খুঁজুন
রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

একের পর এক অপরাধের জন্য কলকাতার টিভি সিরিয়ালকে দায়ী করলেন মমতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৪, ১১:৩৫ অপরাহ্ণ
একের পর এক অপরাধের জন্য কলকাতার টিভি সিরিয়ালকে দায়ী করলেন মমতা

পশ্চিমবঙ্গে একের পর এক ধর্ষণ ও হত্যা, প্রকাশ্যে গুলি চালানোসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনার জন্য সিনেমা ও টিভি সিরিয়ালগুলোকে দায়ী করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয় ইউটিউব, ফেসবুকে প্রচারিত বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ ভিডিও এর জন্য দায়ী বলে মনে করছেন মুখ্যমন্ত্রী।

রবিবার (৬ অক্টোবর) কলকাতা পুলিশের আবাসিক পূজার উদ্বোধন করেন মমতা। সেসময় তিনি বলেন, ইউটিউবের প্রভাব পড়ছে শিশুদের মধ্যে। সেখান থেকে খারাপগুলো শিখছে।

পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, টেলিভিশনে যত সিরিয়াল দেখবেন সেখানেও একাধিক অপরাধমূলক দৃশ্য দেখায়। যত সিনেমা রিলিজ হচ্ছে তাতেও ক্রাইম সিনে ভর্তি। আমি সিনেমাকে ছোট করছি না, বাংলা সিনেমা আরো বেশি করে বাড়ুক, এটা আমি চাই। কিন্তু টিভিতে সিরিয়ালগুলিতে ক্রাইমে ভর্তি থাকার কারণে আমিও দেখতে পারি না, টিভিটা বন্ধ করে দিই। এই ক্রাইম দেখে অনেকে সেই ক্রাইমগুলো অনুসরণ করে।

মমতার প্রশ্ন, কীসের জন্য এত ক্রাইম দেখানো হবে? সমাজকে কেন অবক্ষয়ের পথে নিয়ে যাচ্ছেন! তাদের কি দায়বদ্ধতা নেই? শুধু পুলিশকে গাল দিলেই হবে? আমাকে গাল দিলেই হবে? আপনাদের নিজেদের দায়বদ্ধতা কোথায়?

গত ৯ আগস্ট কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে শিক্ষানবিশ নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার করা হয়। এরপর গত ২ মাস ধরে একাধিক ঘটনা ঘটে চলেছে রাজ্যটিতে।

শুক্রবার (৪ অক্টোবর) রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার জয়নগরের এক ৯ বছরের ছাত্রীর সঙ্গে ঠিক একই ধরনের জঘন্যতম ঘটনা ঘটে। ঠিক তার একদিন পর শনিবার(৫ অক্টোবর) পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুরে এক নারীকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। এরপর অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ধরে গণপিটুনি দেয় স্থানীয় উত্তেজিত মানুষ। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যু হয় অভিযুক্তের।

এইসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের এই মন্তব্য। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে দু-একটা ঘটনা কখনো ঘটে গেলে চিৎকার চেঁচামেচি, হাহাকার শুরু করে দিচ্ছে। মানুষের তা করা উচিত এবং তাদের সেই অধিকারও আছে। কিন্তু কেউ কি ইচ্ছা করে কখনো এসব ঘটায়?

এই সময় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ব্যবহারের বিষয় জনগণকে সতর্ক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমি বারবার সবাইকে সতর্ক করছি। এখন এআই-এর যুগ। সেখানে আমার ছবি দেখবেন, আমার শরীর দেখবেন, আমার গলায় আমার বক্তব্য শুনবেন। কিন্তু ওটা ভুয়া, ওটা আসল নয়। এটাকেই বলে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স।

ভুয়া ভিডিও রুখে দেওয়ার জন্য রাজ্যের মানুষকে জোট বাধার আহ্বানও জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস আপনারা এই কাজটা রুখতে পারবেন। মমতার বার্তা ‘ক্রাইম ইজ ক্রাইম। অপরাধের মধ্যে কোনো ধর্ম নেই, বর্ণ নেই, জাতি নেই। যে অপরাধ করবে তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ’

যদিও মমতা এই বক্তব্য নিয়ে আরজিকর কাণ্ডে অভয়ার (ছদ্ম নাম) মা বলেছেন, কোনটা ঘটনা আর কোনটা দুর্ঘটনা তা রাজ্যবাসী বুঝতে পারছেন। পুলিশ যদি তথ্য প্রমাণ নষ্ট না করত; মেনে নিতাম আমার মেয়ের সঙ্গে যা হয়েছে তা দুর্ঘটনা। আসলে রাজ্যটাকে এখন আর মুখ্যমন্ত্রী চালান না। পুলিশ দিয়ে চালানো হচ্ছে। তাই বাংলায় এত অপরাধ বেড়েছে।

