খুঁজুন

ফিরে দেখা ২০২৪

তাবলীগের সংঘাত, হাফেজদের বিশ্বজয়, ইসলামী অঙ্গনে আলোচিত যত ঘটনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৮:০৮ অপরাহ্ণ
তাবলীগের সংঘাত, হাফেজদের বিশ্বজয়, ইসলামী অঙ্গনে আলোচিত যত ঘটনা

সময়ের নিয়মেই শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে ২০২৪। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মতো ২০২৪ সালও ছিল ঘটনাবহুল। আন্দোলন, অস্থিরতা, অভ্যুত্থানের নতুন কিছু স্মৃতি যুক্ত হয়েছে এ বছর। মুক্তির স্বাদ, বিজয় রক্ষার নতুন চ্যালেঞ্জ সময়কে করেছে আরও কঠিন। আন্দোলন-অভ্যুত্থানের বছরে দেশের ইসলামী অঙ্গনের বেশ কিছু ঘটনাও ছিল আলোচিত। কোনোটা স্বস্তির, আবার কোনো ঘটনা বিব্রতকর। কিছু ঘটনা নতুন করে ভাবনার জন্ম দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

২০২৪ সালে ইসলামী অঙ্গনে আলোচিত ঘটনা প্রবাহ স্মৃতির অ্যালবামে যুক্ত করতে সালতামামির এই আয়োজন—

বছরজুড়ে আন্তজার্তিক কোরআন প্রতিযোগিতায় হাফেজদের বিশ্বজয়

বিজ্ঞাপন

২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক কোরআন ও কিরাত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে বিজয়ী হয়েছেন একাধিক কোরআনের হাফেজ। অনেকেই সরাসরি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন, কেউ কেউ ভার্চুয়াল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন।

ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছিল কোরআনের হাফেজদের জয়রথ। সর্বশেষ ডিসেম্বরেও বিজয়ী হয়েছে দুইজন কোরআনের হাফেজ।

বিজ্ঞাপন

এক নারীসহ ১৫জন বিশ্বজয়ী কোরআনের হাফেজের তালিকায় রয়েছেন রাজধানীর মারকাযু ফয়জিল কুরআন আল ইসলামীর দুই হাফেজ, হাফেজ মুয়াজ মাহমুদ ও হাফেজ আনাস মাহফুজ।

এছাড়াও বিজয়ী হয়েছেন রাজধানীর মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনালের শিক্ষার্থী হাফেজ বশির আহমাদ ও হাফেজ আনাস বিন আতিক।

আরও বিজয়ী হয়েছেন তাহফিজুল কুরআন ওয়াসসুন্নাহর দুই শিক্ষাথী হাফেজ মুশফিকুর রহমান ও হাফেজ হুজাইফা।

তাহফিজুল কুরআন ওয়াসসুন্নাহর আরও বেশ কিছু শিক্ষার্থী ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত বিভিন্ন কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছেন। এই তালিকায় হাফেজ সাদিকুর রহমান, হাফেজ জাকারিয়া, হাফেজ আকমাল আহমাদের নাম রয়েছে।

এই প্রতিষ্ঠান থেকে মিশরে কিরাত প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছেন হাফেজ তানভির আহমাদ, আবুধাবীতে হদর তিলাওয়াতে বিজয়ী হয়েছেন হাফেজ আম্মার বিন মাসুম।

এই তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী আরও দুইজন হাফেজ হলেন হাফেজ আবু রায়হান ও হাফেজ মাহমুদুল হাসান। কিরাত প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছেন কারি আবু জর গিফারী।

তরুণ হাফেজদের বাইরেও এ বছর কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছেন নারী হাফেজ হুমাইরা মাসউদ।

দেশের ইতিহাসে প্রথম আলেম উপদেষ্টা

২০২৪ সালে অন্যতম আকর্ষণীয় ঘটনা ছিল স্বাধীনতার পর দেশের সরকার ব্যবস্থায় প্রথম কোনো আলেম উপদেষ্টার নিয়োগ। স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের পর নোবেল বিজয়ী ড. ইউনুসকে প্রধান উপদেষ্টা মনোনীত করে অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়। এতে দেশের বিভিন্ন স্তরের নাগরিকদের প্রতিনিধি রাখা হয়। উপদেষ্টা তালিকায় রাখা হয়েছে দেশের শ্রদ্ধাভাজন আলেম মাওলানা আ ফ ম খালিদ হোসেনকে।

আ ফ ম খালিদ হোসেন ইসলামি অঙ্গনে তুমুল জনপ্রিয়। আ ফ ম খালিদ হোসেনের মূল নাম আবুল ফয়েজ মুহাম্মদ খালিদ হোসেন। তিনি ১৯৫৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত সাতকানিয়া উপজেলার মাদার্শা ইউনিয়নের মক্কার বাড়ির এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

বিশ্ব মুসলীম লীগের মুখপাত্র দ্যা ওয়ার্ল্ড মুসলিম লীগ জার্নালসহ বিভিন্ন সাময়িকীতে আ ফ ম খালিদ হোসেনের দুই শতাধিক গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক প্রকাশিত ইসলামী বিশ্বকোষ দ্বিতীয় সংস্করণের ৩ থেকে ৯ খণ্ড ও সীরাত বিশ্বকোষ সম্পাদনা করেছেন। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ২০ টি। এছাড়াও তিনি ৪টি জাতীয় পত্রিকার নিয়মিত লেখক।

বায়তুল মোকাররমে সংঘর্ষ

২০২৪ সালের দুঃখজন একটি ঘটনা ছিল বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিদের মাঝে সংর্ঘষ। স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত খতিব মাওলানা রুহুল আমিনকে ঘিরে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। এতে হতাহতের ঘটনাও ঘটে।

ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর বেশ কিছুদিন অনুস্থিত ছিলেন খতিব মাওলানা রুহুল আমিন। অসুস্থতার কারণে তিনি ছুটিতে ছিলেন জানিয়ে ২০ সেপ্টেম্বর বায়তুল মোকাররমে জুমা পড়াতে আসেন।

তবে সেদিন পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী জুমা পড়ানোর দায়িত্ব ছিল ড. আবু সালেহ আহম্মেদ পাটোয়ারীর। খতিব রুহুল আমিন জুমার নামাজ পড়ানোর জন্য মসজিদে এলে মুসল্লিরা তার পেছনে নামাজ পড়তে অস্বীকৃতি জানান।

এ সময় খতিব জটিলতায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। এক পর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন মুসল্লি ও সাবেক খতিবের সমর্থকরা। এ সময় মসজিদের ভেতরে ভাঙচুর করা হয়। দরজা জানালার গ্লাস ভেঙে ফেলা হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

বায়তুল মোকাররমে নতুন খতিব

সেপ্টেম্বরে বায়তুল মোকাররমে খতিব নিয়ে সংঘর্ষ, জটিলতার পর অক্টোবরে নতুন খতিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় দেশের ইসলামী অঙ্গনের পরিচিত মুখ মাওলানা আবদুল মালেককে।

এর আগে আন্তর্জাতিক ও দেশের ইসলামী অঙ্গনে পরিচিত থাকলেও খতিব হিসেবে নিয়োগের পর দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন বিনয়ী ও শ্রদ্ধাভাজন এই আলেম।

মুফতি আবদুল মালেক দেশ-বিদেশের প্রসিদ্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইসলামিক স্টাডিজ, হাদিস ও ফিকহের ওপর উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনকারী একজন পণ্ডিত ব্যক্তি। বিশ্বখ্যাত মুফতি বিচারপতি তাকী ওসমানী তার ওস্তাদ। আরব বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইসলামি পণ্ডিত ও সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত ইমাম মোহাম্মদ ইবনে সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুদ্দীন অনুষদের অধ্যাপক শায়খ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহর (রহ.) অধীনে তিনি দুই বছর হাদিস ও ইসলামি আইন বিষয়ে উচ্চতর গবেষণা পরিচালনা করেন।

