খুঁজুন
রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ২৭ বৈশাখ, ১৪৩৩

মোদির ‘এক দেশ এক ভোট’ নীতি নিয়ে কেনো বিতর্ক ?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ২:৪২ অপরাহ্ণ
মোদির ‘এক দেশ এক ভোট’ নীতি নিয়ে কেনো বিতর্ক ?

ভারতে ‘এক দেশ, এক ভোট’ (ওয়ান নেশন ওয়ান ভোট) ব্যবস্থাকে বাস্তবায়িত করার পথে একধাপ অগ্রসর হলো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার। সাবেক রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নেতৃত্বাধীন উচ্চ পর্যায়ের কমিটির সুপারিশ মেনে নিয়ে বুধবার এ প্রস্তাব পাশ করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। একই সঙ্গে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন করার উদ্দেশ্যে এই ব্যবস্থা।

কোবিন্দের নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী প্রথম দফায় লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলোর নির্বাচন একসঙ্গে হবে। দ্বিতীয় দফায় ভোট গ্রহণ করা হবে পুরসভা ও পঞ্চায়েতে। প্রথম ও দ্বিতীয় দফার মধ্যে সর্বাধিক ব্যবধান হতে পারে ১০০ দিনের। সব নির্বাচনের জন্য একটি ভোটার তালিকা নির্ধারিত করার সুপারিশ মেনে নিয়েছে কেন্দ্র।

এই পদক্ষেপ অনুযায়ী ২০২৯ সালে যে লোকসভা নির্বাচন হওয়ার কথা, তার সঙ্গে রাজ্যগুলোর বিধানসভা নির্বাচন সেরে ফেলতে হবে। কিন্তু ২০২৯ সালে লোকসভার মেয়াদ শেষ হলেও সব রাজ্য বিধানসভার মেয়াদ ফুরোবে না।

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট হবে ২০২৬ সালে। পাঁচ বছর পর ২০৩১ সালে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। অন্যান্য অনেক রাজ্যের ক্ষেত্রে একই সমস্যা রয়েছে। সেক্ষেত্রে কীভাবে পাঁচ বছর পর একযোগে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন দেশজুড়ে সম্পন্ন হবে, তা স্পষ্ট করতে পারেনি কেন্দ্রীয় সরকার।

মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, সরকার দেশ জুড়ে এ বিষয়ে মতৈক্য গড়ে তোলার উদ্যোগ নেবে, সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। এরপর শুরু হবে সুপারিশ বাস্তবায়নের আইনি প্রক্রিয়া। তার দায়িত্ব দেয়া হবে একটি বিশেষ কমিটিকে। তবে ২০২৯-এ সব রাজ্যের বিধানসভার মেয়াদ না ফুরোলে কী একত্রে ভোট হবে, এই প্রশ্নের সদুত্তর বৈষ্ণব দিতে পারেননি।

মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার কিছু পরেই এক্স হ্যান্ডেলে নিজের মত জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে তিনি এক দেশ এক ভোট নীতির উদ্দেশ্য সম্পর্কেও বলেন। লেখেন, দেশের গণতন্ত্রকে আরো জোরালো ও সকলের অংশগ্রহণের পক্ষে অনুকূল করে তোলার লক্ষ্যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

সাবেক রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বাধীন কমিটি ৪৭টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা বলেছিল। এ নিয়ে আগেই আপত্তি জানিয়েছে ১৫টি দল। এর মধ্যে রয়েছে কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি, তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি।

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গে বলেছেন, সরকারের এই পদক্ষেপ সংবিধান, গণতন্ত্র ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিরোধী। দেশের জনতা একে সমর্থন করবে না। এর মাধ্যমে আসল সমস্যা থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

তৃণমূলের সংসদ সদস্য ডেরেক ও ব্রায়েনের বলেন, এটা গণতন্ত্র বিরোধী বিজেপির একটা চমক। এর আগে বিজেপি যেমন ভুয়া প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এটাও সেরকমই একটা উদ্যোগ।

বিজেপি বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শরিকরাও কেন্দ্রের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব বলেন, বিজেপি আগে তাদের নিজেদের সাংগঠনিক স্তরে সব নির্বাচন একসঙ্গে করুক। তারপর দেশের কথা ভাবা যাবে।

বিরোধীদের প্রশ্ন, কেন্দ্র যেখানে একযোগে ভোট করানোর কথা বলছে, সেখানে হরিয়ানা ও জম্মু-কাশ্মীরের বিধানসভা নির্বাচনের সঙ্গে কেন উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও ঝাড়খণ্ডের বিধানসভা আসনগুলোর উপনির্বাচন করা হচ্ছে না?