নাগেশ্বরীতে আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, নারী প্যানেল চেয়ারম্যানকে অব্যাহতি

মোঃ রেজাউল করিম, সিনিয়র রিপোর্টার:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
নাগেশ্বরীতে আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, নারী প্যানেল চেয়ারম্যানকে অব্যাহতি

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান মোছা. খাদিজা বেগমের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি আপত্তিকর ভিডিও এবং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে অসদাচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় জেলা প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জানা গেছে, গত ১০ জুন জেলা প্রশাসক অন্নাপূর্ণা দেবনাথ স্বাক্ষরিত এক আদেশে খাদিজা বেগমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম সচল রাখতে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ কবিরকে প্রশাসকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান খাদিজা বেগম। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পরিষদের একাধিক সদস্যের সঙ্গে তার বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে ইউপি সদস্যরা তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ, স্বেচ্ছাচারিতা এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন।

এরই মধ্যে কয়েকদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খাদিজা বেগমের একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি এবং এর কয়েকটি স্ক্রিনশট দ্রুত ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভাইরাল হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। একজন জনপ্রতিনিধির এমন কর্মকাণ্ডে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। অন্যদিকে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

এ বিষয়ে খাদিজা বেগমের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ. এম. খোদাদাদ হোসেন বলেন, শুধু ভিডিও ভাইরাল হওয়ার কারণে খাদিজা বেগমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও জনসেবা অব্যাহত রাখার স্বার্থে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর “৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ” কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় সিরাজগঞ্জে বৃক্ষরোপণ উদ্বোধন

মোঃ রেজাউল করিম, সিনিয়র রিপোর্টার:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৭:১৫ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর “৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ” কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় সিরাজগঞ্জে বৃক্ষরোপণ উদ্বোধন

বর্তমান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশব্যাপী ৫’বছরে ২৫’কোটি বৃক্ষরোপণ” কর্মসূচি’র উদ্বোধনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে-সারাদেশের ন্যায় সিরাজগঞ্জে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি পালনের শুভ উদ্বোধন করা হয়।

এ সময় আলোচনাসভা শেষে জনপ্রতি শিক্ষার্থীদের মাঝে তিনটি করে ফলজ বৃক্ষ বিতরণ করা সহ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ও প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবিলায়  কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষ রোপণ করা হয়।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং এডমিকি ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায়- শনিবার (১৩জুন)  দুপুরে সিরাজগঞ্জ কালেক্টরেট স্কুল প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের মাঝে ২,০০০-এর অধিক বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়।

এ বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিরাজগঞ্জ  জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আমিনুল ইসলাম। এসময়ে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গণপতি রায়, কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও সিরাজগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ) শাহাদাত হুসেইন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মামুন খান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক জেরিন আহমেদ, সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইদুর রহমান বাচ্চু, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান দুলাল, সিরাজগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলাম, সামাজিক বনবিভাগ সিরাজগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রিজিয়া পারভীন মিষ্টি প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার উম্মে নাজনীন নিশাত। এ সময়ে  জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, এডমিকি ফাউন্ডেশনের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ, সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।।

ডিবি পরিচয়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈমকে মারধর, গুম করার চেষ্টা

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১২:৫৯ অপরাহ্ণ
ডিবি পরিচয়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈমকে মারধর, গুম করার চেষ্টা

জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগে পুলিশের এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিন সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। একইসঙ্গে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের খুলশী থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

জানা যায়, শুক্রবার (১২ জুন) রাতে চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার এলাকায় নাঈম হাসানকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এছাড়াও তাকে খুলশী থানায় নিয়ে গিয়েও হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন নাঈম।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ছুটিতে ঢাকায় রয়েছেন খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম। তিনি এসআই শফিকুল ইসলামকে তথ্য দেন একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে সোনার চোরাচালান আসবে। এই তথ্যের ভিত্তিতে শফিকুল লালখান বাজার এলাকায় অভিযানে যান। মনিরুল একটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে চোরাচালানের এই তথ্য পেয়েছেন দাবি করেছেন।

তবে নাঈম হাসান অভিযোগ করেন, ঢাকায় প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষ করে শুক্রবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটের ফ্লাইটে চট্টগ্রাম আসার কথা ছিল তাঁর। তবে বিলম্ব হওয়ায় রাত ১০টা ২০ মিনিটে তিনি চট্টগ্রাম পৌঁছান। এরপর চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অটোরিকশা করে বাসার উদ্দেশে রওনা দেন। অটোরিকশাটি এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার পর লালখান বাজার এলাকায় পুলিশের এক সদস্য থামার সংকেত দেন।

অটোরিকশাটি থামাতেই কয়েকজন ডিবি পুলিশ পরিচয়ে চালকের কাছ থেকে কাগজপত্র নিয়ে নেন জানিয়ে জাতীয় ক্রিকেট দলের এই স্পিনার বলেন, তারা আমাকে নামিয়ে গলায় ধাক্কা দিয়ে পুলিশের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। তখন আমি নিজেকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দেই, পরিচয়পত্রও দেখাই। তবু আমাকে ঘটনাস্থলে থাকা খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম হাতে থাকা লাঠি দিয়ে কোমরে আঘাত করতে থাকেন। পুলিশের ওই এসআইয়ের সঙ্গে সাদা পোশাকে থাকা (পুলিশের সোর্স সোহেল) এক ব্যক্তিও হাতে থাকা পাইপ দিয়ে পেটান।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নাঈম বলেন, মারধরের সময় ঘটনাস্থলে লোকজন জড়ো হয়ে যায়। প্রায় ১০০ থেকে ২০০ মানুষ জড়ো হয়ে আমার ক্রিকেটার পরিচয় দিলেও তারা মারধর থামায়নি। তারা বলছিল-তুই আসামি, চুপ থাক, একটা কথাও বলবি না। মারধরের একপর্যায়ে আরেকটি অটোরিকশায় তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। পুলিশের গাড়ি থাকলেও সেখানে আমাকে তোলা হয়নি। মারধরের একপর্যায়ে আমাকে থানায় নিয়ে যান এসআই শফিকুল। এরপর ওসির কক্ষে নেওয়া হয় আমাকে।

ওসির কক্ষেও আমাকে হেনস্তা করা হয়েছে বলে জানিয়ে নাঈম বলেন, ওসিকে আমি যখন ঘটনার বিস্তারিত জানাচ্ছিলাম তখন ওসি বারবার বলেন চোখ নিচু করে কথা বলতে। এর মধ্যেই একটি ফোন পেয়ে ওসি শান্ত হন।

তিনি বলেন, ‘অটোরিকশা থেকে নামানোর পর আমার ফোন নিয়ে নেওয়া হয়। থানায় আসার পর ফোনটি পেয়ে আমি বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবালকে ফোন করি। তিনি বিসিবির সদস্য ইসরাফিল খসরুকে বিষয়টি জানান। এরপর তারা পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন।’

আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই জানিয়ে নাঈম বলেন, ‘আজকে আমার সঙ্গে হয়েছে। আমার জন্য অনেক লোক এসেছে থানায়। কিন্তু অন্য সাধারণ লোকের জন্য কেউ থানায় আসবে না। আর কাউকে যাতে এভাবে হয়রানির শিকার হতে না হয়।’

খুলশী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুল ইসলাম বলেন,‘অভিযানের বিষয়ে এসআই শফিকুল ইসলাম আমাকে কিছু জানাননি। থানায় নিয়ে আসার পর ক্রিকেটার নাঈমের পরিচয় জানি। দুঃখ প্রকাশ করে সসম্মানে থানা থেকে তাকে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। তবে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা থানা থেকে যাবেন না জানান। পরে এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।’

এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল ও অভিযানে থাকা আরেক কনস্টেবলকে তাৎক্ষণিক ক্লোজ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ওসি।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) আমিরুল ইসলাম বলেন, চোরাচালানের তথ্য ছিল অটোরিকশাটির বিরুদ্ধে। তবে এই তথ্য কতটুকু সঠিক যাচাই করা হচ্ছে। আর অভিযান চালানোর আগে নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানো হয়েছে কি না তা–ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযান কিংবা তল্লাশিতে পুলিশের কিছু নিয়মকানুন রয়েছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি।

অভিযান চালানোর নিয়ম রয়েছে জানিয়ে আমিরুল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, আপাতদৃষ্টিতে এখানে ভুলত্রুটি রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনা হবে।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর। একইসঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

নাগেশ্বরীতে আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, নারী প্যানেল চেয়ারম্যানকে অব্যাহতি প্রধানমন্ত্রীর “৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ” কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় সিরাজগঞ্জে বৃক্ষরোপণ উদ্বোধন ডিবি পরিচয়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈমকে মারধর, গুম করার চেষ্টা ঝুম বৃষ্টি উপেক্ষা করে কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী বেলকুচিতে উদ্ভাবন নির্ভর বাংলাদেশ গঠনে বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত