ছাত্র-জনতার তিব্র আন্দোলনের মুখে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় দেশে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক।
বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এ আহ্বান জানান।
সাবেক এই বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ আরও বলেন, নিজেদের কৃতকর্মের জন্য বাংলাদেশের মাটিতে আওয়ামী লীগ আর কোনো দিন নিজেদের নাম নিয়ে আসতে পারবে না।
ডামি নির্বাচন কমিশন আর কোনো দিন দেশে আসবে না মন্তব্য করে ফারুক বলেন, প্রধান উপদেষ্টার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মারা আবারও ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।
এ সময় নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠকের মাধ্যমেই নির্বাচন কখন হবে সেটি নির্ধারণ হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলের নির্বাচনী আসন সমঝোতা বিষয়ে পূর্বঘোষিত সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা সোয়া ২টার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় জামায়াতে ইসলামী।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘আজ ১৪ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টায় ১১ দল ঘোষিত সংবাদ সম্মেলন অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ১১ দলের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, অনিবার্য কারণেই সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। এখনো কিছু প্রস্তুতি বাকি রয়েছে। পরবর্তী সময়ে সংবাদ সম্মেলনের তারিখ জানানো হবে।
এর আগে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক আমন্ত্রণপত্রে জানানো হয়েছিল, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলের আসন সমঝোতা বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার লক্ষ্যে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি)-এর মুক্তিযোদ্ধা হলে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এতে ১১ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকার কথা ছিল।
বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা বলেছেন, বর্তমানে বাংলাদেশ কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
স্থানীয় সময় ১১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ার ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে ‘আসন্ন নির্বাচন-২০২৬ এবং নাগরিক সমাজের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এই আলোচনা সভার আয়োজন করে ইউএস বাংলাদেশ অ্যাডভোকেসি কাউন্সিল।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউএস বাংলাদেশ অ্যাডভোকেসি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন মাহমুদ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন হাসান চৌধুরী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা। প্রধান বক্তা ছিলেন নিউ জার্সির মনমাউথ ইউনিভার্সিটির ডিন অধ্যাপক ড. গোলাম এম মাতবর।
সাবেক রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র দীর্ঘকাল ধরে ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসনের কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এখন নাগরিকদের সামনে ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে নিজেদের নেতা বেছে নেওয়ার এক ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভোটাররা যেন ভয়ভীতি বা কোনো প্রলোভনে পা না দেন, তিনি সেই আহ্বান জানান।
বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ের স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে তাকে তৎকালীন সরকারের বিরাগভাজন হতে হয়েছিল, কিন্তু তিনি পিছপা হননি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ফলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পরিবেশ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বাংলাদেশের এই যাত্রায় পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে; কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।’
গাজায় চলমান যুদ্ধের পুরো সময়জুড়ে ইসরায়েলকে সরাসরি সামরিক, গোয়েন্দা ও লজিস্টিক সহায়তা দিতে লোহিত সাগরে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের একটি প্রস্তাব দিয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরকার।
ফাঁস হওয়া একটি গোপন নথিতে এ তথ্য উঠে এসেছে। ‘এমিরেটলিকস’ নামের একটি অনুসন্ধানী প্ল্যাটফর্ম নথিটি সংগ্রহ করেছে বলে দাবি করেছে।
নথিটির তারিখ অক্টোবর ২০২৩। এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সশস্ত্র বাহিনীর যৌথ অভিযান কমান্ডের উদ্দেশে লেখা। নথিটির লেখক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে হামদান বিন জায়েদ আল-নাহিয়ানের নাম। তিনি আল-ধাফরা অঞ্চলের প্রতিনিধি ও ইউএই রেড ক্রিসেন্ট কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান।
