ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যায় সন্দেহভাজন ৭ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন

নিউজ ডেস্ক
০৩ নভেম্বর ২০২৬ ১০:২৪ পিএম
ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যায় সন্দেহভাজন ৭ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন

গুরুদাসপুরে ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন ৭ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি দেশের স্থল ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে ওই চিঠি দিয়েছে মামলাটির তদন্তকারী সংস্থা নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একই সঙ্গে হত্যায় ব্যবহৃত পালসার ১৫০ সিসি মডেলের নীল রঙের মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সকালে নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এই মামলায় নাটোর-৪ আসনের এমপি আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে দ্বিতীয় দফায় আবারও দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তিনি বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি হেফাজতে আছেন। মামলায় কারাগারে আছেন আরও দুই আসামি।

সূত্র বলছে, মামলার তদন্তে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। অপরাধীরা যে মোটরসাইকেলে এসে হামলা চালিয়ে পালিয়ে গেছেন সেই মোটরসাইকেলটি ইতিমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। উপজেলার নয়াবাজার এলাকা থেকে ইরফান নেওয়াজ নামের এক ব্যক্তির শ্বশুরবাড়ি থেকে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।

ফেসবুক লাইভে নির্দোষ দাবি হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন ইরফান নিয়াজের

ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম হত্যা মামলার সন্দেহভাজন ব্যক্তি ইরফান নিয়াজ ফেসবুক লাইভে এসে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। সোমবার রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে অজ্ঞাত স্থান থেকে লাইভে এসে ৭ মিনিট ৭ সেকেন্ড বক্তব্য দেন ইফরান নিয়াজ। তিনি নূরুজ্জামানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বলে সন্দেহ করা মোটরসাইকেলটি গুরুদাসপুর উপজেলার নয়াবাজার থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিবন্ধনহীন মোটরসাইকেলটি ইরফান নিয়াজের বলে ধারণা করছে পুলিশ। নিহত শাকিলের বাবা রবিউল করিম তাঁর ছেলে হত্যাকাণ্ডে ইরফান নিয়াজ জড়িত বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন।

সূত্রমতে, ২৭ অক্টোবর রাত দশটার দিকে এমপির ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে আটক করে পরদিন গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হয়। প্রথম দফায় আদালত তিন দিনের রিমান্ড দেন। মিন্টু রিমান্ডে থাকাকালীন দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আল আমিন ও আনিসুর রহমান নামের দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। উদ্ধার করা হয় মোটরসাইকেলটিও। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সাতজনের পাসপোর্টের কার্যক্রম প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। সন্দেহভাজনেরা যাতে দেশত্যাগ করতে না পারেন, সে জন্য দেশের সব স্থল ও বিমানবন্দরে নিষেধাজ্ঞা ছেড়ে চিঠি পাঠিয়েছে ডিবি। ওই সব ব্যক্তিরা অবৈধ পথেও দেশত্যাগের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ টিম কাজ করছে।

এদিকে ‘মিন্টু হাসান গুরুদাসপুর’ নামের তাঁর ফেসবুক আইডি এখনো সক্রিয় রয়েছে। বর্তমানে মিন্টুর ওই আইডি তাঁর স্ত্রী চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছে ডিবি পুলিশ।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার আসামি মিন্টুকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দ্বিতীয় দফায় ২ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। রহস্য উদ্‌ঘাটনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।’

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, গত ১৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হেলমেট পরা সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম (৩২)। ওই ঘটনায় ১৯ অক্টোবর থানায় মামলা দায়ের করেন শাকিলের বাবা রবিউল ইসলাম।

হাসপাতালে ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শাকিলের মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার শাকিলের জানাজা শেষে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহ আমেরিকা প্রবাসী রাসেলের শপিংমলে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।

ছাত্রদল নেতা হত্যা মামলায় এমপিপুত্র মিন্টু ফের ২ দিনের রিমান্ডে
এসব ঘটনায় জনরোষে পড়েন এমপি আব্দুল আজিজ। ২৮ অক্টোবর বুধবার সকাল থেকে এমপি আব্দুল আজিজের অশ্লীল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এই ভিডিওতে তাঁকে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা গেছে। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এতে এমপি আজিজ সামাজিক এবং রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েন।

গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে নিহত শাকিলের গুরুদাসপুর পৌরসভার খোয়ারপাড়া খামারনাচকৈড়ের বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানান সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল হাসান রাকিব। অপরাধী যেই হোক সঠিক বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস দেন তারা।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...