খুঁজুন
রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

‘জামায়াত সংখ্যালঘু মতবাদে বিশ্বাসী নয়’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৪, ১:০১ পূর্বাহ্ণ
‘জামায়াত সংখ্যালঘু মতবাদে বিশ্বাসী নয়’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সংখ্যালঘু কনসেপ্টে (মতবাদে) বিশ্বাসী নয় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী আমরা সবাই বাংলাদেশি নাগরিক। তাই জাতীয় স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সুশাসন ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।’

সোমবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর মিরপুরে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। মিরপুর ও কাফরুল এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বী ও পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে এ মতবিনিময় করে দলটি।

মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘সম্প্রীতিতে বাংলাদেশ বিশ্বের রোল মডেল। এখানে কোনো ধর্মীয় ভেদাভেদ নেই। অধিকারের ক্ষেত্রে আমরা সবাই সমান। আমাদের সংবিধানও সব নাগরিকের জন্য সে নিশ্চয়তা দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘ পরিসরে আন্দোলন করে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘জামায়াত ক্ষমতায় গেলে ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট হবে। দেশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত নারীরা একাকী ভ্রমণ করলেও তাদের দিকে কেউ চোখ তুলে তাকাবে না। এমনই একটি ইনসাফ ও ন্যায়বিচারপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। যেখানে সব শ্রেণি ও পেশার মানুষের অধিকারের নিশ্চয়তা থাকবে।’

জামায়াত দেশের বেকার সমস্যার সমাধান ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা দেশের শিক্ষা সম্প্রসারণের জন্য স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য দাতব্য প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছি। এক্ষেত্রে কোনো ধর্মীয় ভেদাভেদ আমরা করি না। বরং মানুষকে ভালোবেসেই আমরা আমাদের আদর্শের প্রচার ও প্রসার ঘটাতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থেই আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জাতীয় শত্রুদের চিহ্নিত করে সম্মিলিতভাবে তাদের মোকাবিলা করতে হবে। আগস্ট বিপ্লবের চেতনাই ছিল সব ক্ষেত্রে ন্যায়, ইনসাফ ও জাস্টিস প্রতিষ্ঠা। তাই এই চেতনা থেকে আমাদের পিছপা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

এসময় তিনি ফ্যাসিবাদী আমালের লুটপাট, দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রসঙ্গে বলেন, ‘যারা চাঁদাবাজি, ঘুস, দখলদারি ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত তারা জাতীয় শত্রু। জামায়াতের নেতাকর্মী তো দূরের কথা, কোনো সমর্থকের বিরুদ্ধে এসব অপকর্মের কোনো অভিযোগ নেই। বরং আমরা এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে সব সময়ই সোচ্চার।’

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দীন মানিক। বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসা, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য লস্কর মুহাম্মদ তাসলিম প্রমুখ।

উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মু. আতাউর রহমান সরকার, ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য মো. শহিদুল্লাহ ও শাহ আলম তুহিন, মজলিসে শুরা সদস্য রেজাউল করিম ও ডা.আহসান হাবিব। এতে আরও বক্তব্য রাখেন- মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দিরের সভাপতি তপনেন্দ্র নারায়ণ হোড়, সাধারণ সম্পাদক হরিপদ দাস দোলন, কেন্দ্রীয় মন্দিরের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ডা. বিপ্লব বিজয়ী হালদার, সাবেক সভাপতি নিথীশ কুমার সাহা, মনোজ সরকার, শিব শঙ্কর সাহা, দেবদ্রী চক্রবর্তী প্রমুখ।

বাজেট অধিবেশন: সংবিধান ‘সংশোধন নাকি সংস্কার’ বিতর্কে উত্তাপের আভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ৮:৪০ পূর্বাহ্ণ
বাজেট অধিবেশন: সংবিধান ‘সংশোধন নাকি সংস্কার’ বিতর্কে উত্তাপের আভাস

বহুল আকাঙ্খিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় তথা বাজেট অধিবেশন বসছে আজ রবিবার (৭ জুন)। বেলা ৩টায় শুরু হবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের এই প্রথম বাজেট অধিবেশন। মূলত এই অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন ও পাসের কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

