রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের শীর্ষ মাদক কারবারি সেলিম আশরাফী ওরফে চুয়া সেলিমকে গোপন আস্তানা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ভোর রাতে র্যাব-২ এর সিপিএসসির কোম্পানি কমান্ডার হাসান মুহতারিমের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব সূত্র জানায়, জেনেভা ক্যাম্পের ঘনবসতিপূর্ণ ও জটিল পরিবেশের কারণে সেখানে অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা কঠিন। অভিযানের আগেই অনেক সময় অপরাধীরা খবর পেয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। চুয়া সেলিমও দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পের বাইরে ও ভেতরে বিভিন্ন গোপন আস্তানা ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলছিলেন।
চুয়া সেলিমকে জেনেভা ক্যাম্পের মাদক ও অপরাধজগতের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে বিভিন্ন সময় চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তার বিরুদ্ধে হত্যা, মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতেও র্যাব তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। সে সময় র্যাব জানায়, জেনেভা ক্যাম্পে মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চুয়া সেলিম ও বুনিয়া সোহেলের দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
জেনেভা ক্যাম্পের অপরাধজগতের সঙ্গে চুয়া সেলিমের নাম বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে। ২০২৬ সালের বিভিন্ন প্রতিবেদনে ক্যাম্পের কয়েকটি গোষ্ঠীর মধ্যে মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের কথা উঠে এসেছে। চুয়া সেলিম, বুনিয়া সোহেল ও পিচ্চি রাজাসহ কয়েকটি গোষ্ঠীকে এসব বিরোধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া চলতি বছরের জুলাইয়ে র্যাবের অভিযানে চুয়া সেলিমের গোষ্ঠীর এক ম্যানেজারকে দেশীয় পিস্তলসহ গ্রেপ্তারের তথ্যও প্রকাশ করা হয়। র্যাবের তথ্যমতে, ওই ব্যক্তি ছিনতাইয়ের প্রস্তুতির সময় অস্ত্রসহ আটক হন এবং নিজেকে চুয়া সেলিমের গোষ্ঠীর ম্যানেজার হিসেবে পরিচয় দেন।
শারীরিক অসুস্থতার কারণে রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুল্লাহ আল কায়েস বিষয়টি গণমাধ্যমে নিশ্চিত করে জানান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গত কয়েক দিন ধরে তীব্র জ্বরে ভুগছিলেন। পরবর্তীতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বর্তমানে তিনি হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং তার চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে। তার দ্রুত আরোগ্য কামনায় পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্বস্তি ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে প্রবাসী আয়। সদ্য শেষ হওয়া আগস্ট মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রতি ডলার ১২১ টাকা ধরে যার পরিমাণ প্রায় ৩৫ হাজার ৮৬০ কোটি টাকা।
আগের বছরের একই মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে আগস্টে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ৫৪ কোটি ৪৭ লাখ ডলার, যা শতাংশের হিসাবে ২২ দশমিক ৫ শতাংশ।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগস্টে রেমিট্যান্স প্রবাহ শুধু গত বছরের একই মাসের তুলনায়ই বাড়েনি, আগের মাস জুলাইয়ের তুলনাতেও বেড়েছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে দেশে এসেছিল ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। ফলে এক মাসের ব্যবধানে আগস্টে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ১০ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
দুই মাসে রেমিট্যান্স ৫৮৩ কোটি ডলার:
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে মোট ৫৮২ কোটি ৫৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।
এর মধ্যে জুলাইয়ে এসেছে ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ডলার এবং আগস্টে ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। অর্থাৎ অর্থবছরের দ্বিতীয় মাসে এসে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও শক্তিশালী হয়েছে। গত অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল প্রায় ৪৯০ কোটি ডলার। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ৯২ কোটি ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১৯ শতাংশ। রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডলারের তারল্য বাড়াতেও সহায়তা করছে।
টানা ৩ মাস ২৮০ কোটি ডলারের ওপরে:
তবে আগস্টের রেমিট্যান্স প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের কাছাকাছি পৌঁছালেও এখনও সেই মাইলফলক অতিক্রম করতে পারেনি। গত তিন মাসের হিসাবেও দেখা যায়, প্রতি মাসেই ২৮০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। জুনে দেশে প্রবাসী আয় এসেছিল ২৮২ কোটি ২৫ লাখ ডলার। জুলাইয়ে তা বেড়ে হয় ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। আগস্টে আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলারে। অর্থাৎ জুন থেকে আগস্ট- টানা তিন মাস ধরে রেমিট্যান্স প্রবাহ ২৮০ কোটি ডলারের ওপরে রয়েছে। আগস্টে এসে তা ৩০০ কোটি ডলারের সীমার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে।
সরকারি ব্যাংকে এসেছে ৪৩৩ কোটি ডলার:
