বাসায় ফেরার বার্তা দিয়েও ফেরেননি তাহসিফ, পরদিন মিলল লাশ

নিউজ ডেস্ক
২৯ অক্টোবর ২০২৬ ৫:৩২ পিএম
বাসায় ফেরার বার্তা দিয়েও ফেরেননি তাহসিফ, পরদিন মিলল লাশ

রাজধানীর উত্তরায় বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোজ হওয়া বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তার ভাসমান লাশ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাড়ি। তবে তার মৃত্যুর কারণ এখনো জানা যায়নি। এ ঘটনায় তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিরও খোজ পাওয়া যায়নি।

পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার দিনভর মায়ের সঙ্গে কেনাকাটা করেছিলেন তাহসিফ। বাবার জন্যও কিছু জিনিস কিনেছিলেন। সন্ধ্যার পর বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই দ্বীপের ডাকে বাসা থেকে বের হন তিনি। রাতে মাকে মুঠোফোনে বার্তা পাঠিয়ে বাসায় ফেরার কথা জানান। কিন্তু এরপর আর ফেরেননি।

তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিম জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর দ্বীপ তাদের বাসার নিচে এসে তাহসিফকে ডাকেন। তার সঙ্গে কথা বলে ফিরে আসার কথা জানিয়ে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। পরে ছেলে বাসায় না ফেরায় তাঁর মা একাধিকবার ফোন করেন, কিন্তু যোগাযোগ করতে পারেননি।

রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে মায়ের মুঠোফোনে বার্তা পাঠিয়ে তাহসিফ জানান, তিনি বাসায় ফিরছেন। তবে এরপরও তিনি বাসায় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তার খোজ করতে থাকেন। বুধবার দুপুরে এনায়েতুল করিম তুরাগ থানায় গিয়ে ছেলের বিষয়ে খোজ নেন। পরে বিকেল সোয়া পাচটার দিকে উত্তরখান থানা থেকে তাকে ফোন করে লাশ উদ্ধারের খবর জানানো হয়।

তাহসিফের বাবা জানান, যেখান থেকে তার ছেলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, সেই এলাকায় তাহসিফ যেতেন বলে তাদের জানা নেই। তাহসিফ দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন। তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি এখনো পাওয়া যায়নি। পরিবারের এক স্বজনের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বাসা থেকে বের হওয়ার সময় মোটরসাইকেলটি সঙ্গে নিয়েছিলেন তিনি।

ওই স্বজন জানান, তাহসিফের মোটরসাইকেলের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য ও ছবি দেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা দ্বীপের সঙ্গেও কথা বলেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দ্বীপ জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাতে তারা একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করেছিলেন। পরে তাহসিফকে তার বাসার এলাকার কাছে রেখে দ্বীপ ফিরে যান। তবে তাহসিফের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত কী ঘটেছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

তাহসিফ সাউরি আগে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পদে কর্মরত ছিলেন। পরে তার চাকরি চলে যায় বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। তার বাবা এনায়েতুল করিমের ভাষ্য অনুযায়ী, চাকরি চলে যাওয়ার কারণ হিসেবে ‘শৃঙ্খলাজনিত’ বিষয় উল্লেখ করা হয়েছিল। এরপর তাহসিফ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও নেত্র নিউজে কাজ করেন।

ছেলের স্বভাব সম্পর্কে এনায়েতুল করিম বলেন, তাহসিফ ছিলেন ভদ্র ও সামাজিক প্রকৃতির। সিনিয়র-জুনিয়র সবার সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক ছিল। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, তারা এখনো কোনো অভিযোগ পাননি। বিষয়টি নৌ পুলিশ দেখছে।

টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন বলেন, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...