প্রধানমন্ত্রী এই পদক্ষেপকে গণতন্ত্রের পক্ষে ইতিবাচক বললেও বিরোধীরা এ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।

অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্ম (এডিআর)-এর পশ্চিমবঙ্গ শাখার সঞ্চালক উজ্জয়িনী হালিম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর এটা পরোক্ষ আঘাত। আঞ্চলিক দলগুলোর জন্য খারাপ খবর। মানুষ ভিন্ন ভিন্ন নির্বাচনের সময়, ভিন্ন ইস্যুতে ও ভিন্ন নিরিখে ভোট দেয়, এটা নানা গবেষণা থেকে প্রমাণিত। একসঙ্গে নির্বাচন হলে ভোটারদের একটা দলকে ভোট দেওয়ার প্রবণতা বাড়ে, তাদের ভোটদান একপ্রকার প্রভাবিত হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক শুভময় মৈত্র বলেন, সরকার সবসময় পাঁচ বছর থাকে না, মাঝপথে ভেঙে যায়। অনাস্থা এলে সরকারের পতন হতে পারে। নতুন নীতিতে মাঝেমধ্যে নির্বাচন হওয়ার বিষয়টিকে কেন্দ্র নিরুৎসাহিত করছে। এটা গণতন্ত্রের পরিসরকে কমিয়ে আনতে পারে বলে বিরোধীরা মনে করছেন।

এদিকে শাসক-শিবিরের পক্ষ থেকে দুটি যুক্তি জোরালোভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। প্রথমত, সারা দেশে একযোগে নির্বাচন হলে খরচ অনেকটাই কমবে। আলাদা আলাদা নির্বাচন করার ব্যয় বেশি।

উজ্জয়িনী হালিম বলেন, বড় দলগুলো নির্বাচনে যেভাবে সারা দেশে খরচ করতে পারবে, ছোট দল তাদের সামনে কোথায় দাঁড়াবে! নির্বাচনের খরচ কমানোর জন্য দরকার রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর লাগাম টানা। খরচ কমানোর জন্য আরো অনেক পথ অবলম্বন করা যায়, এক দেশ এক নির্বাচনে তা হবে না।

শাসক শিবিরের দ্বিতীয় জোরালো যুক্তি, একযোগে নির্বাচন উন্নয়নের কাজকে মসৃণ করবে। বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন সময়ে ভোট হলে উন্নয়নের গতি থমকে যেতে পারে নির্বাচনী আচরণবিধির জন্য।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মইদুল ইসলাম ডয়চে ভেলে’কে বলেন, আলাদা ভোট হলে উন্নয়ন থমকে থাকবে না। ১৯৬৮-২০২৪ পর্যন্ত তো উন্নয়ন হয়েছে, যে সময়ে একসঙ্গে নির্বাচন হয়নি। নতুন নিয়মের ফলে জাতীয় দল বা কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দল বিরোধী এবং আঞ্চলিক দলগুলির তুলনায় বেশি সুবিধা পেতে পারে।

হালিমের মতে, আচরণবিধির জন্য উন্নয়ন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, এই যুক্তি মানা যায় না। যে কোনো রাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাস দেখুন, পাঁচ বছরে কতবার ভোট হয়েছে আর তার জন্য উন্নয়নের কাজ কতটা থেমেছে? অন্য সময় উন্নয়নের গতি কি খুব সাবলীল?

আপিল বিভাগে আইভীর জামিন বহাল, মুক্তিতে বাধা নেই

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ২:৪০ অপরাহ্ণ
আপিল বিভাগে আইভীর জামিন বহাল, মুক্তিতে বাধা নেই

হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা ১০ মামলায় নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। ফলে তার মুক্তিতে আপাতত কোনও বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন খারিজ করে রবিবার (১০ মে) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

আদালতে আইভীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. মোতাহার হোসেন সাজু।

এর আগে ২০২৫ সালের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার চুনকা কুটির থেকে সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরবর্তীতে হাইকোর্ট পাঁচ মামলায় তাকে জামিন দেন।

তবে আপিল বিভাগে সেই জামিন স্থগিত হয়ে যায়। এর মধ্যে গত ১৮ নভেম্বর আরও পাঁচ মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তাকে জামিন দেন।

হামে মৃত্যু: ইউনূস ও নূরজাহানসহ জড়িতদের শাস্তির দাবি

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ১০:৫২ অপরাহ্ণ
হামে মৃত্যু: ইউনূস ও নূরজাহানসহ জড়িতদের শাস্তির দাবি

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে অস্বাভাবিক মৃত্যুতে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেছেন, ইউনূস সরকারের গাফিলতিতে এ ঘটনা ঘটছে।

হামে তিনশতাধিক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর কারণে শনিবার (৯ মে) রাজধানীর পুরান পল্টন মোড়ে ইউনূস সরকার ও নূরজাহান বেগমসহ জড়িতদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে তিনি এ কথা বলেন।

রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, বাংলাদেশ অনেক দিন ধরে বিশ্বের মধ্যে নানা বিষয় শিশুদের টিকাদান কর্মসূচিতে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী হয়েছে। আজ ইউনূস সরকারের অবহেলায় শিশুগুলোর মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। অথচ সরকার রহস্যজনক কারণে দোষীদের বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে। এজন্য তিনি ইউনূস সরকার ও নূরজাহান বেগমসহ জড়িত সংশ্লিষ্টদের বিচার দাবি করেন।

এই নেতা বলেন, জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দল মিলিয়ে অনেক অপ্রয়োজনীয় হাস্যরসের কথা বলে সময় নষ্ট করলেও এ ধরনের জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা হলো না।

তিনি বলেন, হামে আক্রান্ত হওয়ার পর পর্যাপ্ত আইসিইউ সাপোর্ট না দেওয়ার কারণে অনেক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পরপর সরকার আইসিইউ সাপোর্ট দেওয়ার জন্য পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে অনেক শিশুর মৃত্যু এড়ানো যেত।

রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, দেশে বেকারত্ব ও দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। চিকিৎসা নিতে জায়গা জমি বেচার কারণে প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়ে যাচ্ছে।

সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত সরকারি হাসপাতাল গড়ে তোলার জন্য তিনি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যব্যবস্থা বেসরকারিকরণের নামে অপ্রয়োজনীয় ডায়গনস্টিক সেন্টার ও মানহীন হাসপাতাল গড়ে উঠেছে। এগুলো দেখার কেউ নেই। তিনি চিকিৎসার নামে ব্যবসা কঠোরভাবে নিষিদ্ধের দাবি জানান।

সংগঠনের পল্টন শাখার সম্পাদক রফিজুল ইসলাম রফিকের সভাপতিত্বে ও সহসম্পাদক রবিউল ইসলাম রবির সঞ্চলনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- সিপিবি ঢাকা মহানগরের সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য ত্রিদিব সাহা, সিপিবি পল্টন থানার সভাপতি মুর্শিকুল ইসলাম শিমুল, বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াত প্রমুখ।

বাংলাদেশ কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল হবে না: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৯:৪৪ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল হবে না: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

বাংলাদেশ বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, ভারসাম্য ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে সরকার এমন একটি পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করবে, যা হবে বহুমাত্রিক, নমনীয় এবং কোনো নির্দিষ্ট দেশকেন্দ্রিক নয়।

শনিবার (৯ মে) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে শান্তি ও নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (বিআইপিএসএস) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট: এ ফরেন পলিসি আউটলুক ফর এ নিউ বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং একক শক্তির আধিপত্যের যুগ শেষের পথে। এই নতুন বাস্তবতায় বাংলাদেশকে কৌশলগতভাবে নমনীয় ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিতে হবে। বাংলাদেশ সব দেশের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক রাখবে, তবে কোনো দেশের ওপর এককভাবে নির্ভরশীল হবে না। জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণই হবে সরকারের মূল লক্ষ্য।

অর্থনৈতিক কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি জানান, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, জ্বালানি নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে সরকার কাজ করছে। বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের মধ্যে একটি অর্থনৈতিক সেতুবন্ধন হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট পক্ষ না নিয়ে বাণিজ্য, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে অংশ নেবে।

অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, একটি দেশের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে তার সুশাসন ও গণতন্ত্রের ওপর। বাংলাদেশ আর কখনো স্বৈরাচার ও দুঃশাসনের অন্ধকার সময়ে ফিরে যাবে না। সরকার দেশে জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অনুষ্ঠানে বিআইপিএসএস প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব.) আ ন ম মুনিরুজ্জামান বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের এই সময়ে অর্থনৈতিক কূটনীতি ও বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। এছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক সামুদ্রিক নিরাপত্তায় সরকারকে আরও উদ্ভাবনী কৌশল গ্রহণের পরামর্শ দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিআইপিএসএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো শাফকাত মুনিরের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে আলোচনা সমাপ্ত হয়। এতে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আপিল বিভাগে আইভীর জামিন বহাল, মুক্তিতে বাধা নেই হামে মৃত্যু: ইউনূস ও নূরজাহানসহ জড়িতদের শাস্তির দাবি বাংলাদেশ কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল হবে না: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জনগণ এমন রাষ্ট্র চায়, যেখানে অবিচার অনাচার থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী শিশুকে যৌন নিপীড়ন, শ্রীলঙ্কার শীর্ষ বৌদ্ধ ভিক্ষু গ্রেফতার