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকভিত্তিক হিসাবেও রেমিট্যান্স প্রবাহের একটি উল্লেখযোগ্য চিত্র পাওয়া যায়। আগস্টে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে দেশে এসেছে প্রায় ৪৩৩ কোটি ৪৬ লাখ ডলার। এর মধ্যে অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে প্রায় ১৬২ কোটি ৮ লাখ ডলার, সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে ১৩৯ কোটি ৯১ লাখ এবং জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রায় ৭৯ কোটি ৩১ লাখ ডলার।
বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে প্রায় ২৯১ কোটি ৯১ লাখ ডলার।
অপরদিকে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে প্রায় ২ হাজার ২৩৪ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ প্রায় ৫৫০ কোটি ৮৯ লাখ, ব্র্যাক ব্যাংক প্রায় ২৫২ কোটি ৮১ লাখ এবং ট্রাস্ট ব্যাংক প্রায় ২১১ কোটি ৪৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স সংগ্রহ করেছে। বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে আগস্টে এসেছে প্রায় ৬ কোটি ৭৪ লাখ ডলার।
রিজার্ভও ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ওপরে:
রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার মধ্যেই দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ওপরে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ১ সেপ্টেম্বরের হিসাব অনুযায়ী, দেশের গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৪০৭ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবপদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ৩২ দশমিক ৪৯৭ বিলিয়ন ডলার।
একই দিনে বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া হিসাবে গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ৩৭ হাজার ৪০৭ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ৩২ হাজার ৪৯৬ দশমিক ৬০ মিলিয়ন ডলার। রেমিট্যান্স ও রিজার্ভের সাম্প্রতিক চিত্রে তাই দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থানে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
ডলার সরবরাহে স্বস্তি, আছে চ্যালেঞ্জও:
অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রবাসী আয় বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস। রেমিট্যান্স বাড়লে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডলারের সরবরাহ বাড়ে। এতে আমদানি দায় পরিশোধ, বৈদেশিক লেনদেন পরিচালনা এবং ডলারের বাজারে চাপ কমাতে সহায়তা পাওয়া যায়।
বিশেষ করে গত কয়েক বছর ধরে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে যে চাপ ছিল, তার বিপরীতে রেমিট্যান্স এখন অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করছে। তবে রেমিট্যান্স বাড়লেই রিজার্ভ একই হারে বাড়বে, এমন নয়। কারণ আমদানি ব্যয়, বিদেশি ঋণ ও অন্যান্য বৈদেশিক দায় পরিশোধ, রপ্তানি আয় এবং বিভিন্ন বৈদেশিক লেনদেনের ওপরও রিজার্ভের অবস্থান নির্ভর করে।
তারপরও চলতি অর্থবছরের শুরুতেই রেমিট্যান্সে প্রায় ১৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এবং আগস্টে ২২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রার বাজারের জন্য ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে। রেমিট্যান্সের এই গতি ধরে রাখা গেলে ডলারের সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হবে।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে ৯ দফা দাবি ও পরামর্শ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সাথে জামায়াতে ইসলামীর ৬ সদস্যের প্রতিনিধি দলের বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন এ কথা জানান দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
গোলাম পরওয়ার বলেন, “এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে যোগ্য করার দাবি জানানো হয়েছে। তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না দিলে বৈষম্য তৈরি হবে। সংবিধানের লঙ্ঘন ও নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন হবে।”
জামায়াত সেক্রেটারি জানান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনও দলের নেতা- যিনি পদে আছেন, তাকে স্থানীয় নির্বাচনে অযোগ্য করার দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
গোলাম পরওয়ার বলেন, “নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব শামসুল আলম বিএনপির একটি সাব কমিটিতে ছিলেন। এটি আইনের পরিপন্থি। এবিষয়ে সরকারকে জানাতে বলা হয়েছে। শামসুল আলম ইসির অতিরিক্ত সচিব থাকলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না।”
এছাড়া স্থানীয় সরকারে প্রশাসক হিসেবে যেসব নিয়োগ হয়েছে, তাদের আসন্ন নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
মন্ত্রী-এমপিরা যাতে কোনও প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা করতে না পারেন, এই দাবি জানানো হয়েছে বলে জানান গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, “দাবি মেনে নেবে কিনা তা সময়ই বলবে। তবে আমরা হতাশ না, দাবি মানবে বলে আশাবাদী। এরই মধ্যে কয়েকটি দাবিতে কমিশন রাজি হয়েছে।”
জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, “দলীয় মনোনয়ন দেবে না জামায়াত। যার যার ইচ্ছা নির্বাচন করতে পারবে। জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করবে না। ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যান্য দল প্রার্থী দিলেও কোনও কনফ্লিক্ট হবে না।”
আপনার মতামত লিখুন