আগামী ১১ জুন সংসদে এবার ৯ লাখ কোটি টাকার বেশি বাজেট উপস্থাপন করবেন বর্তমান সরকারের মাননীয় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এদিকে বাজেট অধিবেশনকে ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, বাজেট অধিবেশন ঘিরে সংসদ সচিবালয়ের সব প্রস্তুতি তারা শেষ করেছেন। অধিবেশন কক্ষের সাউন্ড সিস্টেম আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে পুরো সাউন্ড সিস্টেম আধুনিকায়নের কাজ শেষ করতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।

বাজেট অধিবেশন কতদিন চলবে, সে বিষয়ে অধিবেশন শুরুর আগে অনুষ্ঠিত আজকের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদে দেওয়া ক্ষমতাবলে এ অধিবেশন আহ্বান করেন। জাতীয় সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, শেরে বাংলা নগরের জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এ অধিবেশনেই নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট নিয়ে আলোচনা, মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বরাদ্দ অনুমোদন, অর্থবিল এবং সংশ্লিষ্ট আইন পাসের কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, বাজেট বক্তৃতা, অর্থবিল, বরাদ্দসংক্রান্ত নথি, সংসদ সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রকাশনা ও তথ্যপত্র প্রস্তুতের কাজ ইতোমধ্যে শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অধিবেশন নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনিক, কারিগরি ও নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।

শনিবার জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ গণমাধ্যমে জানান, ‘বাজেট অধিবেশন সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন। সে অনুযায়ী সংসদ সচিবালয়ের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে। সংসদের নিরাপত্তা, অধিবেশন কক্ষের অবকাঠামো, চেয়ার-টেবিল, লজিস্টিক সাপোর্ট থেকে শুরু করে সংসদ পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিষয় তদারকি করা হচ্ছে।’

এ সময় গত অধিবেশনে সাউন্ড সিস্টেম বিভ্রাটের বিষয়টি স্বীকার করে চিফ হুইপ জানান, আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়নে আরও সময় লাগবে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে চাহিদা জেনে প্রেজেন্টেশন নেওয়া হয়েছে এবং সম্ভাব্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বাস্তব প্রদর্শনী দেখার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাজেট অধিবেশনকে ঘিরে সংসদ ভবন এলাকার নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করেছে প্রশাসন। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) শনিবার রাত ১২টা থেকে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে। একই সঙ্গে অস্ত্র, বিস্ফোরক ও অন্যান্য ক্ষতিকর দ্রব্য বহনের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিধিনিষেধ বহাল থাকবে।

এর আগে গত ৩০ এপ্রিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শেষ হয়। ২৫ কার্যদিবসের ওই অধিবেশনে ৯৪টি বিল পাস এবং ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হয়। ৭টি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয় এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নেন ২৮০ জন সংসদ সদস্য।

নতুন সংসদের কার্যক্রমের ভিত্তি স্থাপনকারী সেই অধিবেশনের পর প্রথমবারের মতো বাজেট অধিবেশনে বসছে বিএনপি সরকার। আর এই অধিবেশনে আগামী এক বছরের জন্য দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরা হবে। জুলাই সনদ ইস্যু সহ নানা বিষয়ে এখন সবার নজর সংসদ অধিবেশনে।

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলে হাজারো নেতাকর্মী, সরে গেল পুলিশ

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলে হাজারো নেতাকর্মী, সরে গেল পুলিশ

নোয়াখালী সদরে বড় ধরনের মিছিল দিয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তাদের উপস্থিতি দেখে সরে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে সুধারাম থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (৫ জুন) জুমার নামাজের পর নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধের হাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সমর্থনে এবং বর্তমান সরকারের ‌‘সন্ত্রাস-চাঁদাবাজির’ বিরুদ্ধে ওই মিছিল বের করে ছাত্রলীগ। এতে হাজারের বেশি নেতাকর্মী অংশ নেন।

স্থানীয়রা জানান, জুমার নামাজের পর সদর উপজেলা ছাত্রলীগ-যুবলীগের হাজারের বেশি কর্মী-সমর্থক মিছিলটি বের করলে পুলিশ তাতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করেই নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে অগ্রসর হন। এসময় পুলিশ সদস্যরা গা-ঢাকা দেন।

বিক্ষোভ মিছিলে সভাপতিত্ব করেন নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আশরাফুল করিম চৌধুরী বাবু।

মিছিল শেষে সমাবেশে আশরাফুল করিম চৌধুরী বাবু বলেন, ‘আমরা এখানে যারা রাজপথে নেমেছি, তারা প্রত্যেকেই অন্যায় ও সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এসেছি। আমাদের এই প্রতিবাদী আন্দোলন ইনশাআল্লাহ অব্যাহত থাকবে। যতদিন পর্যন্ত শেখ হাসিনা ফিরে না আসবেন, ততদিন আমরা শান্ত হবো না। আমরা রাজপথ ছাড়ববো না।’

কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দেশে বর্তমানে সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজি বেড়ে গেছে। একজন বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হিসেবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্বে জায়গা থেকেই আমরা প্রতিবাদ করেছি।’

এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই টের পেয়ে পুলিশের ছয় সদস্যের দল সেখানে উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা এত বেশি ছিল যে আমাদের কিছুই করার ছিল না। আমরা মিছিলের শুরুতে তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। পরে তাদের উপস্থিতি সংখ্যা বেড়ে গেলে আমাদের সদস্যরা সরে পড়েন।’

উচ্চ ঝুঁকিতে ২ কোটি মানুষ

পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, তালিকায় আরও ১৭ অঞ্চল

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ১০:৪৫ অপরাহ্ণ
পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, তালিকায় আরও ১৭ অঞ্চল

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বের ১৭টি অঞ্চল অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, শতাব্দীর শেষ নাগাদ এসব অঞ্চলের কিছু অংশ বা সম্পূর্ণ এলাকা পৃথিবীর মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যেতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশও।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি) ধারণা করছে, ২১০০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩২ থেকে ৮৪ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে নিম্নাঞ্চলীয় দ্বীপরাষ্ট্র, উপকূলীয় শহর ও বদ্বীপ অঞ্চলগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ বাংলাদেশ তার মোট ভূখণ্ডের প্রায় ১৭ শতাংশ হারাতে পারে। এর ফলে প্রায় ২ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার বিস্তার, ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে মানুষের জীবন ও জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অভিবাসনও বাড়তে পারে।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ছোট ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলো:

★মালদ্বীপ: ২০৫০ সালের মধ্যে দেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ দ্বীপ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যেতে পারে।
★টুভালু: ২১০০ সালের মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
★কিরিবাতি: এখানে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় অনেক দ্রুত বাড়ছে।

মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ ও সলোমন দ্বীপপুঞ্জের কিছু দ্বীপ ইতোমধ্যে আংশিকভাবে সমুদ্রগর্ভে বিলীন হতে শুরু করেছে। শুধু উন্নয়নশীল দেশ নয়, উন্নত দেশ ও ঐতিহাসিক নগরীগুলোও হুমকির মুখে।

★ভেনিস প্রতি বছর ১-২ মিলিমিটার করে নিচে নেমে যাচ্ছে এবং বারবার বন্যার মুখোমুখি হচ্ছে।
★মিয়ামি দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে।
★নেদারল্যান্ডসের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এলাকা সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে অবস্থিত এবং দেশটির ৬০ শতাংশ মানুষ বন্যাপ্রবণ অঞ্চলে বসবাস করে।

এছাড়া নাউরু, পালাউ, ভানুয়াতু, সেশেলস, সামোয়া, ফিজি এবং বাহামাসও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের তালিকায় রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এসব অঞ্চল হারিয়ে গেলে শুধু ভৌগোলিক মানচিত্রই বদলাবে না, বদলে যাবে বৈশ্বিক জীববৈচিত্র্য, অর্থনীতি ও জনসংখ্যার বিন্যাসও। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি লাখো মানুষের বাসস্থান, খাদ্যনিরাপত্তা এবং জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এখনই কার্যকর বৈশ্বিক পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও ভয়াবহ বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকেরা।

সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট।

বাজেট অধিবেশন: সংবিধান ‘সংশোধন নাকি সংস্কার’ বিতর্কে উত্তাপের আভাস নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলে হাজারো নেতাকর্মী, সরে গেল পুলিশ পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, তালিকায় আরও ১৭ অঞ্চল বেলকুচির মেঘুল্লা বাস দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তায় এমপি আলীম বেলকুচির কামারপাড়া বাজার বণিক সমিতির নির্বাচন উপলক্ষে সভাপতি প্রার্থী লাবলুর মতবিনিময়