আবদুল মালেক মক্কা, মদিনা, পাকিস্তান, ভারত ও তুরস্ক সফর করেছেন এবং বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন। তিনি ইতোমধ্যে বাংলা, আরবি, ইংরেজি ও উর্দু ভাষায় মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেছেন।

জুলাই অভ্যুত্থানে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ভূমিকা

জুলাই অভ্যুত্থান বাংলাদেশের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসে এক নতুন আখ্যান। এতে অন্য সবার মতো স্বতঃর্স্ফূত অংশগ্রহণ ছিল দেশের মাদরাসার শিক্ষার্থীদের। জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। আন্দোলনের শুরু থেকেই রাজধানীর প্রায় সব মিছিলে তাদের সরব ‍উপস্থিতি ছিল। আন্দোলনের সময় মাদরাসার ছাত্রদের প্রতিনিধিত্ব করে কওমি শিক্ষার্থী ও আলেমদের সংগঠন ‘সাধারণ আলেম সমাজ’।

যাত্রাবাড়ী এলাকায় স্বৈরাচার বাহিনীর বিরুদ্ধে দুর্গ গড়তে সাহায্য করেন মাদরাসার ছাত্র ও আলেম সমাজ। এই আন্দোলনে প্রায় ৭০ জনের মতো মাদরাসা শিক্ষার্থী শহিদ হন।

বিভিন্ন মামলায় মাওলানা মামুনুল হকসহ আলেমদের জামিন

শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনামলে বিভিন্ন সময় দেশের আলেমদের ওপর নিপীড়ন ও জেল, জুলুমের ঘটনা ঘটেছে। অনেককে মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত করে কারাগারে বন্দি করা হয়। দুই, তিন বছর কারাগারে বন্দি ছিলেন অনেকেই। এই তালিকায় মাওলানা মামুনুল হকের নাম ছিল শীর্ষে।

২০২১ সালের ১৮ এপ্রিল ঢাকার মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে গ্রেপ্তার হন মাওলানা মামুনুল হক। তিন বছর পর ২০২৪ সালের মে মাসে জামিনে মুক্ত হন তিনি। এরপর আরও একাধিক আলেম কারাগার থেকে মুক্ত হন।

তাবলিগের শূরায়ে নেজামপন্থিদের ইসলামী মহাসম্মেলন

মাওলানা সাদের বিতর্কিত অবস্থানকে ঘিরে ২০১৭ সাল থেকে তাবলিগ জামাতের মাঝে বিভাজন দেখা দেয়। সর্বশেষ ২০১৮ সালে বিভাজন দ্বন্দ্বে পরিণত হয়। দ্বন্দ্বের পর থেকে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বে ইজতেমা করছেন তাবলীগের একাংশ শুরায়ে নেজাম, যাদের সঙ্গে মাওলানা জোবায়েরসহ কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক আলেমগণ রয়েছেন।

অন্যদিকে, দ্বিতীয় পর্বে ইজতেমা করে আসছেন মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা। তারা ২০২৫ সালের প্রথম পর্বে বিশ্ব ইজতেমা করার জন্য এবং মাওলানা সাদকে আনার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানান।

বিষয়টিকে চক্রান্ত হিসেবে ঘোষণা দিয়ে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক আলেমগণ এবং শুরায়ে নেজাম ইসলামি মহাসম্মেলনের ঘোষণা দেন ৫ নভেম্বর। ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী ময়দানে আয়োজিত ওই সম্মেলনে মাওলানা সাদকে আসতে না দেয়া, সাদ অনুসারীদের পৃথক পর্ব না রাখার ঘোষণা দেয়া হয়।

ইজতেমার মাঠে সংঘাত

২০২৪ সালে দুঃখজন আরেকটি ঘটনা ছিল বিশ্ব ইজতেমার মাঠে তাবলিগের সাথীদের মাঝে সংঘাত। দিল্লির নিজামুদ্দীনের মাওলানা সাদ অনুসারী ও শূরায়ে নিজাম (মাওলানা জুবায়েরপন্থি) এর অনুসারীদের মাঝে সংঘাতের ঘটনা ঘটে।

এতে আগে থেকেই ইজতেমা ময়দানে অবস্থান করা শূরায়ে নিজামপন্থিদের (মাওলানা জুবায়েরপন্থি) ওপর গভীর রাতে মাওলানা সাদ অনুসারীদের অতর্কিত হামলার অভিযোগ উঠে। তবে মাওলানা সাদ অনুসারীদের পক্ষ থেকে শূরায়ে নিজামপন্থিদের বিরুদ্ধে প্রথমে ইটপাটকেল ছোঁড়ার অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় ৩ জন নিহতের সংবাদ পাওয়া যায়।

সংঘাতের ঘটনায়  শূরায়ে নিজামপন্থিদের পক্ষ থেকে মাওলানা সাদ অনুসারীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এতে গ্রেপ্তার হয়েছেন সাদপন্থী নেতা মাওলানা মুয়াজ বিন নূর।

৪ বছর পর মিজানুর রহমান আজহারীর দেশ ও মাহফিলে ফেরা

২০২৪ সালে আলোচিত আরেকটি ঘটনা ছিল সাড়ে চার বছর পর মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারীর দেশে ফেরার ঘটনা। পারিপার্শ্বিক কারণ ও গবেষণার কাজের জন্য ২০২০ সালে দেশ ছাড়লেও আওয়ামী দুঃশাসনেরকালে তাকে আর দেশে ফিরতে দেখা যায়নি।

৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটলে ২ অক্টোরব দেশে ফেরেন তিনি। এক সপ্তাহ দেশে থেকে আবারো মালয়েশিয়ান যান। এবার ২৬ ডিসেম্বর দেশে ফিরে মাহফিলে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। দেশের প্রত্যেকটি বিভাগে মাহফিলে অংশ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) কক্সবাজারের পেকুয়ায় এক মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বয়ান করেন তিনি। রাত সাড়ে ৯টায় মঞ্চে ওঠেন ড. মিজানুর রহমান আজহারী। ৯টা ৩৫ মিনিট থেকে রাত ১০টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত প্রায় দেড় ঘণ্টা বয়ান করেন তিনি। মাহফিলে কয়েক লাখ মানুষের সমাগম হওয়ায় অতিরিক্ত মানুষের চাপে দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মোবাইল ইন্টারনেটসেবা কিছুটা ব্যহত হয়।

মাহফিলে বক্তাদের অসংযত বক্তব্য

২০২৪ সালে আলোচিত ও সমালোচিত ঘটনার তালিকায় উঠে এসেছে মাহফিলের মঞ্চে বক্তাদের অসংযত বক্তব্য। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাহফিলের মঞ্চে বক্তাদের বক্তব্যে বরাবরই অসংযত বক্তব্য দিতে দেখা গেছে। যা ধর্মপ্রাণ মানুষদের বিব্রত করেছে। এর কারণে মাহফিলের ভাবগাম্ভীর্যও ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

এ বছর মাহফিলের মঞ্চে সিনেমার নায়িকার নাম উচ্চারণ করে বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন বক্তা আমির হামজা। সর্বশেষ ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। মাহফিলের মঞ্চে পুলিশের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন ইসলামী বক্তা তাহেরীও। পরবর্তীতে এক মাহফিলে পুলিশের আগমনের কারণে তার পালিয়ে যাওয়ার সংবাদও এসেছিল গণমাধ্যমে।

হজের খরচ ও হাজীদের মৃত্যু

২০২৪ সালে মাত্রাতিরিক্ত হজের খরচের বিষয়টি ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। কোটা খালি রেখে শেষ হয় এ বছরের হজের নিবন্ধন। হজের সময় অতিরিক্ত তাপমাত্রার ফলে অধিক সংখ্যায় হজযাত্রীর মৃত্যু ঘটে এ বছর। এবার হজে ৬৫ জন বাংলাদেশি মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়।

আগস্টে ক্ষমতার পালাবদলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আসেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি হজের খরচ কমানোর জন্য দুটির বদলে তিনটি প্যাকেজ ঘোষণা করেন খাবার খরচ ছাড়াই।

সরকারি এ হজ প্যাকেজ ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া জানায় বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলো। তাদের দাবি, হজের খরচ কমেনি, বরং বেড়েছে। তবে হজ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, সৌদি রিয়ালের দাম বেড়ে যাওয়ায় হজ খরচ বেশি একটা কমানো যায়নি।

এছাড়া, বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোর সংগঠন ‘হজ এজেন্সিজ অব এসোসিয়েশন বাংলাদেশ (হাব)-এর কমিটি ভেঙে দেয়া হয় দুর্নীতির অভিযোগে। এরপর হাব দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। হাবে সরকার থেকে প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে প্রতিবাদ জানায় সংগঠনটির একাংশ। এরপর বেসরকারি হজ প্যাকেজ নিয়ে পাল্টাপাল্টি ঘোষণা দিতেও দেখা যায়।

 বিভিন্ন জায়গায় মাজারে হামলার ঘটনা

আগস্টে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় মাজারে হামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় মানুষজন হতাহতও হন। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইভেন্ট খুলেও মাজার ভাঙার আহ্বান জানাতে দেখা যায়।

এক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জের দেওয়ানবাগ মাজারে হামলার ঘটনা এবং সিলেটের শাহপরান মাজারে গান-বাজনা নিষিদ্ধ করার ঘটনা বেশি আলোচিত ছিল। গুলিস্তানের গোলাপশাহ মাজার ভাঙার জন্য ফেসবুকে প্রচারিত একটি ইভেন্ট দেশব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

ইসলামী বইমেলা

২০২৪ সালে অন্যতম আলোচিত ও নজরকাড়া বিষয় ছিল এবারের ইসলামী বইমেলা। প্রতি বছর রবিউল আওয়াল মাসে ইসলামী বইমেলা সংঘটিত হলেও এবার কিছুটা দেরিতে হয়েছিল ইসলামী বইমেলা। এবার ইসলামী বইমেলা হবে কিনা তা নিয়েও সংশয় দেখা দেয়। দীর্ঘ দিন ইসলামী বইমেলা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় প্রতিবাদ জানায় ইসলামী প্রকাশনীগুলো।

এর প্রেক্ষিতে এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গীকে সাজানো হয় বইমেলা। বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের পরিবর্তে বায়তুল মোকাররমের পূর্ব চত্বরে সাজানো হয়  ইসলামী বইমেলার পূর্ণ আয়োজন। দক্ষিণ গেটে রাখা হয় হকারদের প্রকাশনীগুলো।

এবারের ইসলামী বইমেলা সবার দৃষ্টি আকষর্ণ করতে সক্ষম হয়। এবারের মেলায় মোট ১৫১টি স্টল স্থান পেয়েছে। মেলায় পবিত্র কোরআনের অনুবাদ, তাফসীর, হাদিসগ্রন্থসহ ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর মৌলিক ও গবেষণামূলক বিভিন্ন বই ছিল মেলায়। এছাড়াও মেলায় প্রকাশিত হয়েছে জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে একাধিক ম্যাগাজিন।

জুলাই বিপ্লবে হতাহত ও ফেনীর বন্যার্তদের পাশে আস-সুন্নাহ

স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের পর ভয়াবহ বন্যায় আক্রান্ত হয় ফেনী জেলা। বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন। তাৎক্ষণিক ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল ফেনীতে ৭১ কোটি টাকার পুনর্বাসন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন। ৪২ হাজার আবেদনকারীর মধ্যে যাচাই-বাছাই করে ১০ হাজার পরিবারকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এছাড়াও জুলাই বিপ্লবে হতাহতদের চিকিৎসাসেবায় এ পর্যন্ত ৫ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন। এ ফাউন্ডেশন পরবর্তীতে আরও ৫ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে।

‘কোনো মানুষই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়’, আখতারুজ্জামানের পক্ষে জামায়াত আমীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ
‘কোনো মানুষই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়’, আখতারুজ্জামানের পক্ষে জামায়াত আমীর

‘কোনো মানুষই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়’- মন্তব্য করে গ্রেপ্তার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমান।

রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে শফিকুর রহমান লেখেন, বিমানবন্দরে যাত্রী সাধারণের দুর্ভোগ-ভোগান্তি, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, অনিয়ম ও অন্যায় কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আখতারুজ্জামান আওয়াজ তুলেছেন। কার্যত তিনি ভুক্তভোগী যাত্রী সাধারণ, বিশেষ করে বিদেশফেরত প্রবাসীদের প্রতিবাদের কণ্ঠে পরিণত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, তার এই প্রতিবাদকে আমলে নিয়ে দুর্বলতাগুলো সংশোধন করার পরিবর্তে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমনকি দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে জনসম্মুখে অপমানিত করার নানা হীন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও লেখেন, ‘জনগণ অন্ধ নয়, সবই দেখছে।’ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আখতারুজ্জামান বীরত্বের প্রমাণ দিয়েছেন এবং ভুক্তভোগী মানুষের হৃদয়ের বীরে পরিণত হয়েছেন বলেও দাবি করেন জামায়াতের আমীর।

শেষে আখতারুজ্জামানের জন্য দোয়া করে শফিকুর রহমান লেখেন, ‘আল্লাহ তায়ালা তার সম্মান বৃদ্ধি করুন। আমীন।’

এর আগে গত ১ অক্টোবর বিমানবন্দরে অব্যবস্থাপনা, লাগেজ ট্রলির সংকট, লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং জমজমের পানি না আসাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি হুমকি-ধামকির পর্যায়ে পৌঁছায়।

পরে বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে হেনস্তার অভিযোগে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএসের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

পরদিন শনিবার প্রিজনভ্যানে করে তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতে নেওয়ার সময় মাথায় নিরাপত্তা হেলমেট পরানো হয়। আদালতে নেওয়ার সময় হেলমেট পরার প্রতিবাদ করেন আখতারুজ্জামান। পরে তিনি হেলমেট খুলে ফেলে দেন।

প্রিজনভ্যান থেকে নামার সময় তিনি বলেন, ‘আমি হেলমেট পড়বো না। আমাকে অন্যায়ভাবে-অবৈধভাবে হেলমেট পরানো হচ্ছে। আমি আওয়ামী লীগ না। হালের হেলমেট এখন আওয়ামী লীগের ফ্যাশন হয়েছে। আমাকে হাতকড়া পরান।’ এরপর দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য তার হাতে হাতকড়া পরান।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর পরই ইরানে মার্কিন সেনা!

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ
মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর পরই ইরানে মার্কিন সেনা!

ইরানের বিপক্ষে বড় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে নভেম্বর মাসে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে সেনা মোতায়েনের বিষয় বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। গালফ নিউজের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট মনে করেন ইরানে সেনা পাঠানোর ক্ষেত্রে তার ‘হারানোর কিছু নেই’। ট্রাম্পের একাধিক হুমকি ও সেনা মোতায়েন নিয়ে অবশ্য তেমন উদ্বিগ্ন নয় ইরান। দেশটির মেহের নিউজের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন হামলার কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

গত শুক্রবার রাতে এক জনসভায় ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধও করে দেয়, তবুও ইরানের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে লেগে যাবে কয়েক বছর। ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমরা আগামীকালই চলে আসতে পারি; কিন্তু তাদের যে ক্ষতি করেছি, তা পুষিয়ে উঠতে তাদের কয়েক বছর সময় লাগবে। কারণ, তারা কোনো সমঝোতায় আসতে চায়নি। তারা তাদের চাল চেলেছিল; তবে তারা অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছিল।’

এরই মধ্যে ইরানের কাছাকাছি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্টের নেতৃত্বে একটি স্ট্রাইক গ্রুপ মোতায়েন করছে বলে আলজাজিরাকে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ অষ্টম মাসে গড়িয়েছে এবং উভয় পক্ষ সংঘাতের তীব্রতা বাড়ানো কিংবা কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

ইরানে নতুন করে সেনা মোতায়েন
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র এক মাস আগে পাঠানো হচ্ছে আরও হাজার হাজার সেনা। দেশটির আশপাশে নতুন করে প্রায় ১০ হাজার সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন। একজন মার্কিন কর্মকর্তা আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, ‘ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট’ ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপটি গত রবিবার স্যান ডিয়েগো ঘাঁটি থেকে ওই অঞ্চলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এর ঠিক এক দিন পর ‘মার্কিন আইল্যান্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট’ (এমইইউ), যেটিতে ২ হাজারের বেশি মেরিন সেনা রয়েছেন, সেটিও একই পথে যাত্রা করেছে। ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’- এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই স্ট্রাইক গ্রুপ ও নৌবাহিনীর মোতায়েন প্রক্রিয়ায় সব মিলিয়ে যুক্ত হতে পারে অতিরিক্ত ৯-১০ হাজার মার্কিন সেনা। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ ও অন্যান্য জাহাজে নিয়োজিত নাবিক ও মেরিন সেনাও।

জবাব দিতে প্রস্তুত ইরান
যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ‘ট্রিগারে আঙুল রেখে’ হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে তারা। মেহের নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বা আঞ্চলিক হুমকি, আগ্রাসন কিংবা ভুল পদক্ষেপের মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত আইআরজিসি। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনা এবং অবস্থান সম্পর্কে আইআরজিসির কাছে বিস্তারিত গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে এবং যেকোনো উসকানির জবাবে তারা “অত্যন্ত কঠোর, তাৎক্ষণিক, বেদনাদায়ক এবং ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ২’-এর চেয়েও অধিক প্রাণঘাতী” পাল্টা ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ২’ ছিল ২০২৪ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলের ওপর ইরানের চালানো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। সে সময় তেহরান নিক্ষেপ করেছিল প্রায় ২০০টি ক্ষেপণাস্ত্র। আইআরজিসি স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছে, নতুন কোনো সংঘাতের ঘটনা ঘটলে তার জবাবে যে পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা ওই হামলার চেয়েও অনেক বড় ও অধিক প্রাণঘাতী হতে পারে।

সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের ফু-ওয়াংসহ চার বারে অভিযান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৬ অপরাহ্ণ
সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের ফু-ওয়াংসহ চার বারে অভিযান

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নূর ইসলামের মালিকানাধীন ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডসহ রাজধানীর চারটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কয়েকটি সংস্থা।

শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে গুলশানের র-ক্যানভাস রেস্তোরাঁ, হাবিব হোটেল ইন্টারন্যাশনাল, মার্গারিটা লাউঞ্জ ও ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডে অভিযান শুরু হয়।

অভিযানের কারণ

শনিবার সন্ধ্যায় এনবিআরের বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনার কথা জানায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)।

সিআইআইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকার কিছু বার, রেস্তোরাঁ, ডিপ্লোম্যাটিক বন্ডেড ওয়্যারহাউজ ও ডিউটি ফ্রি শপে অবৈধ উৎস থেকে অ্যালকোহল বা অ্যালকোহলজাত পণ্য সংগ্রহ, শুল্ক-মূসক ও আয়কর ফাঁকি এবং অননুমোদিত গ্রাহকের কাছে এসব পণ্য সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ অনুসন্ধানে সিআইআইডি চারটি দল গঠন করে।

অভিযানে এসব দলের সঙ্গে এনবিআরের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল, মূসক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং ঢাকা উত্তর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন।

এনবিআর সূত্রের দাবি, ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের মালিক শেখ নুরুল ইসলাম। তবে ফু-ওয়াং কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে শেখ নুর ইসলাম বা তাঁর পরিবারের কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই।

অভিযান শেষে প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য ও সার্বিক ফলাফল জানাতে শনিবার রাতে সংবাদ সম্মেলন করবে এনবিআর। রাত সাড়ে ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিচতলায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার শুল্কমুক্ত মদ মজুদের অভিযোগে সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুরুল ইসলামের চারটি গুদাম সিলগালা করা হয়।

‘কোনো মানুষই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়’, আখতারুজ্জামানের পক্ষে জামায়াত আমীর মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর পরই ইরানে মার্কিন সেনা! সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের ফু-ওয়াংসহ চার বারে অভিযান একযোগে ১১ পুলিশ কর্মকর্তাকে ঢাকার বাইরে বদলি 'কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিএনপি নেতার মৃত্যু