নথির শুরুতেই বলা হয়েছে, ‘৭ অক্টোবরের সন্ত্রাসী হামলার’ প্রেক্ষাপটে এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ‘ঐতিহাসিক চুক্তির’ আলোকে ইসরায়েলকে সহায়তার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, যৌথ অভিযান কমান্ডের নির্দেশ অনুযায়ী দক্ষিণ লোহিত সাগর অঞ্চলে অবস্থিত ইউএই সামরিক ঘাঁটিগুলো, যেমন- ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে আল-মোখা, ইরিত্রিয়ার মাসাওয়া ও আসাব এবং সোমালিয়ায় থাকা ঘাঁটিগুলো—ব্যবহার করে ইসরায়েলকে সহায়তা দেওয়ার দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়া হয়। বিশেষ করে ইয়েমেনে অবস্থিত ঘাঁটিগুলোকে ইসরায়েলকে সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম ও সক্ষমতা দিয়ে প্রস্তুত করার কথা এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
নথিতে সরাসরি বলা হয়েছে, ‘ফিলিস্তিনে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইসরায়েলকে শক্তিশালী করা’ এবং ‘সন্ত্রাসীরা পরাজিত না হওয়া পর্যন্ত’ এই সহায়তা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে ‘সামাজিক সংহতি’ বাড়াতে তথাকথিত ‘কমিউনিটি উদ্যোগ’ চালু রাখার কথাও বলা হয়েছে।
ফাঁস হওয়া নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, ‘সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম, গোয়েন্দা তথ্য আদান–প্রদান এবং সামরিক প্রযুক্তি’ ক্ষেত্রে ইসরায়েলের সঙ্গে ‘ঘনিষ্ঠ, সমন্বিত ও সমন্বয়পূর্ণ’ সহযোগিতা জোরদার করার আহ্বান। এতে নিশ্চিত করা হয়েছে, ইসরায়েলকে এক বিলিয়ন ডলার মূল্যের গোয়েন্দা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সরবরাহ করা হয়েছে।
নথির একটি অংশে কাতারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। সেখানে হামাসকে কাতারের সমর্থনের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, কুয়েতও ‘কাতারের সঙ্গে মিলিত হয়ে’ ফিলিস্তিনে যুদ্ধরত গোষ্ঠীগুলোকে ‘বিপুল আর্থিক সহায়তা’ দিচ্ছে। এটিকে ইউএইর রাষ্ট্রীয় নীতির সঙ্গে এবং কুয়েতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ‘স্পষ্ট বিরোধিতা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
নথিতে আরও বলা হয়, ইসরায়েলের সঙ্গে ইউএইর পূর্ববর্তী সম্পর্ক এমন যে, তা দেশটিকে সহযোগিতা ও সংকট–সচ্ছলতা উভয় সময়েই পাশে দাঁড়াতে বাধ্য করে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউএই ও ইসরায়েলের মধ্যে সাংস্কৃতিক, কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং ২০২০ সালের ‘ঐতিহাসিক চুক্তি’র পর থেকে এই সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ২০২০ সালে স্বাক্ষরিত আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে ইউএই আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। এরপর থেকে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব সৌদি আরবসহ অন্যান্য আরব দেশকে এই চুক্তিতে যুক্ত করতে চাপ দিয়ে আসছে।
এর আগেও, ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেন যুদ্ধ শুরুর পরবর্তী সময়ে, ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ইয়েমেনের বিভিন্ন বন্দর, দ্বীপ ও নৌপথে বিস্তৃত সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলে ইউএই সেনাবাহিনী। একইভাবে সোমালিয়ার উপকূলবর্তী এলাকাতেও ইউএই সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করে।
গাজায় গণহত্যা শুরু হওয়ার পর থেকে আবুধাবি ইসরায়েলের সঙ্গে কৌশলগত সামরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করেছে। বর্তমানে ইউএই ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় আরব বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবেও বিবেচিত।
২০২৪ সালে অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম ‘বালকান ইনসাইট’ প্রকাশ করে, ইউএই–সংযুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান ইয়ুগোইমপোর্ট–এসডিপিআর সামরিক বিমানের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৭১ লাখ ডলারের অস্ত্র ইসরায়েলে রপ্তানি করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব অস্ত্র সরাসরি গাজায় চলমান গণহত্যায় ব্যবহৃত হয়েছে।
এ ছাড়া ইউএইভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো সাবেক মোসাদ প্রধানের সহ-প্রতিষ্ঠিত সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সএম সাইবারের সঙ্গে চুক্তি করেছে, যার লক্ষ্য জাতীয় জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এক্সএম সাইবার ইসরায়েলের শীর্ষ সামরিক প্রতিষ্ঠান রাফায়েলসহ অন্যান্য এলিট প্রতিরক্ষা কোম্পানির সঙ্গে একটি কনসোর্টিয়ামের অংশ হিসেবে কাজ করছে, যা উপসাগরীয় অঞ্চলের সংবেদনশীল জ্বালানি, তেল ও তথ্যখাতকে লক্ষ্য করে।
এদিকে ইউএইর রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা জোট ‘এজ’ ইসরায়েলের শীর্ষ অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রাফায়েল ও ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (আইএআই)-এর শেয়ার ধারণ করে বলেও নথি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
আপনার মতামত লিখুন