনো মার্কিন নাগরিক এই নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন।

জাতীয় কনভেনশনের ভূমিকা:
রাজ্য পর্যায়ে প্রাইমারি ও ককাস শেষ হলে রাজনৈতিক দলগুলো জাতীয় কনভেনশনের (সম্মেলন) মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ও তার রানিংমেট বা ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বাছাই করে।

কনভেনশনে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি রাজ্য থেকে আসা ডেলিগেটরা (প্রতিনিধি) প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বাছাইয়ে ভোট দেন। একজন প্রার্থীকে মনোনয়ন পেতে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পেতে হয়।

ডেলিগেটদের মধ্যেও দুটি ভাগ রয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের ক্ষেত্রে বলা হয় প্লেজড বা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আনপ্লেজড বা অপ্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রিপাবলিকানদের ক্ষেত্রে বাউন্ড বা বাধ্যতামূলক এবং আনবাউন্ড বা বাধ্যতামূলক নন। প্রতিশ্রুতিবদ্ধ/বাধ্যতামূলক ডেলিগেটরা অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে প্রাইমারিতে জিতে আসা প্রার্থীদেরই শুধু ভোট দিতে পারেন।

অন্যদিকে অপ্রতিশ্রুতিবদ্ধ/বাধ্যতামূলক নন এমন ডেলিগেটরা নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন। ডেমোক্র্যাট কনভেনশনে অপ্রতিশ্রুতিবদ্ধ ডেলিগেটরা দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই শুধু ভোট দিতে পারেন।

চলতি বছরের জুলাইতে বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে সমর্থন দেন। সে সময় যেসব ডেমোক্র্যাট ডেলিগেট আগে বাইডেনকে ভোট দিয়েছিলেন, তারা ন্যাশনাল কনভেনশনের প্রার্থীদের যে কাউকে বেছে নেওয়ার সুযোগ পান। কেননা প্রাইমারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে প্রার্থীকে তারা বেছে নিয়েছিলেন, তিনি আর নির্বাচনে লড়ছেন না। এ ক্ষেত্রে বেশির ভাগই হ্যারিসের পক্ষে ভোট দিয়েছেন, যে কারণে তিনিই ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন।

ইলেকটোরাল কলেজ:
সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট নয়, বরং মার্কিন প্রেসিডেন্ট কে হবেন, তা নির্ধারণ করে ‘ইলেকটোরাল কলেজ’। ইলেকটোরাল কলেজ নামের ব্যবস্থায় ৫৩৮ জন ইলেকটর নির্বাচিত হন। তারাই শেষমেশ নির্ধারণ করবেন, যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কে হবেন।

ইলেকটোরাল কলেজে ৫০টি অঙ্গরাজ্যের নির্দিষ্টসংখ্যক প্রতিনিধি থাকবেন। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উভয় কক্ষ মিলিয়ে রাজ্যটির যত প্রতিনিধি, সেটাই হলো তার ইলেকটরদের সংখ্যা।

হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভসে (কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ) একটি রাজ্যের প্রতিনিধি সংখ্যা নির্ভর করে রাজ্যটির জনসংখ্যার ওপর। অপর দিকে সিনেটে প্রতি রাজ্যের দুটি করে আসন থাকে। সব মিলিয়ে ৫০টি রাজ্যের ৪৩৫ জন রিপ্রেজেন্টেটেটিভ ও সেই সঙ্গে ১০০ জন সিনেটর। এ ছাড়া ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ার তিনজন ইলেকটর। সব মিলিয়ে ৫৩৮টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট। জনসংখ্যার দিক থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় সবচেয়ে বেশি ৫৪টি ইলেকটোরাল ভোট রয়েছে। অপর দিকে ভারমন্টের সর্বসাকল্য তিনটি ইলেকটোরাল ভোট রয়েছে।

নির্বাচনে জিততে হলে কোনো প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে সংখ্যাগরিষ্ঠ বা অন্তত ২৭০টি ইলেকটোরাল ভোট পেতে হবে। মেইন আর নেব্রাস্কা ছাড়া বাকি অঙ্গরাজ্যগুলোতে ‘উইনার টেকস অল’ ভিত্তিতে ইলেকটোরাল ভোট নির্ধারিত হয়। অর্থাৎ কোনো প্রেসিডেন্ট প্রার্থী যে রাজ্যে এগিয়ে থাকবেন, তিনি সেই রাজ্যের সব কজন ইলেকটরের সমর্থন পাবেন।

ট্রেনে রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদে রাজশাহীতে রেললাইন অবরোধ, ভোগান্তি চরমে

মোঃ হাসানুজ্জামান, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
ট্রেনে রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদে রাজশাহীতে রেললাইন অবরোধ, ভোগান্তি চরমে

পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিটির মারধরের শিকার হয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থী। এই ঘটনায় অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে রেললাইন অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকায় রেললাইন অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ফোরকান উদ্দীন জানান, ঢাকা থেকে পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে রাজশাহী ফিরছিলেন তিনি। এ সময় যাত্রীদের কাছ থেকে রসিদ ছাড়াই টিটি টাকা আদায় করায় এর প্রতিবাদ করেন। এজন্য তাকে মারধর করেন টিটি।

পদ্মা এক্সপ্রেসের টিটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০১৯-২০ সেশনের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদে ট্রেন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ।

তিনি জানান, রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসে বিষয়টির সুরাহা না করা পর্যন্ত রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকবে। অভিযুক্ত টিটিকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে এবং তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন যে, ইতিপূর্বে রাবি শিক্ষার্থীদের সাথে একাধিকবার বিভিন্ন ধরনের অন্যায় আচরণ করা হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আজকের পর থেকে কোনো রেলগুন্ডা যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীর দিকে আর বাঁকা চোখে তাকানোর সাহস না পায়- সেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের রেললাইন অবরোধে পুরোপুরি থেমে আছে রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী সকল ট্রেন। যার ফলে চরম ক্ষুব্ধ ট্রেনের যাত্রীরা। অভিযোগ তুলে তারা বলেন, ‘আমরা এদের কাছে জিম্মি। মার খেয়েছে ছাত্র, দোষ করলো টিটি। অথচ ভোগান্তি হচ্ছে আমাদের। রেল কর্তৃপক্ষ এসব সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান না করলে ভোগান্তি বাড়বেই।’

বিজিবির জনবল, অস্ত্র ও প্রযুক্তি সক্ষমতা বাড়াতে সরকারের একাধিক সিদ্ধান্ত

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ণ
বিজিবির জনবল, অস্ত্র ও প্রযুক্তি সক্ষমতা বাড়াতে সরকারের একাধিক সিদ্ধান্ত

সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম সংগ্রহ, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং মাদক দমনে ডগ স্কোয়াডের সক্ষমতা আরও কার্যকরভাবে ব্যবহারের বিষয়ে একাধিক নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম বিজিবি সদর দপ্তর পরিদর্শন করে বাহিনীটির কার্যক্রম, সক্ষমতা, জনবল, সেক্টর ও ব্যাটালিয়নের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে সীমান্তে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে কীভাবে নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ আরও কার্যকর করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে মাদক প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির ভূমিকা আরও জোরদার করা হবে। এ ক্ষেত্রে বাহিনীটির ডগ স্কোয়াডের সক্ষমতা বাড়িয়ে তা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।

তিনি জানান, বিজিবিকে আরও আধুনিক ও কার্যকর বাহিনীতে রূপ দিতে জনবল বৃদ্ধি, নতুন যানবাহন, আধুনিক সরঞ্জাম এবং প্রয়োজনীয় অস্ত্র সংগ্রহের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় বিজিবির সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির ভূমিকা প্রশংসনীয় ছিল। দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া এবং উদ্ধার কার্যক্রমে বাহিনীটির সক্রিয় অংশগ্রহণ সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সীমান্ত পাহারার পাশাপাশি জনসম্পৃক্ত কার্যক্রমেও বিজিবির অংশগ্রহণ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ, বিজিবি হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি, চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নের যেসব প্রস্তাব বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে আটকে রয়েছে, সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অতিরিক্ত অর্থ আত্মসাৎ ও মানব পাচার

মালয়েশিয়া শ্রমবাজার সিন্ডিকেট: ৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৭:২০ অপরাহ্ণ
মালয়েশিয়া শ্রমবাজার সিন্ডিকেট: ৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল

মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত থাকার দায়ে ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহার করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

গতকাল রোববার (১৯ জুলাই) মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট তৈরি করে কয়েক হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মালয়েশিয়ায় সিন্ডিকেট করে লোক পাঠিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে পল্টন থানায় একটি মানবপাচার মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলায় ৪৯টি এজেন্সির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। তারই প্রেক্ষিতে এই ৪৯টি লাইসেন্স বাতিল করেছে মন্ত্রণালয়।

এদিকে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর অনুকূলে ইস্যুকৃত লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান আইন, ২০১৩, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (সংশোধন) আইন, ২০২৩ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইন ও বিধি-বিধান মেনে চলা বাধ্যতামূলক। তবে সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০৬, ৪২০, ৩৮৫, ৩৮৬, ৪২৭ ও ৩৪ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল এবং তা গৃহীত হওয়ায় বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩-এর ১৩ ধারার ক্ষমতাবলে তাদের লাইসেন্স প্রত্যাহার করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনটিতে স্বাক্ষর করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব রাশিদা আক্তার।

লাইসেন্স প্রত্যাহার হওয়া সাদিয়া ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী ও বায়রা’র সাবেক মহাসচিব শামিম আহমেদ চৌধুরী নোমান গণমাধ্যমে বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সাথে ১০০ এজেন্সি জড়িত ছিল। তাহলে ৪১ জনের লাইসেন্স প্রত্যাহার হলো কীভাবে। অন্যায় যদি হয়ে থাকে সবারই তো দায় থাকার কথা।’

‘আদালতের মাধ্যমে কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে চূড়ান্ত বিচার সম্পন্ন হওয়ার আগে এভাবে লাইসেন্স প্রত্যাহার কীভাবে হতে পারে জানা নেই, বলে আপত্তি তোলেন তিনি।

ট্রেনে রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদে রাজশাহীতে রেললাইন অবরোধ, ভোগান্তি চরমে বিজিবির জনবল, অস্ত্র ও প্রযুক্তি সক্ষমতা বাড়াতে সরকারের একাধিক সিদ্ধান্ত মালয়েশিয়া শ্রমবাজার সিন্ডিকেট: ৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল সিরাজগঞ্জে জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা (জিবিভি) ওয়ার্কিং সভা অনুষ্ঠিত বেলকুচি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত